রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
মনে দুঃখ দুভাই কেমনে বান্ধা রব |
পরিণামে কেমনে উদ্ধার তবে পাব ||
অতি বড় বিপত্ত তোমার হইল ভাই |
আমি রাত্রি গউড় গোলাঙ ধাত্তাধাই ||
আদ্দাস করিলাঙ গিয়া মাথা গৌড়েশ্বরে |
পরিচয় দিনু গিয়া বসিয়া দরবারে ||
এ বোল শুনিঞা বড় দুঃখী হইল মামা |
আমার ভাগিনা ভুলায় বারুই-র রামা ||
মনে দুঃখ হৈল বন্দী লাউসেন ভাগিনা |
গদাধরে গৌড়েশ্বরে লিখিল পরোনা ||
গগনে উদয় যখন দুই পর রাতি |
বিজুলি বিষম ঝড় অন্ধকার রাতি ||
বরিষণ গগনে সঘনে বাজে শিল |
বিস্তর সঙ্কটে দাদা জামতি দাখিল ||
গদাধরে পরোনা রাজার দিনু পান |
আমা হৈতে দাদা তোমার হয়্যাছে ছোড়ান ||
কর্পূর করুণাবাণী বলে সুধাময় |
সাবাস কর্পূর বীর লাউসেন কয়||
আমি ভাবি কর্পূর লুকাল্য কোন কোণে |
এত বড় দুঃখ পাইলে আমার কারণে ||
হায় হায় মরি মরি এ দুঃখ তোমার |
কোন পথে গৌড় গেলে ভৈরবীর পার ||
রাজা গৌড়েশ্বর বটে কেমন বরণ |
মামার বয়স কত বল বিবরণ ||
এ কথা শুনিতে বড় গাএ হইল বল |
কোন পথে গৌড় গেলে সেই পথে চল ||
এত শুনি কর্পূর করিল মাথা হেঁট |
পঞ্চমীর চন্দ্র যেন হৈল মহীলতা ||
মনে মনে কল্পনা চিন্তিল মনুহর |
হাসিতে হাসিতে বলে কর্পূর পাতর ||
আকার ইঙ্গিতে বলে মৃদুমন্দ ভাষা |
রাত্রে গিয়াছিলাঙ দিবসে লাগে দিশা ||
এত শুনি হাসেন ময়নার তপোধন |
দ্বিজ রূপরাম গান দৈমন্তীনন্দন ||
গৌড় যান লাউসেন ময়নার তপোধন |
জামতি নগর পাছু করিল তখন ||
স্নান পূজা দুইভাই কৈল জলপান |
বড় সুখে আনন্দে গৌড়পথে যান ||
কর্পূর পাতর পাছু চলে ধাত্তাধাই |
চৌদিকে নেহালে বড় আপদ বালাই ||
আস্য ভাই কর্পূর সঘনে ডাকে রাজা |
নাড়ু চিনি কিন্যা দিব আর চিড়াভাজা ||
আর দিব সন্দেশ মুড়কি পাকা কলা |
এখনি পরাব গলে মল্লিকার মালা ||
পাছু রাখে পদ্ধতি পাইল থানা ঘাট |
জামতির পূরবে রাখিল মতিপাট ||
পথুকে জিজ্ঞাসা করে কর্পূর পাতর |
হেথা হইতে কত দূর গৌড় নগর ||   
কত মজিলিস বই গৌড় গিয়া পাব |
কহ কহ কোন দেশ দিয়া মোরা যাব ||
এত শুনি পথুক সমুখে পুটপাণি |
প্রণাম করিয়া বলে সবিনয় বাণী ||
নিকট গোউড় ঐ গোলার শবদ |
ইন্দ্রকে অধিক গোসাঞি রাজার সম্পদ ||
ডানি পথ রাখিয়া বামের পথে যাবে |
মজিলিস রাখিয়া ভৈরবী গঙ্গা পাবে ||
পার হবে দুভাই তরণী সাবধান |
অগাধ সলিলে ঢেউ পর্বত প্রমাণ ||
এক নিশি বঞ্চিবে শীতলপুর ঘাট |
গঙ্গাপার হইয়া পাইবে রাজ্যপাট ||
গৌড় অমরাবতী অবনীর সার |
এই পথ শুভকর বৈদেশীকুমার ||
পথে নাই ডাকাত তস্কর মনসিরা |
লোক চলে রজনী আঁচলে সোনা হীরা ||
এত বলি পথুক প্রণাম দিয়া যায় |
কহিতে কহিতে দুঁহে রসপাড়া পায় ||
সরাণে সরাণে যান সরাই সরাই |
গোলাঘাট সমুখে উতরে দুই ভাই ||
দুই পথ দুদিকে জঙ্গল তার মাঝে |
লোক নাই নিকটে অপূর্ব বাদ্য বাজে ||
লাউসেন বলে শুন কর্পূর পাতর |
কোন পথে যাব ভাই গোউড় শহর ||
তোমা বিনে আমার সারথি আছে কে |
কোন পথে গোউড় যাব দিশা বল্যা দে ||
দেহারা দেউল দেখি আগে কোন গ্রাম |
পথশ্রমে দুঃখ বড় করিব বিশ্রাম ||
কালি গৌড় যাব আজ কেন ধাত্তাধাই |
আপনার কল্যাণ সদাই চিন্তি ভাই ||
তোমাকে জিজ্ঞাসি ভাই পথের সন্ধান |
মনে করি কর্পূর পাতর সব জান ||
সকল শাস্ত্রের কাব্য তব মুখে শুনি |
পড়াইতে পার তুমি ভারথ জয়মুনি ||
এত শুনি কর্পূর হইল আগুয়ান |
নিবেদিব এ কথা তোমার বিদ্যমান ||
ভবিষ্যতি বারতা বলিতে জানি সভ |
সংসার বিজই দাদা হাথে যার যব ||
সর্বকাল কি জানে পিশাচী উপাসনা |
পরিণামে দুঃখ তার দৈবের ঘটনা ||
কিবা গৌড় মথুরা পশ্চিম হরিদ্বার |
দুর্বার পাটন লঙ্কা সমুদ্রের পার ||
এ দেশের বারতা বিশেষ নিবেদন |
মায়্যা রাজার দেশে দাদা দিলে দরশন ||
এই দেশে নাহিক রাজার অধিকার |
আমি সব জানি ভাই রাজ্য ব্যবহার ||
শুন দাদা এ গ্রাম নগর গোলাহাট |
এখানে সংসার বই যুবতীর নাট ||
এহাকে বলি ভাই মায়্যারাজার দেশ |
যুবতী প্রধান এথা পুরুষ সন্দেশ ||
এই গ্রামে নিবসে সুরীক্ষা বাণেশ্বর |
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
জামতি পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
জামতি পালা
পৃষ্ঠা -              
বার মাস নগরে বিকায় |
পনস খাজুর পাকা                       সকলি ওষধ মাখা
আর কত রসে দিন যায় ||
সুরীক্ষা দেশের রাজা                    অন্য সব নটী প্রজা
রাজার দোহাই ইথে নাই |
সর্বকাল আছে ইথে                       আনন্দিত নাটগীতে
বঙ্গের বাহির এই ঠাঁই ||
রাজা নাঞি লয় কর                      নটী সব করে ঘর
লুট কব়্যা খায় রূপগুণে |
ধর্মের আদেশ পান                       দ্বিজ রূপরাম গান
যার কৃপা হৈল পলাসনে ||

.      ******************      


.                                                      
জামতিপালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                      
পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর