দিলীপকুমার রায়ের রচনা সম্ভার                                                       পাতার উপরে . . .   
অনামী (১৯৩৩), সূর্যমুখী (১৯৩৬) প্রভৃতি কাব্য রচনা করেছেন। তাঁর কবিতা মূলত ভক্তিরসাশ্রিত,
আঙ্গিকের দিক থেকে প্রাচীন। তাঁর অনেকগুলি উপন্যাস, যথা মনের পরশ (১৯২৬), রঙের পরশ (১৯৩৪),
দোলা (১৯৩৫), কাব্যময় ও বুদ্ধিদীপ্ত, আধুনিকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আবার তাঁর বহু গ্রন্থে, যেমন অঘটন
আজও ঘটে, লৌকিক-অলৌকিকের ভেদ ঘুচে গিয়ে ধর্মবিশ্বাসের মহিমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তাঁর ভ্রমণ কাহিনীগুলি - ভ্রাম্যমাণের দিনপঞ্জিকা (১৯২৬), ভূস্বর্গ চঞ্চল (১৯৪০), দেশে দেশে চলি উড়ে (১৯৫৮)
প্রভৃতি বহু তথ্যপূর্ণ এবং উপভোগ্য। স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থেও তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রয়েছে।

ইংরেজী ভাষাতেও তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং বাংলা থেকে একাধিক গ্রন্থের অনুবাদ করেছেন।
ইংরেজী
Among the Greats 'তীর্থঙ্কর' গ্রন্থ দুটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত গানের সংখ্যা বিপুল।

কলকাতার সংস্কৃত আকাদেমি তাঁকে “সুরসুধাকর” উপাধিতে ভূষিত  করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি সঙ্গীত
নাটক একাডেমীর ফেলোশিপে সম্মানিত হন।   

আমরা
মিলনসাগরে  কবি দিলীপকুমার রায়ের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।



কবি দিলীপকুমার রায়ের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



উত্স: ডঃ শিশির কুমার দাশ, সংসদ সাহিত্য সঙ্গী ২০০৩
.        সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত "সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান", ১ম ও ২য় খণ্ড, ২০১০।

.        
উইকিপেডিয়া।  
.        
অনুশীলন.অর্গ।      

আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২০০৫
পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৮.৩.২০১৫
পরিবর্ধিত সংস্করণ - ৩১.১.২০১৮
...
সঙ্গীত-শিক্ষা বিদেশ-ভ্রমণ ও সন্ন্যাস    
তাঁর দেশাত্মবোধক গীত ও ফীল্ড-মার্শাল কারিয়াপ্পা    
দিলীপকুমার রায়ের রচনা সম্ভার     
*
কবি দিলীপ কুমার রায় - প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ, সুগায়ক, সুরকার এবং ঔপন্যাসিক জন্মগ্রহণ করেন
নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে। পিতা
কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, মাতা সুরবালা দেবী। পিতামহীর পূর্বপুরুষ ছিলেন,
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর নিকট পরিকর অদ্বৈতাচার্য্য।  

শৈশবে মাতৃবিয়োগ হলে পিতাই তাঁকে মানুষ করেন। তাঁর ১৬ বছর বয়সে পিতা
দ্বিজেন্দ্রলালের মৃত্যু হলে
তিনি কলকাতায় মাতামহ হোমিয়প্যাথ প্রতাপচন্দ্র মজুমদারের কাছে প্রতিপালিত হন।

১৯১৮ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে গণিতে সাম্মানিক বি.এ. পাশ করে তিনি ইংলণ্ডের
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। সেখানে ১৯২০ সালে গণিত-এ ট্রাইপোস ১ম ভাগ পাশ করেন। ১৯২২
খৃষ্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
সঙ্গীত-শিক্ষা বিদেশ-ভ্রমণ ও সন্ন্যাস -                                                পাতার উপরে . . .   
কলকাতায় পড়াশুনার কালে তিনি হি
ন্দুস্তানী ওস্তাদি সঙ্গীতের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে,
শহরাঞ্চলে পদাবলী কীর্তনের প্রচলক ও প্রচারক,
রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র, তাঁকে কীর্তনের তালিম নিতে
বলেন। পদাবলী সাহিত্যের দিকপাল, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রামতনু অধ্যাপক,
খগেন্দ্রনাখ মিত্র ছিলেন
দ্বিজেন্দ্রলালের অন্তরঙ্গ বন্ধু। মূলত এই খগেনকাকার অনুপ্রেরণাতেই দিলীপ রায় কীর্তন গানে আকৃষ্ট হয়ে
তাঁর সাথে গিয়ে নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।
১৯৬০ সালে প্রকাশিত, দিলীপ রায় তাঁর
"স্মৃতিচারণ" গ্রন্থে এ কথা বিস্তারিত ভাবে লিখে গিয়েছেন।

ইংলণ্ডে শিক্ষাকালে তিনি পাশ্চাত্য সঙ্গীতেও পরীক্ষা পাশ করেন। এরপর জার্মান ও ইতালীয় সঙ্গীত শেখার
জন্য সেই দেশে যান। ১৯২২ খৃষ্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফিরে দিলীপ রায়, আবদুল করিম খাঁ, ফয়েজ খাঁ, পণ্ডিত ভাতখণ্ডে প্রমুখ ওস্তাদদের কাছে মার্গ
সঙ্গীতের তালিম নেন। ১৯২২ থেকে ১৯২৭ সময়কালে তিনি ভারত ভ্রমণ করেন। ১৯২৭ সালে সঙ্গীত সন্বন্ধে
বক্তৃতা দিতে য়ুরোপ যাত্রা। য়ুরোপে তিনি সান্নিধ্যে আসেন রোমা রোলা, হারমান হেস, জর্জেস ডুহামেল মত
মনীষীর সঙ্গে।

তাঁর গানের রেকর্ডের সংখ্যা শতাধিক। ৪০এর দশকে একটি হিন্দী ছায়াছবি প্রচণ্ড জনপ্রিয়তা লাভ করে
কারণ সেই সিনেমাতে বহু মীরা বাই-এর ভজন গেয়েছিলেন এম.এস.শুভলক্ষ্মী। সেই গানগুলির সংকলন এবং
সুর-সংযোজনা করেছিলেন দিলীপকুমার রায়। ৩০এর দশকে তাঁরা দুজন মিলে দুটি গান গেয়েছিলেন,
“বন্দেমাতরম” ও “ধন ধান্য পুষ্পে ভরা”। সঙ্গীতে তাঁর অমর কীর্তি “সেই বৃন্দাবনে লীলা অভিরাম চলে”।

১৯২৮ সালে তিনি যোগ জীবন বরণ করে নেন।
ঋষি অরবিন্দের শিষ্যত্ব গ্রহণ ক’রে ১৯৫০ পর্যন্ত তিনি
পণ্ডিচেরীর আশ্রমেই বসবাস করেন।

১৯৫৩ সালে শিষ্যা ইন্দিরা দেবী এবং অন্যান্যেদর চেষ্টায় মহারাষ্ট্রের পুণে-তে শ্রীহরিকৃষ্ণ মন্দির নামক
আশ্রমের প্রতিষ্ঠা হয়। সেখানে তিনি সন্ন্যাস জীবন যাপন করেন। এখানেই তিনি পরলোক গমন করেন।
*
তাঁর দেশাত্মবোধক গীত ও ফীল্ড মার্শাল কারিয়াপ্পা -                            পাতার উপরে . . .   
৫০এর দশকের শুরুর দিকে তিনি দুটি হিন্দী দেশাত্মক গান রচনা করেন। “হাম ভারত কে” এবং
 “নিশান
ঊঁচা কদম বঢ়া”। সেই গান দুটি ফীল্ড মার্শাল কারিয়াপ্পার এত ভালো লাগে যে তিনি গান দুটিকে ভারতীয়
সেনা মার্চিং সং-এর সূচীতে গ্রহণ করার সুপারিশ করেছিলেন।
*