রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
যৌবন বালির বাঁধ গেল কোন দেশে |
অল্পদিনে বঞ্চিত হইনু পঞ্চরসে ||
নিরক্ষিতে বদন বিস্তর সাধ যায় |
মালিনী দুয়ারে বস্যা তরাসে পিছায় ||
ঘর প্রবেশিতে চায় রঙ্গিয়া মালিনী |
সুবর্ণ সলন কিবা দিবসের মণি ||
বুড়ী হইল পাগল চঞ্চল মুখে কয় |
রূপ দেখ্যা ইহার জীবন নাঞি রয় ||
এ হেন নাগর তোর নাই চিনি আমি |
ভর যুবতী কালে বন্য কেমন ছিলে তুমি ||
এমন নাগর রাখ্যা ঘরে সদাই মো |
পরের নাগর কোলে লয়্যা বল বন্য পো ||
পাটপড়শী হৈতে বন্য আমি তোমার পর |
এমন নাগর লয়্যা তোমার কত দিন ঘর ||
ভাজন বুড়ী বলে আমি আগে ঘর যাই |
এ নাগর পাইলে মনে বড় প্রীত পাই ||
মনে মনে করে বুড়ী পাছে অন্য দেখে |
মনোজে মাতাল হয়্যা মহির্মণ লেখে ||
আপনার ঘর গেল বিস্তর যতনে |
চালু সের ঘরে নাই পরিতে বসনে ||
মালী সইএর ঘর যাব এই ভাবে মনে |
শোলার পরিব গিয়া অষ্ট অভরণে ||
শোলার মাদুলি লব আর নাকচনা |
লাস বেশে এখনি ভুলাব মুনিজনা ||
ঘরে ঘরে খুঁজিল যুগল কড়া নাই |
নির্ধনী পুরুষে ধিক অসার বড়াই ||
মনে করে কি দিয়া শোলার শঙ্খ নিব |
যত কিছু সম্ভাবনা নগরে বেচিব ||
পাজ্জাত খাউই বেচে চরখা নিয়র |
পাঁচ গন্ডা বান্ধা দিল মাটিয়া পাথর||
নাটাই মলিন সুতা অল্প দরে দিল |
চারিকড়া ধুনখাড়া নগরে বেচিল ||
আর যত সম্ভাবনা সব বেচে বুড়ী |
ঘর দ্বার বেচ্যা পাইল দশপণ কড়ি ||
ধীরে ধীরে যায় বুড়ী চঞ্চল চরণ |
ছোট মালী সইএর ঘরে দিল দরশন ||
নিজালয়ে মালিনী শোলার ঝাঁপা গড়ে |
হেন বেলা ভাজনবুড়ী পায় গিয়া পড়ে ||
বেশ কব়্যা ভুলাইব বৈদেশী কুঙর |
শোলার অষ্ট অভরণ দিবে লঘুতর ||
একে সে মালীর মেয়্যা তায় দিল কড়ি |
শোলার গঠন দিল অলঙ্কার চুড়ি ||
ধরিল কমল করে কাতা খরসান |
ধীরে ধীরে শোলা গড়ে কুন্দের নির্মাণ ||
টাড় বালা পাসুলি বউলি করে সজ |
গড়িল শোলার শঙ্খ সাক্ষাত কবজ ||
রচিল ধর্মের গীত দ্বিজ রূপরাম |
আসর সহিত ধর্ম করিবে কল্যাণ ||

