কবি ও গীতিকার বাণী কুমার - এর আসল নাম ছিল বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। তিনি “বাণীকুমার”
ছদ্মনামেই যাবতীয় সাহিত্য রচনা করেছেন। তিনি জন্ম গ্রহণ করেন হাওড়া জেলার কানপুর গ্রামে, তাঁর
মামাবাড়ীতে। পিতা “রায়বাঘিনী”-র ইতিহাসকার পণ্ডিত বিধুভূষণ ভট্টাচার্য এবং মাতা অপর্ণাদেবী।

তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা বাড়িতেই হয়েছিল। তার পর হাওড়া জেলা স্কুল থেকে পাশ করে প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে স্নাতক হন। ওই স্কুলেরই শিক্ষক ছিলেন
কবি করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়, যাঁর প্রেরণায় উৎসাহিত
হয়ে তিনি কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।

এর পর কলেজে পড়তে পড়তে জড়িয়ে পড়েন তৎকালীন সাহিত্য জগতের সঙ্গে। কিন্তু নিজে পণ্ডিত-
সাহিত্যিক হলেও পিতা ছেলের সাহিত্যচর্চাকে সুনজরে দেখেননি। তাই স্নাতক হবার পরই সংসারের দিকে
মন ফেরাতে কবির বিবাহ সম্পন্ন করে দেন।

সংসারের প্রয়োজনে তাঁকে এবার চাকরি নিতে হল কলকাতার টাকশালে। ১৯২৭ সাল নাগাদ ১নং গাস্টিং
প্লেসে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে স্থাপিত হয় কলকাতা বেতার কেন্দ্র। নতুন এই গণমাধ্যমের
কর্তারা তখন নিত্যনতুন অনুষ্ঠান নির্মাণে ব্যস্ত থাকতেন। এই সময়ে একটি বেতার-নাটকের সূত্রে কলকাতার
বেতার কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ হল বাণীকুমারের এবং ১৯২৮-এ টাকশালের চাকরি ছেড়ে তিনি যোগ দেন
রেডিওতে।

টাকশালের স্থায়ী সরকারি চাকরি ছেড়ে, রডিওর বেসরকারী চাকরির অনিশ্চয়তার পথে পা বাড়ানো
বিফলে যায়নি বাণীকুমারের। সেই যুগের রেডিওর প্রায় সমস্ত অনুষ্ঠান-বিভাগেই ছিল তাঁর দৃপ্ত পদচারণা।
১৯৩১-এর জানুয়ারিতে “সরস্বতী সঙ্গীত বিচিত্রা” দিয়ে “বেতার বিচিত্রা” অনুষ্ঠানের সূচনা। তার পরে দীর্ঘ
একুশ বছর ধরে বাণীকুমারের চালিয়ে গিয়েছিলেন ওই অনুষ্ঠানটি। তা ছাড়াও তাঁর প্রযোজনায় সম্প্রচার
করা হয়েছে আরও বহু জনপ্রিয় বেতার অনুষ্ঠান।

১৯৩২ সালে রচিত হয় শারদ-আগমনী গীতি-আলেখ্য ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ যা মহালয়ার প্রভাতে দেবীপক্ষের
সূচনা করে। এই অনুষ্ঠানটির রচয়িতা বাণীকুমার, সুর সঞ্জোযন করেছিলেন পঙ্কজ মল্লিক এবং চণ্ডীপাঠ ও
ভাষ্যে ছিলেন
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। কলকাতা বেতার কেন্দ্রে অসংখ্য অনুষ্ঠান করলেও বাণীকুমার ও
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র কে মানুষ মনে রেখেছে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র জন্য। পঙ্কজ মল্লিক অবশ্য বহুমূখী প্রতিভাধর
ব্যক্তি ছিলেন, যিনি বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় সুরকার-গায়ক-নায়কও ছিলেন। কিন্তু তাঁকেও বাঙালী এই
‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র জন্যও মনে রাখবে।

বাণীকুমার নিজের লেখাতেই জানিয়েছেন, ‘‘এ-কথা বলা বাহুল্য যে,  আমাদের কয়জনের আন্তরিক সাধন-
দ্বারা এই মহিমাময় চণ্ডী-গাথা সকল শ্রেণীর জনবর্গের প্রার্থনীয় হয়েছে। .......... ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ কলিকাতা
বেতারের তথা বাঙালার একটা কীর্তি-স্থাপন করেছে। ’’ বেতার সম্প্রচারের আশি বছরের ইতিহাসে এই
রকম অনুষ্ঠান আর দ্বিতীয় নির্মিত হয়নি, যার জনপ্রিয়তা এর ধারে কাছে আসতে পারে।

১৯৭৬-এ আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ একবার
বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বাতিল করে দিয়ে মহানায়ক
উত্তম কুমারকে দিয়ে ভাষ্য পাঠ করিয়ে নতুনভাবে এই অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন যার নাম ছিল “দুর্গা
দুর্গতিহারিণী”, কিন্তু সেই পরিবর্তন বাঙালী মেনে নেয়নি। অনুষ্ঠান শেষে ব্যাপক জনরোষ দেখা দেয়।
মজার ব্যাপার ছিল এই যে এই নতুন অনুষ্ঠানের নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সকলেই সেই সময়কার
সাংস্কৃতিক-জগতের অতি নমস্য ও জনপ্রিয় ব্যক্তি! তা সত্ত্বেও প্রত্যাখ্যানের সুর এতটাই চড়া ছিল যে
খ্যাতির মধ্যগগনে থাকা মহানায়ক উত্তমকুমারকে ব্যাপক তিরস্কার হজম করতে হয় তার অগণিত ভক্তের
কাছ থেকে। শেষে উত্তম কুমার ও আকাশবাণীকে ক্ষমা চাইতে হয়। আকাশবাণী আর দ্বিতীয়বার সাহস
দেখাননি মহানায়কের অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার করার। সেই ‘জরুরী অবস্থা’-র জমানাতেও জনগণের প্রবল
প্রতিবাদে মহাষষ্ঠীর সকালে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্প্রচার করতে বাধ্য হয়েছিল সরকারি প্রচার মাধ্যম
‘আকাশবাণী’। পরের বছর থেকে আবার ফিরে আসে বাণীকুমার-পঙ্কজকুমার মল্লিক-বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের
‘মহিষাসুরমর্দিনী’। বাঙালী প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিনা বিজ্ঞাপনেই শুনে চলেছে এই অনুষ্ঠান!

৭৬ এর সেই মহালয়ার সকালে ক্ষূব্ধ রেলকর্মীরা যাত্রিদের জন্য হাওড়া স্টেশনেরর মাইকে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-
র ক্যাসেট চালিয়ে দিয়েছিলেন! যত পত্র-পত্রিকা ছিলো সেইসময়ের, তার সবটাই প্রতিবাদের চিঠিতে ভরে
গিয়েছিল। বাঙালীর মতো সাত-চড়ে-রা-না-কাড়া জাতি যেভাবে সেবার প্রতিবাদ করেছিল, তা ছিল
বিস্ময়কর। যেন আপামর জনসাধারণের ব্যক্তিগত কোন ক্ষতিসাধন করা হয়েছিল সেই বিকল্প অনুষ্ঠান
প্রচারিত করে। এ থেকেই বোঝা যায় যে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বাঙালীর মনে কোন আসন অধিকার করেছিল।
আজও তার হেরফের হয় নি।

বিশ্বের আর কোনও বেতার তরঙ্গে এতদিন ধরে নিয়ম করে, বছরে একটি দিন, সাধারণ সম্প্রচারের সময়ের
বাইরে (ভোর চারটের সময়), একটি নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়, এমন ঘটনা বোধহয় আর নেই।
সংগীতজ্ঞ বিমলভূষণ একবার বলেছিলেন যে এই অনুষ্ঠান বাঙালির হৃদয়ে পাকাপাকিভাবে স্থান করে
নিয়েছে।  সেই কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছিল বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের কথায়।
২০০৭-এ, ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র ৭৫ বছর উপলক্ষে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘এ হল বাঙালির সর্বকালের
সর্বশ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান। আমাদের কালে অনেক জলসা ইত্যাদি হত, কিন্তু এখন সে সব উঠে গেছে, অথচ
‘মহিষাসুরমর্দিনী’ রয়ে গেছে এবং থাকবেও বহুদিন। এই গীতি আলেখ্যর আকর্ষণ সারা বিশ্বের বাঙালির
কাছেই…।”

বাণীকুমারের রচনা যেভাবে বাঙালীকে প্রভাবিত করেছে তেমন করে বোধহয় আর কারো লেখা প্রভাবিত
করে নি। না, রবীন্দ্রনাথের লেখাও নয়। সরকারী কোনোরকম বাধ্যবাধকতা ছাড়া, সমাজের উঁচু, নীচু, বড়,
ছোট, সর্বস্তরের বাঙালীকে, একই সময়ে, একইভাবে প্রভাবিত করতে পেরেছেন বাণীকুমার,  তাঁর
‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র মধ্য দিয়ে। যে বাঙালীর মহালয়ার ভোরে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ শোনা হয় না, সে বাঙালীর
যেন জীবন থেকে কি একটা বাদই পড়ে যায় সে বছর! আগামীতে কোনো বৈজ্ঞনিক বিশ্লেষণ হয়তো বলতে
পারবে যে এই অনুষ্ঠানটি বাঙালী জাতির জেনেটিক মিউটেশন (জীনগত পরিবর্তন) ঘটিয়েছিল কি না!

এহেন ব্যক্তিটির নাম বাঙালী বছরে একটি দিন মনে আনেন বা শোনেন। কিন্তু তাঁর সম্পর্কে বাঙালীর প্রায়
কিছুই জানা নেই, সম্ভবত জানার আগ্রহও নেই! “মহালয়া” অনুষ্ঠানের শেষে শিল্পীদের নামের উল্লেখের সময়ে
“রচনা - বাণীকুমার” কথাটি শোনা ছাড়া বেশীরভাগ বাঙালী আর তাঁর সম্বন্ধে কিছুই জানেন না। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ
ভদ্র বা অন্যান্যদের নিয়ে যেটুকু মাতামাতি চোখে পড়ে, যেটা কোনোভাবেই অন্যায় নয় (
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র
সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ে সেই মাতামাতি হলে আরও ভালো হোত, কারণ তিনি দীর্ঘকাল স্মৃতিশক্তিহীন
অবস্থায় বেঁচে ছিলেন।), বাণীকুমারকে নিয়ে কিন্তু তেমন কিছুই দেখা যায় নি। অখচ পুরো রচনাটি তাঁরই
লেখনী-প্রসূত। বাণীকুমার বাঙালীকে যা দিয়ে গেছেন তার তুলনায় তাঁকে আমরা কিছুই দেই নি। দেশের
সরকার-রা ওনাকে আজ পর্যন্ত কোনো সম্মানে, নিদেনপক্ষে “পদ্মশ্রী” উপাধিতেও, ভূষিত করেছেন বলে
আমাদের জানা নেই।

আমরা কৃতজ্ঞ গৌতম বসুমল্লিক এবং রক্তিম দাশ এর কাছে, যাঁদের রচনা থেকে বাণীকুমার সম্বন্ধে আমরা
কিছু তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছি। “উত্স” তে তাঁদের প্রবন্ধগুলিতে যাবার লিঙ্ক দেওয়া রয়েছে।
বাণীকুমারের জীবন ও কর্ম নিয়ে যদি কেউ আমাদের আরও তথ্য পাঠান তাহলে আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ
তাঁর নাম উল্লেখ করবো এই পাতায়।  

এই ‘মহিষাসুরমর্দিনী’-র গানগুলির রচয়িতাও ছিলেন বাণীকুমার। এ ছাড়াও তিনি আরো গান রচনা করে
গিয়েছেন।  ভাগ্যচক্র ছায়াছবিতে রায়চাঁদ বড়ালের সুরে কৃষ্ণচন্দ্র দের কণ্ঠে “ওরে পথিক তাকা
পিছন পানে”, পাহাড়ী সান্যালের কণ্ঠে  “কেন পরাণ হোলো বাঁধনহারা” প্রভৃতি গান তাঁরই রচনা। তাঁর রচিত
গান, আমরা যতগুলো সংগ্রহ করতে পেরেছি, এখানে তুলে দিলাম।



খুব বিচিত্র এই বাঙালী জাতি! এমন লেখাপড়া জানা বাঙালী হয়তো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যাঁর জীবনের কোনো
না কোনো সময়ে দু এক লাইন কবিতা লেখেন নি! বাংলা ভাষায় যে পরিমান কবিতার আন্দোলন ঘটে
গেছে, যে পরিমান কাব্যচর্চা চলেছে, তেমনটি বোধহয় ভারবর্ষের আর কোনো ভাষায় দেখা যাবে না। অথছ
আধুনিক যুগে লক্ষ্য করি যে গীতিকারদের কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাঙালী ভীষণ কুণ্ঠা  বোধ করেন!
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় একবার বড় আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন ... আমি কি কবি নই ? ব্যাপারটা যেন এমন,
যে কবিতায় সুর দিলেই সেই কবি আর কবি থাকেন না!
নজরুলের আগে কিন্তু এমনটা দেখতে পাই না।
রবীন্দ্রনাথ বলুন, দ্বিজেন্দ্রলাল বলুন, রজনীকান্ত বলুন, অতুলপ্রসাদ বলুন, দিলীপ রায় বলুন, তাঁরা আধুনিক
(?) যুগের এই বিচিত্র ভেদাভেদের মানসিকতা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন।

প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়! কেন গীতিকারদের কবিদের সভায় স্থান দেওয়া হচ্ছে ? আমাদের উত্তর হলো এই
যে, মিলনসাগরে আমরা মনে করি যে গান তো প্রথমে কবিতা। তাই আমরা গান ও কবিতায় কোন পার্থক্য
দেখি না। অনেকে বলেন যে সব গানই কবিতা কিন্তু সব কবিতা গান হয় না!

জগন্নাথ বসু কথিত, আনন্দবাজার পত্রিকার ২০-০৯-২০১৪ তারিখের সংখ্যায় প্রকাশিত, যা বীরেন্দ্র
সর্বভূতেষু লেখাটি বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এবং সেই সময়কালকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
লেখাটি পড়তে
এখানে ক্লিক্ করুন

আমরা
মিলনসাগরে  তাঁর কবিতা ও গানের কথা ইনটারনেটে প্রকাশিত করে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে
দিতে পারলে আমাদের এই প্রচেষ্টা সার্থক বলে মনে করবো। বাণীকুমারে গানের কথা প্রকাশ করে এই পাতা
তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য।  

উত্স -  গৌতম বসুমল্লিক, মহিষাসুরমর্দিনী গীতি-আলেখ্য ও বাণীকুমার, আনন্দবাজার পত্রিকা
.         
রক্তিম দাশ, কলকাতা করেসপন্ডেন্ট, বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম


মিলনসাগরে কবি বাণীকুমারের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।   

অন্তর্জালে বাণীকুমারের কালজয়ী গান এবং "মহিষাসুরমর্দিনী" শুনতে নিচের ওয়েবসাইটগুলিতে যেতে
পারেন . . .   

http://hamaracd.com/hcdindia/homevideo/selecttitle_mp3.asp?coup=M42169       
http://musicjagat.com/mahishasura-mardini-mahalaya-birendra-krishna-bhadra-mp3-songs-download   
http://tutun23.tripod.com/id10.html      
http://www.raaga.com/channels/bengali/lyricist/Bani_Kumar.html      
http://www.dhingana.com/bani-kumar-songs-search#     


অন্তর্জালে মহানায়ক উত্তমকুমারের ভাষ্যে এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে, আকাশবাণী কলকাতা থেকে
১৯৭৬ সালের মহালয়ার প্রভাতে প্রচারিত "দুর্গা দুর্গতিহারিণী" অনুষ্ঠানটি শুনতে নিচে ক্লিক্ করুন।

http://mmusicz.com/dl2.php?item=-YqGHZBvjBI&name=Durga_Durgati_Harini..._Uttam_Kumar   
http://mmusicz.com/search/video/1/durgati+harini+durga.html    
http://www.banglatorrents.com/showthread.php?19999-Matribandana-Durga-DurgatiHarini-Uttam-Kumar   






আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in                                         উপরে   




এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৯.০৭.২০১২
১৪টি নতুন গান ও কবিতা নিয়ে এই পাতার পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১৭.০৯.২০১৬




...