প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের কবিতা যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
আমি বাংলায় গান গাই
আমি বাংলায় গান গাই, আমি বাংলায় গান গাই,
আমি আমার আমিকে চিরদিন এই বাংলায় খুঁজে পাই
আমি বাংলায় দেখি স্বপ্ন, আমি বাংলায় বাঁধি সুর
আমি এই বাংলার মায়াভরা পথে হেঁটেছি এতটা দূর
বাংলা আমার জীবনানন্দ বাংলা প্রাণের সুখ
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ |
আমি বাংলায় কথা কই, আমি বাংলার কথা কই
আমি বাংলায় ভাসি, বাংলায় হাসি, বাংলায় জেগে রই
আমি বাংলায় মাতি উল্লাসে, করি বাংলায় চিত্কার
বাংলা আমার দৃপ্ত স্লোগান ক্ষিপ্ত তীর ধনুক,
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ |
আমি বাংলায় ভালবাসি, আমি বাংলাকে ভালবাসি
আমি তারি হাত ধরে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে আসি
আমি যা'কিছু মহান বরণ করেছি বিনয় শ্রদ্ধায়
মেশে তেরো নদী সাত সাগরের জল গঙ্গায় পদ্মায়
বাংলা আমার তৃষ্ণার জল তৃপ্ত শেষ চুমুক
আমি একবার দেখি, বারবার দেখি, দেখি বাংলার মুখ |
********
ডিঙা ভাসাও
ডিঙা ভাসাও সাগরে সাথী রে, ডিঙা ভাসাও সাগরে
পূবের আকাশ রাঙা হ'ল সাথী, ঘুমায়ো না আর জাগো রে
ডাঙার টানে পরাণ ছিল বাঁধা কেন রে বন্ধু এতোকাল
গরজি গুমরি ডাকে শোনো ওই তরঙ্গ উথাল পাথাল
পাল তুলে দাও, হাল ধর হাতে দুস্তর সাগর হবো পার
জাগায়ে মাতন ঢেউয়ের নাচন, মরণ বাঁচন একাকার |
********
চ্যাপলিন
সেই ছোট্ট ছোট্ট দুটি পা ঘুরছে দুনিয়া
শান্ত দুটি চোখে স্বপ্নের দূরবীন
কাছে যেই আসি মুখে ফোটে হাসি
তবু কোথায় যেন বাজে করুণ ভায়োলিন |
সেউ ছোট্ট ভবঘুরে আজও আছে মন জুড়ে
মন জুড়ে তার ছবি আজও অমলিন
ভালবাসা নাও, ভালবাসা নাও
আমি তোমায় ভালবাসি |
ইচ্ছে করে আজ ফেলে সব কাজ
তোমার পাশে পাশে ঘুরে বেড়াই
মুখে নিয়ে হাসি, প্রাণের স্রোতে ভাসি
এক সাথে এক সুরে প্রেমের গান গাই |
প্রেম প্রেম প্রেম প্রেম প্রেম প্রেম প্রেম প্রেম প্রেম প্রেম
Love Love Love Love Love Love Love Love Love Love
দূর্বার স্বপ্ন দূর্মর আশা - প্রেম প্রেম প্রেম
রুদ্ধ কণ্ঠে ফুটে ওঠে ভাষা - প্রেম প্রেম প্রেম
শত্রুর মুখে ছোঁড়ে বেপরোয়া বিদ্রুপ - প্রেম প্রেম প্রেম
আবার, মোমের আলোর মত স্নিগ্ধ, অপরূপ
প্রেম প্রেম প্রেম
ভালবাসা নাও চার্লস চ্যাপলিন |
ভালবাসা ছড়াও চার্লস চ্যাপলিন |
পৃথিবীর বুকে উষর মরুতে ফুল ফোটাও |
********
কৃষি মোদের ভিত্তি এবং শিল্প মোদের ভবিষ্যত্ (পশ্চিম মেদিনীপুরের বিনপুর-২ ব্ লকের অঞ্চলা প্রামাণিকের মৃত্যুর কথা মনে রেখে)
সাত দিন তার পেটে কিছুই পড়ে নি এক জল ছাড়া, ভাতের জন্য কেঁদে কেঁদে যেদিন হল প্রাণহারা, মরে বাঁচলো মেদনীপুরের গাঁয়ের বৌ অঞ্চলা | --- কোন অমানুষ বলতে পারে এমন মিথ্যা নির্জলা? না খেয়ে সে মরবে কেন? ছিল না তার পেট খালি দেখা গেছে ফেল করেছে হৃত্পিণ্ড শ্বাসনালী কী বলবো আর? এ রাজ্যতেই আছে এমন অসত্ লোক চাইছে যারা এ সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হোক যতই চলুক ভুল প্রচার আর ওল্টাবে না জনমত কৃষি মোদের ভিত্তি এবং শিল্প মোদের ভবিষ্যত্!
