বিদ্যাসাগরকে উত্সর্গিত কবিতা ও ছড়া
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
*
গোলদীঘির মূর্তিকে নিয়ে
কবি অলকরঞ্জন বসুচৌধুরী     

ধ্যানাসন-সমাসীন ধৃতগ্রন্থ প্রতীকপুরুষ
জলাশয়ধারে যেন মহাকাল-প্রহরীপ্রতিম,
বকরূপী ধর্মের মতোই দিলেন  সতর্কীকরণ –
‘জলে নামবার আগে দাও আমার প্রশ্নের উত্তর!’
কিন্তু তাতে হবে হুঁশ –
বাঙালি বিপ্লবী নয় সে-রকম ধর্মের পুত্তর!
সুতরাং সেই মহাভারতীয় ধ্রুপদী মরণ
এলো তারও, যদিও তা অন্য ঢঙে – সে মেনেছে অন্য যে শাস্তর,
জবাব সে দেয়নাকো, তূণে তার ঘৃণা যে অসীম –
সে-আয়ুধে মাথা কাটে ধ্যানমূর্তির, ভাবে নিজে নিরঙ্কুশ,
পায়না শুনতে স্বর – ভেসে আসে ঋজু, সুমহিম :---  
‘পেয়েছি উত্তর আমার, ঠিক আছে কার্য ও কারণ!’

গোলদীঘি-পারে চলে হট্টগোল তারপরে বড়ো –
অবিশ্রান্ত সভা বসে –প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, ধিক্কার ;---
বাঙলার বিবেক নাকি আক্রান্ত –এইমতো কত,
অপুর্ব সে প্রদর্শনী, সুবিচিত্র, চীৎকৃত ব্যাপার!
শতাব্দীর প্রহরী সে-প্রতিজ্ঞাপুরুষ ধ্যানলীন
বসে বসে দেখে যান – ছিন্নমস্ত মূর্তি সে তো জড়,
মালা-মাইক- মন্ত্রীর তামাশাও চলে অবিরত –
অতঃপর করা হয় পুনরায় মুন্ড-সংস্থাপন ;        
যদিও প্রহরী ছিল সতর্কিত, উঁচিয়ে সঙ্গীন!  
শোনা যায়নাকো শুধু সেদিন সে মহাডামাডোলে
সেই পুরুষের স্বর, আশ্রয় যার শিলাসন :---
“সাত-পুরু চেঁছে ফেলে এ-মাটিতে যদি কিছু ফলে!”

.        *************************  

.                                                                                  
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর