রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
পার হয়্যা অজয়া ঢেকুরে হানা দিব |
আজ্ঞা পাইলে আমি একা ঢেকুর জিনিব ||
বৃষকেতু মহাবীর জানে সর্বলোকে |
কোন কার্য না করিল অর্জুন সমুখে ||
এত শুনি হরষিত রঞ্জার নন্দন |
বারালে হুকুম দিল ঘোড়ার সাজন ||
লাউসেন বলে তবে শুন মন দিয়া |
অন্ডির পাখর ঘোড়া আন সাজাইয়া ||
পুরট পিঞ্জরে পক্ষ পড়ে শারী শুয়া |
হাথে বন্দে পান রে মাথায় বন্দে গুয়া ||
অশ্বশালে বারাল দিলেক দরশন |
তিনবার বন্দিলেক ঘোড়ার চরণ ||
আগাড়ি পাছাড়ি তার দূরেতে আসিয়া |
কালিনী গঙ্গার ঘাটে জল দেখাইয়া ||
থানের ঘোড়া থানে বান্ধে অন্ডির পাখর |
পুরটের জিন দিল পৃষ্ঠের উপর ||
বামদিগে সাবধানে বন্ধিল কয়স |
তার উভে উর্মাল ঘাঘর গন্ডা দশ ||
রুনুঝুনু রুনুঝুনু বাজিছে মেখলা |
ঈষত লম্বিত কত পুরটের মালা ||
আশে পাশে মেখলা ভুজঙ্গ তায় দোলে |
পতঙ্গ ঊরিল যেন বিষ্ণুপদতলে ||
গলে বান্ধে গজকা চাময় গঙ্গাজল |
চলিতে চলিতে বাড়ে চারি পায়ে বল ||
বারজন বারাল ঘোড়ার সাজ করে |
অরুন্ধতী উদয় অনন্ত রূপ ধরে ||
ঘোড়ার সাজন করে হয়্যা সাবধান |
কেঙদ বাধের ছালে জুড়ে লেজ কান ||
নকুল বাঘের ছালে ছায়্যা তোলে জাঙ্গ |
কাচ সোনা মিশালে পড়িয়া গেল রাঙ্গ ||
রমরম সাজন করিল যদি ঘোড়া |
হামার দক্ষিণে বান্ধে জয়মাল্য খাঁড়া ||
সাজন করিল জিন পামরি বসনে |
হাতবানি চাবুক রাখিল সেইখানে ||
বদনে লাগাম দিয়া ধরে বাগডোর |
দুযাম তরণি অশ্ব যেন হৈল চোর ||
দুইদিগে বারাল ধরিল দশজন |
সহলে চলিল ঘোড়া চরণে চরণ ||
চেরাখ ফান্দনি চাল্য চরণে চতুর |
চলিতে চরণযুগে নাই ঠেকে ক্ষুর ||
কতখানি ফান্দনি চাকের পারা ঘোরে |
খঞ্জন গঞ্জন যেন পদ্মফুলে ফিরে ||
চলিতে চলিতে বাজী নাচে আগ পায় |
আনে বলে ঘোড়া পারা স্বর্গ যাত্যে চায় ||
সভা করি বস্যাছে দুর্লভ সদাগর |
হেনবেলা দেখা দিল অন্ডির পাখর ||
রাউত চিনিয়া ঘোড়া জুড়িল হিসনি |
যাহার চরণাঘাতে চঞ্চল অবনী ||
লাউসেন বলে অশ্ব শুন মোর ভাষা |
সর্বকালে মনে রাখি তোমার ভরসা ||
সবিনয় বচন বলিল তিনবার |
ঢেকুর মহিম যাব অজয়ার পার ||
পারাপার হব নদী অজয়ার জল |
পার কি না পার ঘোড়া সত্য কব়্যা বল ||
তোর নামে শহরে রসদ নাই মানা |
মহিম জিনিলে দিব দুই গুণ দানা ||
জিজ্ঞাসিল লাউসেন হেঁটমুখে শুনে |
অবনী আঁচড়ে তবে দক্ষিণ চরণে ||
একদন্ড বই ঘোড়া দিলেক উত্তর |
অবধানে শুনহ দুর্লভ সদাগর ||
নিশ্চয় বচন রাজা বলি তোর পায় |
জয় পরাজয় বাণী বলা নাহি যায় ||
সর্বকাল নাই থাকে সমুদ্রের জল |
সর্বকাল নাই থাকে পুরুষের বল ||
যেখানে সম্পদ আছে সেখানে অপায় |
কোথা আছে কর্ণ দাতা দুর্যোধন রায় ||
বলিতে বলিতে অশ্ব করে অহঙ্কার |
এক লম্ফে লয়্যা যাব কৈলাস দুয়ার ||
পার হব অজয়া ঢেকুরে দিব হানা |
ফতে হৈলে মহিম ময়নায় খাব দানা ||
ঘোড়ার বচন শুনি সেন হরষিত |
কালুসিংহ মহাবীরে বলিল তুরিত ||
তের দলুই সংহতি সাজন কর ভাই |
শুভক্ষণে অজয়া ঢেকুর চল যাই ||
এই সব তত্ত্ব যেন না জানে জননী |
যাইতে নাহিক দিব অজয়া অবনী ||
এত শুনি বীর কালু করিল গমন |

.      ******************      

.                                                 
নুমৃতা পালার পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                      
পাতার উপরে . . .   


মিলনসাগর
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা     
অনুমৃতা পালার আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
অনুমৃতা পালা
পৃষ্ঠা -