কবি গীতা চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
*
গহরজানের পুরনো ডিস্ক
কবি গীতা চট্টোপাধ্যায়

কখনো বিদ্যুৎ নাচে মমতাশঙ্কর হয়ে কৈশোরের পাহাড়ী ময়ূর
কখনো জ্যোত্স্নাও হয় ছাদভর্তি অলিম্পাস দেবারতি মিত্রের কবিতা।
কখনো গহনরাত্রি শেষতারা পদাবলী-পারানো আকাশে নিশিভোর
ভৈরবীতে ঋতু গুহ “কাঙাল আমারে” আহা, কী কাতর করেন কাঙাল!
কলকাতা-কলের শব্দে সব ডুবে গেলে, বহু পুরনো বরফ বেলফুল
বেনারসী আতরের নষ্টগন্ধে অলৌকিক লক্নৌয়ের ঝলক বাতাস
পুরনো ডিস্কের থেকে উড়ে আসে পাঁজরের রাত্রিভর দ্বিতীয় প্রহরে
গহরজানের মনকেমনের খাম্বাজে সে ফিরে ফিরে “নিমেষের দেখা . . .”

সেইসব দিন কবে চলে গেছে অস্ট্রেলিয় ঘোড়া জুতে ব্রুহামে অতীত!
পারস্য আতরদান, গজলগোলাপী সন্ধ্যা, বাঘমুণ্ডী ছড়ির দাপট,
হীরের আংটির থেকে হিংস্রধার আভিজাত্য সাতচেরা সূর্যের বিদায়
কাঁচের শামদান ঘিরে নাচঘরে অন্ধ পূর্বপুরুষের ধূমাঙ্ক বিস্মৃতি---
তবু নিমেষের দেখা কাকে নিবেদন করে খাম্বাজে গহরজান বিবি ?
বাতিল হয়েছে কবে হারমোনিয়ামেপ সুরে কিন্নরীর নিরুদ্দেশ প্রেম
কপালে ঝাপটার থেকে কবে চুল খসে পড়ে ঢেকেছে ও-নজরমহল
রতনচূড়ের সাধ খসে গেল রমণীর অঙ্গুলির রক্তপাতে চুনি
ঘুঙুরের শূন্যগুলি কোনো অবসরে আর পরিপূর্ণ হবে না সময়ে।
আঁখিতে মজাবে তবু নিষিদ্ধ নগরে বসে গহরের “আঁখির বালাই”,
কোমল নিষাদে খেলা সাঙ্গ হলে গতরাত্রি,  তখনো খাম্বাজে অভিভূত,
পুরনো ডিস্কের পথে মৃততারকার গান অনিঃশেষ নিমিষের দেখা।

.           
             *************************      
.                                                                                   
সূচিতে . . .      



মিলনসাগর       
*
ধ্বজা পূজা
কবি গীতা চট্টোপাধ্যায়

তবে এবার পথে নাবো, আমিও নাববো।
.        ধ্বজায় রক্ত লেগে থাকে, লেগেই থাকে
মোচন করো, ত্রুটি মোচন, যুগোর সাক্ষ্যে
.        সময় এবং ঋতু বদল অসম্ভাব্য ?

দেখোনি কি দূর্গে ফাটল, পরিখাহীন
.        নিরাপত্তা বেড়া ভেঙে জনতরল
শূন্যে মুঠি আর ছোঁড়া নয়, মুঠি শূন্য
.        নিসর্গে ঠিক লেগে আছে অস্ত্র গরল।

বাড়াতে হাত টুকরো টুকরো ধ্বজা পূজায়
.        দেখবে নিশান হারিয়ে যাচ্ছে নানা রঙিন
ছেলেখেলা মশালবাহী সেনাদলের
.        ভয় দেখানো ; রাষ্ট্রনেতার উঁচু সঙিন।

প্রতিবাদী নিজেই বরং নিজের বিনাশ
.        এসো তবে আকাশভাঙা সর্বনাশে
কোথায় যাচ্ছ, ইতিহাসের গরঠিকানায়
.        আনবো ছাইয়ের মেঘের ভারী প্রতিভাসে।

ধ্বজা পূজা মানে তো ওই অস্ত্রপূজা ?
.        যে ছায়ারে ধরবো বলে সর্দারেরই
মেজ ছোট বড় সকল একাধারে
.        মদের ভাঁড়ার অস্ত্রশালা মন্দিরেরও।

জুজুর পুতুল সেজে আছো ধ্বজা আড়াল
.        কাকে নিরাপত্তা বলে লাগাতার খুন
একটি একটি প্রমাণ লোপাট দেখবে মাটি
.        এমন ভেজা, নিজেরই পা হড়কে করুণ।

ফাঁকার মধ্যে দাঁড়িয়ে একা কালপুরুষের
.        ভীষণ ঢালে ঢেকে যাচ্ছে যা অপ্রাপ্য
দুরাকাঙ্খের বৃথা ভ্রমণ, ধ্বজা ছিঁড়ে
.        তবে এবার পথে নাবো আমিও নাববো।

.             *************************      
.                                                                                   
সূচিতে . . .      



মিলনসাগর       
*
নীলকণ্ঠ পাখির পালক
কবি গীতা চট্টোপাধ্যায়

নন্দিনী। . . .  আমার জানালার সামনে ডালিমের ডালে রোজ নীলকণ্ঠপাখি
এসে বসে। আমি সন্ধে হলেই ধ্রুবতারাকে প্রণাম করে
বলি, ওর ডানার একটি পালক আমার ঘরে এসে যদি উড়ে
পড়ে তো জানবো, আমার রঞ্জন আসবে। --- রক্তকরবী


যদি বলি আমি পালক কুড়োবো বলে
কবে যেন সেই যাত্রা করেছি শুরু
তুমি কি সেই কথা বিশ্বাস করবে না
অপরে না হয় তুলেছে তুলুক ভুরু।

.        *************************      
.                                                                                   
সূচিতে . . .      



মিলনসাগর