রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
রূপী নামে বাঘিনী কাননে স্থিতি করে |
অবিলম্বে জন্ম লহ তাহার উদরে ||
এত বলি ভবানী করিল হেঁটমাথা |
কানাকানি করে সব অসুর দেবতা  ||
বচন বলিবা মাত্র পড়িল বজ্জর  |
দেবীর চরণে পড়্যা বলে কলাধর  ||
রাজপুত্র হইয়্যা কেমনে হব বাঘ |
ব্রহ্মার জননী তুমি মোরে এত দাগ ||
বাঘরূপে কেমনে বঞ্চিব গিয়া বনে |
দয়া কর জয়দূর্গা দাসীর নন্দনে  ||
অসুর দেবতা দেখ্যা করে হায় হায়  |
নাচিতে নাচিতে নাটো বাঘ হয়্যা যায়  ||
কর্পূর বলেন দাদা অবধান কর |
নিবেদন বিশেষ তোমার বরাবর ||
বলিব বাঘের কথা তুমি দেহ মন |
দুই দন্ড পদ্ধতি হইব বিলম্বন ||
তবে অভিশাপ যদি কলাধরে হৈল  |
সভা ভাঙ্গি দেবতা অসুর ঘরে গেল  ||
শচী ঠাকুরাণী কান্দে ইন্দ্র মঘবান |
দেবীর চরে চরণে নাটো গড়াগড়ি যান ||
কান্দিতে কান্দিতে শোকে হৈল অচেতন  |
বনে পশুরূপ হব ইন্দ্রের নন্দন ||
কেমনে মরিব আমি কেমনে তরিব |
এহি উপদেশ আমি কোথা গেলে পাব ||
দেবী বলে ব্যর্থ নহে আমার বচন  |
কিসের বিনয় কর ধরিয়া চরণ  ||
বাঘিনী-জঠরে তুমি জন্ম লৈতে চল  |
জালান্দার রাজা হবে নাম কামদল ||
তবে যদি কদাচ কচ্ছপ অবতার |
তার হাতে হবে তোর পাতক উদ্ধার ||
এত বলি বাঘে চড়ি কৈলাস বিদায়  |
জনমিতে বসুমতী কলাধর যায়  ||
জীবন তেজিল নাটো জাহ্নবীর জলে |
জনমিতে কলাধর আইল মহীতলে  ||
বাঘ পায়্যা বাঘিনী কাননে সঙ্গ যায়  |
তবে নাটো কলাধর জন্ম নিল তার ||
জন্মিল শার্দূলগর্ভে ইন্দ্রের কোঙর |
অকালে হইল শোক অমরানগর ||
গর্ভবতী বাঘিনী রূপিনী দিনে দিনে |
বঞ্চিল বিস্তর দিন চাঁপাইর বনে  ||
যোখানে সেখানে থাকে সব খায়্যা বুলে  |
পুখুর-গাবালে থাকে কিবা নদীকুলে  ||
গর্ভ বত্সর যদি পরিপূর্ণ হৈল  |
জালান্দার গড়ে আসি দরশন দিল  ||
সমুখ রজনীকালে কষ্টব্যথা খায় |
উলু বন বেনা ঝাড়ে গড়াগড়ি যায় ||
দুহাথে ধরিয়া তোলে শেওড়ার ঝাড় |
ধাত্তাধাই বেড়ায় পুখুর চারিপাড়  ||
বনে ডাকে বাঘিনী বাড়িল কষ্টব্যথা  |
মাটি আঁচড়িয়া বুলে ছিন্ডে লতাপাতা ||
প্রসব হইল বাঘী তারাদিঘী ঘাটে  |
বাছা কোলে করিয়া বাঘিনী অঙ্গ চাটে  ||
ভূমিষ্ঠ হইল যদি বাঘ কামদল  |
চরণের ভরে মহী করে টলবল  ||
বাঘশিশু বাতাসে হইল বলবান |
নিবেদন করিল জননী বিদ্যমান ||
ক্ষুধায় কাতর তনু না দেখি নয়নে |
কিবা খাব কোথা যাব বুদ্ধি নাই মনে ||
বাছা কোলে করি কিছু বলিল বাঘিনী |
দুগ্ধপান কর বাপু মনে ভাব কেনি ||
আমি যদি পয়োধরে জুড়িব চুমুক  |
এখনি মরিবে তুমি বিদারিয়া বুক ||
একই চুমুকে তুমি তেজিবে পরাণ  |
শিকার করিয়া দেহ করি জলপান ||
গন্ডা দশ হরিণ মহিষ দেহ খাই  |
বাঘী বলে মৃগয়া করিতে তব যাই  ||
এত বলি মৃগয়া করিতে রূপী যায়  |
বেনা বনে শিশু রহে পুখুর-গাবায়  ||
রবির কিরণে পড়্যা থাকে কামদল  |
পার হৈল বাঘিনী ভৈরবী গঙ্গাজল ||
রায়দীঘি দক্ষিণে গউড়ে নিল থানা |
গতায়তি সকল শহরে হৈল মানা ||
ছাগল গাড়র গরু লাফ দিয়া ধরে  |
বাঘের জঞ্জাল হৈল গৌড় শহরে   ||
বারতা পাইল তবে রাজা গৌড়েশ্বর  |
সাজিল বিস্তর সেনা বাঘিনী উপর ||
বাঘিনী নিধান হৈল রাজার শিকারে  |
বিধাতার নির্বন্ধ ঘুচাতে কেবা পারে ||
হেথা বাঘশিশু  বনে গড়াগড়ি যায় |
তিনদিন হইল আহার নাহি পায় ||
যুগী যেন যোগে আছে পরিজ্ঞান নাই |
সেইমত বাঘশিশু পড়্যা একু ঠাঁই  ||
তবে জালান্দার রাজা জালালশিখর |
রাম-অবতার যেন অযোধ্যা নগর  ||
কর্ণের সমান দাতা ধনে মহাধনী  |
কৃষ্ণপরায়ণ বড় সর্ব ঠাঁই শুনি  ||
সতী যতী সংসারে দেখিলে পরিতোষ |
অপুত্রক মহারাজা এইমাত্র দোষ  ||
চারি লক্ষ ঘোড়া সঙ্গে তুরকী টাঙ্গন  |
মৃগয়া করিয়া রাজা ফিরে বনে বন ||
জাল্লালশিখর রাজা বড় ভাগ্যবান |
শিকার খেলিয়া তবে করে জলপান ||
মৃগশিশু না বধিলে সন্ধ্যা গাত্রী নাই  |
কুলে শীলে বলবন্ত বংশের বড়াই ||
একদিন জল্লালশিখর মহাশয়  |
শিকার খেলিতে গেল আনন্দ হৃদয় ||




.                                                   
বাঘজন্ম পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                 
এই পাতার উপরে . . .     


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
বাঘজন্ম পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
|| বাঘজন্মপালা ||
পৃষ্ঠা