কবি জয় গোস্বামীর শৈশব কাটে পশ্চিমবঙ্গের রাণাঘাটে, পিতা মাতার সাথে | মা ছিলেন রাণাঘাট
লালগোপাল স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা | কবি প্রথাগত শিক্ষার ফাঁস ছিড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন স্কুলের ১১ ক্লাস পড়তে
পড়তেই | তাঁর প্রথম কবিতা সিলিং ফ্যান | তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় তিনটি লিটিল ম্যাগাজিনে -
"সীমান্তে সাহিত্য", "পদক্ষেপ" এবং "হোম শিখা" | ১৯৭৬ সালে তাঁর কবিতা দেশ পত্রিকায় প্রথম বার ছাপা হয় |
পরে তিনি ঐ পত্রিকাতেই একজন সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন |
তিনি , ১৯৮৯ সালে কাব্যগ্রন্থ "ঘুমিয়েছ ঝাউপাতা"র জন্য আনন্দ পুরস্কারে ভূষিত হন, ১৯৯৭ সালে ভূষিত হন
বাংলা একাদেমি পুরস্কারে "বজ্র বিদ্যুৎ ভর্তি খাতা"র জন্য এবং সাহিত্য একাদেমি পুরস্কার পান "পাগলী
তোমার সঙ্গে"র জন্য | জয় গোস্বামী এ যুগের অন্যতম জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী কবি | তাঁর কবিতা সম্বন্ধে
আমাদের নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই মনে করি | তাঁর লেখা উপন্যাসের মধ্যে "মনোরমার উপন্যাস","সেই
সব শেয়ালেরা", "সুড়ঙ্গ ও প্রতিরক্ষা" ইত্যাদি |
আমাদের কাছে যা সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য তা হোলো কবির, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার
সাহস এবং অত্যাচারিতের পাশে দাঁড়ানো | গুজরাতের দাঙ্গার পর কবিতায় ধিক্কার আমরা দেখেছি | সম্প্রতি
(২০০৬ - ২০০৭) সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রামের জমি বাঁচাও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং
মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি তাঁর কবিতায় ধিক্কার জানিয়েছেন | এই কবিতা নিয়ে, "বিজল্প" প্রকাশিত তাঁর ১৫টি
কবিতার বই "শাসকের প্রতি" বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা | ইতিহাসের এই
মুহুর্তটিকে আমরা প্রত্যক্ষ করতে পেরে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করি |
এর আগেও কবি নানা সময় নানা বিষয়ে তাঁর প্রতিবাদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় প্রকাশ করেছেন | একবার তাঁর কন্যার
ইস্কুলের কতৃপক্ষকে বাংলায় চিঠি লেখায়, তারা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে | তারা জানায় যে তারা নাকি
শুধু ইংরেজীতেই লেখা চিঠি গ্রহণ করে থাকে এবং বাংলায় চিঠি গ্রহণ করতে তারা বাধ্য নয় | এর প্রতিবাদে
কবি তাঁর কন্যাকে কলকাতার কসবা অঞ্চলের সেই নামী স্কুল থেকে তুলে এনে অন্যত্র ভর্তি করিয়েছিলেন |
সিঙ্গুর নন্দীগ্রাম আন্দোলনে কবির প্রকাশ্য বিরোধী ভূমিকার ফলস্বরূপ তাঁকে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজে ইস্তফা দিয়ে
বেরিয়ে আসতে হয়েছে |