কবি আলাওলের রচনাসম্ভার -                                                         পাতার উপরে . . .  
কবি আলাওল আরবি, ফারসি, সংস্কৃত এবং হিন্দী ভাষাতেও পারদর্শী ছিলেন। তাঁর পাণ্ডিত্যের সঙ্গে  
কবিত্ব, ধর্মচিন্তার এবং মানবিকতার সমন্বয় হয়েছিল।  মধ্যযুগে  সম্পূর্ণ  ধর্মনিরপেক্ষ রচনা শুরু হয় তাঁর
হাতে। বাংলা কাব্যকে তিনি অন্য প্রাদেশিক এবং মধ্যপ্রাচ্যের কাব্যধারার সঙ্গে যুক্ত করে এক ঐতিহাসিক
মাত্রা দেন।

পদ্মাবতীই তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা। তাঁর রচনা সম্ভারে রয়েছে “পদ্মাবতী”, “সয়ফুল-মুলক-বদিউজ্জমান”, “হপ্ত
পয়কর”, “শিকান্দারনামা” প্রভৃতি। তিনি আরাকান রাজসভার পূর্বের
কবি দৌলত কাজীর অসমাপ্ত কাব্য
"লোরচন্দ্রাণী" সমাপ্ত করেন। ফারসি কবি নিজামীকে বাঙালী পাঠকের সাথে পরিচিত করেন।

তিনি আরবি, ফারসি, সংস্কৃত এবং হিন্দী ভাষাতেও পারদর্শী ছিলেন। তাঁর পাণ্ডিত্যের সঙ্গে কবিত্ব,  
ধর্মচিন্তার এবং মানবিকতার সমন্বয় হয়েছিল। মধ্যযুগে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ রচনা শুরু হয় তাঁর হাতে।
বাংলা কাব্যকে তিনি অন্য প্রাদেশিক এবং মধ্যপ্রাচ্যের কাব্যধারার সঙ্গে যুক্ত করে এক ঐতিহাসিক মাত্রা
দেন।

তাঁর লেখা বেশ কিছু বৈষ্ণব পদাবলীও পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে আমরা কয়েকটি সংগ্রহ করে
এখানে তুলে দিয়েছি। তাঁর অন্যান্য কাব্য থেকেও অংশ এখানে তুলে দেওয়া হয়েছে।



আমরা
মিলনসাগরে  কবি আলাওলের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টাকে সফল মনে করবো।


কবি আলাওল-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন

আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২০০৫
পরিবর্ধিত সংস্করণ - ২১.৬.২০১৪
পরিবর্ধিত সংস্করণ - ২৭.১২.২০১৮
পরিচিতির পরিবর্ধন, নবীর সঙ্গীত ও শ্যামা সঙ্গীত সংযোজন - ১৪.৫.২০১৯
...
কবি আলাওলের সংক্ষিপ্ত জীবনী -                                                    পাতার উপরে . . .  
পিতা ছিলেন সেখানকার অধিপতি সমসের কুতুবের একজন সচিব। তাঁর গ্রামের বর্ণনায়  লিখেছেন,  
"ভাগিরথী গঙ্গাধরে বহে মধ্য রাজ্য"। যৌবনপ্রাপ্ত হয়ে, পিতার সঙ্গে কবি জলপথে যাবার সময়ে পুর্তুগীজ
জলদস্যুদ হার্মাদদের দ্বারা আক্রান্ত হন। পিতা সেই যুদ্ধে নিহত হন। আলাওল রোসাঙ্গে আসেন এবং
রোসাঙ্গের রাজসভায় কবি হয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। রোসাঙ্গ (রোহিঙ্গা) ছিল চট্টগ্রামের দক্ষিণের অঞ্চল,
যাকে আরাকান রাজ্যও বলা হয়।

কথিত আছে যে জলদস্যুদের হাতে তাঁর পিতার মৃত্যু হয় এবং তাঁকে শৈশবে রোসাঙ্গে নিয়ে বিক্রী করে
দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি রাজার ঘোড়সাওয়ারের দলে অন্তর্ভুক্ত হন। রাজা থদোমিনতারের আমলে
(১৬৪৫ - ১৬৫২), তাঁর সভার অন্যতম সভাসদ ও মন্ত্রী ইসলাম ধর্মাবলম্বী মাগন ঠাকুরের আদেশে তিনি  
মালিক মহম্মদ জয়সী রচিত হিন্দী কাব্য "পদ্মাবৎ" অবলম্বনে "পদ্মাবতী" কাব্য রচনা করেন। পদ্মাবতীই তাঁর
শ্রেষ্ঠ রচনা।

বৃদ্ধ বয়সে মাগন ঠাকুর তাঁকে “সয়ফুল মুলক ও বদিউজ্জমান” নামক ফারসি কাব্য অনুবাদ করতে বলেন।
লেখার মধ্যেই মাগন ঠাকুরের মৃত্যু হয়। এই শোকে আলাওল লেখা বন্ধ করে দেন। এমন সময়ে আরাকানে
এক বিপ্লব সংঘটিত হয়। সেই ঘটনার পরে মৃজা নামক এক দুষ্ট লোকের মিথ্যা সাক্ষ্য দেবার জন্য তিনি
কারাগের বন্দী হন। কারাগর থেকে মুক্তি পাবার বছর নয়ের পরে সৈয়দমুছা নামের এক সজ্জন ব্যক্তির
আশ্রয়ে তিনি “সয়ফুল-মুলক-বদিউজ্জমান” বা “ছয়ফুলমুল্লুক ও বদিউজ্জমাল” কাব্য শেষ করেন।
কবি সৈয়দ আলাওল -  এর মূল নিবাস ছিল
ফতেহাবাদ পরগণার অন্তর্গত জালালপুরে।
দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর "বঙ্গভাষা ও সাহিত্য" গ্রন্থের
(৬ষ্ঠ সংস্করণ) নবম অধ্যায়ের ৪৯৪-পৃষ্ঠায় দেওয়া
আলাওলের পরিচয়ে লিখেছেন যে তাঁর অনুমান
অনুসারে ১৬১৮ খৃষ্টাব্দে কবি সৈয়দ আলাওলের
জন্ম হয়। তবে অন্যান্য  বিশেষজ্ঞদের মতে
আলাওলের জন্ম ১৫৯৭ অথবা ১৬০৭ খৃষ্টাব্দে হয়
এবং মৃত্যু হয় ১৬৭৩ অথবা ১৬৮০ খৃষ্টাব্দে।
*
মুসলমান বৈষ্ণব কবি সম্বন্ধে যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্যর উদ্ধৃতি -                   পাতার উপরে . . .  
১৯৪৫ সালে, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য তাঁর সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান কবি” গ্রন্থে, কেন
কিছু মুসলমান কবি বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন হলেন তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে, গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেন . . .
“. . .
রাম ও কৃষ্ণের উপর দেবত্ব আরোপিত হওয়ায় সেই-সকল কাহিনী (রামায়ণ, মহাভারত ইত্যাদি) ইঁহারা
তাঁহাদের নবলব্ধ ধর্ম্মের আদর্শের সহিত সামঞ্জস্য করিয়া মানিতে পারিলেন না। তাই কালক্রমে এদেশীয়
মুসলমানদের নিকট বহুদেবতার পূজক হিন্দুদের ধর্ম্মকাহিনী পাঠের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হইয়া উঠিল। চর্চ্চার
অভাবে এইজাতীয় অধিকাংশ কাহিনীই মুসলমানরা কালক্রমে ভুলিয়া গেলেন। কিন্তু চৈতন্যযুগে যখন প্রেমের
প্রবল বন্যায় বঙ্গদেশ প্লাবিত, তখন তাহা মুসলমানদের আঙ্গিনার মধ্যেও প্রবেশ করিল। প্রায় সেই সময়ই
প্রেমপূর্ণ বৈষ্ণব-হৃদয়ের উচ্ছ্বাস পদাবলীরূপে পরিস্ফুট হইয়া নৃত্যে ও সঙ্গীতে বাঙ্গালার গগন-পবন মুখরিত
করিয়া তুলিল। এই প্রেমসঙ্গীত-মন্দাকিনী শুধু হিন্দুর গৃহপাশেই প্রবাহিত হয় নাই, মুসলমানদের আঙ্গিনার
পাশ দিয়াও প্রবাহিত হইয়াছে। তাহার ফলে হিন্দুরা এই মন্দাকিনীর পূতবারি পানে যেরূপ কৃতার্থ হইয়াছেন,
মুসলমানরা সেইরূপ না হইলেও প্রেমতৃষ্ণা নিবারণের জন্য এই ধারা হইতে যে সময় সময় বারি গ্রহণ
করিয়াছেন, তাহাতে সন্দেহের অবকাশ নাই। হিন্দু কবিরা এই ভাবগঙ্গায় স্নাত হইয়া জাহ্নবীর অশেষ
বীচিবিভঙ্গতুল্য অসংখ্য কবিতায় প্রেমিক-প্রেমিকার শাশ্বতমূর্ত্তি রাধাকৃষ্ণের লীলা বর্ণনা করিয়াছেন।
মুসলমানদের মধ্যে কেহ কেহ এই ভাবের প্রভাবে প্রভাবিত হইয়া রাধাকৃষ্ণ নাম উল্লেখ করিয়া প্রেমের কথা
গাহিয়াছেন।

*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
.
মুসলমান বৈষ্ণব কবি সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                            পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, জলধর সেন
সম্পাদিত “ভারতবর্ষ” পত্রিকার কার্তিক, ১৩২৩ সংখ্যায় (অক্টোবর ১৯১৬),  তাঁর “বৈষ্ণব-কবিগণের
পদাবলী” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
মুসলমান কবিগণ এক-সময়ে কবিতাকারে রাধাকৃষ্ণের প্রেম-বর্ণনায় প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন,---এখন  এই   
ভেদবুদ্ধির দিনে এ কথা নিতান্ত বিচিত্র বলিয়াই বোধ হইবে। কিন্তু বিচিত্র বোধ হইলেও, তাহা একান্ত সত্য
কথা,---তাহাতে বিস্মিত হইবার কিছুই নাই। মুসলমান কবিগণ সত্যসত্যই রাধাকৃষ্ণের  প্রেমসুধা-পানে
বিভোর হইয়াছিলেন। সেই সুধাপানে কেহ-কেহ অমরতাও লাভ করিয়া গিয়াছেন। তাঁহাদের  লীলারস
প্রকটনে অনেকে এমনই তন্ময়চিত্ত হইয়াছিলেন যে, ভণিতাটুকু উঠাইয়া দিলে---কবিতাটি হিন্দুর, কি  
মুসলমানের রচনা, তাহা চিনিয়া লওয়া অসম্ভব বিবেচিত হইবে। জাতিধর্ম্মের ব্যবধানে থাকিয়া একজন  
কবির এরূপ প্রসংশা-লাভ করা সামান্য গৌরবের কথা নহে। সৈয়দ মর্ত্তুজা, নাছির মহাম্মদ, মীর্জ্জা ফয়জুল্লা
প্রভৃতি কবিগণের পদাবলী কবিত্বে ও মাধুর্য্যে যে-কোন হিন্দু বৈষ্ণব-কবির পদাবলীর সহিত তুলনীয়
।”
.
.
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”
.
মুসলমান কবির পরিচয় নিয়ে ব্রজসুন্দর সান্যালের উদ্ধৃতি -                     পাতার উপরে . . .  
ব্রজসুন্দর সান্যাল তাঁর “মুসলমান বৈষ্ণব কবি, ৩য় খণ্ড”-এর “জীবনী আলোচনা”-তে লিখেছেন . . .
“ . . .
 ‘মুসলমান বৈষ্ণব কবির’ বর্ত্তমান খণ্ডে সৈয়দ আলাওল, মীর্জা ফয়জুল্লা, মীর্জা কাঙ্গালী, সৈয়দ  
আইনদ্দিন, নাছির মহম্মদ, সৈয়দ নাছিরদ্দিন, সেরচান্দ বা সেরবাজ, এবাদোল্লা, আবাল ফকির, মোছন আলী,
মহম্মদ হানিফ এবং আলিমদ্দিন,---এই দ্বাদশ জন কবির পদাবলী প্রকাশিত হইল। ইহাঁদের মধ্যে মহাকবি
আলাওলের বৃত্তান্ত পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ হইল। অবশিষ্ট কবিগণের সম্বন্ধে আমাদের গবেষণার হুল কিছুমাত্র
প্রবেশ করিতে পারে নাই। প্রাচীন কবিগণ সাহিত্য-সংসারে একান্ত কুহেলিকাচ্ছন্ন। তাঁহাদের  জীবনী  
জানিবার অভিলাষ করা আর অন্ধকারে ঢিল ছোড়া প্রায় সমানই বটে
!”
কবি আলাওলের সংক্ষিপ্ত জীবনী   
কবি আলাওলের রচনাসম্ভার    
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি   
মুসলমান বৈষ্ণব কবি সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি   
মুসলমান কবির পরিচয় নিয়ে ব্রজসুন্দর সান্যালের উদ্ধৃতি    
মুসলমান বৈষ্ণব কবি সম্বন্ধে যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্যর উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
*