সিঙ্গুর থেকে খাম্মাম
সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম,
নানা পথে ঘুরে শেষে খাম্মাম,
ছা পোষা মানুষ পথে নেমেছে
বাঁচন মরণ সংগ্রাম |
সরকারী যত কালো হাত
এই ভারতবর্ষ জুড়ে,
ভেদ নাই তায় ডান কি বামে ---
হয় দালাল নয় ফড়ে |
আম জনতার ভোটে আসে তারা
অথবা রিগিং করে,
গদিতে বসেই মধুচন্দ্রিমা
লগ্নিকারীর ঘরে !
লগ্ন বয়ে যায় জীবনের
বেঁচে মরে আছে যারা,
তাদেরও পথে বসিয়ে শান্তি
পায়, গদিয়ান যারা !
অর্থনীতির পরিসংখ্যানে
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে মরি,
লক্ষ কোটির পরিকল্পনা !
খুঁজেও হেরিতে নারি !
আসল কথা --- লুঠ করে খাও
যতদিন আছ গদিতে |
ছা পোষা করদাতার পয়সা
বহিয়া যাক নদীতে !
সাম্রাজ্যবাদ ! সন্ত্রাসবাদ !
জুজু - মৌলবাদ রূপী
পুষে রেখে, দাও দৃষ্টি ঘুরিয়ে,
মাথায় পড়াও টুপি !
দুষ্ট কবি খুঁজিয়া ব্যর্থ
কারা মানুষের পক্ষে !
সত্য দেখে সে --- সব শাসকই
চলে ধান্দার লক্ষ্যে |
. ************** কলকাতা ২৬/৮/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
মিলনসাগর
গণরোষ
জমছে, গণরোষ জমছে....
লুণ্ঠিত মানুষের
এই শুধু জমাপুঁজি
শাসকের দংশনে
চলে গেছে রুটি রুজি
যতদূর চোখ যায়
দ্যাখে শুধু খালি পেট--
আর ওই সামনেই
ঘেরা তার ধান ক্ষেত !
শাসকের নামধারী
চতুর মাকড়সা |
সেও বসে কষে জাল বুনছে---
মামলার নাগপাশে
শিশুরাও বাঁধা প'ড়ে,
লাঞ্ছিতা নারী মাঠে পুড়ছে |
এদের তো সবই গেছে |
হারাবার কী আর আছে ?
তাই, মুক্তির দিন শুধু গুনছে |
তাই জমছে, গণরোষ জমছে....
এই গণরোষ-কালোমেঘ
আরও ঘনিভূত হয়ে
ওই দেওয়ালেই আছড়ে পড়বে |
যতখুশি ইট গাঁথো
পারবে না, পারবে না,
ভেঙে খান্ খান্ হয়ে পড়বে |
নিবেশের পুঁজি যত,
শাসকের জোর, শত
চেষ্টায় মুখ থুবড়ে পড়বে |
দুষ্ট কবি বলে
গণরোষ-কালোমেঘ
তিলে তিলে হলো সীমাহীন---
উঠবে যে ঝড় দেশে
দেখি তারি পূবাভাসে
এই দুঃসময় নাহি বেশী দিন !
. ************** কলকাতা ২৭/৮/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
সিঙ্গুরে দেয়াল ঘেরা টাটার কারখানার ভেতরে জোর কদমে কাজ
চলছে | মাঝে মাঝে ঝড় বৃষ্টির সময়ে জমিহারা মানুষরা চেষ্টা করেন
ওই দেওয়ালটা ভাঙতে | ভাঙতে একাধিক বার সক্ষম হলেও বুদ্ধদেব
ভট্টাচার্যের পুলিশ সেখানে খুব তত্পর | তবু কোথায় যেন একটা
সন্দেহ দানা বাঁধেই --- ওই কারাখানা আদৌ কি শেষ পর্যন্ত সেখানে
থাকবে....
মিলনসাগর
বল সিঙ্গুর বল নন্দীগ্রাম
ধ'রে রাষ্ট্রের সাথে পাঞ্জা
ক'রে তুচ্ছ যত ঝঞ্ঝা
ঝরে রক্ত কার অবিরাম ?
লড়ে নিত্য কে সংগ্রাম ?
লড়ে সিঙ্গুর লড়ে সিঙ্গুর
লড়ে নন্দীগ্রাম লড়ে নন্দীগ্রাম
বল সিঙ্গুর বল সিঙ্গুর
বল নন্দীগ্রাম বল নন্দীগ্রাম
ওই রাজা ওই মন্ত্রী
মাথা-কেনা যত সান্ত্রী
লোটে বাংলার জমি সোনার
যেটা তোমার যেটা আমার
রোখে সিঙ্গুর রোখে নন্দীগ্রাম
রোখে রহিম রোখে রাম
বল সিঙ্গুর বল সিঙ্গুর
বল নন্দীগ্রাম বল নন্দীগ্রাম
ওই দিচ্ছে ব্যাড়া দিচ্ছে
চারি দিকে গ্রাম ঘিরছে
মাঠে জিন্দা নারী পুড়ছে
বহে হলদি গাঢ় লালচে
দ্যাখে সিঙ্গুর দ্যাখে নন্দীগ্রাম
দেখে স্তব্ ধ সারা ধরাধাম
বল সিঙ্গুর বল সিঙ্গুর
বল নন্দীগ্রাম বল নন্দীগ্রাম
চা-বাগিচায় ঘরে ঘরে
চলে মৃত্যু অনাহারে
দুধ-শিশু কারাগারে
পড়ে লাশ পারাবারে
তবু সিঙ্গুর তবু নন্দীগ্রাম
তবু লড়াই চলে অবিরাম
বল সিঙ্গুর বল সিঙ্গুর
বল নন্দীগ্রাম বল নন্দীগ্রাম
কোন দূর-দেশ, সেথা অন্যায়
তার প্রতিবাদের বাজনায়
নেমে রাস্তায় রাজা গর্জ্জায়
ঘরে প্রজার যে প্রাণ যায়
হাসে সিঙ্গুর হাসে নন্দীগ্রাম
হাসে আল্লা হাসে ভগবান
বল সিঙ্গুর বল সিঙ্গুর
বল নন্দীগ্রাম বল নন্দীগ্রাম
ভাসে গ্রাম শহর বন্যায়
কাঁদে রাজা মায়া-কান্না
চলে ত্রাণের নামে ছলনা
চলে দলের নামে দলনা
তাই সিঙ্গুর তাই নন্দীগ্রাম
তাই বিদ্রোহ তাই সংগ্রাম
বল সিঙ্গুর বল সিঙ্গুর
বল নন্দীগ্রাম বল নন্দীগ্রাম
সহসা শুনি সিঙ্গুর
নাহি মচকায় নাহি ভঙ্গুর
ওঠে মস্তক তুলে উর্দ্ধে
গায় মুক্তির গান স্পর্দ্ধে
জাগে সিঙ্গুর জাগে নন্দীগ্রাম
জাগে বাংলা থেকে খাম্মাম
বল সিঙ্গুর বল সিঙ্গুর
বল নন্দীগ্রাম বল নন্দীগ্রাম
ব'লে "আইনের নেই শাসন"
চলে লুণ্ঠন-খুন-ধর্ষণ
মেতে বারবার গণহত্যায়
নাকি "নতুন সূর্যোদয়" হয়!
তবু নেই শেষ তবু নেই ক্লেশ
তবু নেভে না এই নন্দীগ্রাম
বল সিঙ্গুর বল সিঙ্গুর
বল নন্দীগ্রাম বল নন্দীগ্রাম
কবি দুষ্ট হল হৃষ্ট
লিখে ধন্য গাহি গান |
মরা বাংলায় ক'রে সঞ্চার
নব আশা নব প্রাণ
রুখে হামলা জ্বলে বাংলা
জ্বলে সিঙ্গুর জ্বলে নন্দীগ্রাম
বল সিঙ্গুর বল সিঙ্গুর
বল নন্দীগ্রাম বল নন্দীগ্রাম
. ************** কলকাতা ১৯/৯/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
সিঙ্গুর আন্দোলনের এক বছর হয়ে গেল, এ যেন দিন দিন আরও
শক্তি সঞ্চয় করছে |
মিলনসাগর
বল সিঙ্গুর বল সিঙ্গুর
এই মাটি হলো বিশ্বকবির সোনার বাংলা
এই মায়েরই মোরা সন্তান, তাই রুখছি হামলা
এই মাটিকেই বঙ্কিম বলে বন্দেমাতরম
বেচবো তাকে !? আমরা মোটেই নই সে নরাধম
সাবধান রাজা ! সরাও দৃষ্টি ওই লোভাতুর চক্ষুর
জেনে রাখো রাজা - ভরাডুবি হবে, এটা হল সিঙ্গুর
বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর
টাটার অর্থে যতই পোষো হার্মাদ, ওহে বুদ্ধ !
জমি ঘিরে নিয়ে ভেবো না তুমি জিতে গেছ, এই যুদ্ধ
মোদের রোষানলে তুমি হবে নিমেষেই ছারখার
টাটা-সালেম-বন্ধুরা যত ছুটবে পগারপার
ভুলো না, তুমি খেলছো নিয়ে এই জমি সিঙ্গুর
বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর
এক্কা-দোক্কা, ঘুড়ি-লাটাই, ডাং-গুলি গেছে ছুটে
হেথা শিশুদের মুখেও এখন স্লোগানের খই ফোটে
বইয়ের পাতায়, নামতার পাঠে পড়ে মুক্তির গান
এই বয়সেই চোখে-মুখে দ্যাখো আগুনের ঝলকান্
বড়দের সাথে তাদেরও কণ্ঠে ওঠে সেই এক সুর
দিচ্ছি না জমি, দিচ্ছি না জমি, দিচ্ছি না সিঙ্গুর
বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর
ওরে কাস্তে শানা, রোখরে হানা, দুই হাতে তোল অস্ত্র
মনে রাখ্ , এই জমিতে জ্বলেছে তাপসী নিরস্ত্র
জীবন মরণ বাজী রেখে জমি কেড়ে নিয়ে ফের গড়্
সবার জমি, সবার জীবন, সবার সুখের ঘর
শারদোত্সবে, ঈদের পরবে, বাজে একটাই সুর
দুষ্ট কবি চারিদিকে শোনে সিঙ্গুর সিঙ্গুর
বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর, বল সিঙ্গুর
. ************** কলকাতা ২১/৯/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
৩০শে সেপ্টেম্বর ২০০৭ তারিখে, পশ্চিমবঙ্গ কৃষিজমি রক্ষা কমিটির ডাকা
সিঙ্গুর আন্দোলনের বর্ষপূর্তির দিন, সিঙ্গুরে গিয়ে শিশুদের মুখে বড়দের
স্লোগান শুনে অবাক হয়ে গেছেন দুষ্ট কবি | এই কবিতার তৃতীয় স্তবকটি
এবার সিঙ্গুর ঘুরে এসে লেখা হয়েছে, সেই শিশুদের উদ্দেশে, যাদের বুদ্ধদেব
ভট্টাচার্যর সরকার, শৈশবেই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমে পড়তে
বাধ্য করলো |
মিলনসাগর
যদি কেউ হেথা প্রেমে প'ড়ে...
বাংলায় নাকি প্রগতিশীলরা
থাকেন সবার ঘরে ঘরে!
তবু যদি কেউ হেথা প্রেমে প'ড়ে
বিধর্মীকে নিয়ে আসে ঘরে...
গ্রামে গিয়ে দ্যাখো, হয় একঘরে |
পুঁজিপতি বাপ হলে শহরে...
পুলিশ লেলিয়ে ছাড়ে,
চমকানিতেও ভয় না পেলে
জীবন নরক করে
তবুও যদি প্রেম না ভাঙে
মৃত্যু তাদের ঘেরে...
মার্ক্সবাদী রাজা পুঁজিপতিদের
জামাই-আদর করে
তাঁদের এখন সাত-খুন-মাফ!
তাই, যা-খুশি-তা করে...
রাজার কোটাল কোতোয়ালী ছেড়ে
ক্রিকেটের মাঠে চরে!
মুখ মুছে যত সাফাই ঝাড়ে
রাজ-বরাভয় তাহার 'পরে!
প্রশাসন তাই লাগে উঠে-প'ড়ে
মামলাটা যাতে ধামাচাপা পড়ে...
উন্নয়নের বাজনার তালে
দীনেরা বেঘোরে মরে...
প্রগতিশীলরা এত রাজ-দোষ
দেখে না দেখার ভান করে!
তাই, বাংলার আজ বড় দুর্দিন
দুষ্ট কবি, স্পষ্ট করে ||
. ************** কলকাতা ২৮/৯/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
পশ্চিমবঙ্গের প্রগতিশীল শাসক-দলের পুলিশ এবং প্রশাসন কত নিষ্ঠুরভাবে এক নব দম্পতি কে
যথেচ্ছ ভাবে হয়রানি ক'রে স্বামীকে মত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে তা আমরা রিজওয়ানুর
রহমান ও প্রিয়াঙ্কা টোডির মর্মান্তিক পরিনতি দিয়ে দেখলাম | দেখলাম শুধু পয়সা থাকলে
এদেশে কী কী করা সম্ভব! এখানে নাকি প্রগতিশীল কমিউনিস্টরা রাজত্য করছে! এখনও
অনেকের মতে এই শাসকের বিকল্প নেই! এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কি আছে!
( এই বিষয় নিয়ে আপনার কোনো মন্তব্য বা COMMENT থাকলে এখানে ক্লিক করে জানান )
মিলনসাগর
আবার ফিরেছে তেতাল্লিশ
দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে আজ
বাঙালী এখন কোণ ঠাসা |
চারিদিকে দ্যাখো জ্বলে দাবানল
জ্বলে ইজ্জত, জ্বলে আশা |
বেওসাদারকে ঘিরেই শুধু
রাজার নিত্য ওঠা বসা |
গরীবের হাহাকার ও কান্না
বারণ, রাজার কানে পশা |
রেশন দোকানে চাল চিনি গমে
ডীলারের খাঁড়া চুপিসারে নামে
গরীবের হক গরীবের নামে
বিকোয় খোলা বাজারের দামে |
আমলাশোলে, চায়ের বাগানে
ক্ষুধায় যত পড়েছে মারা |
ভাত না পেয়ে ঘাস পাতা মূল
যা পেয়েছে তাই খেয়েছে তারা
তাই রাজা বলে, না খেয়ে মরেনি,
ছাই-পাশ গিলে মরেছে ওরা!
জ্বলছে রেশন দোকান দোকানী,
ক্ষোভে মানুষ দিশাহারা |
ক্ষমতার রঙে রঙীন জামাটা
রোষানলে হলো নিমেষে ছেঁড়া |
মানুষ শহরে গঞ্জে গ্রামে
অনাহারে দ্যাখো পথে নামে |
হকের দু-মুঠো অন্ন নিতে
গুলি খেতে হয় বুক পেতে |
তেতাল্লিশের দিনগুলি যেন
ফিরে এসেছে দেশে আবার |
জেনে রাখো তুমি, ওহে খল রাজা
বাঙালী নীরবে যাবে না এবার |
সিঙ্গুরের ধাঁচে জমি লুট করে,
বাঙালীকে ত্রাসে, অনাহারে মেরে
বাংলাকে রাজা - বিকোতে চাও ?
দুষ্ট কবি বলে শোনো সবে ---
রাজাকে এবার টেনে নামাও |
নেকড়ের সাথে শিকারী সেজে
শিকারের যারা বন্ধু হন
তাদের তোমরা চিনে নিয়ে রোখো
নইলে বিফল হবে এই রণ ||
. ************** কলকাতা ০৬/১০/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
পশ্চিমবঙ্গের রেশন দোকানীদের সাথে শাসকদলের যোগসাজসে যে দুর্নীতি ফুলে ফেঁপে উঠেছে,
তার বিরুদ্ধে জনতা ক্ষেপে রাস্তায় নেমে এসেছে | জেলায় জেলায় রেশন দোকানে লুট, অগ্নি
সংযোগ, কাঁদানে গ্যাস, পুলিশের গুলিতে উত্তাল অবস্থা!
মিলনসাগর
আসল শুভ শক্তি
যদি আমার প্রতিটি কথায়
তুমি, আজ্ঞে আজ্ঞে না হাঁকো,
জেনে রাখো তুমি অশুভ শক্তি
যদি আমার সঙ্গে না থাকো |
আমার কোটাল-সোনা খেলুক ক্রিকেট
কোতয়ালী ছেড়ে বুকি-র সাথে,
প্রেম করবার অনুমতি থাক
গুণ্ডা-দমন শাখার হাতে |
হিন্দু থাক্ - শুদ্ধ হিন্দু
মুসলিম থাক্ - মুসলমান,
পরস্পরে প্রেমে প'ড়ে যেন
স্বপ্নেও নাহি ঘর বসান |
আমার বরাভয়ে থেকে সব
রেশন-ডিলার লাল হয়ে যাক,
হক্-এর খাদ্য না খেয়ে ম'রে
জনতা - গুলির খরচ বাঁচাক |
আমার নখ-দন্ত সতেজ রাখতে
চাই যে প্রচুর টাকা,
আজ তো কেবল কৌটো নাচিয়ে
যায় না তাদের রাখা |
তাইতো, হয়েও সমাজবাদী
আমি দোস্ত পুঁজিপতির,
সর্ব্বহারার জমি-জমা কেড়ে
পুঁজির করি খাতির |
আমি ডাণ্ডা মেরে ঠাণ্ডা করি
উদ্ধত-মাথা যত,
টেরটি পাবে তোমরা - সিঙ্গুর
নন্দীগ্রামের মত |
বুঝলে তো সব - আমিই হেথা
আসল শুভ শক্তি,
বুঝবে ঠ্যালা, যদি কভু শোনো---
দুষ্ট কবির উক্তি |
আমি স্ট্যালিনের ব্যাটা, কশে মারি ঝাঁটা
গণতন্ত্রের মুখে,
আমি বিরোধী-শূণ্য রাজ্য গড়বো
এই বাংলার বুকে ||
. ************** কলকাতা ১৩/১০/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
মিলনসাগর
শারদ শুভেচ্ছা ২০০৭
শারদোত্সবে মাতুক সবাই
মায়ের আগমনে
বজ্রমুষ্ঠি পুঞ্জিত হোক
অসুর নিধনে
যারা এখনো ঘুমিয়ে আপাত-সুখে
জাগাও তাদের সবে
জেগে জেগে যারা ঘুমিয়ে রয়েছে
তাদেরও জাগতে হবে
মিলে অসুরের সাথে মধু লোটে যারা
তাদের সুদিন গোনা শুরু
ঢাকের বাদ্যি ছাপিয়ে যাচ্ছে
দ্রোহের দামামা গুরু গুরু
জ্বলছে বাংলা, দুষ্ট কবি
বলে - অসুর নিধন হলো শুরু ||
. ************** কলকাতা ১৮/১০/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
মিলনসাগর
থীমের পূজা
এই বাংলায় নতুন হিড়িক - থীমের খেলাঘর!
পুড়ছে টাকা, উড়ছে টাকা, দুই হাতে তুই ধর!
সাপ-ব্যাঙ পোড়ামাটি বাদাম-খোলা যত,
পাখা ঝিনুক কলস বেলুন ডোকরা কত শত!
সেই চাঁদে যাবার রকেট থেকে পুরুলিয়া ছৌ-নাচ---
থীমের মোড়কে উদ্ধার হবে, বাবুরা রাখবে লাজ!
দেবতার চেয়ে দেবালয় বড় এই কথা যারা ভাবেন,
প্রতিমাখানি নাম-কা-ওয়াস্তে, মণ্ডপ নিয়ে পড়েন!
ভাঙা দেউলের আদল থেকে তাজমহলের ঘাই
অক্ষরধাম, মীনাক্ষী, বল কোন মন্দির চাই?
ঘরে টিম টিম লোড-শেডিং এ জ্যোতির যাওয়া আসা!
মণ্ডপে দ্যাখো মহারাজাদের ঝাড়বাতি জ্বলে খাসা!
আধুনিকতার নব পরিনতি - জীবন হয়েছে দ্রুত!
ছাপোষা বাঙালী সেই যাতাকলে পিষে যায় অবিরত!
তাইতো ক'দিন ভীড় করে ঘোরে, থীম থেকে যায় থীমে!
অন্তবিহীন কাতারে দাঁড়াতে মানুষের ঢল নামে!
তাতেই বাঙালী ডগমগ হয় আনন্দে উল্লাসে!
থীমওয়ালারাও পকেট গোছায়, পুরস্কারে ভাসে!
মা চলে গেলে যখন থীমের শুধুই ভাঙা হাট,
নির্দয়ভাবে খুলে ফেলে সব মুছে ফেলার পাট!
শুভ বিজয়ায় বিনিময় চলে শুভেচ্ছা আর প্রীতি,
শিল্পী তখন কাঁদে, দেখে তার শিল্পের পরিনতি!
জানে - তার সাধনা-লব্ ধ গুণের এটাই নিয়তি!
মন যে কিছুই মানে না! তার শিল্প যে তারই সন্ততি!
মায়ের বোধন করে নি সিঙ্গুরে জমিহারা চাষি যত!
আধেক বাংলা বানভাসি দ্যাখো, অনাহারে মরে শত!
ত্রস্ত যখন অসংখ্য, হয়ে আগামী অনিশ্চিত!
বারোয়ারী থীম বাবুরা তখন আহ্লাদে গদগদ!
বিজ্ঞাপনের ঢেউয়ে ঢেকে যায় পূজা-মণ্ডপ যত!
চাঁদার জুলুমে বাঙালীর প্রাণ হয় যে ওষ্ঠাগত!
নমো নমো করে সারে আবাহন, ঘটা করে চলে উদ্বোধন!
বাম-শাসকের ইশারায় চলে পুঁজিপতিদের ফিতা-কাটন!
সমাজবাদের ছায়ার তলায় এত কুরুচির প্রদর্শন!
দুষ্ট কবি জিজ্ঞাসা করে, কেন আজ এই অধোপতন?
হয়তো বলবে - আসছে টাকা, তুমি কে হে বাপু বলার?
এই দুনিয়ায় যার যত আছে, তার তত উঁচু কলার!
এই কথা গিয়ে বল তাদের, যাদের "পৃথিবী গদ্যময়"!
"পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি", যাদের মনে হয়!
আরে...!
সেকেলে বাবুরা ওড়াতো-পোড়াতো নিজেদের টাকাকড়ি!
এখন তোমরা ঝাঁক বেঁধে কর পরের ধনে পোদ্দারী!
. ************** কলকাতা ২০/১০/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
ইট্যালিকস এ লেখা কথাগুলি কবি সুকান্তের "হে মহাজীবন" থেকে নেওয়া
হয়েছে |
মিলনসাগর
শুভ বিজয়া ২০০৭
মা দুর্গার মোদের বাড়ি
থাকা হল শেষ |
নিরঞ্জনের পরে শুধুই
করুণ সুরের রেশ |
বাণভাসি লোক হাজার হাজার
খোলা আকাশ মাথায় সবার |
লক্ষ্মীছাড়া রাজার রোষে,
নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর দেশে,
হারিয়ে জীবন জমি ভিটে,
মানুষ থাকে ভয়ে ত্রাসে |
কত মানুষ পেটে আগুন,
জ্বলছে না যে ঘরের উনুন |
বাধ্য হয়ে নামছে পথে
নিচ্ছে তুলে কানুন হাতে |
এদের ঘরে মায়ের পূজো ?
এদের খুশি! খোঁজ কে রাখে ?
রিজওয়ানুরের ঘরে আঁধার
ঈদের খুশি ছোঁয়নি তাঁকে |
নির্লজ্জ বাবুয়ানা
আসলো ফিরে পূজোর ধামে |
উড়ছে টাকা পুড়ছে টাকা
সবই চলছে থীমের নামে |
সমাজবাদের মরুদ্যানে
পুঁজিই প্রধান আজ এখানে |
দুষ্ট কবির প্রশ্ন - তবে
সর্বহারার পাশে কারা ? ---
রাজার ভাষায় - "অশুভ শক্তি"
এখন রুখে দাঁড়ায় যারা |
. ************** কলকাতা ২১/১০/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
মিলনসাগর
জীবনমুখী!
