কবি অচ্যুত মণ্ডলের কবিতা
*
প্র-দোষকালীন (১৯৯০)
কবি অচ্যুত মণ্ডল

অভয় দিলেই বলি, ব্যাকুলতা ও বালিকা তাই,
কিভাবে যে বেলা যায়, একথা তো কখনো বলিনি |
কি করে যে বলে লোকে, বিকেলের মুখ তো মলিনই
থাকে রোজ | কি করে যে সূর্য খুব আস্তে বলে ‘যাই’ |
সূর্যকে তপন বলে মনে হয় প্র-দোষের কালে ;
‘প্রদোষ’ শব্দের মধ্যে অপরাধবোধ তার যেন
কেন যে নিহিত থাকে | বলো তুমি,  ও বালিকা কেন
সধবার লাল টিপ মুছে গেলে সন্ধ্যার কপালে
রক্তাভ বয়ার বৃত্ত চোখের জলের গাঙে ভাসে  ?
কি করে যে একা নৌকো চলে যায় এত রক্ত বেয়ে--
ঘাটের কুমারী এই দৃশ্যে এত কষ্ট পায় ;  সেও
জল কাঁখে চলে গেলে বাঁশঝাড় চাঁদে উঠে আসে |

যে কথা কঠিন বলা, বলে ফেলে বিকেলের কানে,
কেঁদে কেঁদে লাল-সূর্য অধুনা বিলুপ্ত অপমানে |

.               ********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
গাণিতিক (১৯৯৫)
কবি অচ্যুত মণ্ডল

ওষ্ঠের দু’ঞ্চি দূরে ন’শো ডিগ্রী সেলসিয়াস
ঠোঁটে যা তিরিশ
বিশুদ্ধ রাতের মোড়ে ক্ষণস্থায়ী ধূমপায়ীটিকে
এ তথ্য জানিয়ে কেউ বলে উঠল কাউন্টারটা দিস
উত্তাপের এই ব্যবধান এমন কি জ্বলন্ত সিগারে
আসলে নেহাতই ভৌত অথচ আশ্চর্য গাণিতিক
কি বলেন প্রাজ্ঞ শ্রীনিবাস
যে কোনো চুম্বনে যদি উত্তেজনা মাপা যেত নিয়মিত নিশ্চিত উপায়ে
এই কি পার্থক্য হত চুম্বন কর্তার ঠোঁটে গ্রাহিকার পূর্ণ বর্গমূল ?
স্টেশনে দাঁড়ানো ব্যক্তি যেমন ঈর্যার চোখে লক্ষ করে ধাবমান সকল যাত্রীকে
বিপরীত অনুষঙ্গে যাত্রীর ভূমিকা তাকে সন্তুষ্ট করে না  |
দু’ধারে ছড়ানো রেলপথে, ছোটবাড়ি, বোকা লোক, নাটকীয় রাখাল বালক
এই যে অন্তিম দৃশ্য চরাচরে লিপ্ত হ’তে হ’তে
যেটুকু আলোর আভা রেখে গেল ঐ কালো প্রবীণ পাখিরা
ভোরের তরুণ অস্থি নিয়ে যাচ্ছে ঠোঁটে করে
সকালের রক্ত সংবহনে
যদিও স্থানের নাম, কালের প্রবাহ, যাত্রীদের ব্যক্তি পরিচয় বদলে গিয়ে
ভ্রমণের কালে
যে কটি করুণ ছায়া নীলাভ শিরার মত ফুটে উঠছে এখানে ওখানে
আসলে নেহাতই দৃশ্য, অভিজাত, তাত্ক্ষণিক, বোধগম্য অতএব ধূর্ত প্রতারক |

ধাবমান ট্রেনের জানালায়
কুয়ো থেকে জল তুলছে য়ে বালিকা, রোদের আপাত বিপরীতে
আলপথে যে ছায়াটি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হল
হৃদয়ের ঘড়ি -- সেই পরিবর্তমান মুহূর্তের
স্থায়িত্ব বাড়ায় এত মনে হয় যেন চিরন্তন
ছদ্মবেশী ছান্দসিক মনে হয় কাব্যের আকারে
যা লিখেছেন অঙ্ক শুধু, জটিল দূরধিগম্য
অথচ নিশ্চিত সমাধানে, কোনো শান্ত সূত্র আছে
কোন ক্ষীণ অস্ফূট নিয়ম
ধরে আছে সব ছবি
নিবিড় ও নান্দনিক, কুৎসিত করুণ
দাওয়ায় উলঙ্গ শিশু, খোলা সিঁড়ি,
রোদে নীল তেলের বাটিটি, উঠোনের শান্ত চারিভিতে
জবার বিশীর্ণ ডাল কেঁপে উঠছে কোন্ স্থির আশ্চর্য গণিতে  |

