*
নহেক প্রথমতম
কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
কল্লোল পত্রিকা, ১৩৩৪ ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারী ১৯২৮) সংখ্যা থেকে নেওয়া |


তোমার প্রথম গুন্ঠনখানি সোহাগে টানিয়া দিয়ো,
বিবাহের বাঁশি বেজে উঠিয়াছে, এল পরমাত্মীয় !
.                কন্ঠে মিলনমালা,
সে জ্বালা জুড়াও বিধাতা ও মোর বুকে জ্বলে সেই জ্বালা !
সীমন্তে নব শুভ শৃঙ্গার ভূষণ শোভিছে কিবা,
কা’র লীলায়িত ভুজবন্ধনে বন্দী মৃণাল-গ্রীবা !
জলতরঙ্গ বাজিল কি দেহে, --- অপূর্ব ঝঙ্কার,
পুরাতন রস-রভসে শিহরি’ উঠিয়ো পুনর্বার |
.                নয়ন করিয়া নত,
অস্ফুট সুখে বোলো ‘ভুলিব না’ সেই সে দিনের মত |
তব বন্ধুর রাত্রির পারে এস কল্যাণী ঊষা,
দুই হাতে আন স্নেহ সান্ত্বনা অনাবিল শুশ্রূষা !
.                পরাণ ভরিয়া প্রীতি,
পুণ্যপ্রভাতে শুধু আনিয়ো না গত গোধূলির স্মৃতি !
হেথা নগরীর ধূলি-কুত্সিত পথে আমি একা চলি,
সেবায়-পূর্ণ থাকুক সে গৃহলক্ষ্মীর অঞ্জলি |
.                অকারণ চলা মম,
প্রিয়তম তবু তোমারি, যদিও নহেক প্রথমতম !

.                    ****************  
.                                                                                  
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত-র কবিতা
*
যদি কোনদিন
কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
কল্লোল পত্রিকা, ১৩৩৫ বৈশাখ  (এপ্রিল ১৯২৮) সংখ্যা থেকে নেওয়া |


যদি কোনদিন বেদনার মত বাদল ঘনায়ে আসে,
কাজল আকাশে আমার আঁখির সজল কাকুতি ভাসে ;
.                 বসিয়া তাহার বামে,
একবার শুধু ভুল করে’ তারে ডাকিয়ো আমার নামে |
আমার দেশের ব্যথিত পবন যদি কভু যায় ভেসে’,
আদরের মত লুটায় তোমার লুলিত আকুল কেশে ;
গুন্ঠন খুলে’ দেখে নেয় যদি মুখখানি কমনীয়,
আমারি সোহাগ,---ভেবে তারে, সখি, কন্ঠ জড়াতে দিয়ো |
.               যখন ফুরাবে কথা,
আমারি লাগিয়া অনুভব ক’রো একটু নির্জনতা !
যদি কোন রাতে ঘুম ভেঙে যায়, চাঁদ জাগে বাতায়নে,
আমিও জাগিয়া দেখিতেছি চাঁদ,--- সে কথা করিয়ো মনে |
.                দিবা যবে অবসান,
মোরে ভেবে চোখে আঁকিয়ো একটি অতৃপ্ত অভিমান |
মহুয়া-মদির মিলনের মোহে ভুলিয়ো আমার কথা,
উত্সব-শেষে বাজে যেন বুকে মধুর অপূর্ণতা !
.                যখন নিভিবে আলো,
ভেবো সেই নীল নিবিড় তিমির লাগিত আমার ভালো ||

.                    ****************  
.                                                                                  
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
নারী
কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
কল্লোল পত্রিকা, ১৩৩৫ শ্রাবণ (জুলাই ১৯২৮) সংখ্যা থেকে নেওয়া |


.                এ মোর একা’র গর্ব আজি এ নিখিলে ---
.               তুমি যাহা নও,--- তাই, তুমি মোর কাছে ছিলে |
.                                    এ মোর একা’র অহঙ্কার |

.               তুমি ছিলে কায়াহীন নিশ্চল নীরন্ধ্র অন্ধকার---
.                       তারি মাঝে অমর্ত্যলোকের বিভা
.                            খুঁজিয়া করেছে আবিস্কার
.                            একমাত্র আমার প্রতিভা |
.                        তুমি ছিলে কলঙ্কিনী অমা,
.        হেরিলাম তারি মাঝে আমি শুধু পূর্ণিমার সম্পূর্ণ সুষমা ;----
.                          একমাত্র আমি | --- এই গর্ব মোর ---
.            যাহা নও, ----তারি স্বপ্নে রেখেছিনু তোমারে বিভোর |
.                  তুমি কভু জানিতে না কি তোমার দাম,
.                  আমার চোখের জলে তাই দেখালাম ||
বিধাতার সৃষ্টি তুমি,--- হে নিরাভরণা নারী, --- বাসনার সোনার প্রতিমা,--
.                   কারারুদ্ধা,---- চতুর্দিকে বন্ধনের সীমা ;
.                            ক্ষণিকা ও ক্ষীণ---
.    মোর প্রেম-স্বর্গ হ’তে পরম উত্সর্গ-পত্র লভিলে প্রথম যেই দিন,
.        লভিলে বিস্তীর্ণ মুক্তি,----আপন আয়ত্তাতীত অপূর্ব মহিমা,
.                            বিরাট সম্মান,
.             মোর কন্ঠ-মাল্য-দানে তোমারে করেছি মূল্যবান ||
.        মোর বুকে বেজেছিল তব ক্ষুদ্র ব্যর্থতার ব্যথা,
মণ্ডিত করেছি তোমা’ উদ্বৃত্ত ঐশ্বর্যে মোর--- দিয়াছি অনন্ত সম্পূর্ণতা |
.     বিধাতার সৃষ্টি তুমি, হে লীলাললিতা কান্তা কামাক্ষী কামিনী,
.                     রাশীকৃত চুম্বনের ফেনা ;---
.          মোর কাছে চিরজন্ম চিরমৃত্যু র’বে তুমি ঋণী,
.          তুমি যাহা, --- মোর কাছে তুমি তা ছিলে না ||

.        পুরুষের কাম্য তুমি, জীর্ণ কাব্য তুমি বিধাতার,
.      সেই কাব্য একদিন মোর হস্তে লভেছিল নবীন সংস্কার |

.    তুমি স্হূল, সুপ্রত্যক্ষ,--- সন্ধান করিছে তোমা’ উদগ্র ইন্দ্রিয়,
.                             তুমি প্রয়োজন |
.     স্পর্শের রোমাঞ্চ-হর্ষে আমি শুধু লভিয়াছি অকূল অমিয়---
.          মানস-আকাশে তোমা, রাখিয়াছি করি’ চিরন্তন
.                           হে অচিরদ্যুতি,
.                 শুনিয়াছি তোরি মাঝে স্বর্গের কাকুতি |

.        অনন্ত মৃত্যুর তীরে তব তরে রেখেছিনু স্নেহদীপশিখা,
.          নিকটে আছিলে যবে, ডেকেছিনু --- ওগো সুদূরিকা |

.              তুমি নারী মানুষের, বিধাতার, শুধু মোর নই,
.               তবু তোরে দিনু ভিক্ষা, --- কবির বিরহ,--
.                            শ্রেষ্ঠ পুরস্কার |
.                      এ নিখিলে এ গর্ব তোমার ||

.              
                  ****************  
.                                                                                  
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
দোসরা আশ্বিন
কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
কল্লোল পত্রিকা, ১৩৩৫ আশ্বিন (সেপ্টোম্বর ১৯২৮) সংখ্যা থেকে নেওয়া |


উন্মীলিত নীলচক্ষু আকাশের তলে এই দিন
জন্মেছিনু নিষ্কলঙ্ক --- নাম তার দোসরা আশ্বিন |
এই দিন তুমি মোর কাছে ছিলে পড়ে আজি মনে,
লজ্জালুলতার মত দু’টি বাহু ভীরু আলিঙ্গনে
এনেছিল কি আশঙ্কা, চক্ষে ছিল মৃত্যুর মমতা |
চুম্বনে ভুলিয়াছিনু সে দিনের আকাশের ব্যথা |
নম্রকন্ঠে বলেছিলে,--- “আজি এ সুন্দর দিনটিতে
অপরিচয়ের রাজ্যে কি তোমারে পারি আমি দিতে
পরাজিত যার কাছে মৃত্যুর দস্যুতা ?” “কিছু নহে|”
বলেছিনু,--- “ঊর্দ্ধে মোর নীলাকাশ যেন সদা বহে
রিক্ততার অপর্যাপ্ত সম্পূর্ণতা, --- বৈরাগী পৃথিবী
পদতলে চিরনৃত্যশীলা, যেন হই দীর্ঘজীবী—
প্রেমপরমান্ন মোর অনন্ত পাথেয়., কিছু নহে—
তোমার অমরস্পর্শ মর্মমূলে নিত্য যেন রহে ;
মুহূর্তের মত যেন মৃত্যুহীন নব জন্ম লভি |
আঁখিতে আঁকিয়া দাও প্রেমোজ্জ্বল প্রভাতের রবি |”
এত বলি’ মদির চুম্বনে তোমা’ করিনু প্রণাম,
সেদিন ত’ কাছে ছিলে, --- কত যে বলিতে পারিতাম !

আজি আর কাছে নও, আসিয়াছে দোসরা আশ্বিন
ব্যথায় সুনীল চোখ পাণ্ডুর বিষণ্ণ বিমলিন !
নিরিখিয়া চিনিবে কি আজিকার উদাসী আকাশ ?
মনে কি পড়িবে, সখি সেদিনের শীতল নিশ্বাস
পাণ্ডুর গণ্ডের ‘পরে, বিম্বাধরে সুচারু রুচির ?
সেদিনের ভুরু দু’টি আজিও কি বিদ্যুৎ-বল্লীর
চঞ্চলতা ডাকি’ আনে ?  আজিও কি তুলসীতলায়
ভীরু দীপশিখাখানি জ্বালি’ দিবে সলজ্জ সন্ধ্যায়
আমারে স্মরণ করি’ ? নেত্রকোণে স্নিগ্ধ অশ্রুকণা
সিক্ত করে’ দিবে আজো ভাষাহীন কুশলকামনা ?
বাহিরে আকাশতলে দাঁড়াবে কি ওগো লগ্নপাণি,
তারকালোকের তীর্থে পাঠাইবে প্রার্থনার বাণী
করিতে আমার স্পর্শলাভ মর্ত্যের অতীত তীরে ?
চিনিবে কি সেই তারা ? ভুলিবে কি এই দিনটিরে ?
যদি বা ভুলিয়া থাক, চোখে স্নেহ নাহি যদি আর,
কার্পণ্যে কুন্ঠিত যদি,-- তাই মোর হোক্ উপহার |
তোমার সে-বিস্মৃতিরে রেখে দিব অম্লান অক্ষত,
তোমারি সীমন্তশোভী গর্বদীপ্ত সিন্দুরের মত |

তুমি আজ কাছে নও, এ জগতে ইহাও সম্ভব !
কাছে নও, তবু আজো অম্বরে অন্তরে মহোত্সব
গাঢ় নীল বেদনার | তবু আজ নহি ক’ একাকী ---
শীতল লক্ষ্যার জলে তৃষাতুর আঁখি দুটি রাখি’
বসে’ আছি ; ভাবি শুধু, কি মধুর বিরহ-বিলাস!
তোমারে হারাব--- ইহা সৃষ্টির আদিম অভিলাষ |
ভাগ্যিস্ আসিয়াছিনু ধরণীতে এক সন্ধ্যাকালে,
তাইত নয়ন ভরি’ বেদনার সমুদ্র দোলালে
আকাশের বিস্তৃতির মত | কন্ঠে দিলে এত গান |
তোমারে হারানু আমি, --- আমি যে পরম ভাগ্যবান |
তোমারে হারায়ে আমি লভিয়াছি সত্য জন্মদিন,
তুমি নাই, তবুও সার্থক মম দোসরা আশ্বিন ||

.                        ****************  
.                                                                                  
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
তখনও তুমি আস নাই ভাই
কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
কল্লোল পত্রিকা, ১৩৩৫ ফাল্গুন (ফেব্রুয়ারী ১৯২৯) সংখ্যা থেকে নেওয়া |


তখনও তুমি আস নাই ভাই, ছিলাম অদ্বিতীয় ;
কবিতার বাতি জ্বালায়ে তাহারে রেখেছিনু রমণীয় !
.                      তবুও জানিত মন---
তৃতীয়ের তরে আছে তার চোখে দ্বিতীয় নিমন্ত্রণ !
বিপথ-অতিথি, জানি যে আসিবে,--- তাই আমি কবে থেকে
অমাবস্যার রহস্য দিয়ে রেখেছি তাহারে ঢেকে’ |
নিকটের চেয়ে দূর যে অধিক আমি শিখালাম তারে ;
আমি যে আজিকে দূর --- সে দুরাশা ভুলেছে সে একেবারে |
.                        আছে সব ভুলিয়া সে,--
আকাশ হইতে নামায়েছি তারে বসাতে তোমার পাশে |
তোমার প্রিয়ার এত যে আদর চোখের চাহনি বেচি’,
জান কি বন্ধু, সে চোখের মায়া আমি তারে শিখায়েছি |
.                        জান কি বন্ধু , হায়,
তোমার প্রিয়ারে অমর করিনু আমার এ কবিতায় |
করতলে সেবা, বুকে অমৃত, নয়নে দিলাম আলো,
যদি পার, বেশি, নতুবা আমারি মতন বাসিয়ো ভালো !
.                        তোমার চুমার তরে
আমার চুমায় লালিমা লেপিনু তাহার ওষ্ঠাধরে ||

.                        ****************  
.                                                                                  
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
সার্বজনীন
কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
কল্লোল পত্রিকা, ১৩৩৬ জ্যৈষ্ঠ (মে ১৯২৯) সংখ্যা থেকে নেওয়া |


.                শুধু আমি রচি তার গান,
.        যে-জীবন ক্লান্ত পঙ্গু কামক্লিষ্ট ঘৃণ্য মুহ্যমান ;
.        পাপলিপ্ত অঙ্গে যার লাগিয়াছে লালসার ধূলি,
.        যে ললাট ছোঁয় নাই সেবামৃতসুস্নিগ্ধ অঙ্গুলি,
জীবনের দাবদাহে মিলে নাই যার স্নেহ-সন্ধ্যার সন্ধান ,
.                রচিতেছি আমি তা’রি গান ||

.        ধূলি-রুক্ষ রাজপথে নিরাশ্রয় যারা পরিশ্রমী,
.                যুগ্ম করে তাহাদেরে নমি ;
.        মরণের স্নেহ যেন, --- সর্ব অঙ্গে ঝরিতেছে স্বেদ,
জীবনে ঘুচালো যারা মৃত্যু আর মৃত্তিকার ভেদ,
শির পাতি’ লয় যারা একচক্ষু বিধাতার অমোঘ কুঠার,
.                তাদের জানাই নমস্কার ||

.                শুধু আমি রচি তা’র গান.
শিব-সম নগ্ন যারা শিবাকীর্ণ শ্মশানে শয়ান ;
এক মুষ্টি নিশ্বাসের প্রীতিহীন যে প্রতিযোগিতা
জীব যাত্রারথতলে বিরচিল বিস্মৃতির চিতা,
বিধাতার বিশ্বব্যাপী সৃষ্টি চেয়ে মহত্তর যার পরাজয়,
.                তা’রি গানে যাপিনু সময় ||

দিবালোকে তারাহীন রজনীর করে উপাসনা,--
.        বুঝিলাম তাদের বেদনা ;
যাহাদের প্রেমপদ্ম গন্ধহীন নিত্য, নিমীলিত,
সন্ধিত্সু সে-কামনার উল্কা যারা আকাশ-স্খলিত ---
আপনার দীর্ঘশ্বাসে ক্ষীণ-আয়ু প্রতীক্ষার প্রদীপ নিবালো,
.        তা’রি তরে জ্বালিলাম আলো ||

.        তারি তরে বেদনা ঘনায়,
অঙ্গের লাবণ্য যার উপমেয় প্রিয়ঙ্গুলতায় ;
অনন্ত বৈধব্য সহে তবু হায় অনন্ত বিস্মৃতি,
যার ঘরে আসিলো না লোকাতীত স্বপ্নের অতিথি,
তৃষ্ণাকায়া প্রিয়া, জানি ক্ষীণশিখা, ক্ষণস্থায়ী,--- প্রেতিনী প্রতিমা,
.        তবু গাহি তাহারই মহিমা !

.        ধূলি যা’র জীবখাদ্য, অশ্রু যা’র বিষাক্ত পানীয়,
.        আমি কবি, আমি তার প্রিয় !
আমারে করেনি মুগ্ধ সমুদ্র বা নভ মনোরম,
কলঙ্কের কবি আমি ; সাথী মোর কন্টক, কর্দম ;
সঙ্গীত শোনেনি যে-ই’করিয়াছে ক্ষমাহীন রক্তাক্ত সংগ্রাম ,

.         তারি তরে বাহু বাড়ালাম ||

.                        ****************  
.                                                                                  
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
আবিষ্কার
কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
কল্লোল পত্রিকা, ১৩৩৬ কার্তিক (অক্টোবর ১৯২৯) সংখ্যা থেকে নেওয়া |


এ মোর অত্যুক্তি নয়, এ মোর যথার্থ অহঙ্কার,
যদি পাই দীর্ঘ আয়ু, হাতে যদি থাকে এ লেখনী,
কা’রেও ডরি না কভু;  সুকঠোর হউক সংসার,
বব্ধুর বিচ্ছেদ তুচ্ছ, তুচ্ছতর বন্ধুর সরণি !

পশ্চাতে শত্রুরা শর অগণন হানুক ধারালো.,
সম্মুখ থাকুন বসে’ পথ রুধি’ রবীন্দ্র ঠাকুর,
আপন চক্ষের থেকে জ্বালিব যে তীব্র তীক্ষ্ণ আলো
যুগ-সূর্য ম্লান তা’র কাছে | মোর পথ আরো দূর !

গভীর আত্মোপলব্ধি --- এ আমার দুর্দান্ত সাহস,
উচ্চকন্ঠে ঘোষিতেছি নব নর-জন্ম-সম্ভাবনা ;
অক্ষর তুলিকা মোর হস্তে যেন রহে অনলস,
ভবিষ্যৎ বত্সরের শঙ্খ আমি ---- নবীন প্রেরণা !

শক্তির বিলাস নহে, তপস্যায় শক্তি আবিষ্কার,
শুনিয়াছি সীমাশূন্য মহা-কাল-সমুদ্রের ধ্বনি
আপন বক্ষের তলে ; আপনারে তাই নমস্কার |
চক্ষে থাক্ আয়ু-উর্মি, হস্তে থাক্ অক্ষয় লেখনী !

.                        ****************  
.                                                                                  
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
সঙ্কেতময়ী
কবি অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
কল্লোল পত্রিকা, ১৩৩৬ পৌষ (ডিসেম্বর ১৯২৯) সংখ্যা থেকে নেওয়া |
                            

মুকুরে বসিয়া বেণী বাঁধিতেছ, আঁচল পড়েনি খসে’ |
যদি আজ যাই, নিশ্চয় চোখ ভরিবে না সন্তোষে |
.        আজি তুমি কত দূরে ---
শুভকামনার প্রদীপ জ্বালিবে একদিন সিন্দূরে !
দু’হাত বাড়ায়ে আকাশ চেয়েছি, চেয়েছি বসুন্ধরা,
একদা চমকি’ চাহিয়া দেখিব, তুমি এসে দেছ ধরা |
আকাশ আনিয়ো অঞ্চল ভরে’, সাগর সাশ্রুচোখে,
স্বল্পক্ষণের তরে মোরে নিয়ো কবির কল্পলোকে |
.        কোমল দেহাবরণে
সুধার সৌধ লুকায়ে রাখিয়ো অপরিচয়ের ক্ষণে |
সঙ্কেতময়ী ! প্রার্থনা করি, হ’য়ো না অবিষ্কৃত,
তোমার মাঝারে যেন অনুভবি ---- জীবন অপরিমিত |
.        বড়ো ক’রে দাও ঘর,
অরণ্য হ’তে এনো লাবণ্য ----চঞ্চল মর্মর |
ঊষার ভূষণ কোথা পাব, তারা করি নাই, আহরণ,
এতদিন শুধু স্বপ্ন দেখেছি --- তাই কোরো আভরণ |
.        অপার সে পারাবার---
গভীর অগাধ স্বাদ নিয়ে এসো অপরিপূর্ণতার ||

.                        ****************  
.                                                                                  
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর