অগ্নিযুগের বিপ্লবীরা মৃত্যুকে কিভাবে দেখেছেন ?
বিপ্লবী কবি গণেশ ঘোষ
(
কবিতাটি আমরা পেয়েছি ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (S.F.I.), পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির
সম্পাদক মণ্ডলীর সম্পাদনায়, কলকাতা বইমেলা ২০০৭ এ প্রকাশিত, কাব্যসংকলন
“প্রতিবাদী বাংলা কবিতার সংকলন” থেকে।
)

ক্রুর অত্যাচারে নিপীড়িতা মাতা
চক্ষে অশ্রুরাশি কণ্ঠে কাতরতা,
ডাকি কহিলেন “কেবা আছ কোথা,
আপনার প্রাণে ঘুচাইবে জননীর ব্যথা!”

যারা আগে ছিল পিছে যায় ত্রাসে,
সব ঠেলে এক যুবা আগে আসে,
বক্ষে হানি কর উচ্চে কহে বীর,
“মাতৃভূমি লাগি আমি দিব শির!”

শত্রুর চর ছিল আসে পাশে,
শুনি সে ঘোষণা আগাইয়া আসে ;
বিদ্রুপে কহে বাঁধিয়া যুবারে
মরিবারে চাহ মিলিবে অচিরে।

বিদেশী দস্যুরে কহিল তরুণ
তুলি উচ্চশির মৃত্যু ভয়হীন,
“আমারে দেখাও মরণের ভয়,
মরণের ভয়ে আমি ভীত নয়।”

পরদিন অস্পষ্ট নবীন প্রভাতে,
সূর্য তখনো আসেনি ধরাতে,
ঘাতক আসিয়া কয় করাঘাতে,
“যেতে হবে এবে, এস মোর সাথে।”

বন্দী গভীর সুপ্তি মগনে
স্বপন দেখিছে মধুর আননে
দেবী এক আসি
মৃদু মৃদু হাসি,
মুখ তুলি দেবী চাহে যুবা পানে।

বসিল দেবী শয্যার ধারে,
হাত বুলাইয়া দিল শিরোপরে,
মুছাইয়া মুখ আপনার করে,
ঢালি দিলা স্নেহ সীমাহীন ধারে।

অঞ্চলে দেবী মুছায় বদন,
চুম্বনে সুধা ঢালে অনুক্ষণ ;
আপন কণ্ঠের মালাখানি খুলি
বন্দীর গলে পরাইলা তুলি।

“কে গো, কে গো, দয়াময়ী
আসিলে হোথায় ?” বন্দী শুধায় ;
দেবী শুধু কয়, “আজি মধিপ্রাতে হয়েছে সময়
এসেছি মৃত্যু বরিতে তোমায়।”

.       ******************     
.                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
বিপ্লবী কবি গণেষ ঘোষ-এর কবিতা
*