কবি ইন্দিরা দেবী চৌধুরানীর কবিতা
*
শেষ
কবি ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী

জীবন নাট্যের শেষ ভব রঙ্গভূমে
যবনিকা পড়ে গেল ধীরে ;
কি মধুর শান্ত হাসি ফুটে উঠেছিল, দুটি
স্লান পাণ্ডু অধরের তীরে।
ধীরে ধীরে অতি ধীরে স্তব্ধ হল হৃদি যন্ত্র
স্থির হল স্লথ দেহ লতা!
প্রশান্ত শান্তির মাঝে স্থিরভাবে মুদে এলো
মোহাচ্ছন্ন দুট্ আঁখি পাতা!

জীবনের সুখ দুঃখ বাসনার বিফলতা---
আকুলতা ভালবাসা বাসি,
স্নেহভক্তি প্রেম স্বার্থ ফুরাইয়া গেল সব
জগতের হাসি কান্না রাশি!
প্রকৃতি ঝটিকা অন্তে স্তব্ধভাবে চেয়ে আছে---
অসংযত ম্লানচ্ছিন্নবেশ!
একি মোহ! একি সুপ্তি! সুখ দুঃখ হরা শান্তি
ইহলোকে এরি নাম শেষ!

.           *****************
           

.                                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
ঊষা
কবি ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী

প্রকৃতির কাব্যকুঞ্জে কুসুমচারিণী---
অনবদ্য লক্ষ্মীরূপে অয়ি ঊষারাণি---
তুমি দেখা দিয়েছিলে প্রথম প্রভাতে
সদ্যস্নাত দিব্য বেশে ; স্বর্ণপাত্র হাতে
সাজায়ে পূজার অর্ঘ্য। শিশিরাক্ত জলে
ধরণীর তপ্ত বক্ষ সিক্ত করি দিয়া---
মাতৃস্তন্য সুধা সম। পাখি জাগি উঠি
গাহিল বিভুর নাম। পরিমল মাখি
স্নিগ্ধ বায়ু বিশ্বজনে দিল নব প্রাণ।
তপোবনে ঝঙ্কারিল পুণ্য বেদ গান
ঋষিবালকের কণ্ঠে। অয়ি আদি মাতা---
বিশ্বজগত্র তুমি প্রথম বন্দিতা!
যুগযুগান্তর হতে চির-মৌন-মুখে---
সম-অচঞ্চলা রহ শোক-দুঃখ-সুখে।
তবু তব দরশনে---পরশনে তব
মানবের মনে জাগে শান্তি অভিনব!

.           *****************            

.                                                                                          
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর