অন্যান্য কবিদের সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কবিতা (সংগ্রহ)
*
ডিহিদার মামুদ শরিফ     
আবদুস সামাদ

এখানে আঁধার নামলে সুধীবৃন্দ বলেন সকাল,
বরাহশাবক দেখলে বলতে হয় অনঙ্গমোহন,
রাজার পাইক এসে ঢেঁড়া দিয়ে ব'লে গেছে কাল
গাছে উঠছে গরুগুলি দলে দলে, শোনো জনগণ

যদি না কোদালটিকে বলতে পারো আসল কুড়ুল,
কন্যাটির হোসিয়ারি ছিঁড়ে গেলে গুণ্ডাদের হাতে
আমরা কেউ দায়ী নই, দায়ী থাকবে বুরবকের ভুল
দুয়ে দুয়ে পাঁচ হবে আমাদের নয়া ধারাপাতে |

কোদাল কুড়ুল হলে ক্ষতি কী হে? ভাবো প্রাজ্ঞজন
নতুন নামতায় যদি তিন দু'গুণে তোরো হয় হোক্
তোমরা ছাপোষা ব্যক্তি কোটায় চাকুরি প্রয়োজন
অতএব কবি শিল্পী অধ্যাপক মিডিয়ার লোক

বকল্ স  পরার জন্য বাড়িয়েছে জিরাফের ঘাড়
উত্তরে পাহাড় থেকে দক্ষিণের ডায়মণ্ড হারবার |

.              **************              
.                                          
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                     সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      

এই কবিতাটি আন্দামান থেকে প্রকাশিত, "বাক্প্রতিমা" পত্রিকার ১৪১৪ এর
শারদীয়া সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
এখন অগ্নিবসত     
বাসু পাল  

ঝড় উঠছে ঝড়ের মতন
রক্তকেতন বুকের নাচন ;
রক্তধারায় ভাঙন তীরে
জাগছে আবার নবজাগরণ |

জাগছি আমি জাগছ তুমি
পাহারা দিচ্ছি মাতৃভূমি |
বুকের রক্ত নয়ন নীড়ে
বহাল রাখব আপন জমি |

উড়ছে হাওয়ায় ছেঁড়া দাসখত
ভাঙছে কালের অহংইমারত,
কী করবি জনরোষ ভিড়ে !
করছি এখন অগ্নিবসত |

জ্বলছি আমি নন্দীগ্রাম,
তোকে জ্বালাই নতুন নাম,
গুঁজবি কোথায় তোর মুখ---
পুঁজির কোলেইতোর ধাম |

তোর পরিণাম জেড পাহারা
সাফাইতে নেই কূলকিনারা,
ভৈরবী তালে নাচছে সবুজ বন |

ঝড় উঠছে ঝড়ের মতন
রক্তকেতন বুকের নাচন ;
রক্তধারায় ভাঙন তীরে
জাগছে আবার নবজাগরণ |

.              **************              
.                                          
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                     সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      

এই কবিতাটি 'একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটি'-র পত্রিকার ১ জুলাই ২০০৭
এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
মেনে নেওয়া যদিও অসহ্য     
হরিমাধব মুখোপাধ্যায়  

মেনে নেওয়া যদিও অসহ্য
পতাকাতে আজ শুধু হাতুড়ি
কাস্তেটা মাটিতে কাতরায়
মানুষের নাম আজ বর্জ্য |
তারাকে কি বাঁধা যায় পতাকায়?
তার ঘর নিঃসীম নীলাকাশ
মৃতসব মিশে যায় তারাতে
পতাকাটা দেখে চোখ মটকায় |
তাড়া খেয়ে ঘরছাড়া যারা হয়
তারা কেন থাকে আজ ক্যাম্পে?
তাদের হাতে কি শুধু হাতুড়ি?
কাস্তেকে তারা কেন পায় ভয়?
কালভার্ট রাস্তা কাটাছেঁড়া
গাড়ি সেথা চলে না গড়গড়
বন্ধুর দুর্গম কত পথ
পাড়ি দেয় মানুষের দুটি পা |
বন্দুক বোমা নয় ধরো হাত
মেরামত করে নাও ক্ষত সব
পুনরায় ফিরে এসো নিজ ঘরে
ধূসর অতীত হোক সংঘাত |
কাস্তেকে করে নিয়ে নেকলেস
বানাও হাতুড়িকে পেনডেন্ট
এই কথা ছিল নাকি কমরেড?
বানাবো সকলে মিলে এই দেশ?
বাজে ভেঁপু কলে কা-র-খা-নায়
শিহরণে হেসে ওঠে মাঠে ধান
কীর্তন মিশে যায় আজানেতে
ছুট-তারা স্থান পায় পতাকায় |

.              **************              
.                                          
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                     সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      

এই কবিতাটি 'একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটি'-র পত্রিকার ১ জুলাই ২০০৭
এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
হে বিপন্ন সময়     
সুনন্দা মুখোপাধ্যায়  

নন্দলালের 'কুরুক্ষেত্রে'র ছবি টাঙানো আছে দেয়ালে |
যারা ভয় পেয়েছে তারা শুধু ওই দলে, বিভিন্ন মেলায় দলে দলে
বিবেকবান মানুষেরা ছত্রে ছত্রে ভাগ হয়ে আছে---
চুপ নির্বাক অথবা প্রচণ্ড মুখরিত
ছত্রে ছত্রে বিবেকের দংশন এ কোন্ দশক ছিন্নমস্তা অন্ধকার

অন্ধকারে পা টিপে টিপে এগোনো যাবে তো
আমার সন্তানেরা তো আলোকপূজারী
তাদের হাতের মুঠোয় ক্রোধ জমা আছে---
আর আছে তাবৎ আগুয়ান মানুষের অভিজ্ঞতা
বটের ছায়ায় ওরা একটু জিরোক

আমি কি দেখে নেব একটু এগিয়ে
শূণ্য মানুষকে বড় ভয় হয়
যার গান নাটক কবিতা মিথ্যে সে তো ভয়ানক |
আমার মুঠোর ভিতর স্বপ্ন আছে প্রাণখোলা আকাশ
সবুজ ধানের মাঠ টলমলে জল---
বুকের ভিতর বাত্সল্যের ধুকপুকানি |
আমার বাছারা ওইখানে অপেক্ষা করছে
আমার পথ চিনতে ভুল হলে ওদের অনেক ঘুরপথ হবে
আমার মাথা ভাঙলে ভাঙুক
রক্ত আর আগুন চিরকালই তো পখ দেখায়
নন্দলালের 'কুরুক্ষেত্রে'র ছবি দেয়ালে টাঙানো
ছত্রে ছত্রে বিবেকবান মানুষ নিদ্রাহীন |

.              **************              
.                                                  
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      

এই কবিতাটি 'একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটি'-র পত্রিকার ১ জুলাই ২০০৭ এর
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
বুদ্ধিজীবী সংবাদ     
রতন কুমার বিশ্বাস  

আলো ঝিকমিক কমিক রিলিফ
কিছু বাজার পেটোয়া ভাঁড়
আজ নেমেছে আসরে খোয়ারির ঘোরে
করতে রাজোদ্ধার---
রাজা আমাদের কত না মহান
কত পণ্ডিত কত বিদ্বান
কত কিছু তাঁর পড়া
মায়কোভস্কি মায় মার্কেজ
কত পুঁথি নাড়াচাড়া
উত্খাতে তাঁকে নেমেছেন যাঁরা
আকাটমুখ্যু সব
রাজাই ধর্ম রাজাই বর্ম
তাই করি তাঁরই স্তব
ছিলাম আমরা হাড়হাভাতে
রাজা আমাদের তুলেছেন জাতে
রাজকোষ থেকে মেলে এঁটোকাটা
তাই নিয়ে বাঁচি মউতাতে
নন্দীগ্রামে মরে কিছু চাষা
আমাদের কী যায় আসে তাতে
ছিলাম আমরা হাড়হাভাতে
আজ বেড়ে আছি --- মউতাতে

.              **************              
.                                
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                          সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      

এই কবিতাটি 'একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটি'-র পত্রিকার ১ জুলাই
২০০৭ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
আহুতি     
বীরেশ ঘটক  

জন্মদ্বারের কাছে মানুষের থেকে যায় অনিঃশেষ ঋণ
ছয়ের ডিসেম্বর আঠেরোর ভোর আমাকে দিয়েছে সীমাহীন---
ক্ষোভ নয়, ঘৃণা নয়, রাগ-দ্বেষ-বিদ্রোহ নয়, ---অভিমান
মানব জাতির কাছে, মানুষের কাছে যারা মানব-সন্তান...
ভাবতে কষ্ট হয়, ওরা বুঝি এসেছিল মাতৃগর্ভ ছাড়া
মা-মাটি-ধর্ষণকারী---নিরুদ্বিগ্ন ওরা দেয় পুঁজির পাহারা |

অন্যায়য়কারীর কোনো শোক ভাষা জ্ঞাপনে থাকে না
রক্তের কুয়াশা মাখা চেনা মুখ আজ যেন বড়ই অচেনা |
জেগে ওঠে কাক-পক্ষী মা-প্রকৃতি চড়াই-শালিক
আমি সিঙ্গুরের সেই অভিশপ্ত ভূমিকন্যা তাপসী মালিক |

সত্যের কঠিন দাম দিতে হলো শরীরের শুদ্ধ বিনিময়ে
আমার মনে কি কোনো প্রশ্ন সরেছিল সে সময়!
চারপাশে ঘিরে ধরে পশুর ধারালো নখ, হিংসাশ্রয়ী দাঁত
কেউ মুখে চাপ দেয়, কেউ পা-দুখানি ধরে, কেউ ধরে হাত |
তারপর---মা বসুধা, তুমি জানো, রক্তমাখা ব্যথার কাহিনি
কিশোরী জন্মদ্বার ছিঁড়ে খায় ধর্মহীন ভূরাক্ষসবাহিনী |
বিভাজিত মানুষেরা তর্কে মাতে, ---কোনটা ভুল, কোনটা সঠিক
জ্বলতে জ্বলতে পুড়তে পুড়তে চলে যাই সিঙ্গুরের তাপসী মালিক |

ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছি---অসহ যন্ত্রণায় নিভে আসে চোখ
ছেঁড়া ছেঁড়া চেতনায় ভাসে ডোবে মায়াময় একবুক শোক |
সে আমার মার বুক | এখন যে বুকে শুয়ে সেও বসুমাতা,
ধারণে-লালনে ভূমি সর্বংসহা মুক্তির উদ্গাতা |

আমি---ভূমি সমার্থক, তোমাতেই মিশে যাই সিঙ্গুরের খেত,
আমার বাধ্যত মৃত্যু তোমাদের প্রাণে প্রাণে পাঠাল কি কোনও সংকেত!

.              **************              
.                                                     
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                               সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি 'একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটি'-র পত্রিকার ১ জুলাই ২০০৭ এর
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
কেন? কেন? কেন?     
শম্ভু বসু

এত রক্ত কেন? আতঙ্কের কালো ছায়া কেন আকাশময়?
শকুনেরা নৃত্য করে মৃতদেহস্তূপের উপর ডানা নাচিয়ে শরীর দুলিয়ে |

প্রতিবাদী কণ্ঠ আজ কেন বিভক্ত?