ফলের পতনে আরো প্রাজ্ঞ হয় গাছ
গোনে ক্লান্ত ঝড়ে পড়া নিয়মের স্তূপ
সেও হাসে, সেও কাঁদে, অবসরে ফলিত জ্যোতিষ চর্চা ছাড়া
সে পড়ে ভূতের গল্প, গোয়েন্দা কাহিনী তারও ভালো লাগে
অবিরাম বর্ষার বিকেলে |

আজ এই অপরাহ্নে, বন্ধুরা যখন দিকে দিকে
নানাবিধ কর্মস্থলে ছড়িয়ে পড়েছে কেউ কেউ সদর্থে প্রবাসী
পুরনো টালির চালা ভেঙে উঠছে নীচু বাড়ি
ইস্কুলের ব্যস্ত দারোয়ান কারো মুখ মনেই রাখে না
অথচ চেনার ভঙ্গি ক’রে গেট খুলে নীরবে দাঁড়ালো
মাঠের ওপরে খেলছে বন্ধুর ভাই কিংবা ভাইয়ের বন্ধুরা
আর কিছু সহমর্মী ঘাস ঠেলে উঠছে সাদা বাড়ি
আধখাওয়া বরফের মতো, ভিতরে এস্কিমো শিশু
অরোরা বোরিয়ালিসে কৃষ্ণচূড়া দুটি মাখামাখি
শুধু শাকালুর গন্ধে যে দিবস ভারী হয়ে ওঠে
নিরন্ন ঢাকের কাঠি পড়ে আছে ঔদরিক খোলের উপরে
আর দেবী উপবিষ্টা, কুচযুগো মুক্তা হার তবু
বিবর্ণ বাথরুমে গিয়ে সে কথা বলার মত নাটুকে কিশোর কেউ নেই
ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদছে বীণা না অর্কেষ্ট্রা ফুলে ফুলে
এছাড়া সমস্ত স্থির, গাণিতিক শিলিগুড়ি বয়েজ ইশ্ কুলে |

.               ********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
উত্সর্গ

স্বার্থ বুঝে সার্থবাহ চেনা
তীরন্দাজির সাতসতেরো খেল  :
চমকে দিল | বাজিয়ে বুকে শেল
ক্রমোজোমের অতীত কিছু ফেনা
বসবাসের চৌকাঠে রাখবে না  |
রসিকতার অশ্রু দিলে অঢেল--
তিলোত্তমার এক্সপ্রেশনিস্ট মডেল
কেতুর মুছে কাতর তাকালে না |
দিনের যত মৃদু মধুর চাওয়া
লালসা যার রাতে চোখের বালি,
মদের মতো আধো মদির নেশায়
সদর নাড়ে সধবা সাজ হাওয়া --
প্রেমিক বোঝে সকল করতালি
মধ্যরাতে তোমারি অন্বেষা !

.      ********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
বন্দরগাথা ( ১৯৯৭ )
কবি অচ্যুত মণ্ডল

যে শিলার লোমকূপে বাটালির ঘন শিহরণ
তোমার গ্রামের নাম ঢেকে দিচ্ছে ধাবমান স্টেশনের ফ্রেমে
মনে পড়ে মালয়ের মৌন উপদ্বীপে তোমার জরায়ু যাত্রা
হে মহা নাবিক
প্রত্নরাত খননের শোকে
পৃথুল পাথরগুলি মনে হয় মাটির বল্কলে অনাবৃতা অহল্যার ঢিপি
কর্ণে সুবর্ণের দ্যুতি
রাঙামাটি চিহ্নটি কপালে
পাথরে উত্কীর্ণ ধুলোলিপি
কাজলের কার্বন পরখে ভেসে যায় দুটি ম্লান শাসিত নোনাজলে |
কংক্রিটের তালগাছে ঘেরা এই নিম্ন সমভূমি
পৃথিবীর বৃহত্তম বিষণ্ণ ব-দ্বীপে
অনেক ব্যাকুল ওষ্ঠ জিভের কামুক পাল তুলে ফিরে গেছে
দুটি ম্লান বিষণ্ণ লেগুনে
উন্মুক্ত জঙ্ঘার মতো টানা বারান্দার পরে গোপন কুয়োটি
দুলে উঠল যেন তার ভিতরে কোথাও
যোগ ও বিয়োগ চিহ্ন ভাঁজ করা ভাসন্ত কাগজে
বালতি বালতি জল তুলে তা-ও
বালি ছাড়া প্রমাণের অন্য কোন সম্ভাবনা নেই
জোয়ারের কাল গেলে আমাদের ডাঙা ফুটে ওঠে
চড়ায় জলের দাগ স্বপ্ন ভাঙা অস্বস্তির মতো
নিয়মিত মদ্যপানে স্বল্প পলি পড়েছে দু’গালে
বিমর্ষ গলুই থেকে যে ফেনা গড়িয়ে নামে ঠোঁটে
হাসি বল, অশ্রু বল, কাতরতা বল, আসলে জলেরই চিহ্ন
জলেরই গভীর থেকে কেঁপে উঠছে জলজ উদ্ভিদের সাদাফুল
ক্যাপ্টেনের গোল টুপি ভেসে গেলে বিবর্ণ বাতাসে
রক্তাভ বয়ার বৃত্তে
তরলিত বিষাদের দীর্ঘ রাশি খুলে
যে প্রবীণা অনাথিনী বিধবা হয়েছে তার কাছে
যে ভীরু দিগন্তরেখা সাদা কুয়াশার থানে
চিকন পাড়ের চিহ্নে অল্প মিশে আছে
জানাবে ও
যদি পার মধ্যরাতে নীরবে জলের পাশে যেয়ো
কেউ কেউ রাত্রি জাগে
বাকিদের কেবিনের আলো
নিভে গেলে মনে হয় কি যেন হারালো
একটি নিভৃত নৌকো জলচারী পতঙ্গের মতো
উডুক্কু মাছের মতো ঢেউয়ের উচ্ছ্বাসে
পোর্টহোলের পাতা ভিজে আসে
দূরাগত বন্ধ্যা ভাটিয়ালি
জানায় জীবিত কন্ঠে বন্দরের অনন্ত দেওয়ালি
শূন্য বিয়ারের ক্যান গলা থেকে ডেকের জঙ্ঘায়
অনভ্যস্ত সমুদ্র পীড়ায় হেঁটে যায়
নঙর্থক শব্দ ক’রে ক’রে


