রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গল কাব্য
কবি রূপরাম চক্রবর্তীর ধর্মমঙ্গলের পরিচিতির পাতায় . . .
রূপরামের ধর্মমঙ্গল কাব্যের সূচি
আমি ধর্ম্ম-ঠাকুর বাঁকুড়ারায় নাম |
বার দিনের গীত বাপু গাও রূপরাম ||
[ আজ হৈতে রূপরাম আমার গাও গীত |
পরিণামে পাবে বড় মনের পিরীত || ]
ঠাকুর বলেন তুলে রাখ খুঙ্গি পুথি |
কালি হইতে আমার গাইবে বারমতি ||
চামর মন্দিরা দিব অপূর্ব্ব মাদুলি |
তুমি গেছ পাঠ পড়িতে আমি খুঁজ্যা বুলি ||
আমি ধর্ম্ম অনাদ্য তোমারে দিনু দেখা |
পূর্ব্বকালে ভাগ্য আছে কপালের লেখা ||
যে বোল বলিবে তুমি সেই হবে গীত |
সদাই গাইবে গুণ আমার চরিত ||
যখন শুনিব তোমার মন্দিরার ধ্বনি |
আসরে অবশ্য বাপু উড়িব আপুনি ||
খুঙ্গি পুথি সব [ তুমি ] তুল্যা রাখ ঘরে |
আনন্দে গাইবে গীত আমার আসরে ||
এত বলি মহাবিদ্যা দিল মোর কানে |
দিবসে তরাস-তনু দেখি চারি পানে ||
বলিবারে বচন বিলম্ব আর নাই |
গলেতে হাড়ের মালা দিলেন গোঁসাই ||
দম্ফ করে বলে দ্বিজ বিক্রমে বড়াই |
ব্রাহ্মণ পন্ডিত আমার গীতে কার্য্য নাই ||
এত শুনি অন্তর্ধান দেব নিরঞ্জন |
তিন দিন উপবাসী ধর্ম্মের কারণ ||
তিমিরে তপনমালা দেখিতে না পাই |
খুঙ্গি পুথি বান্ধিয়া ঐমনি দিল ধাই ||
দিশাহার হয়্যা ধায়্যা বুলি বেনা-বনে |
চঞ্চল বসন বেশ বড় ত্রাস মনে ||
আকাশে অনেক বেলা তৃষ্ণায় বিকল |
শাঁখারিপুকুরে খাইল পরিপূর্ণ জল ||
সন্ধ্যাকালে আচম্বিতে ঘরে দরশন |
প্রণাম করিব গিয়া মায়ের চরণ ||
সোনা হীরা দুটি বনি দুয়ারে বসিয়া |
রূপরাম দাদা আইল খুঙ্গি পুথি লৈয়া ||
হেন কালে আইল ঘর ভাই রত্নেশ্বর |
দাদাকে দেখিয়া বড় গায়ে আইল জ্বর ||
তরাসে কাঁপিল তনু তালপাত পারা |
পালাবার পথ নাঞি বুদ্ধি হইল হারা ||
বড়িতে বসিতে ভাই বলিল কুবচন |
জননী সহিত নাঞী হইল দরশন ||
দাদা বড় নিদারুণ বলে উচ্চস্বরে |
কালি গিয়াছ পাঠ পড়িতে আজি আইলা
.                                       ঘরে ||
কাছাড়িল জমুর অমর অভিধান |
বাহিরে সুবন্ত-টীকা গড়াগড়ি যান ||
পুনর্ব্বার মরমে বান্ধিল খুঙ্গি পুথি ||
নবদ্বীপে পড়িবারে যাব দিবারাতি |
সোনা হীরা দুটি বনি আছিল দুয়ারে ||
জননীকে বারতা বলিতে নাঞী পারে |
খুঙ্গি পুথি লৈয়া পুন করিল গমন |
তিন দিন উপবাসী দৈবের কারণ ||
শানিঘাট গ্রামে গিয়া দরশন দিল |
পথের পথিকে দেখ্যা জিজ্ঞাসা করিল ||
ঠাকুরদাস পাল তায় বড় ভাগ্যবান |
না বলিতে ভিক্ষা দিল আড়াই সের ধান ||
আড়াই সের ধানেতে কিনিল চিড়া ভাজা |
দামুদরের জলেতে করিল স্নান পূজা ||
জলপান করি তথা বড় অভিলাষে |
আচম্বিতে চিড়া ভাজা উড়াইল বাতাসে ||
চিড়া ভাজা উড়্যা গেল শুধু খাই জল |
খুঙ্গি পুথি বয়্যা যাইতে অঙ্গে নাই বল ||
দিগনগর গ্রামে গিয়া দরশন দিল |
তাঁতিঘরে কর্ম্ম বড় পথেতে শুনিল ||
দৈবহেতু দুঃখ পাই সহজে কাতর |
দক্ষিণা মাগিতে গেলাম তাঁতিদের ঘর ||
ধাওধাই তাঁতিঘরে দিল দরশন |
চিড়া-দধির ঘটা দেখি আনন্দিত মন ||
মনে কৈল পরিপূর্ণ খাব চিড়া দই |
তাঁতিঘরে ধর্ম্ম-ঠাকুর নাঞি দিল খই ||

.    ******************   


.                                                   
আত্মকাহিনীর পরের পৃষ্ঠায় . . .  
.                                                                
এই পাতার উপরে . . .     


মিলনসাগর
আত্মকাহিনীর আগের পৃষ্ঠায় . . .
রূপরামের ধর্ম্মমঙ্গল
||  আত্মকাহিনী  ||
পৃষ্ঠা -    
১    বন্দনা  পালা     
.          
গনেশ বন্দনা    
.          
ধর্ম্ম বন্দনা    
.          
ঠাকুরাণী বন্দনা     
.          
চৈতন্য বন্দনা    
.          
সরস্বতী বন্দনা     
.          
বিপ্র বন্দনা      
.          
দিগ্ বন্দনা    
২   
আত্মকাহিনী    
৩   
স্থাপনা পালা    
৪    
আদ্য ঢেকু পালা    
.           
গজেন্দ্র মোক্ষণ    
৫    
রঞ্জার বিবাহপালা     
৬   
লুইচন্দ্র পালা     
৭   
শালেভর পালা    
৮   
লাউসেনের জন্মপালা      
.            
পরিশিষ্ট, জন্মপালা      
৯   
লাউসেন চুরিপালা    
১০
আখড়া পালা     
১১
ফলানির্মাণ পালা     
১২
মল্লবধ পালা      
১৩
বাঘজন্মপালা     
১৪
বাঘবধ পালা      
১৫
জামতি পালা      
১৬
গোলাহাটপালা      
১৭
হস্তিবধপালা      
১৮
কাঙুরযাত্রাপালা      
১৯
কলিঙ্গাবিভাপালা     
২০
লৌহগন্ডারপালা       
২১
কানড়াবিভাপালা      
২২
অনুমৃতাপালা     
২৩
ইছাইবধপালা     
২৪
অঘোরবাদলপালা     
২৫
জাগরণপালা     
২৬
স্বর্গারোহণপালা