কবি অনুরাধা দেবীর কবিতা
*
তুমি আর আমি
কবি অনুরাধা দেবী

এস আজ এইখানে পাশাপাশি বসি দুইজনে।
আকাশে উঠেছে চাঁদ! কতকথা পড়ে আজ মনে।
মনে হয় তুমি আমি যুগে যুগে চলেছি এ-পথে ;
মনে হয় কানাকানি কত খেলা ছেলে বেলা হতে---
করেছি পথের পাশে ওইখানে শিউলি তলায়,
তখনো হয়নি রাঙা শরমের কোমল ছোঁয়ায়
আমার এ তনু-মন। তুমি ছিলে দুরন্ত চপল ;
বারে বারে ছুটে এসে করে কোলাহল
ভেঙে দেছ খেলাঘর খানি, মাননিকো মানা।
বই ফেলে চুপি চুপি চোরের মতন দিয়ে হানা
চমকি দিয়েছ এসে এমনি নিরালা রাতে একা
আমমনে দুইজনে চকিতের চোখে চোখে দেখা
হয়েছে শতেকবার। তখন হয়নি মনে লাজ,
হয়ত ছিল না কথা, তবু কথা বলা ছিল কাজ।

আজকে চাঁদের রাতে মুখপানে চেয়ে ভাবি তাই,
দুনিয়ার কোনখানে তুমি ছাড়া নেই বুঝি ঠাঁই।
তোমার চোখের পাতা যখন সজল হবে দুখে,
নিবিড় বাঁধনে আমি জড়ায়ে ধরিব মোর বুকে।
তোমার আমার মাঝে রবে নাকো ব্যবধান কিছু
তুমি যাবে আগে আগে, আমি ছায়া তব পিছু পিছু
চলিব অনন্তকাল সম্মুখের পথ বাহি ধীরে ;
হয়ত কখনো ক্লান্তি নামিয়া আসিবে দুটি তীরে ;
জীবনের পটভূমে সায়াহ্নের কালো ছায়াসম,
ঘনাবে বৈশাখী ঝড় নিষ্পন্দ আকাশে গাঢ়তম ;
তবুও দুজনে মোরা যাবনাকো দুই পথে চলি,
এমনি ছাতিমতলে আঁধার বা আলোকে উজলি
বিশ্রাম করিব পাশাপাশি। তুমি রবে তন্দ্রাতুর,
আমার বুকের তলে বাজিয়া উঠিবে ভীরু সুর ;

হয়ত বাতাস লাগি তালের শাখায় তরু শিরে
কাঁপিবে আঁধার ছায়া ; বনের গহন বীথি ঘিরে
নামিবে শ্রাবণ মেঘ জলকিয়া চকিতে বিজরি,
আমি বধূ ভীরুমনা ক্ষণে ক্ষণে উঠিব শিহরি
তোমার বুকের তলে আনমনে ঢেকে মুখখানি
জপিব প্রেমের মন্ত্র, শুনিব গোপন মনো-বাণী
অফুরন্ত উল্লাসের রোমাঞ্চিত আবেশে মধুর,
যা কিছু কামনা মোর অপুষ্পিত বেদনা-বিধুর---
মুঞ্জরিত হবে প্রিয় ফুলে ফলে আনন্দ উল্লাসে ;
মাতাল এ তনুমন প্রতিক্ষণে তব অঙ্গবাসে
গাঁথিবে স্মৃতির ফুলে সৃজনের নব নব মালা
আমি নারী, সে সৃষ্টির শতদলে ভরে নেবো ডালা।   

.                 *****************

.                                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর