রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
যাহ যাহ দুয়ারী বিলম্বে কার্য নাই  |
পারণার ভিক্ষা মাগে আপনি গোঁসাই ||
শিবের বচন শিঙ্গা জোড়হাথে নিল |
অন্তঃপুরে রাজার সমুখে দেখা দিল ||
বলিল শিবের বাণী ভূপতির আগে  |
কোথাকার ভিখারী পারণা সজ্জ মাগে ||
রাজা বলে কহ গিয়া ভিখারীর তরে |
আজি কেবা ভিক্ষা দিব রাজা নাই ঘরে ||
জোড়হাথে নিল মাথে রাজার বচন  |
ভিক্ষুক সদনে দ্বারী করে নিবেদন ||
রাজা ঘরে নাই আজি ভিক্ষা দিবে কে |
আপনার ঝুলি কাঁথা সম্বরিয়া নে ||
ঘাড়ধাকা মারিয়া বাড়ীর বারি করে  |
তরুতলে দেখা দিল পার্বতী-গোচরে  ||
পার্বতী বলেন প্রভু তুমি মায়াধারী  |
সেবকে সম্পদ দিয়া আপনি ভিখারী ||
অবধানে শুন প্রভু ভকত-বত্সল  |
আমার সেবক আছে বাঘ কামদল  ||
হোর দেখ লোহার খাঁচায় বন্দী আছে |
এত বলি পার্বতী শঙ্কর গেল কাছে  ||
হরগৌরী দেখিল শার্দূল বিচক্ষণ  |
কান্দিতে কান্দিতে বলে করুণা বচন  ||
পার কর বিষম সঙ্কটে পশুপতি  |
শঙ্কর বলেন বাঘে সাক্ষাত পার্বতী  ||
শিব বলেন শার্দূল তোমাকে দিব বর |
আজি হৈতে রাজা তুমি জালান্দা ভিতর  ||
অকপটে শিব যদি বাঘে বর দিল  |
সুমেরু পর্বতে যেন বজ্জর পড়িল  ||
শঙ্কর বলেন গৌরী শুন মন দিয়া  |
খাঁচার কুলুপ তুমি দেহ ঘুচাইয়া  ||
বর দিনু এই বাঘে তোমার বচনে  |
অভয়া বলেন তবে অভয় চরণে  ||
বর পায়্যা বৃকাসুর হয়্যা গেল ছাই |
এমন গুণের নিধি কোথা গেলে পাই ||
কোথা গেল মেঘনাদ রাজা দশানন  |
প্রত্যয় না পাই মনে তোমার বচন ||
এত বলি খাঁচার কুলুপ খসাইল  |
শিবের সমুখে তথা ঈশ্বরী রহিল  ||
বেগে নিঃসরিল বাঘ নাঞি পাই সাড়া  |
শিবের বলদ দেখি তারে দিল তারা ||
শিব বলে রক্ষা কর গণেশের মা |
মহামায়া বাঘের কোমরে দিল পা  ||
কৈলাস পর্বত পাইল পার্বতী শঙ্কর  |
দ্বিজ রূপরাম গান অনাদ্যের বর ||
কর্পূর বলেন শুন মোর নিবেদন  |
কহিব বাঘের কথা তুমি দেহ মন  ||
এইরূপে বাঘটি শিবের পায়্যা বর  |
অকস্মাৎ রাজা হৈল জালান্দা ভিতর  ||
লুট কব়্যা খায় বাঘ চৌরাশি বাজার |
গরু মহিষ খাইয়া করিল একাকার ||
ছাগল গাড়র খায়্যা একাকার করে |
নিরন্তর বেড়ায় সভার ঘরে ঘরে ||
কুম্ভকার বর্ণিক বারুই ধব়্যা খায় |
সন্ধ্যাকাল হইলে তাঁতির বাড়ী যায় ||
তাঁতি ভাই তাঁত বোনে ঘন মাথা নাড়ে |
লম্ফ দিয়া বাঘটি ধরিল তার ঘাড়ে ||
বুকের কলিজা খায় দিয়া চুমকুড়ি |
সুতা পেলি বটুনি পালায় গুঁড়িগুঁড়ি ||
কুম্ভকার ঘর যায় অপরাহ্ন কালে |
ঘরের ভিতর পড়ে বিদারিয়া চালে ||
যুবতী বালক ধরে যুবা আর বুড়া |
চিবাইয়া ঐমনি দশনে করে গুঁড়া ||
মালীঘরে দেখা দিল তিন পর রাতি  |
সাত বেটা খাইল তার আর দশ নাতি ||
ঘরে ধরে মানুষ গোধন ধরে মাঠে |
বাঘ বাঘ বলিতে ব্রহ্মার বল টুটে  ||
অরুণ-উদয়ে দেখা নাপিতের ঘরে  |
জয়দূর্গা বলি বাঘ বসিল দুয়ারে  ||
কার খায় কলিজা বসিয়া মাঝবুকে |
কার লোহ পান করে চঞ্চল চমুকে  ||
একে একে ধব়্যা খায় গুয়ালার পাল |
কুশমেট্যা বাগদি দুয়ারে দিল শাল  ||
ঘোড়াশালে ধব়্যা খায় রাউতের ঘোড়া  |
দরশন দিল তবে মিঞাদের পাড়া  ||
বাঘ দেখ্যা বিবি যত আইউই বলে  |
দেখহ বাবাজী মিঞা বাঘ পাছে গেলে ||
বিবি রাখ্যা তরাসে পলায়্যা যায় বান্দী  |
লুকায়্যা রহিল গিয়া মরাই-র সান্ধি ||
এইরূপে বাঘটা মহিষ গরু খায় |
নিশিযোগে ঘরে ঘরে বুলিয়া বেড়ায় ||
জালান্দার পালায় বিস্তর লোকজন |
বাঘ বধিবারে রাজা করিল সাজন  ||
বিশাল দুন্দুভি ঘোর বাজে বিপরীত |
অসুর দেবতা যত মনে চমকিত  ||
কানে কান বিস্তর সাজিল হাথিঘোড়া |
ঢালী পাইক বন্দুকী ধানুকী ফলা খাঁড়া ||

.  ******************     


|| বাঘজন্ম পালা সমাপ্ত ||

.                                                                এই পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
বাঘজন্ম পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
|| বাঘজন্মপালা ||
পৃষ্ঠা