ভেবোনা কো আমি খুব বাচ্চা কি পুঁটকে গোলগাল চেহারা---মোটে নই সুঁটকে। চোখ দুটো ছোটো ছোটো---খ্যাগা বটে নাকটা। চুলগুলো কিছু কম! তবে নেই টাকটা। জানোনা তো বাবা বলে ---আমি নাকি ‘দুষ্ট’, মা-ও মারে চড়-কিল! কেউ নয় ‘তুষ্ট’। সব্বাই বলে ভাই---টুবলুকে ‘লক্ষ্মী’ দিদি বলে---‘বুবলুটা যেন দানা-দক্ষি।' কেন জানো ? ঐ দেখ ঘুমে কাবু টুবলু আমি কি না জেগে আছি তাই ‘পাজি বুবলু’। ঘমবো কি এক্ষুণি ? ---কাজটা কি অল্প! মোর পোষা মেনিটারে বলা চাই গল্প। চাঁদ মামা সাথে নানা কথা হয় বলতে, উসকাতে হয় কি না পিদিমের সলতে। কখনো বা নেচে চলি, কখনও বা লেংচে আয়নাতে মুখ দেখি হেসে-কেঁদে-ভেংচে। খাওয়া আছে, খেলা আছে---হয় বই পড়তে কখন সময় বলো এতটুকু নড়তে! দিনটা তো সবে ভাই মোটে বারো ঘন্টা, তাতে কি ফুরায় কাজ ? খালি থাকে মনটা! তাই যদি জেগে থাকি হবো পাজি বিচ্ছু ? জানো ভাই ওরা কেউ বোঝেনা কো কিচ্ছু! তোমরাও ভালো ছেলে! মেয়ে নাকি ঠাণ্ডা! বয়ে গেল!---জানো আমি দুষ্টুর পাণ্ডা ?
নাল নাল নাল সারা আকাশ ভোরের শিশির ঘাসে, সাদা কাশের টোপর মাথায় মাঠ-ময়দান হাসে! হলুদ সোনা রোদ মাখানো। শিউলি ফুলের বাসে, পুজোর খবর এসে গেল শেষ আশ্বিন মাসে।
দেবী দুর্গা কোনও বছর আসেন চেপে দোলায়, কোনও বছর চাপেন নৌকো হাতি কিংবা ঘোড়ায়। জানতে তো হয় এবার দেবী কোন বাহনে আসে, দাদু ওলটান পাঁজির পাতা দিদুন থাকেন পাশে।
চশমা এঁটে নাকের ডগায় পাঁজির পাতা পড়ে, দাদু জানান---“মার আগমন এবার গজে চড়ে।” জর্দা-ঠাসা খিল্লি পান ফোকলা মুখে ভরে দিদুন বলেন, “কক্ষনো না আসবো নৌকো করে।”
বাইরে থেকে তক্ক শুনে তুতুল মুনু হাসে, গোল মেটাতে ঘরের ভেতর দৌড়ে চলে আসে। চেঁচিয়ে বলে, “মা দুগ্গা আসবে এবার বাসে, প্যাণ্ডেল তাই হচ্ছে বাঁধা বাস-গুমটির পাশে।”