কুমারী লজ্জাবতী বসুর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
১।  যাচনা  
২।  
অতৃপ্তি          
৩।  
দীনের মালা     
   
*
অতৃপ্তি

কেন এ অতৃপ্তি-ঊর্মি হৃদি-পারাবারে
উথলিয়া কূলে কূলে করিছে রোদন?
কি অভাব আকুলতা, কোন্ তৃষা তরে?
চাহিছে সাধিতে সদা কোন্ সে সাধন?
চারিদিকে উঠে মহা কর্ম-কোলাহল |---
কুসুম বিকশি উঠি বিতরিছে বাস,
গাহিছে কর্মের গীত তারকা সকল,
সকলেরে প্রাণ দিতে বায়ু ফেলে শ্বাস |
শুনিয়ে পরাণ এই কর্মের কল্লোল,
চাহিছে মিশাতে ইথে ক্ষুদ্র কণ্ঠ-তান,
আপনার পানে চেয়ে জাগিতে কেবল,
চাহে না থাকিতে তার অধীর পরাণ,
তাই এ অতৃপ্তি-ঊর্মি হৃদি-পারাবারে,
উথলি উঠিছে কাঁদি কাঁদি তৃষাতরে |

*************************
  যাচনা
দেবী!
থেকো,
আবেগে বহিব যখনি |
থেকো,
দীপ্ত যৌবনের রহস্যের মত,
মোর দুকূল ভরিয়া থমকি ;
ফুটো,
ধরণী যেমন জাগে গো বসন্তে
নিজ পূর্ণতায় চমকি ;
জেগো,
চির অনুদ্দেশ পখ-রেখা মত
মোর দূর দূরান্তর ভরিয়া ;
এস,
নিজ মহিমায়, চির নীরব
আকাশের মত নামিয়া |
দাঁড়ায়ো,
যথা,
ভাবের বাণীটি কবির গাথায়
জেগো,
তেমনি আমার নয়নে ;
প্রেমের প্রথম পুলক মতন
ওগো,
চিরদিন এসো স্মরণে |
   
  ***********************
*
দীনের মালা

অতি ক্ষুদ্র গন্ধহীন ছোট মালাগাছি,
দীন এল সঁপিবারে দেবের দুয়ারে |
সুবাসিত মালা কত, কত রত্নরাজি,
দেখিলেক পূর্বে যথা সজ্জীকৃত ঘরে,
স্থাপিতে তথায় তার হীন মালাগাছি
ভরি গেল চক্ষুদুটি নীরব বেদনে |
না বলি একটা কথা তার পর হায়!
চলে গেল দূর পথে আকূল সরমে |
সহসা মন্দির ধ্বনি উঠিল বিষাদে,
দেবতার দীর্ঘশ্বাস, কাঁদিল বাঁশরী
অধীর রাগিণী-গানে হল হীন জ্যোতি
আরতির দীপশিখা, পড়িলেক ঝরি
মঙ্গল মালতীমালা দুয়ার অঙ্গনে |
সমস্ত মন্দির ভরি নীরব বেদনে
ছোট মালাটির হায় অভাব কাহিনী
সারা বেলা দেবতার কাঁদিল চরণে |
উঠিল সমস্ত দিন একটি আহ্বান,
দীন যথা দূর পথে করেছে প্রয়াণ |

*************************
*