নিজের কথায় ও সুরে,
গীটারটা ঝুলিয়ে ঘাড়ে,
এই শ্মশানের শান্তির নীড়ে,
গান গেয়ে শুনিয়েছ অনেক |
জীবনমুখীর শুনি জয়,
যেন জীবন শুধুই সুখময়!
বিবেকেরে সুরে বেঁধে নিয়ে,
আসর মাতিয়েছ অনেক ||
চায়ের কাপে তুলে ঢেউ,
শাসকের লেজে সেজে ফেউ,
উটপাখি হয়ে কেউ কেউ,
"মরুদ্যানে" গুঁজে থাকে মুখ |
বাংলায় জ্বলে যবে আগ,
রাজার না হয়ে বিরাগ,
বিবেকেরে চেপে বেবাক,
পাছে হয়ে যায় কোনো ভুলচুক ||
দুষ্ট কবি বলে ভাবি,
গান গাহিলেও তুমি কবি!
কেন তবে আছো চুপ সবি,
বাংলার নব-দ্রোহ-কালে ?
খ্যাপা-সুমনেরে দিয়ে বাদ,
ও যাঁরা গান বেঁধে ক'রে প্রতিবাদ,
শুধু জমক-বিনোদন-কলনাদ,
মিছে এতকাল করে গেলে ||
এখনো সময় আছে জেনো,
কালের আহ্বান ওই শোনো,
কলমের কোপ জোরে হানো,
কর জীবনমুখীরে মুখরিত |
করতালি সজোরে ধ্বনিবে,
টান পড়িবেনা যশ-বৈভবে,
রাজ-রোষে কি হবে, না ভেবে,
থাকো সবার হৃদয়ে জাগরিত ||
. ************** কলকাতা ২৫/১০/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
মিলনসাগর
এখন নাকি শান্ত নন্দীগ্রাম!
হাজার হাজার ঘর ছাড়াদের
ফিরতে নিজের ঘরে, তাদের
চলছে শুধু দখল অভিযান
এখন নাকি শান্ত নন্দীগ্রাম!
পিশাচ রাজা ব্যস্ত বহুত,
মত্ত-শাসক দলের মাহুত
রাজার এখন দেখা পাওয়া ভার !
তিনি ঠুটো করে রেখেছেন সরকার !
নন্দীগ্রামের গণহত্যায়
লাগে না চোট তার সত্তায়
তিনি রক্তমাখা হাতে কাটেন ফিতে সিনেমার!
দেশের বিবেক পথে নামায়,
তাঁদের এখন অন্ধ মনে হয়!
সেই বিবেকের কণ্ঠ রুধতে গারদ ভরে যায় |
তার থানায় পুলিশ
দরজা এঁটে নিচ্ছে বিশ্রাম!
তাই---
এখন নাকি শান্ত নন্দীগ্রাম!
আমলাগুলোর মেরুদণ্ড
গোলামীতে লণ্ড-ভণ্ড
সরীসৃপও লজ্জায় মাথা নোয়ান!
মহাকরণের ঠাণ্ডাঘরে, ঢ্যারা পিটিয়ে
বলেন---
এখন নাকি শান্ত নন্দীগ্রাম!
দু যুগ ধরে যে মহান নেতা
বাংলার শাসনের মাথা,
শুধু ফুর্তি করে সেরেছেন যার দায়,
সেই বাতিল নেতার কথাই শোনা যায় !
শঙ্কিত যার নিজের দলই,
বাঁচতে, যাকে অবসরে পাঠান,
তিনিও খুশি!
কারণ?-
এখন নাকি শান্ত নন্দীগ্রাম!
গৃহদাহের অগ্নিশিখায়
চলে দীপাবলীর মহান প্রহসন!
ভাইয়ের রক্ত মুখে মেখে,
ধর্ষিতার রক্তে লেখে ---
দখল! দখল! শেষে দখল হল আজ নন্দীগ্রাম!
তবুও বলবো?
এখন নাকি শান্ত নন্দীগ্রাম!
হয়তো সত্যি, শান্ত নন্দীগ্রাম !
এই দুষ্ট কবি জানে এমন
শান্তি বিরাজে যেথায় মহাশ্মশান!
ভেবোনা, এটাই শেষ নন্দীগ্রাম !
ভেবোনা, ধরায় মুছে গেলো সেই নাম !
মশালের মত নিজেরা জ্বলেছে,
শোষকের সাথে পাঞ্জা লড়েছে,
প্রতিবাদের আলোকে বলেছে ---
জাগো বাংলা! জাগো ভারত! জাগো ধরাধাম!
মোটেই শান্ত হয়নি নন্দীগ্রাম !
সামনে বাঁকেই আবার দেখতে পাবে ---
শাসকের ত্রাস --- সেই নন্দীগ্রাম !