নানা অভরণ লয়্যা বুড়ীর গমণ |
আপন মন্দিরে আস্যা দিল দরশন ||
বসিলে উঠিতে নারে বুকে বাজে শেল |
সমুখ সীথায় মাখে তিনকড়ার তেল ||
চিরণি চিরণি বলি ঘন পড়ে সাড়া |
আনিল তিরণিখান তিন গোটা দাড়া ||
ঝাড়িয়া ঝুড়িয়া বুড়ী বান্ধিল লোটন |
হাথ বুলাইয়া দেখে ডাকুরে বন্ধন ||
ঘরেতে সিন্দুর নাই মনে করে বুড়ী |
কপালে তুলিয়া পরে পাটখাল গুঁড়ি ||
শোলার মাদুলি পরে মনের কৌতুকে |
কালা হাঁড়ির কাজল পরিল দুই চক্ষে ||
দিবসে দেখিতে নারে বাম চক্ষে ছানি |
রতি রতি যতনে পরিল কাল কানি ||
লাউসেনে ভুলাতে যায় মনে অভিলাষী |
উলুবন হইতে যেন বারাল্য পিচাশী ||
ধীরে ধীরে বুড়ী মাগী করিল গমন |
লাউসেনের কাছে গিয়া দিল দরশন ||
তুরিত গমনে গেল ডানি হাথে নড়ি |
কর্পূর বলেন দাদা সব হৈল ডেড়ি ||
এই নগরের কথা মন দিয়া শুন |
বুড়ী মাগীর দোষ নাই মৃত্তিকার গুণ ||
ভাজন বুড়ী বলে কোথা যাবে দুটি ভাই |
রূপের নিছনি লয়্যা আমি মব়্যা যাই ||
কোথা হইতে আইলে কোথায় তোমার ঘর |
তোমার বদন হেরি জুড়াল্য অন্তর ||
কোন দেশ হইতে আইলে দেহ পরিচয় |
আমাদের বন্ধু হবে এই মনে লয়||
লাউসেন বলে বুড়ী শুন মোর কথা |
মাএর নাম রঞ্জাবতী কর্ণসেন পিতা ||
বিশেষ কহিনু আমি লাউসেন বীর |
গোউড় শহর যাব মেস্বার মন্দির ||
ছোট ভাই বর্তমান কর্পূর পাতর |
নিবাস আমার বটে ময়না নগর ||
এত শুনি ভাজনবুড়ী হাসি হাসি কয় |
পরিচয় পাইনু রাজা আইস নিজালয় ||
কর্ণসেনের পুত্র যদি আমার হয় নাতি |
তোমা আমা বিলাস করিব সারারাতি ||
যখন যাত্য কর্ণসেন গোউড় ভুবন |
মাসী বল্যা দিয়া যাত্য পঞ্চাশ কাহন ||
সভে জানে মোর নাম বটে চন্দ্রকলা |
শর্বরী সময়ে এই রূপ হয় আলা ||
ষোল বত্সরের হয়্যা রব তোমার কাছে |
সকল রজনী রব মনে সাধ আছে ||
এত শুনি কর্পূর পাতর মারে চড় |
প্রাণ লয়্যা ভাজনবুড়ী উঠ্যা দিল র়ড় ||
পালায় ভাজনবুড়ী ডানিহাথে নড়ি|
শোলার ভূষণে ভূমে যায় গড়াগড়ি ||
যথা আছে বসিয়া সুরীক্ষা বাণেশ্বর |
চারিদিগে পরিপাটি ছকুড়ি নাগর ||
ছকুড়ি নাগর যত রাজার নন্দন |
দিব্য বস্ত্র পরিধান নানা অভরণ ||
নানা কাব্যশাস্ত্র জ্ঞাতা বিচারে পন্ডিত |
ওষধের গুণে সভে মরমে মোহিত ||
মনে পরিজ্ঞান নাই জনক জননী  |
বেউশ্যার সঙ্গে থাকে দিবস রজনী ||
সাত মতি দিবসে নিশির পালা সায় |
ধর্মের মঙ্গল দ্বিজ রূপরাম গায় ||
এইখানে রহিল গীত সভে বল হরি |
রথভরে ধর্মরাজ চল স্বর্গপুরী ||

.      ******************      

|| জামতি পালা সমাপ্ত ||

.                                                              এই পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
জামতি পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
জামতি পালা
পৃষ্ঠা -