| মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার কালীঘাটের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে | ১৯৭০ সাল নাগাদ ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি কংগ্রেস পার্টিতে যোগ দেন | তাঁর ধূমকেতুর মত উত্থান হয় ১৯৮৪ সালে যখন তিনি CPI(M) দলের সোমনাথ চ্যাটার্জীর মত বড় নেতাকে, যাদবপুর নির্বাচন ক্ষেত্রে হারিয়ে ভারতীয় সংসদের লোকসভায় সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন | তিনি কংগ্রেস পার্টির যুব দল - যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন | ১৯৮৯ সালে নির্বাচনে হেরে গেলেও ১৯৯১ সালে দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র থেকে আবার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন, যে আসনটি এখনও তাঁর দখলে রয়েছে | সেই সময়ে তিনি কেন্দ্রের নরসিংহ রাও সরকারে যুব ও ক্রীড়া দফতরের রাষ্ট্র মন্ত্রী হন | পরিস্কার ভাবমূর্তি, দক্ষ বক্তা ও আপোসহীন রাজনীতি করার জন্য বিরোধী মনোভাবাপন্ন মনুষের কাছে ১৯৯২ এর দ্বিতীয়ার্ধ নাগাদ তাঁর জমপ্রিয়তা শিখরে পোঁছেছিল | পশ্চিম বঙ্গ কংগ্রেসের যাবতীয় ছোট ও বড় নেতাদের মধ্যে তিনিই যে সর্বাধিক জনপ্রিয় ছিলেন এ বিষয় কোন দ্বিমত নেই | ঐ বছরই সেপ্টেমবরের শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ব্রিগেড মৈদানের জনসভায় প্রায় ১০ লক্ষ লোকের সমাবেশ করে তাক লাগিয়ে দেন | কলকাতার একটি প্রথম সারির সংবাদ পত্র পর দিন তাঁকে জনপ্রিয়তার নিরিখে নেতাজী সুভাস চন্দ্র বসুর সাথে তুলনা করেন | তাঁর দলের বহু নেতার তাঁর সমস্ত কাজে বিরোধিতা করা এবং যে কোনো কারণেই হোক, শাসক দলের একেবারেই বিরোধিতা না করার সংকল্প তাঁকে বাধ্য করে ১৯৯৭ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস নামে নতুন দল গড়ার | অচিরেই তা রাজ্যের প্রধাণ বিরোধি দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে | ১৯৯৯ সালে অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন NDA সরকারে যোগ দিয়ে রেল মন্ত্রি হন | ২০০১ সালে ভ্রষ্টাচারের বিরূদ্ধে প্রতিবাদ করে তিনি সরকার থেকে বেরিয়ে আসেন এবং ২০০৪ সালে আবার কিছু দিনের জন্য কয়লা মন্ত্রকের দায়ীত্ব গ্রহণ করেন | কূটনীতির চেয়ে বেশী তিনি আবেগের বশেই কাজ করেন বলে তাঁর যথেষ্ট বদনাম হয়েছে | আবার এই একই কারণে তিনি সাধারণ অবাম মানুষের "দিদি" হয়ে তাঁদের কাছে এখনও সব চেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী | কবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই লিখেছেন যে তিনি কবি নন কারণ কবির ভাষায় যে মাধুর্য, ছন্দ ও তাল থাকে তা তাঁর কবিতায় নেই | স্বাভাবিকভাবে একজন রাজনৈতিক নেতার কাছে তাঁর কবিতার কাব্যগুণের চেয়ে বক্তব্যই বড় হবার কথা | তাঁর কবিতায় তাঁর সন্দেশ বা বক্তব্যই প্রধাণ | অন্যায়, অবিচার, মানবাধিকার, মানুষের দুর্দশা, রাজনৈতিক প্রতিবাদ ইত্যাদি তাঁর কবিতার মূল উপাদান | এই কবির বৈশিষ্ট এই যে তিনি শুধু কবিতা লিখেই ক্ষান্ত হন না অসহায় মানুষের পাশেও তাঁকেই সর্বাগ্রে নির্ভয়ে ছুটে যেতে দেখা যায় | তিনি বাংলা এবং ইংরেজীতে কবিতা লেখেন | মমতা রন্দ্যোপাধ্যায় সম্বন্ধে আরও জানতে ভারতীয় সংসদের সাইটে তাঁর পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন | সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির ওয়েবসাইটে যেতে হলে এখানে ক্লিক করুন | Click here to read this writeup about her in English |