রোগা মাস্তুলে               দুলে ওঠে চাঁদ
.           গায়ে নিয়ে জরিবুটি
নিরোধক বড়ি              গিলে নিয়ে সাদা
.           শান্ত কুহক দুটি
রাগে ফুলে ওঠে            পালের আড়ালে
.           যেন ছিঁড়ে দিতে চায়
মা হবার টানে              ক্ষুব্ধ হাওয়াতে
.            উদ্ধত ব্রেশিয়ার |


একটি জাহাজ একা অর্ধনগ্ন যুবতীর মতো
জেটিতে হেলান দিয়ে ভাসমান
বসবাসকারিণীর চিহ্ন শুধু ভিজে স্নান শায়া
কেঁপে উঠছে করিডোরে যেভাবে গোপন কথা রটে
আশ্চর্য বয়ার বৃত্তে সাবান উঠেছে শিউরে
যেন তারও গলে যেতে সাধ
নোঙর নিতম্বে রাখা অনিচ্ছুক আঙুল যেন বা
ছুঁয়েছে জলের দাগ আধখোলা কটি বস্ত্রটির
দুটি শুভ্র পাল শুধু প্রাকৃতিক প্রবল সঙ্কেতে
ফুলে উঠেছে যেন তার পিছনে পাহাড়
বাকি আলো অন্ধকারে শুধু ঢেউ, শুধু বাষ্পোচ্ছ্বাস
ফেনায় পাথরে ওড়ে লবণের গন্ধ বারবার |
উদ্ধত আলোক দন্ডে পৃথিবীর শেষ বাতিঘরে
এই তো বন্দর গাথা -- দৃশ্যাবলী অটুট যদিও
জিভে ঠেকলে নোনাজল
দৌড়ে এসে কল খুলে দিয়ো
হে নীল নিবিড় শূন্যে বিষণ্ণ আলোর জলঘড়ি
হালভাঙা তরণীর মতো এই তর্জনী বাড়িয়ে মাস্তুলের
অসংখ্য উজ্জ্বল সংখ্যা টিপে টিপে
তোমাকেই টেলিফোন করি
এখন অনেক রাত
নক্ষত্র চেনার সন্ধে হাঁটু মুড়ে কাটিয়েছি
হয়নি তো ধ্রুবতারা জানা
এখন দ্বিবিধ বেগে ঘূর্ণ্যমান বিশাল চুম্বকে
কম্পাসের কাঁটা এলোমেলো
জল শুধু জল দেখে নাবিকেরই ক্লান্ত এস্ ও এস্
তাই মাটি তৈরি করে
বানায় ঘাসের দেশ
ধূসর অস্পষ্ট কোলাহল
সবুজ বোতলে এই ভূত ভ’রে স্রোতের ভবিষ্যে  ছেড়ে দেয়
নোঙর নামায় যাত্রী, শঙ্খচিল মাস্তুলে বসে না
বন্দরে বন্ধনকাল কোনোদিন যেন ফুরোবে না |
ধূসর পিচের নদী আমাদের পায়ের তলায়
ঝুলন্ত সেতুর পাশে বয়ে যায় ইস্পাতের নীল অবয়বে
নোনা জল জমে ওঠে পালের কলারে
জেটিতে কাদের জুতো মুখরিত রাতের সরাই
ফাঁক দিয়ে আলো এলে মনে হয় কড়া নাড়ি
মনে হয় নতমুখে ফিরে চলে যাই |
গাছ তো মাটিরই মধ্যে যেতে চায়
মধ্যরাতে মানুষের মতো
হে মাটি জুগুপ্সাভূমি
বর্ষণের পরে ভিজে আছো সোঁদা গন্ধে অজস্র শ্বাসের মূলে
গোপন থাকে না তবু তরঙ্গের ক্ষুব্ধ হাহাকার
লবণাম্বু উদ্ভিদেরা শোনে না হাওয়ার কন্ঠে
অন্তর্গত প্রধানের কথা
হলুদ কষ্টের রাশি ঝরে পড়ে লবণাক্ত ব-দ্বীপে তোমার
রাতের হোটেল থেকে দেখা যায়
চাঁদের অদ্ভুত আলো গিলে কালো গলিটি শুয়েছে
আঁশগুলি উদ্ভাসিত ইতস্তত জমে থাকা জলে
পথের হলুদ আলো নুয়ে প’ড়ে য়ে গাছের ঠোঁটে
বেগুনী করেছে ফুলগুলি
বিমূর্ত বাঁশের বনে ভ্রাম্যমান জোনাকির মতো
একটি মাতাল এসে ‘জানি না কখন প্রজাপতি’
গোঙায় বীভত্স সুরে
স্যাঁতস্যাঁতে বিবর্ণ দেওয়ালে
অতিরুগ্ন ছায়াটিকে ঠেসে ধরে মানুষেরই অবয়ব যেন
একটি শিশুই কাঁদছে
মানুষের বিড়ালের প্রভেদ বুঝি না
বমির বিদ্রূপ শব্দে আরেকটি আশু সম্ভাবনা


প্রতিটি বন্দরে দেখি দীর্ঘ জেটি বিনুনির মতো
নারিকেল বীথিগুলি যার
ওপরে মেলেছে ছায়া সে মাটি কি দয়ালু হবে না !
বৃক্ষে নীল কমা দিয়ে ধূসরিত যে দীর্ঘ বাক্যটি
রেফের ঘর্ঘর শব্দে লুপ্ত প্রায় মার্জিনে ওধাও
ওখানে সীমান্ত রেখা
ভাজা বিকেলের গন্ধে হাট ভারী হয়ে আসে
সূর্যের রক্তিম টিপ পরে নিয়ে একবার অন্তত
দুটি কালো পুকুরের মধ্যে উঁচু জমি
আমাকে আশ্রয় দেবে ভেবে
নিঃশ্বাসে ওড়ায় ধুলো
পড়ন্ত রোদের মধ্যে শুয়ে থাকে দশ গজ মেঠো ব্যবধান |
হিটারে কেটলির শব্দে এভারগ্রিন লজে ইভনিং
চিলি চিকেনের গন্ধে চারপাশ ভারী হয়ে ওঠে
গেট আপ্ গেট আপ্ অ্যান্ড গো রাউন্ড দ্য ফ্লোর
আদমশুমারী ক্লান্ত নিরুত্তাপ রাতের হোটেলে
সব চাবি ঘরে আসে প্যাকেটে প্যাকেটে তাস কিংবা ত্রিকোণ
থাকে শুধু অন্ধকার মুখোমুখি বসিবার ব্যর্থ আয়োজন |

.                 ********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
নগরকীর্তন (১৯৯৬)
কবি অচ্যুত মণ্ডল

ঘোড়াগুলি মহীনের, কিন্তু ওই মাঠের ওপরে
করুণ ছায়ার মতো এলোমেলো উদাসীন গরুগুলি কার ?
বাইকে উড়িয়ে ধুলো চারণভূমির কথা ভুলে
অক্ষম গোধূলিলগ্নে দিগন্তে ছুটছে কাউবয়
এই শুদ্ধ বিলম্বের কালে বসতির অববাহিকায়,
খয়েরি ফিতের প্রান্ত দাঁতে চেপে কেঁদে উঠছে বিগতযৌবনা
যেন শঙ্খে ঢেলে দিলে দিনের সমস্ত গ্লানি
যূথবদ্ধ করতলে প্রণামের ফাঁক ভরে যাবে |
চিরুনির দাঁড়ে স্থির উকুনের সারি অজস্র সাজের কৌটো ছুঁয়ে
পাখা মেলছে কলপের ক্লান্ত অনুবাদে
পথের পাউডারে ম্লান ধূসর আঁচল থেকে
বিচ্ছিন্ন ব্রোচের মতো উড়ে যাচ্ছে কুসুমের পতঙ্গপ্রণয়ী  |
ব্রিজের রেলিং থেকে ছুঁড়ে দেওয়া কাশির দমকে
কেঁপে উঠছে সাদা শ্লেষ্মা -- বৃত্তাকার কফের পরিধি
দেখে কারও মনে হল বাতের বেদনা আজ বাড়ে বুঝি
উপোসের উপলক্ষে বঞ্চিত ভাতের থালা যেন জলে চোবানো রয়েছে |

অবজারভেটরি থেকে মহাশূন্যে সেই শান্ত আলোর পরিধি
আবহাওয়া আপিসের প্রায় স্থির বিবর্ণ বেলুন
পেশাদার লাজুক হাসির সব দাঁত,  সরবরাহের ক্লান্ত ঠোঁটে
বন্ধ করে দিল অকস্মাৎ !
একটি পুরুষবাহী ট্রাকের পিছন থেকে উঁকি মেরে প্রৌঢ় দেবদারু
দালাল হাওয়ার কানে বলে উঠল ফিসফিস
‘কত রাত এখন বাসবী  ?’
বইপাড়া, বেশ্যালয়, পতিতার দুটি লোল
বিস্রস্ত বুকের মতো যমজ শহরে
ইস্পাতের ব্রেসিয়ারে ঢেকে রাখা বিষণ্ণতাটুকু
যেন দীর্ঘ কংক্রীটের পুরুষাঙ্গ থেকে
উপচে দিল জন্ডিসের হলুদ ইউরিন  |
হঠাৎ বালির মতো একটি জানালা জনহীন
রাত্তিরের চোখে ফুটে ছিল --
লাল হতে হতে সেও কেঁদে ফেললে ভোরের বর্ষণে,
উপরে প্রভুর কন্ঠ, নীচে তার -- উভয়ের অপূর্ব সিমফনি
উপভোগে বিঘ্ন ঘটল চতুষ্পদ ধ্রুপদী ওস্তাদের |
পীতাভ খন্ডের আলোগুলো ডুবে গেলে জলোচ্ছ্বাসী কমোডের কোণে

থ্যালাসেমিয়ার মেঘে ঢেকে যাচ্ছে দিগন্তের রক্তসংবহন
গোলাপ ফুটেছে একটি পরিমিত পাচিত পটাশে
সপ্তাহান্তে মাস্টারের কাছে তার ক্লান্ত যাতায়াত
আগামী এপ্রিলে তারও ফুটে উঠবে বিবাহের ফুল
কে যেন বিষণ্ণ কন্ঠে গলা সাধছে আহির ভৈরবে
বাঁকানো ফরসেপ হাতে নীলরক্ত ভোরের ডাক্তার
রক্তাক্ত মাংসের পিন্ড তুলে আনছে জরায়ুর জলাভূমি চিরে |
সমস্ত রোদের ট্যাপ খুলে খুলে এই ভ্রূণহত্যা গোপন রইল না
একটি পলাশ গাছে কয়েকটি অমোঘ কুঁড়ি সাক্ষী দিল জঘন্য রাত্রির
শুক্রাণুক্ষরণ চিহ্নে চোখে পড়ল বকুলের নীচে এলোমেলো
নানাবিধ যৌনরোগে ধন্বন্তরী স্বপ্নাদ্য ভেষজের ছড়ানো হ্যান্ডবিল
করস্পর্শে মনে হয় কারও-বা কবিতা |

.                 ********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
বসন্ত (১৯৯৪)
কবি অচ্যুত মণ্ডল

কয়েকটি কোকিল ছিল একটি বিশুদ্ধ আমগাছে
গত বত্সরের গান এবারও বসন্তে তাই পুনঃপ্রচারিত
কতিপয় মিথ্যাভাষী কয়েকটি স্বৈরিণীর পাশে
বেড়াতে এসেছে মাঠে ; লজ্জারুণ মুখে কিছু ক্ষুদ্র লাল ফোঁড়া
ফুটে উঠতে -- চুক্তি করে পুরুত ও ডাক্তার
রোগীর বাড়িতে গেল ঋতুরাজ, সে কেবল ‘প্রতিবিধিৎসিতে’

বিনীত জলের দাবী বালতি হাতে কলের পিছনে
স্কার্টের স্বদেশ টেনে লম্বা করছে হাঁটুরা যে অত্যন্ত প্রবাসী
পথচল্ তি পাতলুনে জড়ানো বহুদিন ধর্মঘটে বন্ধ কারখানা
সঙ্গে নিয়ে দুট্ কাক --অদৃশ্য পিওনটিও এলো
ঋজু ব্রহ্মদৈত্যের নিবাসে উপমান ফলগুলি ছাড়া
যে কোনো বিশীর্ণ ডালে দুটিই অমর পাখি কেন
খেলা করে, প্রতিকূল পাতায় বাকিরা
এই দৃশ্য বিপন্নতা বাড়ায় তাদেরো |

টোবু সাইকেল চড়ে যে গেলো মোড়ের দিকে
একটি মেলোডি মুখে দিয়ে ফিরে আসতে যাকে রোজ দেখি
ঋতুর প্রবল গন্ধে ওরই কোনো অভিব্যক্তি নেই |
যেই দৃশ্য বাসন্তিক তাকে কেউ প্রব্রজ্যা ভাবে না
অথচ গেরুয়া গর্ভে যেকটি কেশর ফুটে ওঠে
নয়নে কয়েকটি ফুল আঁচলে অজস্র জলধারা --
সমস্ত বোনের চোখে তার তার পাড়াতুতো দাদা,
একটি বেলুনওলা, বিষণ্ণ বালক আর অস্তগামী লালে
অকস্মাৎ চিরুণী চালাতে সেই সূক্ষ্ম অশ্রু আর পুষ্পের বিরোধ
ভেসে আসে রেডিয়োয়, আশ্চর্য অচেনা অনুরোধে |

.                 ********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
সৌর (১৯৯৬)
কবি অচ্যুত মণ্ডল

যেদিকে তাকাই শুধু করস্পর্শে ব্যাপ্ত হয়ে আছ
হে সূর্য, তামসপুত্র অগ্ন্যুৎদ্গারে আবৃত মহিমা
পুঞ্জিত ধানের শীষে বিচ্ছুরিত ক্ষেতের উপরে
কী জানি কে করে স্নান
তারই তো ছেটানো জলে হাওয়ায় নাতিশীতোষ্ণ ভাব
পাড়াপড়শির গন্ধে ক্লান্ত হয়ে ফেডারেল উঠোনের দিকে
দু একটি বক গেল না কি ঢেউ,
ছায়াটি দাঁড়ালো চুপি চুপি
যেন দীর্ঘ যজমান আল ভেঙে বাড়ি ফিরছে প্রণমান্তে সঙ্গতিবিহীন
যে কোন প্রসূনবাহী বৃন্তের দরজা
তোমারই পরশে নিত্য খুলে যায়
উন্মোচিত অনন্ত সড়কে তোমারই প্রশ্বাসে ওড়ে ধূলিকণা
যে বৃদ্ধটি শুভ্রকেশ হেঁটে ফিরছে মাঠের ওপরে
তারও চুল লাল হয়ে ওঠে
যে প্রৌঢ়া আপন মনে উবু হয়ে উঠোন নিকোলো
তারও গাল রক্তিম দেখায়  |
হে জীর্ণঘাটের পূর্বে আচমনরত উদাসীন
তোমার গায়ত্রীমন্ত্রে উদ্ভাসিত অন্তিম তমসা
যে কষ্ট জানায় সে কি উচ্চারণে ফোটে দ্বিজোত্তম
রাত্রি কি থাকে না লেগে তোমার উজ্জ্বল উপবীতে ?
রাতগুলো ক্যাথিড্রালে যেন আদি প্রশ্নে উধাও তর্জনী তার
করতল গথিক আঁধারে
শীতার্ত উত্সবে জ্বলছে কত মোম
আঁচ করে বত্সরের সমাগত প্রায় পরমায়ু  |
খ্রীষ্টপূর্ব বাতিদান
খিলানের ঊরুসন্ধি উদাত্ত করেছে আর
পীনোন্নত পুতনার কালো মাংস গম্বুজের মতো
বোঁটায় দুধের আলো অবলীঢ় নিয়নের নিস্প্রভ দংশনে
বালখিল্য শহরের বহুতল অজস্র আঙুল
অনন্ত নখের চিহ্নে বিক্ষোভ এঁকেছে ঝিকিমিকি
দুপুরে কলেজস্ট্রীট কর্মব্যস্ত উকিলের মতো
কলেজে বাজারে শুধু ব্যবহারজীবীদের ভিড়ে
বাসস্ট্যান্ডে সাক্ষী হচ্ছে নিরুপায় ক’জন আসামী  |
অনিচ্ছুক কনের মতো সন্ধে নামলে কফির দোকানে
আস্তিন গুটিয়ে তারা মাংস খায়
দাড়িঅলা বুড়ো বুদ্ধিজীবী অর্থহীনতার সঙ্গে সুখের বিবাহে
ভারী ও বিষণ্ণ স্বরে ফুট কাটে দার্শনিক বুড়ো রিক্সাঅলা
ভাঁটিখানা ঘিরে বসে মদের আশ্চর্য গন্ধ, মানুষের মুখ
যেন ঘন অন্ধকারে দমবন্ধ গ্রেকোর শহরে
টোলেডোর রাত্রি টলে টলে
প্রতিটি ঢোকের সঙ্গে কন্ঠার ভিতরে চলে যায়
যেন ঝড় পীরেনিজ পাহাড়ের পিঠে
পানের পবিত্র পাত্র খুঁজে ফিরছে অশ্বারোহী শপথ সমূহে
সাড়ে দশ বেজে গেলে
মানবিক এঞ্জিনের মতো একা একা নিমতলা যাই
চিতাকাঠ কিছুই বলে না
কিস্যু বলতে পারে না
শুধু রাতের ঢাকাই শাড়ী মেলে দিয়ে সোডিয়াম সিঁদুরের নীচে
বাজায় চটুল সুর
আকবর বাদশার পোশাকে ব্যান্ডের দল
হরিপদ কেরানীর ছেলের বৌভাতে |
সমস্ত সহিস রাতে প্রকৃত পাঠান বলে দাবী করে নিজেদের
রিক্ সাঅলা মার্কসবাদী সাজে
কন্ডাক্ টার ছাড়া কোনো চোর আছে দুনিয়ায়
সহযাত্রী বিশ্বাসই করে না |
পাগলের কুখ্যাত কামড়ে কোথায় নিরীহ একটি কুকুর মরেছে
সেই কথা -- কে কাকে শোনায়
সঙ্গে নাক ঝাড়ছে যেন প্রসঙ্গিক
জ্বলে ওঠে টি. ভি., আলনায় দু-একটা তোয়ালে
আর কিছু মিথ্যে বই, গ্রামোফোন, গালার পুতুল
রূপসী টেবিল ক্লথে কয়েকটা দাঁতালো মাছ ভেসে থাকে
কাচের কিউবে |
রাতের সমস্ত বাড়ি পিরামিড
সব রাস্তা আধা উত্কেন্দ্রিক
দু একটা বেড়াল শুধু ঈজিপ্সীয় ইশারায় ঘোরে
শায়িত মমির কাছে মোম হাতে লর্ড কারনারভান
কী যেন ভাবার জন্য নীচু হন
কে যেন সরায় একটি কনুই দিয়ে কালো ঢেউ কপালের থেকে
মোড়ের জঙ্ঘার গায়ে ব্যবচ্ছিন্ন ছুলিদের মতো
এখানে ওখানে চালা, বাতিঘর, রাত্রির দেবতা
কে আছে উবুড় হয়ে পিঠে তার বেদনার বক্র শিরদাঁড়া
দিগন্তের নিতম্বে উধাও |

হে তন্বিষ্ঠ গালিভার
এই রাজ্য আয়ুষ্কাল, দিবস ও যামিনী
এত দীর্ঘ মনে হয়
কেন্দ্রে আমি ক্ষুণ্ণ লিলিপুট |
তোমার ধূমপানে বাড়ি পুড়ে যায়
জ্যোত্স্না নামে জন্ডিসের হলুদ ইউরিনে
দেখি ঘন অন্ধকার
পাতার পিছন থেকে খসে পড়া আলোদের ওষ্ঠে শুয়ে আছে
যেন পাখি
উড়ে উড়ে চরাচর, এই মাঠ, এই আলো, সেই
ধানক্ষেত ঘন দীর্ঘ ডানায় ঢেকেছে |
হে প্রবীণ জনাকীর্ণ বিষণ্ণ প্রান্তর
তোমার নিশ্বাসে যত ধুলো ওড়ে
ঘামে ভিজে সোঁদা গন্ধ তার
আমাদের মর্মে এলে মনে করি শৈশবের স্মৃতি জাগরূক
দুটি মিনিবাস তবু বিবাহিত যুবকের মতো
উচ্ছৃঙ্খল ভিড়ে ছুটছে অতিরিক্ত ব্যস্ততা দেখিয়ে
যে কোনো যুবতী দেখে প্রৌঢ় ট্রাম মন্থর হয়েছে |
কেন্দ্রীয় কম্পাস থেকে অক্টারলোনী মিনারের মাথা
আলোর পেন্সিল যেন স্থির তবু দীর্ঘ সূত্রে মনে হয়
ঊর্ধ্বে ভ্রাম্যমান
উলঙ্গ টেবিল জুড়ে বাসনের আলোচনা সভা
আধপড়া খোলা বই, এলোমেলো তোয়ালের পাশে
কেউ জানালা খুলে দিলে পর্দা তুলে দেয় ;
সাবানের গন্ধ আর ফ্যানের অনন্ত দীর্ঘশ্বাসে
হে কৃষ্ণ, করণাসিন্ধু , দুগ্ধফেননিভ ছায়াপথ
অখন্ড মন্ডলাকার ব্যাপ্ত ; যেন চরাচর ;
তোমার পায়ের নখে স্খলিত ধুলোর বন্যা
একটি বর্তুল পরিধিতে কেঁপে উঠেছে ইতিহাস
অতি বৃদ্ধ কথকের মুখে যেন বিষাদের শ্লিষ্ট বলিরেখা  |
ভাঁজে ভাঁজে অন্ধকার, ঝুলনের মতো এই পুরনো পৃথিবী
যে কোন গভীর রাতে পথ চলতি ছেঁড়া ছেঁড়া সমস্ত সুরের টুকরো
একত্রিত করে যার সদর্থ মেলে না |
শুধু একটি আধখোলা জানালার আলো
পথে এসে বলে যায় -- এই জন্ম, এই বসবাস
দুর্গের প্রাকার থেকে দেখা
বহুদূরে-ধাবমান অশ্বারোহী ভগ্নদূত যেন
অবরোধ সংবাদ এনেছে |
হে সূর্য, নক্ষত্রস্বামী
কত শান্ত আলো দেখো ছুঁয়েছে ভুরুর গাদা, ঢেঁকিঘর
চিবুকের নিকোনো উঠানে একটি গোবর চিহ্ন পবিত্র করুণ
পুকুরে সংযত দুটি ঢেউ
মধ্যে বিচরণশীল এক সারি শুভ্র পাতিহাঁস |

এই দৃশ্য রমণীয়
কোথাও কোথাও ছড়ে গেছে
যেন মাংসের ক্ষণস্থায়ী নখের আঁচড়ে
লিখেছে বলদ মিথ্যে প্রজনন ক্ষমতার কথা  |
যে দুটি পুরনো টিলা
সকালের শান্ত রোদ সন্তর্পনে বুকে বেঁধেছিলো
ছায়া আরো ঝুলে পড়ল তার
হাঁসগুলো ফিরে গেছে ঘরে
শুধু রোদে উদ্ধত ভঙ্গিতে ফুলে উঠছে ঢেঁকি গাছ
খড়ের ওপরে ঘাম জমে অস্পষ্ট করেছে আরো
একটি নিষিদ্ধ তালগাছ
যে ছিল গোপনে দূরে,
দীর্ঘ হয়ে তার-ও ছায়া ঢুকে এল চৌকাঠের গভীরে সহসা |

ওহে সূর্য, কাশবনে উপবিষ্ট কামুকের মতো
কী কৌতুক কোমরে গুঁজছে
তারই তো অপাপবিদ্ধ ভাঁজে
বিউটিরা উঠেছে ফুলে কিছুটা নিছকই মুদ্রাস্ফীতি
একটি পুরুষ যাচ্ছে দুগ্ধক্ষেত্রে মোড়ের দোকানে
নানা ধরনের বহু, এববিম্ব, বিবিধ ইত্যাদি
সংলাপ গোচরে এল
দু-একটি নিষেধ শব্দ মাখা
একটি ব্লাউজ শুধু অশালীন ইঙ্গিতের মতো
ঝুলে রইল ক্ষুণ্ণ তারে -- আসন্ন আলোর প্রতিনিধি
‘দিন আসবে’, ‘দিন আসছে’ ইত্যাদি পুরনো গল্পে
দু-একটি পুনরুক্তি সহ
বিবর্ণ পোস্টার জুড়ে লটকে রইলে অবোধ-দেয়ালে |

.                 ********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
পুনর্লিখন (১৯৯১)
কবি অচ্যুত মণ্ডল

আমারি চেতনার রঙে চুনী উঠলো সাদা হয়ে
পান্না ঘন লাল ; মেলেছি আকাশে চোখ আর
ফুটেছে বিষণ্ণ তারা --- পান্ডু চাঁদ বিবর্ণ সভয়ে
ভুরুর কলঙ্ক চিহ্ন ভেদ করে সস্মিত আবার !

যৌনযুবতীর মতো বিকেলের মুখভরা ব্রণ
মেঘেরা জড়ায় যেন অন্ধকার রিবনের রিলে
কপালে উদ্যত টিপ আকাশের আঙুলে এখনো
রুজের রক্তাভ রঙ পশ্চিমের পড়ন্ত টেবিলে--

হাড়কাটা গলি ঘিরে কঙ্কালের কাঁকনের মতো
পড়ে জ্যোত্স্না  --- শ্বেতস্রাবী ছায়াবৃতা সান্ধ্য সিফিলিস্ |
বোতলে রক্তাক্ত রাত গেলাসের চুম্বনে সম্মত
গেলে যে বিদীর্ণ কন্ঠা ঠোঁটে তারও উচ্চকিত শিস্  |

রোদের স্ক্যালপেল ভোরে কেটে দিলে রাত্তিরের ছানি
‘চুনী উঠবে রাঙা হয়ে’ পান্নাও সবুজই থাকবে জানি ||

.                 ********************  

.                                                                                   
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর