কবি বিমল ঘোষের (মৌমাছি) কবিতা ওড়া
*
টুল্ টুল্ টুলটি
মৌমাছি (বিমল ঘোষ)

টুল্ টুল্ টুলটি
নীল কাগজের ফুলটি
ঘেরা টোপে ঝুলছে
খুকু কেঁদে ফুলছে।
দে খুকু কে চুষিকাঠি
আমরা চুষি আমের আঁটি,
আমের আঁটি দ্যালে ঘঁষে---
ভেঁপু বাজাই জোরসে ক’ষে।

.      **********************     


.                                                                                      
সূচিতে . . .    




মিলনসাগর
*
পাঁচ পেয়ালী পেঁচার মা
মৌমাছি (বিমল ঘোষ)

পাঁচ পেয়ালী পেঁচার মা
কচি কাঁচা পাঁচটি ছা’
পাঁচটি ছা’য়ের পাঁচটি পা
পাঁচটি পায়েই পাঁচড়া ঘা।
পাঁচড়া ঘায়ে হলুদ নিম
কাগের বাসায় বগের ডিম।

.      **********************     


.                                                                                      
সূচিতে . . .    




মিলনসাগর
*
বয়ে গেল!
মৌমাছি (বিমল ঘোষ)

ভেবোনা কো আমি খুব বাচ্চা কি পুঁটকে
গোলগাল চেহারা---মোটে নই সুঁটকে।
চোখ দুটো ছোটো ছোটো---খ্যাগা বটে নাকটা।
চুলগুলো কিছু কম! তবে নেই টাকটা।
জানোনা তো বাবা বলে ---আমি নাকি ‘দুষ্ট’,
মা-ও মারে চড়-কিল! কেউ নয় ‘তুষ্ট’।
সব্বাই বলে ভাই---টুবলুকে ‘লক্ষ্মী’
দিদি বলে---‘বুবলুটা যেন দানা-দক্ষি।
'
কেন জানো ? ঐ দেখ ঘুমে কাবু টুবলু
আমি কি না জেগে আছি তাই ‘পাজি বুবলু’।
ঘমবো কি এক্ষুণি ? ---কাজটা কি অল্প!
মোর পোষা মেনিটারে বলা চাই গল্প।
চাঁদ মামা সাথে নানা কথা হয় বলতে,
উসকাতে হয় কি না পিদিমের সলতে।
কখনো বা নেচে চলি, কখনও বা লেংচে
আয়নাতে মুখ দেখি হেসে-কেঁদে-ভেংচে।
খাওয়া আছে, খেলা আছে---হয় বই পড়তে
কখন সময় বলো এতটুকু নড়তে!
দিনটা তো সবে ভাই মোটে বারো ঘন্টা,
তাতে কি ফুরায় কাজ ? খালি থাকে মনটা!
তাই যদি জেগে থাকি হবো পাজি বিচ্ছু ?
জানো ভাই ওরা কেউ বোঝেনা কো কিচ্ছু!
তোমরাও ভালো ছেলে! মেয়ে নাকি ঠাণ্ডা!
বয়ে গেল!---জানো আমি দুষ্টুর পাণ্ডা ?

.    
       **********************     


.                                                                                      
সূচিতে . . .    




মিলনসাগর
*
বিল্লি
মৌমাছি (বিমল ঘোষ)

কেলো ভুলোর থাবড়া খেয়ে
বেজায় রকম চটে গিয়ে
বাঘের মাসি বিল্লি
এক লাফেতে পৌঁছে গেল
হাওড়া থেকে দিল্লী।

প্ল্যাটফর্মে ঠ্যাং ছড়িয়ে
পান সাজলো জর্দা দিয়ে
মুখের ভিতর পুরে দিলো
আস্ত দুটো খিল্লি।

হঠাৎ শোনে হুক্কাহুয়া
চমকে ওঠে পিল্লি।

উঠলো প্লেনে দৌড়ে গিয়ে
মুখটা ঢেকে ঘোমটা দিয়ে
আঁতকে ওঠে মেম-দিদিরা
বেজায় চেল্লাচিল্লি।

.   **********************     


.                                                                                      
সূচিতে . . .    




মিলনসাগর
*
শাখাওয়ালা শাঁখারী
মৌমাছি (বিমল ঘোষ)

শাখাওয়ালা শাঁখারী
চাঁছাছোলা বাখারি
ডোমপাড়ার ডুমনি
শাঁখা পরো মা ঝুমনি
দাম কোথা রে ?  পাখির খাঁচা
পাখির খাঁচায় হাঁড়ি চাঁচা
খাঁচা-পাখি দুটোই দুবো
শাঁখ-জোড়া মাগনা নুবো।

.   **********************     


.                                                                                      
সূচিতে . . .    




মিলনসাগর
*
মোল মহুয়ার ঝোল রেঁধেছি
মৌমাছি (বিমল ঘোষ)        

মোল মহুয়ার ঝোল রেঁধেছি
.        সেঁকছি স্যাতা ঢোল
গোল করো না ওল বেটেছি
.        ডেকচি দুটোয় ঘোল
বোল ফুটেছে ভোল ঘুচেছে
.        উঠবে হাসির রোল
তোল সকালে খোল বাজিয়ে
.        খব সে পটল তোল।

.
     **********************     


.                                                                                      
সূচিতে . . .    




মিলনসাগর
*
কোন্ বাহনে
মৌমাছি (বিমল ঘোষ)        

নাল নাল নাল সারা আকাশ
ভোরের শিশির ঘাসে,
সাদা কাশের টোপর মাথায়
মাঠ-ময়দান হাসে!
হলুদ সোনা রোদ মাখানো।
শিউলি ফুলের বাসে,
পুজোর খবর এসে গেল
শেষ আশ্বিন মাসে।

দেবী দুর্গা কোনও বছর
আসেন চেপে দোলায়,
কোনও বছর চাপেন নৌকো
হাতি কিংবা ঘোড়ায়।
জানতে তো হয় এবার দেবী
কোন বাহনে আসে,
দাদু ওলটান পাঁজির পাতা
দিদুন থাকেন পাশে।

চশমা এঁটে নাকের ডগায়
পাঁজির পাতা পড়ে,
দাদু জানান---“মার আগমন
এবার গজে চড়ে।”
জর্দা-ঠাসা খিল্লি পান
ফোকলা মুখে ভরে
দিদুন বলেন, “কক্ষনো না
আসবো নৌকো করে।”

বাইরে থেকে তক্ক শুনে
তুতুল মুনু হাসে,
গোল মেটাতে ঘরের ভেতর
দৌড়ে চলে আসে।
চেঁচিয়ে বলে, “মা দুগ্গা
আসবে এবার বাসে,
প্যাণ্ডেল তাই হচ্ছে বাঁধা
বাস-গুমটির পাশে।”

.   **********************     


.                                                                                      
সূচিতে . . .    




মিলনসাগর