কবি হরকুমারী সেন-এর কবিতা
*
রাজা বলে, বটে বেটা এত বড় কথা ?
যত বড় মুখ নয়, তত বড় কথা ?
গরীব ব্রাহ্মণ বেটা নিরন্ন হইয়া
বিবাহ করিতে চাহ আমার তনয়া ?
এ দুষ্ট ব্রাহ্মণে মন্ত্রী কর বন্দী এবে,
দেখিব কেমনে ওর লাভ এত হবে!
কন্যার বিবাহ আজ হইবে নিশায়,
মোর কারাগারে রাখা উচিত যে নয় ;
গণ্ডগোলে সেই কালে পালাবে নিশ্চয়,
অতএব রেখে এস তোমার আলয়।,
যে আজ্ঞা বলিয়া মন্ত্রী ধরিয়া ব্রাহ্মণে
লইয়া চলিল তবে আপন ভবনে।
পথে গিয়া গবচন্দ্র জিজ্ঞালে ব্রাহ্মণে,
পরিচয় কিবা তব, বাস কোন স্থানে ?
দ্বিজ বলে, বন্দী-পরিচয়ে কিবা কাম ?
জানিও জামাই-বেটা এবন্দীর নাম।
বাটী গিয়া গৃহিণীরে কহে মন্ত্রী ডেকে  
সতর্কে রাখিও এই জামাই বেটাকে।
সচিব-প্রেয়সী তবে ভাবে মনে মনে,
বহুদিন পরে এল জামাতা এখানে।
পরম আদরে মন্ত্রীপ্রিয়া জামাতাকে
চর্ব্য, চোষ্য, লেহ্য, পেয় খাওয়াইল সুখে।
আহারান্তে সুখশয্যা করিলা গৃহিণী,
শয়ন করিল মহা সুখে দ্বিজমণি।
হেন কালে ম্নত্রীকন্যা এলেন তথায়,
এইবার আরম্ভিল মান অভিনয় ; ---
চরণে এতই আমি করেছি কি দোষ,
কেন মোর প্রতি এত করিয়াছ রোষ ?
ছল করি দ্বিজ তবে কহিল তাহারে,---
সত্য অপরাধী আমি, ক্ষমা কর মোরে ;
রাজকন্যা বিবাহ হইবে আজ নিশি,
নিমন্ত্রণ আছে মোর সেথায় প্রেয়সী!
অতএব শীঘ্র করি যেতে হবে সেথায়,
বিলম্বিলে রাজা মনে পাইবেন ব্যথা।
নিতান্তই সেথা যদি যাবে প্রানেশ্বর!
এ মলিন বেশ-ভূষা কর পরিহার।
আমার পিতার আছে উত্তম ভূষণ,
তাহা পরি’ রাজবাটি করহে গমন।
শীঘ্র গিয়া মন্ত্রীকন্যা চিরুণি আনিল,
সুচারু করিয়া তাঁর কেশ বিনোদিল।
কি দিয়া রুক্ষতা নাশে, ভাবে মনে মনে,
হেনকালে “কুন্তলীন” পড়ে তাঁর মনে।
এরূপে সুবেশে দ্বিজ হইয়া ভুষিত
রাজবাটি অভিমুখে চলিল ত্বরিত।
রাজবাটী মন্ত্রীবাটি মধ্যে অবস্থিত,
প্রকাণ্ড প্রান্তর এক দিগন্ত বিস্তৃত ;
হেন কালে দেখে, বর রাজকন্যা আশে
শিবিকায় আরোহিয়া যায় মহোল্লাসে।
গাত্র হরিদ্রায় বহু খেয়ে নিমন্ত্রণ,
আমাশায় জন্মেছিল বরের তখন।
বাহকদিগকে বর কহিল ডাকিয়া,---
আরবার এই স্থানে দেহ নামাইয়া।
বাহকেরা কিছু দূরে সরিয়া বসিল,
এইকালে দ্বিজবর মনে কি ভাবিল ; ---
ত্বরিত শিবিকা মাঝে বৈসে স্থির হয়ে,
আদেশে শিবিকা শিঘ্র নিতে রাজালয়ে ;
যেমনি শিবিকা হল নীত অন্তঃপুরে
মুকুট পরিল দ্বিজ শীঘ্র শিরোপরে ;
মুকুটে আচ্ছন্ন শির, কেবা কারে চেনে ?
বসিল তখন দ্বিজ বিবাহ আসনে।
হবচন্দ্র সম্প্রদান করিল তনয়া,
দ্বিজকেই মনোনীত জামাতা ভাবিয়া।
হেনকালে দ্বিজরাজ মুকুট খুলিল,
দেখি, হবচন্দ্র রাজা অবাক্ হইল!
কি কৌশলে রাজকন্যা লভিল ব্রাহ্মণ,
বুঝাইয়া হবচন্দ্রে বলিল তখন।
ব্রাহ্মণের বুদ্ধি শুনি’ রাজা তুষ্ট হ’ল,
তখনি উদ্দেশ্যে শঙ্খচিলে প্রণমিল।
রাজ্যের অর্দ্ধেক দিল ব্রাহ্মণে তখন,
জামাতাকে সাধু কৈল সর্বজন।
        (পরিমার্জিত)

.        *************************      
.                                                                                   
সূচিতে . . .      



মিলনসাগর       
জামাই বেটার উপাখ্যান
কবি হরকুমারী সেন

পশ্চিম আকাশ রঞ্জি বিবিধ বরণে।
চলেছেন সূর্যদেব বিশ্রাম ভবনে ;