প্রতিবাদী কলম কি বন্ধক দেওয়া হয়েছে?
বিবেক কি শ্বাসরুদ্ধ?
চেতনা কি শূণ্যে ঝুলন্ত ডিমের কুসুম!

প্রতিবাদের ভাষা কেন আজ বোবা, বিভক্ত?
প্রতিবাদের ভাষা গিয়েছে কি হারিয়ে অজানা শ্রোতে!

কেন এরকম দৈন্য দশা?

শাণিকফলা
রৌদ্রময় তেজ
         মেঘচেকা গান
                   রাস্তা কাঁপানো
                             ধুলো ওড়ানো
                                       পায়ের শব্ দ
আজ স্তব্ ধ  কেন?

কণ্ঠস্বরে নেই কেন বিউগলের উচ্চস্বর?

অনেক পথ হেঁটেছ
অনেক কুশপুতুল করেছ দাহ
কাঁপিয়েছ আকাশ বাতাস বহুবার
এখন কেন তবে নির্বাক প্রতিবাদহীন বিভক্ত?

আগুনের জ্বলন্ত শিখা
নিরন্ন বস্ত্রহীনাদের আর্তচিত্কার
সংগঠিত হার্মাদদের ক্ষুধার্থ বাঘের গর্জন
বুলেটবিদ্ধ নারী শিশুদের মিছিল মর্গের দিকে
রক্তে তোলেনি ঝড়
শিরায় শিরায় ধরায়নি কাঁপন
বিবেককে করেনি কশাঘাত?

কেন? কেন? কেন?
কেন আজ মুখে কুলুপ, পায়ে শৃঙ্খল?

বন্ধুবিচ্ছেদের ভয়ে ভীত
বঞ্চিত হবার শঙ্কায় শঙ্কিত!
সোনালি চোখের কালো নজরে
        চলে যাবার চিন্তায় চিন্তিত!

সময় কি ছেড়ে কথা বলবে---
পৃথিবী তাকিয়ে দেখছে কতদূর যেতে পারো |
অন্যায় কে না দিয়ে আখ্যা ন্যায়
অন্যায়কে অন্যায় বলো
নয়তো পৃথিবী হাসবে
         হাসবে ভবিষ্যত প্রজন্ম |

.              **************              
.                                                     
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                               সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি 'একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটি'-র পত্রিকার ১ জুলাই ২০০৭ এর
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
এত রক্ত কেন? উন্নয়ন     
মধুমঙ্গল বিশ্বাস

একুশে ফেব্রুয়ারি যদি বাংলা ভাষার গৌরবের দিন
তবে আজ ১৪ মার্চ
গোটা বাঙালী জাতির কলঙ্কের দিন
আকাশের তারারা আজ ফুটবে না
পলাশ বলেছে আজ রাঙাবে না
শাওন বলেছে আর ভাসবে না
পাখিরা বলেছে, কোন লজ্জায় গাই গান
"এত রক্ত কেন"-র ভণ্ড-পাঠক ভাবে
রক্তনদীর এপারে দাঁড়িয়ে দেখি
বাংলার মাঠ ঘাট আজ শিল্পের কতখানি হল
অভাগা গাঁয়ের ছোট লোকজন ভাবে
বাংলার বিখ্যাত বুদ্ধিজীবীরা কেমন সহজে বুদ্ধজীবী বনে যায় অথচ আমরা!
নচ্ছাড় কৃষিজীবী থেকে ঢাকঢোলের শিল্পজীবী হতে পারলাম না!

হক কথা কজনে-বা জানে
পুরুলিয়া মানভূম কজনে-বা চেনে

সকলেই জ্ঞানপাপী তবে!
নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ওদিকে যে ফর্দাফাঁই
একথা জেনেছে যে খুনী, নন্দনের ওড়নায় সে ঢেকেছে হিংসার মুখ
কবিতায় নাটকে তিনি ভণ্ডবুদ্ধ
ধ্যানে-জ্ঞানে-বোধিতে মতিচ্ছন্ন
ধর্ষকের হাতে আজ রাষ্ট্রীয় রাইফেল
মাস্তানী-ধর্ষণ-রাহাজানি-ধেনোমদ বাংলার নব্যসংস্কৃতি
কবি হলে খুনী ষোলোকলা পূর্ণ হয় পাপে
সেই লজ্জায় মূক হয়ে যারা আছি
বদ্ধবাণে হবে না বিজয়, কদমে কদম মেলাও
বোধির অস্ত্রে বধ হোক আজ প্রতারক রাজাকার |

.              **************              
.                                                     
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                               সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি 'একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন কমিটি'-র পত্রিকার ১ জুলাই ২০০৭ এর
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
ধানখেত থেকে     
মৃদুল দাশগুপ্ত

১.
কিশোর ধানের চারা, শিশু ধান
.                              ওড়ে ধর্মবক
উদ্বেগে তাকিয়ে থাকি
আমিও তো কবিতা-কৃষক |

২.
দানব জেগেছে আজ
কী অবাক, তারও
.                   দুটো হাত
ঠেলা দাও
.          হয়ে যাবে কাৎ |

৩.
রাজা ধানখেতে ছুটিয়েছে
.                           ঘোড়া
হতাহত পড়ে আছে
কেউ বা বুলেটে বেঁধা
.                  কেউ আধপোড়া |

.              **************              
.                                                
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                          সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি ৯/৩ ট্যামার লেন, কলকাতা-৭০০০০৯ থেকে প্রকাশিত 'কবিসম্মেলন'
পত্রিকার জানুয়ারী ২০০৭ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
কোথায় তখন     
সুপ্রিয় বাগচি

সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম যতদূর
রক্তে রঙে কিন্তু অভিন্ন
ইতিহাসে মুছে যাবে কি কোনদিন
কলঙ্কিত ঘাতকের এই চিন্হ?

ন্ধ্রের কৃষকের রক্ত
ভিন্ন কি যাতে আর মহিমায়
হায় রে বিনয়ের অবতার
দম্ভিত মূর্খের গরিমায় |

নন্দনে সংস্কৃতি পূজারী
চোরাহাতে বন্দুক চালিয়ে
মুখোশের আঢ়ালে খুনীমুখ
কোথায় রাখবে তুমি লুকিয়ে?

কৃষকের রক্তের সারেতে
যে ফসল তোলা হবে একদিন
জেনো সে দধিচীজাত বজ্র
কোথায় তখন --- আলিমুদ্দিন !!!

.              **************              
.                                                
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                          সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি 'আকিঞ্চন' পত্রিকার আশ্বিন ১৪১৪ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
.                                **************              
.                                               
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                         সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি 'আকিঞ্চন' পত্রিকার আশ্বিন ১৪১৪ এর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
ছড়া
সৃজন সেন
|| ১ ||

নেতা তিনি বর্ষীয়ান,
ঐতিহাসিক ভুলের জন্য
হন্ নি দিল্লীর গদিয়ান |

খুন খারাবি হোল যখন
তখন তিনি নিদ্রা যান,
সব ঘটনার শেষে তিনি
প্রেস কে ডেকে দেন নিদান |

অর্ধেক কথা বলেন তিনি,
অর্ধেক কথা গিল্লা খান |
|| ২ ||

খাঁটি যারা বুদ্ধিজীবী
লিখবে তারা গদ্য-পদ্য
করবে তারা নাচা-গানা

নন্দীগ্রামে কে মারলো,
কে মরলো, কে ভাগলো
নাক গলাতে তাদের মানা

--- বলেছেন বাম মন্ত্রীসভার
তিন নম্বর ছাগলছানা !
বর্গি এলো দেশে     
মৃন্ময় চক্রবর্তী

খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো
বর্গি এলো দেশে
ভিটে মাটি সব খেল যে
বাঁচব বল কিসে |

কিসের মাসী কিসের পিসি
মানুষখেকো বাঘ
মায়ের বুকে একশো থাবা
জাগরে খোকা জাগ |

.              **************              
.                                  
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি 'আকিঞ্চন' পত্রিকার আশ্বিন ১৪১৪ এর সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
বুকের ভিতর কাঁদছে নদী (গান)     
সিরাজুল ইসলাম

বুকের ভিতর কাঁদছে নদী
ভরা ভাদর ঢেউ
স্বপ্ন ভূমে রাত্রি নামে
জ্বালছে আলো কেউ
আগ্নেয়গিরি জাগছে বুকে
শালবনেতে ঝড়
ভোরের শিমুল আকাশ রাঙায়
রাঙ্গা মাটির ঘর
সেই ঘরেতে জাগছে শিশু
জীবন বাজি ধরে
নন্দীগ্রামের পথে পথে
জনযুদ্ধ গড়ে
স্বপ্ন সেথায় মারছে উকি
পূব জানালায় চোখ
বীর শহিদের রক্ত ননী
মুখের প্লাবন হোক |

.              **************              
.                                  
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি 'আকিঞ্চন' পত্রিকার আশ্বিন ১৪১৪ এর সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
এখন কান্নার সময় নয়     
সঞ্জীব পাল

আমার প্রিয় নন্দীগ্রামের মায়েরা, বোনেরা,
                  তোমরা এখনও কাঁদছো?
যারা তোমার ছেলেকে মেরেছে, কিংবা স্বামীকে,
তোমাকেও তো ধর্ষণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে
ফুঁসে উঠবে না?
    সাধের কাস্তেটাতে শান দিয়ে,
মনে হচ্ছে না, ওদের বুকগুলো চিরে দি
তাহলে আর দেরী কেন মা,
       মুছে ফেলো চোখের জল
প্রতিবাদে, প্রতিরোধে, প্রতিশোধে
       শয়তানদের বুকের রক্তে
তোমার কলিজাটা একটু ঠাণ্ডা হোক
চোখের জলের বদলে
        জ্বাল আগুন,
মনকে পাথর করে গড়ে তোল
আজ আর কান্নার দিন নয়,
        আজ শপথ নেওয়ার দিন |

.              **************              
.                                  
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি 'আকিঞ্চন' পত্রিকার আশ্বিন ১৪১৪ এর সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
চাণক্য     
চন্দ্রকান্ত দাস

স্বাধীনচেতা নন্দকুমারের
হয়েছিল ফাঁসি
নন্দবংশ ধ্বংস করতে
চাণক্য বাঁধেন তাঁর টিকি |
নন্দীগ্রাম, নন্দীগ্রাম
দেশের এখন জান, প্রাণ |
কৃষক মেরে শিল্প গড়তে
বুদ্ধ বুঝি গদি উল্টান
বিরোধীরা কোমর বেঁধে
দিচ্ছে স্লোগান,
কৃষি বাঁচিয়ে শিল্প রোধে
দেশবাসী পাশে দাঁড়ান |
সত্যি যদি সরকার পড়ে
দায়ভার কে নেবে
নন্দীগ্রাম হবে টিকি
বুদ্ধ চাণক্য হবে |

.              **************              
.                                  
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি 'আকিঞ্চন' পত্রিকার আশ্বিন ১৪১৪ এর সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
শুদ্ধ     
প্রীতম ভট্টাচার্য

যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ
কার সঙ্গে কাহার লড়াই
জানেন নাকি বুদ্ধ!

মানের আগুন পেটের আগুন
সেই আগুনে হাত পুড়িয়ে
হলেন তিনি ক্রুদ্ধ |

লাল পতাকা লাল পতাকা
ধ্যান ধারণা তাতেই ঢাকা
একটু খোঁচা ছিল মনে রুদ্ধ -

আপাদমাথা সাদায় মোড়া!
তাইতো একটু গুলি ছোঁড়া
লালের ছিটা করল তাকে শুদ্ধ |

.              **************              
.                                  
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  দুর্গাদাস মিদ্যা  সম্পাদিত 'আরাত্রিক' পত্রিকার প্রতিবাদ
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
কংসাবতী     
পিন্টু পোহান

কংসাবতী কংসাবতী কোথায় তোমার গ্রাম?
এই ভোরেতে ভাবছ কীসব? কীসের সংগ্রাম
ভোরের স্বপ্ন বাঁক নিচ্ছে আঁধার রেখার দিকে
সামনে তোমার দেবদূতেরা পাঁচিল ঘেঁষে বসে

পাঁচিল ফলায় শিল্প ফলায় ফলায় মৃত্যুফাঁদ
কংসাবতী কংসাবতী ফিরছ হয়ে লাশ |
রূপকথারা রাজার হাতে ধরিয়ে দিয়ে দড়ি
"কংসাবতীর গান গাহিব | হও রাজা মাদারি |"....

এসব গল্প তোমার জানা মা-ঠাকুমার মুখে |
চমকে তুমি উঠেছিলে সাদা কাপড় দেখে |
সব রাজারাই ভীষণ সাদা চামচাদেরই পোষে |
কংসাবতী কংসাবতী ছাই হয়ে আজ হাসে |

.              **************              
.                                  
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                            সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি 'আকিঞ্চন' পত্রিকার আশ্বিন ১৪১৪ এর সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
কেঁচো       
সোমনাথ রায়

বুকে গুলি লেগে সন্তানের মৃত্যু কখনো দেখেছো?
ঘরের খুঁটিতে পিঠমোড়া হয়ে দেখেছো গণধর্ষণে স্ত্রীকে?
চালের আগুন দেখে ছুটে বেরিয়েছে ঘর থেকে?
দ্যাখোনি | বেরিয়ে আসতে হয় নি তোমাদের |

সকাল দুপুর জলবিছুটির ফল ছুঁড়ে বলছো শান্ত হ'তে |
খা খা করছে মাঠবুক, অশ্রুনদী শুকিয়ে গিয়েছে |
শকুনের ডানা শুষে নিতে চাইছে মানবিক মেঘ |
মাস্টারমশাই আমরা দুঃসময় নাটক দেখেছি |

দর্শক আসন থেকে মাটির উর্বরতায় উঠে আসছে দায়বদ্ধ কেঁচো
যতোটা নিরিহ ওরা পাকসৃজনে ততো নয় |

.              **************              
.                                            
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                      সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  দুর্গাদাস মিদ্যা  সম্পাদিত 'আরাত্রিক' পত্রিকার প্রতিবাদ সংখ্যায়
প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
যে কোনও সময়       
ঋত্বিক ঠাকুর

ইদানিং একটা অপরাধবোধে ভুগছি,
আপনি বলেছিলেন প্রয়োজনে মুখ খুলতে, মুখর হতে, শব্দ ছুঁড়ে দিতে
আকাশের দিকে |
আর আমি? নীরবতার অনুশীলন করছি |
ছায়া যেভাবে রোদ্দুরের বিরুদ্ধে নীরব থাকে, রোদ্দুর যেভাবে মেঘের
বিরুদ্ধে নীরব থাকে, মেঘ যেভাবে দমকা হাওয়ার বিরুদ্ধে নীরব থাকে,
খানিকটা সেই ধাঁচে নিজেকে বাঁচিয়ে বায়ুমোরগের হাতে নিজের
অভিজ্ঞতা সঁপে দিয়ে আমার এই নীরবতার মহরৎ |

জানি, আপনি বলবেন, প্রয়োজনে পাথরের মহত্ব শেখো | অন্যভাবে
বললে দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা |
আর আমি? আপনার প্রত্যাশার চাইতেও বেশি নিষ্ক্রিয় যোগসাধনায়
বিশুদ্ধ ঘুমের কাছে হাত পেতে আছি | সেই ঘুম যার মধ্যে আশ্রয়
পেতে পারে আমার সমস্ত ভয়, আমার দুঃস্বপ্ন, যার মধ্যে চোখ
বুজে থাকে অনুকূল আকাশের জন্য দেবদারু গাছ, আশ্চর্য বাতাস
মেখে শুয়ে থাকে নিরুপদ্রুত রক্তকরবী, মাইলের পর মাইল কাঁটাতার
উপড়ে দিয়ে দেয়াল গুঁড়িয়ে সবুজ সমুদ্রে বুক বেঁধে জবরদস্তি
অন্ধকারে একমাত্র ধ্রুবতারার পাহারায় থাকে হারাধন বাগের খিদেলাশ,
তাপসী মালিকের কুমারী চিতা, হলদি নদীতে জলজ্যান্ত ডুবে জাওয়া নিরীহ
চাঁদের জন্য বেসামাল মায়ের ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না, যাদের অপেক্ষার
নাম বিষ্ফোরণ, প্রতিবাদ, চিত্কার কিম্বা শুকতারার জন্মদিন এরকম
যে কোনও কিছুই হতে পারে যে কোনও সময় ||

.              **************              
.                                                      
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  দুর্গাদাস মিদ্যা  সম্পাদিত 'আরাত্রিক' পত্রিকার প্রতিবাদ
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
লক্ষ্মীছাড়া       
সমীর চট্টোপাধ্যায়

কাস্তেতে হবে না শান্ দিতে
ইঁদুরেরা দেবে না হানা পাকা ধানের শিষ কেটে নিতে
লক্ষ্মীপেঁচার দল লক্ষ্মীছাড়া আজ
মাঠময় কেঁদে যায় উদাসী যন্ত্রণা
শূণ্য আজ ধানের মরাই

পৌষের পিঠেপুলি নবান্নের দিনে
উপোসী থালা পড়ে থাকে ঘরের কোণে
কেউ বলে পাপ ............. কেউ বলে দেবতার অভিশাপ

দেবতা আসে, দেবতার রথ হবে বলে
লক্ষ টাকা ঢালে মাঠ ঘেরা হয় তারের জালে
সারারাত ধরে উত্সব চলে, নিরন্ন মানুষ জানে না দেবতা কে?
শীতের মেঠোপথ ধরে
শুধু হাহাকার করে ||

.              **************              
.                                                      
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  দুর্গাদাস মিদ্যা  সম্পাদিত 'আরাত্রিক' পত্রিকার প্রতিবাদ
সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
প্রশ্ন তোমাকে
নীলকণ্ঠ মুখোপাধ্যায়

মুখোশ মুখে তুমি কে হে
দিনের প্রখর রোদে ছায়ার আড়ালে
নিপাট ভদ্র সর্বসাদা সংস্কৃতিবাণ,
অনেক সাহিত্যিক শিল্পীকে পকেটে পুরেছো
প্রকাশ্য জনসভায় হুমকি নাচ নেচেছো
তারপর অম্লান মৃত্যু ডেকেছো অসংখ্য শিশু ও নারীর
কি আশ্চর্য হৃদয় তোমার, একটুও কাঁপে নি!
কাঁপতো না কি আপন সন্তান হত্যায়
এ রাজ্যের তুমি তো পিতৃসম |

না এ ভাবনা তুমি ভাবতে দিলে না
মুখ ও মুখোশ পারনি এক রাখতে
মুখের প্রতিটি রেখা অতি পাতি
স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় এখন টিভির পর্দায়
এ সময়ে নিজেকে লুকানো বড় কঠিন |

বড় বিশ্বাস করেছিলাম তোমাকে, ভালোও বেসেছিলাম
বড় বেশী বেদনা ঘৃণা জাগালে পাহাড়ের মত
আর কি পারবে কোনদিন ফিরতে সমতলে?

.              **************              
.                                                                
 অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                              সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  দুর্গাদাস মিদ্যা  সম্পাদিত 'আরাত্রিক' পত্রিকার প্রতিবাদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
জমিন জননী জন্মভূমি
ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায়


ধীরুর বাপ আর ফিরবে না ---

গৌরাঙ্গ সেবা করে ধীরুর হাত ধরে বৃদ্ধা বকুলবালা
জড়ো হচ্ছে সোনাচূড়ার খেলার মাঠে
প্রতি সন্ধ্যায় বোঝাতেন রাজা ও প্রজার গল্প, আশ্রিত ও আশ্রয়দাতার গল্প
এভাবেই শিবি বংশীয় মহারাজ উশীনরের মহানুভবতার উদাহরণ
নিষ্ঠাবান রাজা নিজদেহের মাংস কেটে
শ্যেনরূপী ইন্দ্রের মুখে তুলে দিয়ে শরণাগতকে বাঁচিয়েছিলেন
বলতেন হত্যা যেমন পাপ, আশ্রিতকে পরিত্যাগও সমান পাপ
অনেক ধীরুই এ গল্প শুনেছে বৃদ্ধা বকুলবালাদের কাছে
ধীরু আজ মাঠে জড়ো হতে হতে ঠাম্মাকে বলে
আমাদের রাজা কে
ওই যে, যাকে আমরা ভোটপূজোয় ভোট দিলুম
ওই আমাদের রাজা দুধের মতো সাদা যার পোশাক
ঠাম্মা আমরা কি রাজাকে দেখতে জড়ো হয়েছি
না, রাজার শিপাহি তোর বাপকে ধরে নিয়ে গেছে
অপেক্ষা করছি তার জন্যে
অমনি মনটা আঁকু পাঁকু করে ওঠে
হাট করে ফেরার পথে লম্বা চকলেট আনত বাপ
ঠাম্মা তুই যে বলতিস রাজাকে আমরা পূজো করি, রাজা আমাদের ভগবান
নিজের বুকের মাংস কেটে সে আমাদের বাঁচান
এতদিন এটাই আমার বিশ্বাস ছিল রে ধীরু | যদি তোর বাপ
না ফিরে আসে, যা বলেছি, যা বলেছিলুম সব মিথ্যে, সব ভুল
[ ১৪ মার্চ সন্ধ্যার পর রাত্রি পার হয়ে গেলেও ধীরুর বাপ আর ফেরে নি ]

থ্রি নট থ্রিতে ছিঁড়ে পড়া ঠাম্মার স্তনের পাশে ধীরু শুনছিল
অদৃশ্য থেকে ঠাম্মা বলছে
আর রাজার গল্প কাউকে বলবিনি
ধীরু তুই চাষির ছেলে, জানবি তুই চাষারই ছেলে

.              **************              
.                                                            
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                     সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  দুর্গাদাস মিদ্যা  সম্পাদিত 'আরাত্রিক' পত্রিকার প্রতিবাদ সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
দাবার চাল
প্রদীপ দে

নাম, গোত্র, অনন্তহীন
আগুন শব্দের ঐ ধাম | নন্দীগ্রাম
শ্রদ্ধা ও সেলাম!
রক্তাক্ত হচ্ছি, হয়েছি, হয়ে চলেছি
বিদ্ধ হচ্ছি, হয়ে চলেছি দিন দিন
বিষন্ন, বিপন্ন হচ্ছি, হয়ে চলেছি আরও
ত্রাতার অদ্ভুত সন্ত্রাসে, দাবার চালে ||
এ পৈশাচিক খেলা, দাবার চালের
কি পাওনা, পাওয়ার লোভে, না কি
অহং ঠিকরে শিখরে ওঠার, দৌড় ধান্দায়!
সকালের রোদ বিকেলের ধূসর রবির হাহুতাশ
বুকের ভেতর কড়া নেড়ে বলে চলেছে
বিকৃত মানবিক মুখের কথা!
বুঝতে পারছে না, খুলে যাচ্ছে নীল বৌদ্ধ
স্বপ্নের বিভোর গ্রন্থি ; অহমিকার জালে
শিকার করার ফন্দি
ফন্দির খেলার আড়ালে, প্রকাশ পাচ্ছে
মুখোশের সন্ত্রাস!
আর সাদা নেই গ্রামের বাতাস
চঞ্চল আজ বারুদ-বাতাসে-
পচা ক্ষত, গলা ক্ষত জানান দিচ্ছে,
মানুষ হারিয়েছে মনুষ্যত্ব
অহমিকার আগুনে ঝলসানো "মানবিকতা"!
এ কোন দাবার চাল, কে জানে |

.              **************              
.                                                            
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                     সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  দুর্গাদাস মিদ্যা  সম্পাদিত 'আরাত্রিক' পত্রিকার প্রতিবাদ সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
ক্ষমা নেই
বীরেশ্বর মুখোপাধ্যায়

সাম্প্রতিক নন্দীগ্রামের ভূমি তাণ্ডব, তার ভয়ংকর ধ্বংসলীলা
বাংলার মানুষ কোনদিন ভুলবে কি?
অন্ততঃ প্রতিটি বিবেকবান মানুষ এই বর্বরতা ভুলবে না কখনো!
দিনের পর দিন যারা লুণ্ঠন করেছে
প্রতিবাদী মানুষের ঘরবাড়ি, তাদের যাবতীয় সুখ আর শান্তি,
দগ্ধ করেছে নিরীহ জনতার বিদ্রোহী আত্মাকে,
হিংস্র আক্রোশ আর লোলুপ লালসায়
যারা জননী ভগিনী সমা নারীদের পবিত্র শরীরকে
করেছে অশুচি ধর্ষণের বীভত্স পীড়নে,
কচি শিশুরাও হয়েছে বলি যাদের নির্দয় নিষ্ঠুর আঘাতে
অত্যাচারিত ধর্ষিতা নরনারীদের আর্ত ককানিতে
যারা অট্টহাস্যে আর নির্মম বিদ্রুপে নৃত্যোন্মাদ হয়েছে
ক্ষ্যাপা কুকুরের মত, সেই সব নরপিশাচদের
জ্বলন্ত ঘৃণার বদলে ক্ষমা প্রদর্শনের কিংবা
সমঝোতার প্রয়াস স্বপ্নেও ভাবা যায় না,
ভোলা যায় না এই অত্যাচারের নির্লজ্জ স্পর্ধা
তাদের হাজার প্রতিশ্রুতি ও সন্ধির নিপুণ ছলাকলায়!
না, এই সব ঘৃণ্য ঘাতকদের কোন ক্ষমা নেই!

আবার সুযোগমত ভালোমানুষির মুখোশ ছুঁড়ে ফেলে
স্বমূর্তি ধারণ করতে এই আপোষকামীদের এতটুকু বাধবে কি?
যারা নিত্য জেগে ঘুমোয় আর নিঃসাড়ে ওৎ পেতে থাকে
ভবিষ্যতের কোন প্রলয়কাণ্ডের বীভত্সতায়
তারা কি প্রকৃতই ক্ষমার যোগ্য?
না, এই সব নারীধর্ষণকারী --- শিশুঘাতক নরপশুদের
ক্ষমা নেই, কোন ক্ষমা নেই!

.              **************              
.                                                            
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                     সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  'কবিতা এক্ষণ' পত্রিকার জুন ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
একচক্ষু হরিণ
বীরেশ্বর মুখোপাধ্যায়

জনগণকে যতই ভাবো নির্বোধ, অর্বাচিন
যতই হেয় জ্ঞন করো দেঁতো হাসির আড়ালে
তারা কিন্তু সজাগ জানবে তোমাদের জানার
বাইরে পা বাড়ালে
যতই টুসকি দাও ভোটে জেতার কল্লোলে
যতই কুশলী হও তুড়ি মেরে তাদের মাথায়
যতই মুচকি হাসো প্রতিদিন
যতই ভেলকি দেখাও বিভিন্ন ছলে ও কৌশলে
যতই ভাবো : ওদের দুঃখে আমাদের কি আসে যায়?
ভাবখানা যতই দেখাও তোমরা ওদের বড়ই আপন
যতই প্রতিশ্রুতি দাও : আরো কিছু দিন করলে যাপন
হাতের মুঠোয় পাবে তোমাদের আরাধ্য রতন!

আসলে তোমরা যতই ওদের দ্যাখো অলস ভঙ্গিতে
ওরা একদিন মুখোমুখি হবে তোমাদের
.                                   হয়তো আচম্বিতে!

.              **************              
.                                                            
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                     সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  'কবিতা এক্ষণ' পত্রিকার জুন ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |

মিলনসাগ
ওরাও একদিন           
সুমিত মোদক

যাদের আদুর গায়ে লেগেছিল একদিন
সোঁদা মাটির গন্ধ
তাদের গায়ে এখন রক্তের দাগ ক্ষত...

এ ক্ষত সারবে কি ভাবে!
এক্ষত তো সারার নয় |

নন্দীগ্রাম জ্বলছে, সিঙ্গুর জ্বলছে, হরিপুর জ্বলছে,
জ্বলবে.....
তবে, ওরাও একদিন জ্বালাবে আগুন
আনবে ফাগুন |

.              **************              
.                                    
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                             সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  'কবিতা এক্ষণ' পত্রিকার জুন ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
*
আজ বসন্ত           
তপতী গোস্বামী

রক্ত দিয়ে লিখেছ যে প্রতিশ্রুতি
আজ তা পালনের দিন
আজ রক্তরঙা বসন্তে
রক্তে ভেসেছে মাটি
রক্তিম বসন্তে রক্তের ফুল উপহার
জমিহারা স্বজনের
কান্নার হাহাকার
বাতাস হয়েছে ভারী
চারিদিকে বারুদের গন্ধ
তুমি কি এখনও নিস্পন্ধ
দেবে না সাড়া সে বসন্তের ডাকে?

.              **************              
.                                    
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                             সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  'কবিতা এক্ষণ' পত্রিকার জুন ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
১৪ই মার্চ ২০০৭           
অজয় সেনাপতি

সেদিনও ভোরবেলা গাছগুলি
জিরাফের মতই ছিল বাক্যহীন
যদিও ফাল্গুনি বয়ারে তাদের ক্ষুদ্র পাতায়
ছিল সূক্ষ্ম কাঁপনি |
ধীরে ধীরে ঠেকছিল কিছু বেমানান
যখন বকেরা আল থেকে উড়ে গেল সটান |

শাঁখ ও আজানের হুঁশিয়ারী ছাপিয়ে
তখন আগ্নেয় অস্ত্রের শব্দ,
আর তাদেরকেও ছাপায়,
মানুষ ও মানুষির জ্যান্ত চিত্কার |

শিশুরাও পেলনা ছাড়
আবার ধর্ষিতা বৃদ্ধা ও কিশোরী
বোঝা গেল, শাসকের রোষ
শুধু চেনে প্রতিবাদী |

.              **************              
.                                    
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                             সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  'কবিতা এক্ষণ' পত্রিকার জুন ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
অঙ্কুরিত বীজ           
সাধনা সরকার

নিয়ত একটা আগুন তো জ্বলছেই
একটা অঙ্কুরিত বীজও
মাথা তোলে আকাশে, মাটির আর্দ্রতায়
মহীরুহ হবে সে

ওকে ছুঁয়ে থাকে
রাতভোর স্বপ্ন এবং আরো গভীর স্বপ্ন
আকাশের বৃষ্টি ওর শাখায়
আন্দোলনে প্রশাখায় ঝড়ো হাওয়া
অস্তিত্বকে সজীব রাখে সে
দৃঢ়তর আন্দোলনে
মাটির বন্ধনকে প্রসারিত করছে
অঙ্গীকারে এবং অঙ্গীকারে.............

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম সেই ইতিহাসের অঙ্গীকারে
স্বপ্ন খোঁজে |

.              **************              
.                                    
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                             সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  'কবিতা এক্ষণ' পত্রিকার জুন ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
এক রাত জাগা পাখি           
সুকুমার বিশ্বাস

সিঙ্গুরের মৌলিক অধিকার
.                       নিয়েছ কেড়ে
হে দেশ --- ভালোবেসে |
ভুগতে হবে তোমায়,
কিনে নিতে হবে অনেক দামে ;
তুমি দিয়েছ সংগঠন ---
মানুষের মুখ,
উচ্চারণ পাখির ঠোঁটে ;
বৃক্ষের উল্লাস, অরণ্য অধিকার |
তবে কি আবার
আমি সংগ্রামে মৃত্যুর সাথে ---
দানবের মুখোমুখি |
কবির চোখে জল---
কবি মানুষের হাতিয়ার
রাত জাগা পাখি
দুঃখের দিনে |

হুশিয়ার
জাগো জাগো
পূর্বদিগন্তে সূর্য লাল
আকাশে নতুন সকাল |

.              **************              
.                                    
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                             সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  'কবিতা এক্ষণ' পত্রিকার জুন ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*
নন্দীগ্রাম কথা বলছে           
অনিলেন্দু ভট্টাচার্য   

   ||১||
এই সবে ধান কেটে তুলেছি গোলায়---
হাঁফ ছেড়ে দু'দণ্ড জুড়োবো ভেবে বসি
সম্ভ্রান্ত উঠোনে, দেখি হতচ্ছাড়া পুংদেবতারা
দল বেঁধে হয়েছে হাজির
ধর্ষিতা হয়েছি আমি
এই দেখো ক্ষতচিহ্নে সারাটা শরীর!

    ||২||
প্রবল রৌদ্র হলকায় চরাচর
ঘুরি, খুঁজি এ-গ্রাম ও গ্রাম
হারানো স্বজন বুঝি পাবো
দূর তমলুকে, হাসপাতালে,
শহুরে বাবুরা আসে, ত্রাণ আসে
হাহাকার আর আর্তনাদ জড়ায় সবুজ---
আর আসে হার্মাদ বাহিনী
আর কে কে আসে কে জানে---
আমি খুঁজি হারানো স্বজন!

     ||৩||
রাতের পর রাত আসে
ভয় আসে
তরাস ছড়িয়ে অন্ধ আনাচে কানাচে
দৃর থেকে তাল ঠোকে ভাড়াটে বাহিনী
গুলি ছোঁড়ে, বোমা ছোঁড়ে |

নিদ্রাহীন আকাশের নিচে জেগে থাকি
চোখ জ্বলে যেন হিংস্র জাগুয়ার---
একা একা আয় দেখি কেমন মরদ বটে!

.              **************              
.                                    
অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                             সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায়
ফেরত
      
এই কবিতাটি  'কবিতা এক্ষণ' পত্রিকার জুন ২০০৭ সংখ্যায় প্রকাশিত
হয়েছিল |

মিলনসাগ
*