খাদ্যটাদ্য ওসব নিয়ে রাজ্যে তো সমস্যা নেই, দেশ গড়া চাই নতুন করে আসলে উদ্দেশ্য এই | পুঁজিপতির মর্জিমাফিক নতুন করে শিল্পায়ন--- চাষের জমির জন্য এখন অশ্রুপাতের নেই কারণ! যা চাইছে তা দিতে হবে, তোয়াজ একটু করতে হয় নইলে তারা বসবে না তো এ রাজ্যে আর এটাই ভয়! পুঁজিবাদের রাস্তা ধরেই এগোতে হয়, এটাই পথ কৃষি মোদের ভিত্তি এবং শিল্প মোদের ভবিষ্যত্!
খেতে পরতে থাকতে পাবে সুস্থ থাকবে গরীব সব, শিক্ষা পাবে কাজও পাবে কতদিন আর চলবে ঢপ! খরচ আছে, হ্যাপা আছে, তবুও সব নিন্দেবাজ বলবে, এ তো করার কথাই, এ কি বলার মত কাজ? দেশি পুঁজি, ফরেন পুঁজি --- সবাই এসো রাজ্যে আজ তোমাদেরই টাকার খেলায় রাজ্য পরুক নতুন সাজ শিল্প গড়ো, ব্যবসা করো, হোটেল, হাব আর শপিং মল বলবে সবাই রাজ্যখানা বদলে হোল কী উজ্জ্বল ধনীর মুখে ধন্য ধন্য শুনতে কিন্তু লাগছে বেশ লালঝাণ্ডার তলায় কেমন পুঁজিঘোড়ার চলছে রেস পুরনো দিন গেছে ঝরে, ফিরে পাচ্ছি মান ইজ্জত কৃষি মোদের ভিত্তি এবং শিল্প মোদের ভবিষ্যত্!
********************* এই কবিতাটি কানোরিয়া জুট এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সংগ্রামী শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত, দোলা সেন সম্পাদিত, 'কানোরিয়ার পর সিঙ্গুর' পুস্তিকায় ১৭ নভেম্বর ২০০৬ এ প্রকাশিত |
|
আগে বলতাম, 'খুব হুঁশিয়ার, ঘুরে বেড়ায় হায়না | ঢুকলে পাড়ায়, খুন না করে বেরুতে আর চায় না |' দেখছি এখন, ভালোই তারা মানুষ টানুষ খায় না | মারছে যাদের, তাদের তো ঠিক মানুষ বলা যায়না | আগে বলতাম, 'দূর হয়ে যা', এখন বলি, 'আয়না' | ******** এই কবিতাটি কানোরিয়া জুট এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সংগ্রামী শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত, দোলা সেন সম্পাদিত, 'কানোরিয়ার পর সিঙ্গুর' পুস্তিকায় ১৭ নভেম্বর ২০০৬ এ প্রকাশিত |
|
বৃহত্তর স্বার্থে তোদের উচিত সরে পড়া | মূল সমস্যা দেখছি তোদের বাঁচতে ইচ্ছে করা | উন্নয়নের নিয়মই এই, ব্যাপারটা তো সোজাই | মরতেই হয় কয়েকজনকে, কেমন করে বোঝাই? ******** এই কবিতাটি কানোরিয়া জুট এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সংগ্রামী শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত, দোলা সেন সম্পাদিত, 'কানোরিয়ার পর সিঙ্গুর' পুস্তিকায় ১৭ নভেম্বর ২০০৬ এ প্রকাশিত |
|
লগ্নি হবে? যাবেন কোথায়?
আসুন এখানেই!
পুঁজিপতির এমন গোলাম
আর কোত্থাও নেই |
আগে আসুন, চেপে বসুন,
টাকা দেবেন পরে |
শস্য শ্যামল জমি দেব ---
পোড়া ছাইয়ের দরে!
*****************
এই কবিতাটি কানোরিয়া জুট এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড সংগ্রামী শ্রমিক
ইউনিয়ন থেকে প্রকাশিত, দোলা সেন সম্পাদিত, 'কানোরিয়ার পর সিঙ্গুর'
এর সংকলন-২ পুস্তিকায় ২১ ফেব্রুয়ারী ২০০৭ এ প্রকাশিত |
স্বদেশ এখন
স্বদেশ এখন ছাল ছোলা এক ছাগল
স্কন্ধকাটা উলটে আছে ঝুলে |
টেংড়ি সিনা রাং চাপ গর্দান---
কী চাই সেটা বলতে হবে খুলে |
স্বদেশ বিক্রী হবে এমন ভাবে
বেশ খানিকটা "বিশেষ" হয়ে যাবে
বিশেষ নিয়ম বিশেষ অর্থনীতি
বিশেষ স্থান বিশেষ পরিচিতি |
"বিশেষ" মানে বিদেশ বলা যায়
দেশের বিধান স্তব্ ধ সে জায়গায় |
বিশ্বায়নের বাজনা উঠছে বেজে,
আসছে স্বদেশ SEZ এর সাজে সেজে |
এখন শুধুই উন্নয়নের আর
ভোগের মন্ত্র, আর সব জান ভুলে
গরীব গুর্বো শেষ যদি হয় হোক
নতুন যুগের দুয়ার যাচ্ছে খুলে |
কী বলছেন ? স্বদেশ হল মা---
কোথায় আছেন ? হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ !
মিথ্যে আবেগ পোষেন কিসের জন্য---
বুঝতে হবে স্বদেশ হলো পণ্য |
স্বদেশ এখন ছাল ছোলা এক ছাগল,
"গেলো, গেলো" কে জুড়ে দেয় কান্না,
স্বদেশ যাচ্ছে ধনপতির ডিসে,
কেমন সুবাস, কত রকম রান্না |
*****************
এই কবিতাটি 'পর্বান্তর' পত্রিকার মে-আগষ্ট ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |
শুভকর্ম
তিনি চলেন শিল্প গড়তে, দখল করে চাষের জমি |
বাগড়া দিচ্ছে বিরোধীরা, স্বভাব ওদের এরকমই |
জানা তো চাই, শুভকর্মের সমর্থনে আছেন কারা,
নোবেল জয়ী অমর্ত্য সেন, মানবপ্রেমিক ম্যকনামারা |
- মানবপ্রেমিক? ও লোকটা তো ভিয়েতনামের মানুষ খুনী |
- রাখেন না তো কোনো খবর, উনি এখন পরম গুণী |
উন্নয়নের ভাবনা নিয়ে তিনি থাকেন সদাই বিভোর |
ভুলতে হবে অতীত এখন, পুরোনো সব শেকড় বাকড়
উপড়ে তুলে ফেলতে হবে, এখন শুধুই এগিয়ে চলা |
পুঁজির সাথে সংস্কার চাই, শিখছি নতুন ছলাকলা |
মার্ক্স এঙ্গেলস লেনিন স্তালিন মাও গ্রামশি সবাই বাসি |
বাজার-রাজার রাজ্য জুড়ে বিশ্বায়নের বাজছে বাঁশি |
গ্রন্থেই থাক সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদের গাড়ি চড়ে
হাওয়ার দিকে না এগুলে মুখ থুবড়ে থাকব পড়ে |
দলের নামটা বদলাতে নেই, লাগবে কেমন ফাঁকা ফাঁকা,
রেখেই দিলাম লাল পতাকা, হাতুড়ি আর কাস্তে আঁকা |
. *****************
. উপরে
. সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতার মূল সূচির পাতায়
. অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায়
এই কবিতাটি 'আকিঞ্চন' পত্রিকার আশ্বিন ১৪১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |