দীনবন্ধু মিত্রের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।  www.milansagar.com
১।   সূর্য              
২।  
পরিণয়         
৩।  
রেলের গাড়ি ( এটিই সম্ভবতঃ বাংলা ভাষায় রেল গাড়ির উপর প্রথম কবিতা |
                         কবি নিজে ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ইনস্পেক্টর পদে কাজ করেছিলেন | )         

       
       
সূর্য্য

অরুনের আগমন পাইয়ে সন্ধান,
অন্ধকার সনে নিশি করিলা প্রস্থান |
উঠ উঠ দিবাকর,                কিবা রূপ মনোহর,
অপরূপ আভাময় তোমার বিমান |
ধরা ধনী নীলাম্বর করি পরিহার,
পরিলেন পীতবাস কিরণে তোমার ||

নাহি আর অন্ধকার কোথা পলাইল ?
গিরীশ-গহ্বরে বুঝি গিয়ে লুকাইল |
কেহ ভানুর ডরে                কাফ্ রীর  কলেবরে,
কেহ বা কামিনী-কেশে মিশাইল |
অবশিষ্ট অন্ধকার অন্ধকূপে যায়,
খলের হৃদয়ে গিয়ে অথবা মিশায় ||

বিষাদে বিষন্নমুখ বিহঙ্গম কুল
নীরবে বসিয়ে ডালে আঁধারে আকুল,
পেয়ে তব দরশন,              আনন্দে মোহিত মন,
গাইল বিভাস রাগে সঙ্গীত মঞ্জুল |
কলকণ্ঠ সহকারে ললিত কুহরে,
বিমোহিত জন মন সুমধুর স্বরে ||

নিরানন্দে নৈশ নীরে নলিনী সুন্দরী,
বিষাদিত ছিল দামে বদন আবরি ;
বিভাকর নবোদয়ে,                   আনন্দে প্রফুল্ল হয়ে,
হাস্যমুখী সরোজিনী সরসী-ঈশ্বরী ;
দোদুল্ল প্রফুল্ল কায় প্রভাত সমীরে,
হেরে পতি বুঝি সতী কাঁপে ধীরে ধীরে ||

অনল বেলুনবত্ বিমল আকাশে,
ভাসি ভাসি প্রভাকর প্রভা পরকাশে ;
প্রাপ্ত হয়ে শুভালোক,                 পুলকে পূর্ণিত লোক,
স্বকার্য্য সাধনে সব নিমগ্ন আশ্বাসে |
কৃষক চলিল মাঠে স্কন্ধে হল ধরা,
সুকুমার তাপে মাটি হয়েছে উর্ব্বরা ||

মধ্যাহ্নে মিহির, তব করাল কিরণ,
ফিরাইতে তব পানে পারি না নয়ন |
কর রশ্মি বিতরণ,                  অনুমান বরিষণ,
অনল-কণিকাপুঞ্জ উত্তাপ ভীষণ |
সে সময় সুশীতল তরুর ছায়ায়
বসিলে দুর্বার দলে জীবন জুড়ায় ||

হয় ত সবিতা তুমি সহ গ্রহগণ,
শ্রেষ্ঠতর সূর্যে বেড়ে করিছ ভ্রমণ ;
তোমার সমান কত             ঘোরে ভানু অবিরত,
গ্রহ সহ সেই সূর্যে করিয়ে বেষ্টন ;
শ্রেষ্ঠতর সূর্য পরে স্বদলে লইয়ে
ভ্রমিতেছে শ্রেষ্ঠতম তপনে বেড়িয়ে ||

তা বড় তা বড় সুর্য্য আছে পর পর,
অনাদি অনন্ত দেব পরম ঈশ্বর,
বিরাজিত সর্ব্বোপর,             জ্যোতির্ম্ময় কলেবর,
নিমেষে হতেছে সৃষ্টি শত প্রভাকর |
গগনে অগণ্য তারা কে তারা কে জানে,
তা বড় তা বড় সূর্য্য জ্যোতির্ব্বিদে মানে ||

ল্যাপল্যাণ্ডে একবার হইয়ে উদয়,
ছয় মাস প্রভাকর প্রকাশিত রয় ;
দেবের আরতি যায়,             ব্রাহ্মণেরা নাহি পায়,
সন্ধ্যা করিবার কাল সন্ধ্যার সময়,
মুসলমানের রোজা ভাঙ্গে না ছ মাস,
হয় ধর্ম লোপ নয় জীবন বিনাশ ||

ছয় মাস নিরন্তর থাকে অন্ধকার,
কালনিশি অনুরূপ নিশির আকার ;
নিশিতে করিছে স্নান,           নিশিযোগে পূজা ধ্যান,
সম্পাদন নিশিযোগে আহার বিহার ;
সাগরে মারিয়ে তিমি তেলের সঞ্চয়,
ছয়মাস অবিরত তাতে আলো হয় ||

যমুনা তনয়া তব শ্যামল বরণ,
বিরাজিত তটে তার সুখ-বৃন্দাবন ;
যমুনার উপকূলে,                  লইয়ে গোপিনীকুলে
করে কেলি বনমালী মুরলীমদন |
সুবাসিত স্বচ্ছ বারি শীতলতাময়,
স্নানে পানে পরিতৃপ্ত মানব নিচয় ||

সুখী স্বামী সমাদরে,            কান্তাকর করে করে,
পীরিতি পূরিত বাণী বলে ---
"তব সন্নিধানে সতি,             অমলা অমরাবতী,
ভুলে যাই নর নশ্বরতা,
অভাব অভাব হয়,              পরিতাপ পরাজয়,
ব্যাধি বলে বিনয় বারতা |"
রমণী অমনি হেসে,            স্নেহের সাগরে ভেসে,
বলে, "কান্ত, কামিনী কেমনে,
বেঁচে থাকে ধরাতলে,           যেই হতভাগ্য ফলে,
পতিত পতির অযতনে?"
নবশিশু সুখরাশি,                 প্রণয়-বন্ধন-ফাঁসি,
পেলে কোলে কাল সহকারে,
দম্পতীর বাড়ে সুখ,               যুগপত্ চুম্বে মুখ,
কাড়াকাড়ি কোলে লইবারে ||



.                                       *************************                                 
উপরে

পদার্থবিদ্যার বলে,
খোদিয়ে ভূধর দলে,
সুড়ঙ্গ করেছে কলে,
তার মধ্যে গাড়ি চলে,
        অপরূপ দেখিতে |
শোণ নদ ভীমকায়,
ইষ্টকের সেতু তায়,
কটিবন্ধ শোভা পায়,
নির্ভয়েতে গাড়ি যায়,
        দেবকীর্ত্তি মহীতে |
অশ্ব গজে দিয়ে ছাই,
হাসিতে হাসিতে ভাই,
বোম্বাই নগরে যাই,
পথে নেবে নাহি খাই,
        কি সুবিধা হয়েছে |
এ পাড়া ও পাড়া কাশী,
পাঞ্জাবিয়া প্রতিবাসী,
সহজে মান্দ্রাজি আসি,
পবিত্র গঙ্গায় ভাসি,
        দিবানিশি রয়েছে |
রেলের কল্যাণে কবে,
মঙ্গল সাধন হবে,
ভারতের জাতি সবে,
একমত হয়ে রবে,
       সুমিলনে মিলিয়ে |
সাধিতে স্বদেশ হিত,
মনে হয় হরষিত,
কবে বিজ্ঞ মনোনীত,
বিলাতেতে উপনিত,
       হবে মুখ খুলিয়ে ||

.          ********                                    
উপরে
( এটিই সম্ভবতঃ বাংলা ভাষায় রেল গাড়ির উপর প্রথম কবিতা | কবি নিজে ইস্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে
ইনস্পেক্টর পদে কাজ করেছিলেন | )