কবি জীবনান্দ দাশ রবীন্দ্র পরবর্তী বাংলা সাহিত্যে শ্রেষ্ঠ কবিদের মধ্যে অন্যতম | তাঁর পিতা সত্যানন্দ এবং মাতা কুসুমকুমারী জিনি নিজেও কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন | গোধুলির বিষন্ন ছায়া, শস্যরিক্ত মাঠ, ধূসর অগ্রহায়ণ তাঁর কাব্য জগৎ কে দিয়েছে এক বিশিষ্টতা, যেমন বিশিষ্টতা তাঁর ইন্দ্রিয়াতুর, রূপ, গন্ধ ও স্পর্ষের সূক্ষ্ম চেতনায় | তাঁর সমস্ত কাব্যকে বেঁধে রেখেছে একদিকে প্রেমের তীব্র অনুভূতি অন্যদিকে পরিবর্তমান কাল-বোধ | তাঁর কাব্যের পটভূমি কখনও বাংলার গ্রাম, কখনও আধুনিক শহর, কখনও অতীত থেকে বর্তমানে প্রবাহিত ইতিহাসের উত্থান পতন | গভীর হতাশায় মানুষের ইতিহাস কখনও আচ্ছন্ন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ইতিহাস চেতনা এক প্রবল আশাবাদের সঙ্গে যুক্ত | ঝরাপালক (১৯২৭), ধূসর পাণ্ডুলিপি (১৯৩৬), বনলতা সেন (১৯৫২), মহাপৃথিবী (১৯৪৪), সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮) প্রভৃতি তাঁর অমর কাব্যকীর্তি | . --- উত্স: ডঃ শিশির কুমার দাশ, সংসদ সাহিত্য সঙ্গী ২০০৩
কবি এতই অন্যমনস্ক থাকতেন যে কলকাতার একটি ট্রামের ধাক্কায় (যা কি না একটি অতি মন্থরগতি যান) আহত হয়ে, হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় |