রামপ্রসাদের গান যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
মনরে কৃষিকাজ জান না
মন রে কৃষিকাজ জান না |
এমন মানব জনম রইল পতিত, আবাদ করলে ফলত সোনা ||
কালী নামে দেওরে বেড়া, ফসলে তছরুপ হবে না |
সে যে মুক্তকেশীর (মন রে আমার) শক্ত বেড়া তার কাছেতে যম ঘেঁষে না ||
অদ্য অব্ দ-শতান্তে বা, বাজাপ্ত হবে জান না |
এখন আপন ভেবে (মন রে আমার) যতন করে চুটিয়ে ফসল কেটে নে না ||
গুরু বপন করেছেন বীজ, ভক্তি করি তায় সেঁচ না |
তবে একা যদি না পারিস মন, রামপ্রসাদ কে ডেকে নে না ||
***********
মলেম ভুতের বেগার খেটে
মলেম ভুতের বেগার খেটে |
আমার কিছু সম্বল নাইকো' গেঁটে ||
নিজে হই সরকারী মুটে, মিছে মরি বেগার খেটে |
আমি দিনমজুরী নিত্য করি, পঞ্চভূতে খায়গো বেটে ||
পঞ্চভূত, ছয়টা রিপু, দশেন্দ্রিয় মহা লেঠে |
তারা কারো কথা কেউ শোনে না, দিন আমার গেল ঘেঁটে ||
যেমন অন্ধজনে হারা দণ্ড পুনঃ পেলে ধরে এঁটে |
আমি তেমনি মত ধরতে চাই মা, কর্মদোষে যায় গো ছুটে ||
প্রসাদ বলে ব্রহ্মময়ী, কর্মডুড়ি দে না কেটে |
প্রাণ যাবার বেলা এই কর মা, ব্রহ্মরন্ধ্র যায় যেন ফেটে ||
***********
মায়ের মূর্তি গড়াতে চাই
মায়ের মূর্তি গড়াতে চাই, মনের ভ্রমে মাটি দিয়ে |
মা বেটি কি মাটির মেয়ে, মিছে খাটি মাটি নিয়ে ||
করে অসি মুণ্ডমালা, সে মা-টি কি মাটির বালা,
মাটিতে কি মনের জ্বালা দিতে পারে নিভাইয়ে?
শুনেছি মার বরণ কালো, সে কালোতে ভূবন আলো,
মায়ের মত হয় কি কালো, মাটিতে রং মাখাইয়ে?
মায়ের আছে তিনটি নয়ন, চ্ন্দ্র সূর্য আর হুতাশন,
কোন্ কারিগর আছে এমন, দিবে একটি নিরমিয়ে?
অবিনাশনাশিনী কালী, সে কি মাটি খড়বিচালি?
সে ঘুচাবে মনের কালি, প্রসাদে কালী দেখাইয়ে ||
***********
মন তোর এত ভাবনা কেনে
মন, তোর এত ভাবনা কেনে?
একবার কালী বলে বস রে ধ্যানে ||
জাঁক-জমকে করলে পূজা অহংকার হয় মনে মনে |
তুমি লুকিয়ে তাঁরে করবে পূজা, জানবে না রে জগজ্জনে ||
ধাতু-পাষাণ মাটির মূর্তি, কাজ কি রে তোর সে গঠনে?
তুমি মনোময় প্রতিমা করি, বসাও হৃদিপদ্মাসনে ||
আলোচাল আর পাকা কলা, কাজ কি রে তোর আয়োজনে?
তুমি ভক্তি-সুধা খাইয়ে তাঁরে, তৃপ্ত কর আপন মনে ||
ঝাড়-লণ্ঠন বাতির আলো, কাজ কি রে তোর সে রৌশনে?
তুমি মনোমর মাণিক্য জ্বেলে দেও না, জ্বলুক নিশিদিনে ||
মেষ-ছাগল-মহিষাদি কাজ কি রে তোর বলিদানে?
