রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
যেই সব সরণ শিখিলে দশ দিনে |
সেই সব অভ্যাস করিবে এক মনে ||
এত বলি রঞ্জাবতী বাড়িকে বিদায় |
দুভাই আখড়া খেলে ঘুরে পায় পায় ||
ষোল গন্ডা চলনি বলনি বিশাশয় |
উলটি ফলঙ্গ দেই অঙ্ক মাঝে রয়  ||
দিনে দিনে দুভাই সাজিল মল্লবেশ  |
বলরাম কর্পূর লাউসেন হৃষীকেশ ||
দিবস-রজনী যুদ্ধ বাড়ে বিপরীত  |
মল্লযুদ্ধ করে নিত্য মল্লের সহিত ||
মল্লের চরণ ধরি তুলিয়া কাছাড়ে  |
অঙ্গে ঠেলে পর্বত পাথর গাছ পাড়ে ||
ফলঙ্গ সারিতে পায় চঞ্চল অবনী |
দেবতা অসুর কাঁপে দেখিয়া চলনি ||
নিবড়িল বরিষা শরত উপাদান |
দেবীপূজা আইল পড়ে কালিকা পুরাণ ||
অবনীমন্ডলে নাই আনন্দের সীমা |
তেহ ঘট আনে কেহ আন্যাছে প্রতিমা ||
কার ঘরে নাটো নাচে কার ঘরে গীত |
কেহ দান ধ্যান করে দুর্গার পিরিত ||
ঘরে ঘরে দ্বিজবর পড়ে সপ্তশতী |
কেহ যজ্ঞ দান করে হয়্যা শুদ্ধমতি ||
জরা আদি বালকে করে বেশ  |
পরিধান পরিপাটি বরণ বিশেষ ||
দেবাসুর মানুষ মানুষী গীত গায়  |
প্রতি ঘরে নট নটী নাচিয়া বেড়ায়  ||
আশ্বিনে আনন্দ বড় সভাকার ঘরে  |
দশভূজা দশদিগে বড় শোভা করে  ||
মহা মহা পূজা করে কত ভাগ্যবান |
ছাগ মেষ মহিষ সহস্র বলিদান ||
ক্ষীর খন্ড ছানা পানা পরিপূর্ণ গাড়ু  |
পিষ্টক পায়স চিনি সুধাময় নাড়ু  ||
বাটা ভরা কাটা গুয়া বিড়া বান্ধা পান  |
পট্টবস্ত্র অমূল্য রতন বিদ্যমান ||
এইরূপে সংসারে ভবানী-পূজা করে |
ঈশ্বরী বসিয়া তথা কৈলাশ-শিখরে ||
শিবের সহিত পাশা খেলেন কৌতুকে |
পদ্মাবতী বলে কিছু দুর্গার সমুখে ||
সদাই বলিব কিছু অভয়চরণে |
আশ্বিন মাসের পূজা নাই পারা মনে ||
যতী সতী তোমারে কব়্যাছে এক ধ্যান |
পূজা নিতে চল মাতা অবনী পয়ান  ||
এত শুনি ধরে দেবী শিবের চরণ |
দ্বিজ রূপরাম গান সখা নিরঞ্জন ||

ঈশ্বরী বলেন শুন ওহে প্রাণনাথ  |
নিবেদন করি কিছু তোমার সাক্ষাত  ||
সত্বরে বিদায় হব নায়রের ঘর  |
এখন বিদায় লব তোমার গোচর ||
কৈলাশ পর্বতে নাই এ পাট পড়শী  |
বলিতে দুঃখের কথা একদন্ড বসি ||
আশ্বিনে আমার পূজা করে সর্বজন |
দেখিবারে যাব ভক্ত সবাকার মন  ||
শঙ্কর বলেন গৌরী শুন মন দিয়া |
নিরবধি ঘরে থাকি তোমা মুখ চ্যায়া ||
তুমি যদি ক্ষিতি যাবে পূজা দেখিবারে |
জয়মঙ্গল অস্ত্রখান রাখ্যা যাহ ঘরে ||
এত শুনি ঈশ্বরী বিশেষ কম্পমান  |
বিজয় করিল দেবী সুবর্ণ বিমান  ||
পূজা দেখিবারে দুর্গা করিল গমন |
সদা সুখী দেখিল আনন্দ ত্রিভুবন ||
উরমাল ঘাঘর ঘন্টা রথের বাজনা |
ইন্দ্র বলে পূর্ণ হৈল মনের বাসনা ||
দেখিতে দেখিতে রথ উঠিল আকাশ |
রথের কিরণে তিন লোকের প্রকাশ ||
আনন্দে ঈশ্বরী-পূজা করে সর্বলোক  |
পাসরিল মরমে দারুণ পুত্রশোক ||
সভা আগে ব্রহ্মার মন্দির দরশন  |
পূজা দিল অভিলাষে অভয়চরণ ||
তবে পাইল বিষ্ণুর মন্দির শীঘ্রগতি |
আপনি পূজিল বিষ্ণু কমলা সংহতি ||
ষোল উপাচারে পূজা দিলা নারায়ণ  |
নারদ-মন্দিরে দূর্গা দিল দরশন ||
কৃষ্ণকথা রাখিয়া নারদ মহামুনি |
আশ্বিনে অম্বিকা-পূজা করেন আপনি ||
নারদ বলেন তুমি হরিভক্তি দাতা |
তুমি জয়া জয়মুনি সাবিত্রী বেদমাতা ||
আনন্দিত ঈশ্বরী দেখিয়া মহাপূজা |
ইন্দ্রের সদনে দেখা দিল দশভুজা ||
শতেক বনিতা সঙ্গে শচীপতি রায়  |
বিশাশয় পুত্র বামে ঈশ্বরী ধিয়ায়  ||




.                                                   
আখড়া পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                 
এই পাতার উপরে . . .     


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
খড়া পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
|| আখড়া পালা ||
পৃষ্ঠা