স্বর্ণকুমারী দেবী
কবি স্বর্ণকুমারী দেবী কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের আরও এক উজ্জ্বল নক্ষত্র|
তিনি বিশ্বকবি রবিন্দ্রনাথের দিদি| উদারমনা জানকীরাম ঘোষালের সাথে তাঁর মাত্র ১২ বছর
বয়সে বিয়ে হয়| স্বামীর উত্সাহদানে তিনি সাহিত্যচর্চা ও সমাজসেবায় ব্রতী হন| ঠাকুর
পরিবারের মত এমন এক নক্ষত্রমণ্ডিত পরিবেশে তাঁর প্রতিভার বিকাশ স্বাভাবিক ছিল|
রাজনীতির আঙ্গিনায় স্বর্ণকুমারী দেবীর উপস্থিতি উল্লেখনীয়| ১৮৯৭ ও ১৮৯৮ সালে জাতীয়
কংগ্রেসের বার্ষিক সভায় বাংলা থেকে নির্বাচিত সদস্যা হয়ে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেছিলেন|
এ ছাড়া তিনি বিধবা ও দুস্থ নারীদের সাহায্যের জন্য "সখী সমিতি" নামের একটি সংস্থাও
গড়েছিলেন|
তাঁর সাহিত্য কর্মকাণ্ড বিশাল| তাঁর রচনায় আছে ২৫টি গ্রন্থ যার মধ্যে আছে দীপনির্বাণ
(১৮৭০),ছিন্ন মুকুল, স্নেহলতা বা পালিতা(১৮৯২), তাহাকে(১৮৯৮) এবং বসন্ত উত্সব
(১৮৭৯) যা সম্ভবতঃ বাংলায় প্রথম গীতিনাট্য| দীর্ঘ সময় ধরে তিনি "ভারতী" পত্রিকা
সম্পাদনা(১৮৮৪-১৮৯৪,১৯০৮-১৯১৪,১৯২৪-১৯২৬) করেও লেখক ও সম্পাদক হিসেবে যথেষ্ট
সুখ্যাতি অর্জন করেন|
১৯২৭ সালে তাঁকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিনী স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়| ১৯২৯ সালে
তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনের সভাপতি হন| ভাই রবীন্দ্রনাথের উপর তাঁর কিছু প্রভাব
পড়েছিল বলে অনেকেই মনে করেন|