ঘোষদের বড় ছেলে
. হরদেব ডা
জালাটির মতো ভুঁড়ি
. কি বিশাল গোঁফ
মুখখানি গোলগাল
. নাক শুধু চে
বেগে বয় নিঃশ্বাস
. তুফানের ঝা
বেঁটে, খাটো, মোটা-সোটা
. চেহারাটা হোঁ
রং দেখে চম্ কায়
. বলা, ফেলা, ঘোঁ
থপ্ থপে ভারি পায়
. চলে যাবে
দুই পাশে দুটি হাত
. দোলে মৃদু দো
বুকে দোলে বুক দেখা
. যন্ত্রটি স জ
কানে বুঝি কম শোনে
. দেখে কম ন
চোখ দুটি কুৎ-কুতে
. ভুরু নাই উপ
টেবো টেবো গাল দুটি
. মৃদু হাসি অধ
গলাখানা ভাঙ্গা কাঁসি
. সোনা বাঁধা
কবি অসীমা দাস-এর কবিতা যে কোন গানের উপর ক্লিক করলেই সেই গানটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
যাপিয়াছি কত সুখ স্মৃতি,
. কত যুগ যুগ ধরি,
. আকূল বিরহ ক্ষণে |
কত প্রণয়ের কলগীতি দোঁহে,
. কন্ঠে মাধুরী ভরি,
. গেয়েছি বেদন বীণে ||
. তব সুর আর মোর কলভাষে,
. হাসিত বনানী উচ্ছল হাসে,
বনদেবী সম তুলিয়া কুসুম,
. পরিতাম মোর মাথে,
. পরাতাম তব গলে |
কৌতুকে ভরি উচ্ছাস হাসে, মিলনসাগর.কম
. বন হরিণী বিহগী সাথে,
. কাঁদাইতে কত ছলে ||
মনে পড়ে কিগো সেদিনের স্মৃতি ,
. সুখ দুখ দিয়ে ঘেরা,
. জীবনের স্পন্দনে |
পথ হারানোর ছলে তপবনে,
. এসে বেঁধেছিলে ডেরা
. কোন অভিসার ক্ষণে ||
. সখিগণ লয়ে কুসুম কাননে,
. রত ছিনু যবে বারি সিঞ্চনে,
সহসা আসিলে সুমুখে আমার,
. লতা মন্ডপ ছাড়ি,
. প্রভাত তপন সম |
শরমে শিহরি উঠিনু চমকি,
. পুষ্প মালাটি ত্যাজি,
. হেরি তোমা নিরুপম ||
. আলাপন ক্রমে অনুরাগ হয়ে,
. নেমে এল ধীরে আমার হৃদয়ে,
যৌবন রাগে রঞ্জিত তনু,
. চিকন ঢাকি বদনে,
. লাজ কুন্ঠিত চরণে |
দাঁড়াইনু আসি দুয়ারে তোমার,
. ভরি উচ্ছাস প্লাবনে,
. ( তুমি ) চাহ প্রসন্ন নয়নে ||
দোঁহার মরম এক হয়ে গেল,
. ক্ষণিকের মাঝে জানি,
. কার ইঙ্গিত পরশে |
মোদের হরষে গাহিল পাপিয়া,
. প্রেমের মিলন বাণী,
. মুকুলিত আধ ভাষে ||
. আজ ভেঙ্গে গেছে সেই সুখ ছবি,
. হারায়েছে গান পথ হারা কবি,
. উদাসী পথিক পথ বেয়ে চলে,
. যাত্রী পথে যে একেলা,
. সুপ্ত বিপুল ধরণী |
তারি সাথে জাগে আঁখি তারা মোর, মিলনসাগর.কম
. অভাগী শকুন্তলা,
. জাগিছে মৌন রজনী ||
. ******************
. সুচিতে...
মিলনসাগর
শকুন্তলার স্মৃতি
অসীমা দাস
. মিথ্যে কথা আটকায় নাকো,
. প্রতারণা করা শিখেছ ভালো |
. তোমরাই এই জন্মভূমির ,
. মুখখানি করে দিয়েছ কালো ||
. নারী যদি আজ মাথা তুলে উঠে,
. তোমরা দাঁড়াবে তাদের পাছে |
. জানিও এসেছে বাংলা দেশে,
. প্রগতির যুগ নারীর কাছে | |
. তবে এটি জেনো, মতৃজাতি,
. স্নেহ মমতায় পূর্ণতর |
. তোমাদের মত নিষ্ঠুর নয়,
. সহানভূতিতে হৃদয় বড় ||
. ক্ষমা, দয়া আর নারীর স্নেহে,
. অধীন থাকতে তোমরা বাধ্য |
. সে শাসন কেড়ে লবে কি তোমরা,
. তোমাদের তা নাহিক সাধ্য ||
বাংলার ছেলে : তাই বলি, যে বা যাহাই বলুক,
. মিলনসাগরআছে, রোগ, আছে শোক তা জানি |
. অভাব তো আছে, আছে আরও জ্বালা,
. আছে জীবনে করুণ গ্লানি ||
. তাই বলি অত ভেবে কিবা কাজ,
. নারীর হাতেই দিলাম তবে |
. টাকা পয়সা সব কিছু দিয়ে,
. নিশ্চিন্ত হব আমরা সবে ||
গৃহলক্ষ্ণী : এই তো লক্ষ্ণী ছেলেটির মত,
. কথাটি বলছ এখন তবে |
. সুখ, দুঃখ ভাগ করে নেবে,
, পুরুষ নারী সমান ভাবে ||
. তবেই জেনো উন্নতি হবে,
. মোদের সোনার বাংলা দেশে |
. অধঃ পতন হবেই আবার ,
. নারীরে ঠেল্ লে অবশেষে ||
বাংলার ছেলে
অসীমা দাস
পাই না ভেবে কেমন করে
. করলে এমন ভূল |
ফুলের যেথা নেই ঠিকানা
. ফোটাও সেথা ফুল ||
তোমায় আমি বলছি মাগো
. যখন বড় হব |
ভুলগুলি সব শুধ্ রে দিয়ে
. ধমক্ দিয়ে কব ||
আর কর না কেহ এমন
. বিষম খাওয়া ভুল |
করবে যদি ভুলের ব্যাভার
. ছিঁড়বো তবে চুল ||
. ******************
. সুচিতে...
মিলনসাগর
ভুলে ভরা পাঠ
অসীমা দাস
কথা যবে কয় হারু
. লোকে উঠে আঁতকে ||
একদিন শোন ভাই
. কি যে মজা হলরে |
রোগী দেখে হরদেব
. ফিরছিল সদরে ||
এক হাতে ভরা ব্যাগ
. আর হাতে লাঠিরে |
বারে বারে ভরা ব্যাগ
. ছুঁয়ে যায় মাটিরে |
হিম্ সিম্ খেয়ে হারু
. চলে দ্রুত ষ্টেশনে |
দেখা হল মোনা সাথে
. কি জানি কি কুক্ষণে ||
মোনা বলে, মোর হাতে
. দিন বাবু বোঝাটি |
ডাক্তার তেড়ে উঠে
. কে হে বাপু, নাম কি ?
চিনিনা তোমারে কভু,
. ঐ বুঝি এল রেল |
ছাড় ছাড় পথ ছাড়
. শেষে কি করিব ফেল ?
ডাক্তার দ্রুত যায়
. মোনা ধায় পিছেরে |
অতখানি পথ চলা
. হয়ে যাবে মিছেরে ||
ভাবে মোনা মনে মনে
. নব নব ফন্দী |
কেমনে করিবে তায়
. এই খানে বন্দী |
নাম জাদা গুন্ডা সে
. প্রাণে ভয় নাহি রে |
গুটি গুটি পথ চলে
. চারিদিকে চাহিরে ||
ষ্টেশনে আসিয়া কহে
. যাত্রীরে ডাকি য়া |
সাবধানে থেকো সবে
. এক সাথে মিলিয়া ||
উৎপাত বাড়িয়াছে
. হেথা বড় চোরদের |
টাকা কড়ি সাবধান
. সাবধান মেয়েদের ||
পড়ে গেল হুড়াহুড়ি
. গাড়ি আসে ষ্টেশনে |
হরদেব জোরে চলে
. ঘাম ঝরে বদনে ||
ঐ দেখ ঐ আসে
. অদ্ভুত অতিশয় |
চারিদিকে হই চই
. ঐ চোর নিশ্চয় ||
ধর ধর গেল রব
. গোলমাল চট্ পট্ |
আপনার কাজ সারি
. মোনা দিল চম্পট্ ||
হরদেবে ধরি সবে
. কহে, শোন বাপু হে |
হেথা কেন আগমন
. কি করিতে চাহ হে ||
সরে পড় চট্ পট্
. নয় দেব পুলিশে |
বিস্ময়ে হতবাক
. হরদেব তরাসে ||
কহিল সভয়ে হেরি
. জনতার পরিমাণ |
কি করেছি অপরাধ
. কেন এই অপমান ?
ছেড়ে দিন টিকিটের
. দিয়ে আসি দামটা |
জনতা মুখিয়ে উঠে
. বল যাদু নামটা ||
কিল চড় ঘুষি পড়ে
. পিঠে বুকে দমাদম্ |
মাথা ঘুরে পড়ে হারু
. আটকায় বুঝি দম্ ||
কহে কেউ ব্যাগে ওর
. আছে ভরা গয়না ||
এই বেলা নিয়ে নেনা
. যেন টের পায়না | |
শুনে হরু হাত জুড়ি
. কয় ডাকি সবারে |
ওতে হাত দিও নাকো
. ভরা আছে খাবারে ||
মার মার আরও মার
. ব্যাটা বড় তাগড়া |
সারা গায়ে ফুটে উঠে
. প্রহারের দাগড়া ||
নিরুপায় হারু কাঁদে
. বোঝাতে না পারে হায় |
বিনা দোষে বিদেশেতে
. প্রাণ বুঝি এই যায় ||
লাঠি ব্যাগ কোথা গেল
. কে নিল তা কে জানে |
যায় যাক ব্যাগ লাঠি
. বাঁচি যদি পরাণে ||
হেন কালে কাছে আসে
. ও পাড়ার সামুয়া |
জনতা ঠেলিয়া ডোকে
. হারু যেথা পড়িয়া ||
চমকিয়া উঠে সামু
. এ কি দশা হল হায় |
হরদেব ডাক্তার
. কেন গড়াগড়ি যায় ||
শুনে সব ঘটনা
. সামু উঠে হাসিয়া |
ভুল করে নির্দোষে
. ফেলেছ যে মারিয়া ||
চের নয় কোন কালে
. চেহারাটা বদ্ খৎ |
নেশা ভাঙ করে নাক
. ছেলে ভাল অতি সৎ |
ছেড়ে দাও ভাই সব
. ক্ষমা কর এবারে |
ওঠো ওঠো হরদেব
. সামু ডাকে তাহারে ||
চোখ খুলি সম্মুখে
. সামুয়ারে দেখিয়া |
হাউ মাউ করে হরু
. উঠিল যে কাঁদিয়া ||
ওরে সামু, ওরে ভাই
. বাঁচা আজ আমারে |
প্রাণ বুঝি যায় মোর
. নিদারুণ প্রহারে ||
রেলে বসি সব কথা
. সামু কহে তাহারে |
নিজ দেশ ছাড়ি কভু
. যেও নাকো বাহিরে ||
সেই দিন হতে হরু
. ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারী |
দোকান করিয়া বসে
. চাল ডাল মনিহারী ||
মিলনসাগর থেকে
. এই কবিতা করা চুরি ||
. ******************
. সুচিতে...
মিলনসাগর
সখের ডাক্তার
অসীমা দাস
গৃহলক্ষ্মী : বাংলার ছেলে বাংলার ছেলে
.
. এখনও কি তুমি সুখের সাথে,
.
. এখনও কি তুমি আরাম চাহ,
. বাঁচতেই চাও কেবলই সুখে |
. বোঝ নাকি আজ তোমার ঘরেতে,
. সুখ ত্যজিয়াছে মহা দুখে ||
. তোমরাই চাও সুখ আরাধনা,
.
.



বাংলার ছেলে : কেন তুমি অত ডাকাডাকি কর,
. কে তুমি ওগো কাদের বধূ |
. ছুটির দিনেও আরাম পাব না,
. প্রভাত হতেই ডাকছ শুধু ||
গৃহলক্ষ্মী : আমি তোমাদের ঘরের লক্ষ্মী,
. ঘর কর তবু জান না মোরে |
. ঘুম ভেঙ্গেছে, শান্তি পেয়েছ,
. জানতে এসেছি আদর করে ||
বাংলার ছেলে : কিসের নিদ্রা, নব জাগরণ,
. সারা দেশ ভরে জোয়ার আনে |
. বিদেশী কাপড় পরতে শিখেছি,
. নাম করেছি বাবুয়ানা গুণে ||
. নিমন্ত্রণে ও সিনেমা যাই,
. নূতন ফ্যাশান দেখবো বলে |
. সাহেবের মত ঘোরাঘুরি করি,
. হেঁড়ে গলা আর হাসির রোলে ||
. মোটরেই চলি, পায়ে হেঁটে যাই,
. ষ্টাইল কখনও যাই না ভুলে |
. নূতন ফ্যাশান সার্টের কফ্,
. কব্জিতে টেনে হাতেতে তুলে ||
. হাজার রকম জামার ফ্যাশান,
. পায়ের জুতো কাঁদছে শোকে |
. পাঞ্জাবী, হ্যাট, কোটটি পরি,
. যে বছর যেটা লাগে চোখে ||
. নিত্য মোদের বদলায় মত,
. পৃথিবী আপনি ঘুরেই চলে |
. মহিলাদেরই চরম শাস্তি,
. নাকের জলে ও চোখের জলে ||
. আমরা এনেছি নবারূণ আলো,
. জানি না কোথায় দুঃখ আছে |
. সুখের পায়রা পিক্ সম মোরা,
. লুটায় ধরণী পায়ের কাছে ||
গৃহলক্ষ্ণী :
.
.
.
. বায়স্কোপের ভিড় ঠেলে শুধু,
. নাম কর বুঝি গুন্ডামিতে |
. পাশ করে মাথা কিনে কি ফেলেছ,
. পোক্ত হয়েছ ওস্তাদিতে ||
কদমতলায় কেষ্ট ঠাকুর
. বা
ফোটে নাকো কদম
. নি
‘মণিপুরে’ নেই মা ম
. ‘শা
‘গোপালপুরে’ গোপা
. ‘
জাম নেই কো মোটে
. না
এমন বিষম ভুলে ভ
. ক
ভূগোল খুলে যখন আ
. পা
পড়তে গিয়ে ভুল হ
. মা