কবি বৃন্দাবন দাসের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
১।   শ্রীধর         
২।   
নবদ্বীপ      
৩।   
নিত্যানন্দ                       

*
[ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্লগ্ বা সাইটে, আমাদের কোন লেখা, তথ্য, কবিতা বা
তার অংশবিশেষ নিলে, আমাদের মূল পাতা
http://www.milansagar.com/index.html এ দয়া করে
একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্লগ্  বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ ! ]
শ্রীধর    

সেই শ্রীধরের কিছু শুনহ আখ্যান
খোলার পসার করি রাখ নিজ প্রাণ |
একবার খোলা ষোড় কিনিয়া আনয়
খানি খানি করি তাহা কাটিয়া বেচয় |
তাহাতে যে কিছু হয় দিবসে উপায়
তার অর্ধ গঙ্গার নৈবেদ্য লাগি যায় |
অর্ধেক সওদায় হয় নিজ প্রাণ রক্ষা
এই মত হয় বিষ্ণু ভক্তির পরীক্ষা |
মহাসত্যবাদী তিহোঁ যেন যুধিষ্ঠির
যার যেই মূল্য বলে না বলে বাহির |
মধ্যে মধ্যে যেবা জন তার তত্ত্ব জানে
তাহার বচনে মাত্র দ্রব্যখানি কিনে |
এইমতে নবদ্বীপে আছে মহাশয়
খোলা বেচা জ্ঞান করি কেহ না চিনয় |
চারি প্রহর রাতি নিদ্রা নহে কৃষ্ণ নামে
সর্বরাত্রিহরি বোলে দীঘল আহ্বানে |
যতেক পাষণ্ডী বলে শ্রীধরের ডাকে
রাত্রে নিদ্রা নাহি যাই দুই কর্ণ ফাটে |
মহা চাসা বেটা ভাতে পেট নাহি ভরে
ক্ষুধায়ে ব্যাকুল হঞা রাত্রি জাগে মরে |
এইমত পাষণ্ড মরয়ে মন্দ বলি
নিজ কার্য করয়ে শ্রীধর কুতুহলী |
হরি বলি ডাকিতে যে আছয়ে শীধরে
নিশাভাগে প্রেম যোগে ডাকে উচ্চস্বরে |
অরেধপথ গেল মাত্র ভক্তগণ ধাঞা
শ্রীধরের ডাক শুনি তথাই থাকিয়া |
ডাক অনুসারে গেলা ভাগবতগণ
শ্রীধরের ধরিয়া লইল ততক্ষণ |
চল চল মহাশয় প্রভু দেখ সিয়া
আমরা কৃতার্থ হই তোমা পরসিয়া |
শুনিয়া প্রভুর নাম শ্রীধর মূর্ছিত
আনন্দে বিহ্বল হই পড়িলা ভূমিত |
আথে ব্যথে ভক্তগণ লইল তুলিয়া
বিশম্ভর আগে নিল আলস করিয়া |
শ্রীধর দেখিয়া প্রভু প্রসন্ন হইলা
আয় আয় শ্রীধর বলি ডাকিতে লাগিলা |
বিস্তর করিয়া আছ মোর আরাধন
বহুজন্ম মোর প্রেমে ত্যেজিলা জীবন |
এহো জন্মে মোর সেবা করিলা বিস্তর
পাসরিলা আমা সঙ্গে যে কৈলা উত্তর |
যখনে করিলা প্রভু বিদ্যার বিলাস
পরম উদ্ধত হেন যখনে প্রকাশ |
সেই কালে গূঢ় ভাবে শ্রীধরের সঙ্গে
খোলা বেচা কেনা ছলে কৈল বহু রঙ্গে |
প্রতিদিন শ্রীধরের পসারেত গিয়া                                   
উপরে
ষোড় কলা মূল খোলা আনেন কিনিয়া |
প্রতিদিন চারিদণ্ড কলহ করিয়া
তবে সে কিনয়ে দ্রব্য অর্ধ মূল্য দিয়া |
সত্যবাদী শ্রীধর যা লইব তাহা বোলে
অর্ধমূল্য দিয়া প্রভু নিজ হস্তে তোলে |
উঠিয়া শ্রীধর দাস করে কাড়াকাড়ি
এইমত শ্রীধর ঠাকুরে হুড়াহুড়ি |
প্রভু বোলে কেনে ভাই শ্রীধর তপস্বী
অনেক তোমার অর্থ আছে হেন বাসি |
আমার হাথের দ্রব্য লহ যে কাড়িয়া
এতদিন কে আমি না জানিস ইহা |
প্রম ব্রহ্মণ্য শ্রীধর ক্রুদ্ধ নহে
বদন দেখিয়া সর্ব দ্রব্য কাড়ি লয়ে |
মদনমোহন রূপ গৌরাঙ্গ সুন্দর
ললাটে তিলক শোভে ঊর্দ্ধ মনোহর |
ত্রি বসন শোভে কুটিল কুন্তল
প্রকৃতি নয়ন দুই পরম চঞ্চল |
শুক্ল যজ্ঞসূত্র শোভে বেড়িয়া শরীরে
সূক্ষ্মরূপ অনন্ত যে হেন কলেবরে |
অধরে তাম্বুল হাসে শ্রীধরে চাহিয়া
আর বার খোলা লয় আপনে তুলিয়া |
শ্রীধর বলেন, শুন ব্রাহ্মণ ঠাকুর
ক্ষমা কর মোয়ে মুঞি তোমার কুকুর |
প্রভু বোলে, জানি তুমি পরম চতুর
খোলা বেচা অর্থ তোমার আছয়ে প্রচুর |
আর কি পসার নাহি, বলয়ে শ্রীধরে
অল্প কড়ি দিয়া তথা আন পাতখোলা |
প্রভু বোলে যোগানিয়া আমি নাহি ছাড়ি
থোর কলা দিয়া মোরে তুমি লহ কড়ি |
রূপ দেখি মুগ্ধ হৈয়া শ্রীধর যে হাসে
গালি পাড়ে বিশ্বম্ভর পরম সন্তোষে |
প্রত্যহ গঙ্গারে দ্রব্য দেহত কিনিয়া
আমারে না কিছু দিলে মূল্যেতে ছাড়িয়া |
যে গঙ্গা পূজহ তুমি আমি তান পিতা
সত্য সত্য তোমারে কহিল এই কথা!
কর্ণ ধরি শ্রীধর শ্রীবিষ্ণু বিষ্ণু বোলে
উদ্ধত দেখিয়া তানে দেই পাতখোলে |
এই মত প্রতিদিন করেন কন্দল
শ্রীধরের জ্ঞানে বিপ্র পরম চঞ্চল |
শ্রীধর বলেন, মুঞি হারিনু তোমারে
কড়ি বিনু কিছু দিনু ক্ষমহ আমারে |
একখণ্ড খোলা দিমু এক খণ্ড থোড়
এক খণ্ড কলা মূল আর দোষ মোর |
প্রভু বোলে ভাল ভাল আর নাহি দায়
শ্রীধরের খোলে প্রভু প্রত্যহ অন্য খায় |

.            ****************                                              
উপরে
নিত্যানন্দ

বন্দো প্রভু নিত্যানন্দ          কেবল আনন্দকন্দ
ঝলমল আভরণ সাজে |
দুই দিগে শ্রুতিমূলে            মকরকুণ্ডল দোলে
গলে এক কৌস্তুভ বিরাজে ||
সুবলিত ভুজদণ্ড               জিনি কবিবর-শুণ্ড
তাহাতে শোভয়ে হেমদণ্ড |
অরুণ অম্বর গায়              সিংহের গমনে ধায়
দেখি কাঁপে অসুর পাষণ্ড ||
অঙ্গ দেখি শুদ্ধ স্বর্ণ             দুটি আঁখি রক্তবর্ণ
তাহাতে ঝরায়ে মকরন্দ |
সুমেরু বাহিয়া যেন             গঙ্গাধারা বহে হেন
দেখি সুরলোকের আনন্দ ||
সর্বাঙ্গে পুলক ছটা                যেন কদম্বের ঘটা
লম্ফে কম্প হয় বসুমতী |
বীরদাপ মালশাটে              শবদে ব্রহ্মাণ্ড ফাটে
দেখি ব্রহ্মলোক করে স্তুতি ||
চৈতন্যের প্রেমরত্ন              জীবেরে করিয়া যত্ন
দিল পহু পরম আনন্দে |
কহে বৃন্দাবন দাসে              আপনার কর্মদোষে
না ভজিলুঁ নিতাই পদদ্বন্দ্বে ||

.                                              ****************                                       
উপরে
*
নবদ্বীপ    
গৌরচন্দ্রের উদয়ের আগে
(শ্রী চৈতন্য ভাগবত)

নবদ্বীপ হেন গ্রাম ত্রীভূবনে নাঞি |
যহি অবতীর্ণ হৈলা চৈতন্য গোসাঞি ||
অবতরিবেন প্রভু জানিয়া বিধাতা |
সকল সম্পূর্ণ করি থুইলেন তথা ||
নবদ্বীপের সম্পত্তি কে বর্ণিবারে পারে |
একো গঙ্গাঘাটে লক্ষ লোক স্নান করে ||
নানা দেশ হৈতে লোক নবদ্বীপে যায় |
নবদ্বীপে পঢ়িলে সে বিদ্যারস পায় ||
রমা-দৃষ্টিপাতে সর্বলোক সুখে বসে |
ব্যর্থ কাল যায় মাত্র ব্যবহার রসে ||
কৃষ্ণনাম ভক্তিশূণ্য সকল সংসার |
প্রথম কলিতে হৈল ভবিষ্য-আচার ||
"ধর্ম-কর্ম" লোক সভে এইমাক্ত্র জানে |
মঙ্গলচণ্ডীর গীতে করে জাগরণে ||
দম্ভকরি বিষহরি পূজে কোন জনে |
পুত্তুলি করয়ে কেহ দিয়া বহু ধনে ||
*
ধন নষ্ট করে কন্যার বিভায়ে |
এই সব রত আর কিছু না জানয়ে ||

যেবা ভট্টাচার্য চক্রবর্তী মিশ্র সব |
তাহারাও না জানয়ে গ্রন্থ-অনুভব ||
শাস্ত্র পড়াইয়া সভে এই কর্ম করে |
শ্রোতার সহিতে যম-পাশে বন্দী মরে ||
না বাখানে যুগধর্ম কৃষ্ণের কীর্তন |
দোষ বহি গুণ কারো না করে কথন ||
যেবা সব বিরক্ত-তপস্বী অভিমানী |
তা'সভার মুখেও নাহিক হরিধ্বনি ||
অতি বড় সুকৃতী সে স্নানের সময় |
"গোবিন্দ পুণ্ডরীকাক্ষ" নাম উচ্চারয়ে ||
গীতা-ভাগবতে যে যে জনে বা পঢ়ায়ে |
ভক্তির ব্যাখ্যান নাহি তাহার জিহ্বায়ে ||

এইমত বিষ্ণুমায়া-মোহিত সংসার |
দেখি ভক্ত সব দুঃখ ভাবেন অপার ||
কেমতে এসব জীব পাইবে উদ্ধার |
বিষয়-সুখেতে সব মজিল সংসার ||
বলিলেও কেহ নাহি লয় কৃষ্ণ নাম |
নিরবধি বিদ্যকূল করেন ব্যাখ্যান ||

স্বকার্য করেন সব ভাগবতগণ |
কৃষ্ণপূজা গঙ্গাস্নান কৃষ্ণের কথন ||
সভে মেলি জগতেরে করে আশীর্বাদ |
শীঘ্র রুদ্রচন্দ্র করো সভারে প্রসাদ ||    
________________________________________

* বাশুলী পূজয়ে কেহো নানা-উপচারে |
মদ্য মাংসা দিয়া কেহ যক্ষ পূজা করে ||
নিরবধি নৃত্য-গীত-বাদ্য-কোলাহল |
না শুনে কৃষ্ণের নাম পরম মঙ্গল ||


.            ****************                                              
উপরে
*