কবি গোবিন্দচন্দ্র দাস - ছিলেন প্রখ্যাত স্বভাবকবি। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ঢাকায়। তাঁদের বাড়ি ছিল
ঢাকার ভাওয়ালপুরে। ভাওয়াল তার জীবনে ও কাব্যে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। পিতা রমানাথ দাস।

কবি, গ্রামের বিদ্যালয় থেকে ছাত্রবৃত্তি পেয়ে নর্মাল স্কুলে একবছর ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল স্কুলে পড়েন।  

ভাওয়ালের রাজা কালীনারায়ণ কবির শিক্ষার ভার গ্রহণ করেছিলেন। ভাওয়াল রাজপরিবারের সাহায্যে
তিনি কিছু লেখাপড়া করেন। কিন্তু রাজ পরিবারের সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হয় এবং রাজার এস্টেট  
ম্যানেজার কালীপ্রসন্ন ঘোষের সাথে তাঁর বিরোধীতার ফলে তিনি ভাওয়াল থেকে নির্বাসিত হন। এই বেদনা
ও অপমান তাঁর কবিতার প্রধান সুর। তাঁর আন্তরিকতা ও স্পষ্টতার জন্য তিনি "স্বভাব কবি" আখ্যা  
পেয়েছেন।

শেষজীবনে মুক্তগাছার জমিদার জগৎকিশোর আচার্য চৌধুরীর বৃত্তিমাত্র সম্বল ছিল। শেষের দিকে দেশবন্ধু
চিত্তরঞ্জন দাশ তাঁর চিকিত্সার ব্যায়ভার গ্রহণ করেন।

তিনি কলকাতায় বিভা পত্রিকার প্রকাশক ওবম শেরপুরে চারুবার্তা পত্রিকার অধ্যক্ষের পদে ছিলেন।

তাঁর কবিতা ওমর খৈয়ামের রুবাইয়াতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের
মধ্যে রয়েছে প্রসূন (১৮৭০), প্রেম ও ফুল (১৮৮৮), কুঙ্কুম (১৮৯২), চন্দন (১৮৯৬), ফুলরেণু (১৮৯৬),
শোকোচ্ছ্বাস, মগের মুল্লক, প্রভৃতি। তিনি গীতার কাব্যানুবাদ করেছিলেন।    

তাঁর কবিতার একটি বিষয় প্রেম। তীব্র আবেগ, অনাবৃত কামনা ও বলিষ্ঠ প্রকাশ ভঙ্গি তাঁর কবিতাকে
বিশিষ্টতা দিয়েছে। তাঁর কবিতার অন্য বিষয় স্বদেশ চিন্তা। দেশের ঐতিহ্য, প্রকৃতি সম্পর্কিত উচ্ছাসের
বদলে আছে স্বদেশীয় নীচতার প্রতি ধিক্কার এবং দেশবাসীর প্রতি অভিমান। “স্বদেশ স্বদেশ কর্চ্ছ কারে?”,
“ও ভাই বঙ্গবাসী, আমি মরলে তোমরা আমার চিতায় দিও মঠ” তাঁর দুই বিখ্যাত কবিতা।   


আমরা
মিলনসাগরে কবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই
প্রচেষ্টার সার্থকতা।



উত্স: ডঃ শিশির কুমার দাশ , সংসদ সাহিত্য সঙ্গী ২০০৩।  
.         ভবানী পাঠক, কবি গোবিন্দ্রচন্দ্র দাস, দেশ পত্রিকার পৌষ ১৩৪৭ (ডিসেম্বর ১৯৪০) সংখ্যা।   
.         সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, ২০১০।

.         
যোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত, গোবিন্দকাব্য চয়নিকা সংকলন, ১৯৪৮।    


কবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।    



আমাদের যোগাযোগের ঠিকানা :-   
মিলনসাগর       
srimilansengupta@yahoo.co.in      



এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২.৫.২০১৩
কবির ছবি সহ পরিবর্ধিত সংস্করণ - ১৫.১.২০১৭


.