. ************** কলকাতা ১১/১১/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
নন্দীগ্রামের দ্বিতীয় গণহত্যার প্রতিবাদে, ১৪ই নভেম্বর ২০০৭ এর মহা
মিছিলের পরে সেই মঞ্চে কবি এই কবিতাটি পাঠ করে আসেন |
কবিতাটি ১৮ই নভেম্বর ২০০৭ এর দৈনিক স্টেসম্যান পত্রিকাতে
প্রকাশিত হয় |
বিগত এক সপ্তাহ ধরে, একে৪৭ এর মত অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত
প্রায় হাজার খানেক শাসক দলের ভাড়াটে গুণ্ডা, যাদের কথিত ভাষায়
হারমাদ বাহিনী বলা হয়, ছয় দিক দিয়ে আক্রমণ করে নন্দীগ্রামের
অনেকটাই দখল করে নিয়েছে | এখনও লড়াই চলছে, আগুন জ্বলছে, লুট
ধর্ষণ প্রহার সমানে চলছে | বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এই সম্পূর্ণ অভিযানটির
সময় পুলিশকে হয় দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন নয় পুলিশকে হার্মাদ
বাহিনীর সুরক্ষায় রেখেছেন! ঠিক যেমন বহুকাল আগে সইদ সুরাবর্দি
পুলিশকে তিন দিন ব্যারাকে রেখে নিজের সমর্থকদের কলকাতার বুকে
দাঙ্গা ছড়াতে সাহায্য করেছিলেন |
মিলনসাগর
নন্দীগ্রামের আঁচে
তুচ্ছ শ্রমজীবী হয়ে
বুদ্ধিজীবীর ডাকে গিয়েছি |
স্লোগানে স্লোগান না দিয়ে
মৌনি হয়ে মিছিলে হেঁটেছি |
আমি সব কিছু জ্বালিয়ে দেবার,
দুর্বার বাসনাকে,
চেপে রেখে নিরব থেকেছি |
গালাগালির অশ্লিলতার
ঘূর্ণি চূর্ণ করে
কবিতায় ফেটে পড়েছি |
ছন্নছাড়া আগুন ঝরা
ভাবনা যেন পাগল করা,
দুষ্ট কবির কাব্যে মিশেছি |
নন্দীগ্রামের আঁচে শেঁকে
বিদ্রোহের ছবি এঁকে
মনের পাতায় লিখেছি |
. ************** কলকাতা ১৮/১১/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
মিলনসাগর
নন্দীগ্রামের সৈনিক তোর চোক্ষে কেন জল?
নন্দীগ্রামের সৈনিক
তোর চোক্ষে কেন জল?
তুই বুক চিতিয়ে লড়লি,
তুই বাক্য বিনে মরলি,
তোর বীরতায় আজকে
সারা বাংলা বিহ্বল |
হে নন্দীগ্রামের সৈনিক!
তোর চোক্ষে কেন জল?
শাসক হৃদয়হীন,
তার সন্ত্রাস নিঃসীম,
নিচ্ছে কেড়ে জীবন জমি ---
তুই তো ভয়ে নাহি দমি,
যোগাস সবার বল !
হে নন্দীগ্রামের সৈনিক!
তোর চোক্ষে কেন জল?
দুষ্ট কবি স্বভাব দুষ্ট,
প্রশ্ন করে তোরে স্পষ্ট ---
তোর চোখের উপর খালি হাতে
মিছিল করে গাঁয়ের পথে
সহায় হারা ভাই বোনেরা
মরলো কেন বল?
তাই কি দেখি সৈনিক!
তোর চোক্ষে ঝরে জল?
যদি রশদ ফুরিয়ে থাকে
তবে, কি আর করবি বল?
এখন মুছে চোখের জল
ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধকে
আবার গড়ে তোল |
নন্দীগ্রামের সৈনিক!
তোর চোক্ষে কেন জল!
যদি অন্য কিছু থাকে,
যা রইল গভীর পাঁকে,
যার ইশারায় ট্রিগার চেপা
আঙ্গুল নিশ্চল!
মোছরে আঁখি জল |
কণ্ঠ ছেড়ে বল ---
আন্দোলনের পূজার ফুলে
কোথায় কাঁটার ছল ?
নন্দীগ্রামের সৈনিক!
তুই থাকরে অবিচল |
তোর বীরতায় আজকে
সারা বাংলা বিহ্বল |
হে নন্দীগ্রামের সৈনিক!
তুই মোছরে আঁখিজল |
. ************** কলকাতা ১৯/১১/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
প্রায় এক বছর নন্দীগ্রামকে অভেদ্য রাখার পর মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে
শাসক দল, পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে এবং শেষ পর্যন্ত সি আর পি কে
আটকে রেখে, দখল করতে সফল হলেন | গোলাগুলি শেষ হয়ে থাকলে
কিছু বলার থাকে না, কিন্তু এর পিছনে কি অন্য কিছু লুকিয়ে আছে? এই
প্রশ্ন নানা দিক থেকে উঠে আসছে |
মিলনসাগর
নতুন সূর্যোদয়
নন্দীগ্রামে এখন নাকি
"নতুন সূর্যোদয়"!
ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ ভেঙে
আবার বুদ্ধময়!
যা ঘোষণা - তাই!
"দম দম দাওয়াই"!
শ্মশানরূপী নন্দীগ্রামের
"দখল করা" শান্ত ছায়ায়,
বাইক বাহিনী দাপিয়ে ব্যাড়ায়
চোখের জল চোখেই শুকায়!
কুচলে দেওয়া মানুষগুলোর
নিঃশ্বাস ফেলা দায়!
এটাই কি "নতুন সূর্যোদয়"?
লাল পতাকায় মোড়া,
গ্রাম কে গ্রাম পোড়া!
জ্যান্ত মানুষ, হিসাব-বিহীন,
চিতায় ভষ্ম করা!
এখনও যাদের জীবন আছে,
ত্রাণ শিবিরে শিঁটিয়ে বাঁচে,
নানা ছলে শিবির তুলে
তাদের "চরম ভয়"-এর বলে
ঘরে ফেরাতে চায়!
এটাই নাকি "নতুন সূর্যোদয়"?
হার্মাদ বাহিনী!
তার অবাক কাহিনী!
এমন জীবও বাংলার ঘরে,
কোক্ষে ধ'রে প্রসব করে,
জন্মেও শুনি নি!
তার মগজ ধুয়ে সাফ!
বুদ্ধের এই মরুদ্যানে
তার সাত খুন মাফ!
দৈনিক মজুরি,
তার ঠিকানা --- খেজুরি!
খুন করলে বোনাস পাবে,
ধর্ষণ উপরি!
পাশের বাড়ির মা বোনেরাও
ঝালমুড়ি হন তার রসনায়!
তাদের কৃপায় "নতুন সূর্যোদয়"?
এ হেন মহান বাম!
যার মাথায় বুদ্ধ-বিমান!
“নতুন সূর্যোদয়”-এর ত্বরায়
ভাইয়ের-বোনের রক্ত ঝড়ায়!
হার্মাদদের তপ্ত লালসা
মা-বোনেদের জঠরে ছড়ায়!
এটাও কি "নতুন সূর্যোদয়"?
এমন সূর্যোদয়-এর কথা
লিখতে গিয়ে দুষ্ট কবির
রক্ত ফোটে শিরায়, শিরায়!
গণতন্ত্রের ভাঙ্গা হাটে
মানুষ অসহায়!
এটাই তবে "নতুন সূর্যোদয়"!
এটাই এখন "নতুন সূর্যোদয়"!
. ************** কলকাতা ২২/১১/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
মিলনসাগর
কলকাতা মুখ ঢাকো লজ্জায়
কলকাতা মুখ ঢাকো লজ্জায়
তিলোত্তমা কলকাতা!
কৃষ্টির কলকাতা!
তুমি আজ মুখ ঢাকো লজ্জায়
তোমারই গৃহ হতে
মৌলবাদের ঘাতে
জোর ক'রে টেনে নেয়-
আশ্রিতা নারী | তাই
শুধু মাথা-গোঁজা ঠাঁই
পেতে ঘোরে অন্যের দরজায় |
কৃষ্টির কলকাতা!
সৃষ্টির কলকাতা!
তুমি আজ মুখ ঢাকো লজ্জায় |
কারা সুচতুর হেঁকে
মৌলবাদের ঠেকে
চায় তোমাকে টেনে তুলতে ?
আর কেউ পারবে কি
এই শহরের বুকে
নিজ কথা প্রাণ খুলে বলতে ?
তাই বলি কলকাতা
তুমি শুধু ভুলে থাকো
সেক্টর ফাইভের সজ্জায় |
তাই গো নন্দিনী!
নীরবেতে বসে কাঁদো
আর
দুই হাতে মুখ ঢাকো লজ্জায় |
আইন আছে, ফাইন আছে,
শাস্তি বিধান আছে,
ভারতের বাইশ-ভাগা
সংবিধান আছে |
কবি-দুষ্টের শলা---
যদি এটা খেলা-খেলা,
কলকাতা ডুবে মরো লজ্জায় |
ছিলে কল্লোলিনী!
হলে কলঙ্কিনী!
তাই কলকাতা
তুমি
দুই হাতে মুখ ঢাকো লজ্জায় |
. ************** কলকাতা ২৪/১১/২০০৭ সূচির পাতায় ফেরত
লেখিকা তসলিমা নাসরিন কে এ দেশ থেকে বিতাড়িত করার জন্য প্রখ্যাত আইনজীবী ইদ্রিস আলীর
নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান মাইনরিটি ফোরামের ২১শে নভেম্বর ২০০৭ তারিখে ডাকা একটি অবরোধ কর্মসূচি
তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে পার্ক সার্কাস, মল্লিক বাজার, রিপন স্ট্রীট, তপসিয়া এলাকায় দক্ষযজ্ঞ
বেঁধে যায় | সারা দিন সেই এলাকা দুষ্কৃতিদের আয়ত্বে ছিল | স্কুলবাস, এম্বুলেন্স সহ বহু যানবাহন ভাংচুর
এবং জ্বালিয়ে দেওয়া হয় | পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চল