মাটির বেহালা (১৯৫৬), অন্ধকার উদ্যানে যে নদী (১৯৬২), রণক্ষেত্রে দীর্ঘবেলা একা (১৯৬৮), তোমার জন্যাই বাংলাদেশ (১৯৬৮) প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা | তাঁর ভাষা আবেগময় কিন্তু স্পষ্ট ও বলিষ্ঠ, ছন্দপ্রবাহ অনর্গল ও মসৃণ, প্রতিমাগুলি লোকজীবনাশ্রিত, বক্তব্য সরল ও উচ্চকণ্ঠ |
তিনি কবিতা নিয়ে চিন্তাশীল প্রবন্ধও রচনা করেছেন | রমেশচন্দ্র দত্তের The Economic History of India গ্রন্থটি তিনি অনুবাদ করেছেন |
আমাদের কাছে যা সব চেয়ে উল্লেখযোগ্য তা হলো কবির, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস এবং অত্যাচারিতের পাশে দাঁড়ানো | সম্প্রতি (২০০৬ - ২০০৭) সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রামের জমি বাঁচাও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কবিতায় ধিক্কার জানিয়েছেন | সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলনে মেধা পাটেকর, সুজাত ভদ্র, শাঁওলী মিত্রের মত বুদ্ধিজীবীদের পাশে আমরা তাঁকেও দেখেছি | এই বয়সেও তিনি নন্দীগ্রামে ছুটে গিয়েছেন গণহত্যার পরে এবং তাঁদের সংঘটন থেকে প্রায় চার লক্ষ টাকার রিলিফ নিয়ে সেখানে রাষ্টীয় রোষানলে পড়া মানুষদের মধ্যে বিতরণের ব্যাবস্থা করেছেন | বাঙালী, এই মানুষদের ভুলে গেলে অন্যায় করবে |