তুমি 'জয় কালী' 'জয় কালী' বলে, বলি দেও ষড়্ রিপুগণে ||
প্রসাদ বলে, ঢাক ঢোল কাজ কি রে তোর সে বাজনে?
তুমি 'জয় কালী' বলি দেও করতালি, মন রাখ সেই শ্রীচরণে ||
***********
আর কাজ কি আমার কাশী
আর কাজ কি আমার কাশী | মায়ের পদতলে পড়ে আছে গয়া গঙ্গা বারানসী || হৃত্কমলে ধ্যান-কালে আনন্দ-সাগরে ভাসি | ওরে কালীর পদ-কোকনদ, তীর্থ রাশি রাশি || কালীনামে পাপ কোথা, মাথা নাই তার মাথা ব্যাথা | ওরে অনলে দাহুন যথা হয় রে তুলারাশি || গয়ায় গিয়ে পিণ্ডদান, বলে পিতৃঋণে পাবে ত্রাণ | ওরে যে করে কালীর ধ্যান তার গয়া শুনে হাসি || কাশিতে ম'লেই মুক্তি এ বটে শিবের উক্তি | ওরে সকলের মূল ভক্তি, মুক্তি হয় মন তারই দাসী || নির্বাণে কি আছে ফল, জলেতে মিশায়ে জল | ওরে চিনি হাওয়া ভাল নয় মন চিনি খেতে ভালবাসি || কৌতুকে প্রসাদ বলে করুণানিধির বলে--- ওরে চতুর্বর্গ করতলে ভাবিলে রে এলোকেশী ||
***********
|
যাও গো জননি জানি তোরে
যাও গো জননি জানি তোরে
( আমি জানি তোরে পাষাণ মেয়ে )
তারে দাও দ্বিগুণ সাজা মা, যে তোর খোসামদি করে ||
পেয়েছ পিতার ধর্ম বুঝিলাম কর্মের ব্যবহারে |
এমন হাভাতে নির্দয়া মা দয়াময়ী নাম কোন বিচারে ||
মা মা বলে পাছু পাছু যেজন স্তুতি ভক্তি করে |
দুঃখে শোকে দগ্ধে তারে দাখিল করিস যমের ঘরে ||
অল্পে কি রে পাওয়া যায়, ক্ষীণ আলে বারি ধায় |
যে জন হয় শক্ত তার ত্রিকাল মুক্ত জোর জবরে ||
চোখে আঙ্গুল না দিলে পরে, দেখ্ বি না মা বিচার করে |
ওমা হরের আরাধ্য পদ, ভয়ে দিলি মহিষাসুরে ||
যে দু কথা শোনাতে পারে, যে জনা হেতের ধরে |
তার হয়ে আশ্রিত সদা থাকিস মা পরাণের ডরে ||
রামপ্রসাদ কৃতার্থ হবে, যদি কৃপাকণা ঝুরে |
সাধ রে শ্যামার রাঙা পদ এ নব ইন্দ্রিয়পুরে ||
***********
তিলেক দাঁড়া ওরে শমন
তিলেক দাঁড়া ওরে শমন,
মন ভরে মা কে ডাকি রে |
আমার বিপত্কালে ব্রহ্মময়ী,
এসেন কি না এসেন দেখি রে ||
লয়ে যাবি সঙ্গে ক'রে,
তার একটা ভাবনা কি রে |
তবে তারা নামের কবচ মালা,
বৃথা আমি গলায় রাখি রে ||
মহেশ্বরী আমার রাজা,
আমি খাস তালুকের প্রজা |
আমি কখন নাতান, কখন সাতান,
কখন বাকির দায়ে না ঠেকি রে ||
প্রসাদ বলে মায়ের লীলা
অন্যে কি জানিতে পারে |
যাঁর ত্রিলোচন না পেল তত্ত্ব,
আমি অন্ত পাব কি রে ||
***********