কবি জগদীশ ভট্টাচার্যর কবিতা
www.milansagar.com
*

.                 **************
.                                                                               
সূচিতে...




মিলনসাগর
*

.                 **************
.                                                                               
সূচিতে...




মিলনসাগর
*

.                 **************
.                                                                               
সূচিতে...   




মিলনসাগর
*
তবু স্বপ্ন সত্য নয়, রূঢ় রুক্ষ বাস্তব জীবন,
প্রতি পদে চূর্ণ হয় গজমোতি-মিনারবিলাস |
মধ্যবিত্ত গৃহস্থের দৈনন্দিন জীবন-সংগ্রামে
যে এল সঙ্গিনী হতে, আজন্মের মানসী আমার,
অর্ধেক রাজত্ব-হাতে রাজকন্যা মধুমালা নয়,
আমারি দোসর সে যে মধ্যবিত্ত-গৃহস্থদুহিতা |

শিশুকালে নদীকূলে সচন্দন পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে
শিবমূর্তি পূজা করে আমাকে সে করেনি কামনা ;
পল্লীর দুলালী নয়, শহরের পাষাণ-প্রাচীরে
বেড়েছে আড়ষ্ট প্রাণ নাগরিক কৃত্রিম রসদে |
যৌবন এসেছে দেহে কুমারীর অপরাধ হয়ে,
সলজ্জ সংকোচভরে ফ্রক ছেড়ে জড়ায়েছে শাড়ি ;
শহরের পথ বেয়ে ঘুরেছে সে ইস্কুল-কলেজে,
শিখেছে ইংরেজি-বিদ্যা শেষ অস্ত্র জীবন-সংগ্রামে |

তারপর একদিন উত্সবে বাঁশরী-সংগীতে
বেণী সুসংবদ্ধ ক’রে শিরে টেনে দিয়েছে গুন্ঠন,
মঙ্গল-সিন্দুরবিন্দু পরেছে সে সীমন্ত-সীমায়----
এসেছে জীবনলক্ষ্মী লক্ষ্মীছাড়া মধ্যবিত্ত ঘরে |
প্রথম-মিলন-রাতে সলজ্জিত বাসর-শয্যাতে
কানে-কানে-ডাকা নাম কাব্য হতে এলো না স্মরণে,
‘প্রেয়সী’ অথবা ‘প্রিয়ে’ --- মনে হল অসহ্য ন্যাকামি,------
সম্বোধন শুধু নয়, দাম্পত্যেরো নব-ইতিহাস |

ক্ষয়িষ্ণু সমাজবৃক্ষে শাখাশ্রয়ী স্বল্পপরিশরে
ভূমিসংস্রবহীন পরাশিত প্রাণ আমাদের,
যুগান্তের ঝড় এলে ভ্রষ্টনীড় শূন্যে যাব উড়ে
কিংবা ভাগ্য ভালো হলে ফিরে পাব মাটির আশ্রয় |
আপাতত ভাড়া-করা দেড়তলা ফ্ল্যাটের ভাড়াটে,
দুখানি সংকীর্ণ ঘরে শুরু হয় সাধের জীবন ;----
উদয়াস্ত পরিশ্রমে অস্তিত্বের প্রাণান্ত সংগ্রাম,
জীবিকার অন্বেষণে তিলে তিলে জীবনের ক্ষয় |

অচল সংসারযাত্রা টেনে টেনে নাভিশ্বাস ওঠে,
অবশেষে রাজপথে আব্রুহীন শুদ্ধান্তচারিণী,
অপিসে কেরানি সেজে গৃহলক্ষ্মী চালায় সংসার,----
দুজনের উপার্জনে কোনক্রমে জীবধর্ম চলে |
অভাব স্বভাব নষ্ট, খ’সে পড়ে বনেদি মুখোশ,
ক্রমশ ধাতস্থ হয় অন্ত্যজের অভদ্র জীবন,
ধনিক-বন্ধুর কাছে নিতে হয় করুণার দান-----
জানি তা দাদন মাত্র বংশবদ শিকারের লোভে |

ইংরেজি কেতাবে শেখা স্বাধীনতা হয় স্বেচ্ছাচারী----
চিরকেলে সেবাদাসী দিনে দিনে স্বাধীন-জেনানা ;
আমার বর্বর রক্তে ক্ষেপে ওঠে আদিম পুরুষ,
তাকে আমি শান্ত রাখি সভ্যতার সামমন্ত্র পড়ে |
সন্দীপের মোহকর্ষে উৎকেন্দ্রিতা আমার বিমলা,
আমি নিখিলেশ-শিষ্য, বন্দিনীর খুলেছি শৃঙ্খল ;
আমার বুর্জোয়া-তন্ত্রে উমা আর রাধার মিলন,
গৃহে বৃন্দাবন রচে আমি করি প্রেমের বিলাস |

‘পুত্রার্থে ক্রিয়তে ভার্যা’  আমাদের অনাচরণীয়,----
অব্যাহত জীবলীলা দরিদ্রের ঘরে অভিশাপ,
জন্মনিয়ন্ত্রণে তাই দীক্ষা নিয়ে পাশ্চাত্য গুরুর
নিশ্চিন্ত আরামে চলে নিশীথের তমিস্র-বিলাস |
তবু চোখে অশ্রু নামে, কান্না শুনি ভাবি জাতকের ,
আমার রক্তের মাঝে শুনি তার জন্মের প্রার্থনা,
দাম্পত্য-মিলনে কাঁদে মানুষের ভাবী বংশধর,
তবু তার মুক্তিপথ অবরূদ্ধ আমাদের শাপে |

যে-অটল ভিত্তিমূলে সভ্যতার শাশ্বত আশ্রয়
আজ দেখি সে-ভিত্তির চোরাবালি ধসে ধসে পড়ে,
যে সুন্দর সৌধতলে স্বপ্ন ছিল পূর্বপুরুষের
বিবর্ণ সে সৌধগাত্রে পঞ্জরাস্থি পড়েছে বেরিয়ে |
অতীত হয়েছে মিথ্যা, ভবিষ্যৎ দূর-মরীচিকা,
*
ধনীর লাঞ্ছনা দিয়ে রচা তার ম্লান দৃষ্টিশিখা,
বঞ্চনার গূঢ়ফণা কন্ঠ তার করিছে দংশন |
মায়ের না পেয়ে দয়া ফিরালো সে মোর পানে চোখ,
কহিল কাতর কন্ঠে, ‘দে না বাবা !’----দুটি মাত্র কথা ;
কিন্তু এ কি বলিল সে ! মিলনের এ কি নবশ্লোক !
দুটি মাত্র সম্বোধনে উচ্চারিত ভবিষ্য-বারতা !

অকস্মাৎ কি যে হল, নতমুখে হাতব্যাগ খুলি’
পশ্চাতে ফেলিল ছুঁড়ে ভিক্ষাপাত্রে একটি আধুলি |

.                 **************
.                                                                               
সূচিতে...   




মিলনসাগর
চতুষ্ক  
"একটি আলোর পাখি" থেকে
জগদীশ ভট্টাচার্য
 
আলোর মরাল  
"একটি আলোর পাখি" থেকে
জগদীশ ভট্টাচার্য
 
দুর্যোগের মেঘে-ঢাকা কৃষ্ণপ
কালবোশেখির ক্রোধ ক্ষিপ্ত ছি
শেষ-বসন্তের কান্না ঝরেছিল
অশুভ কী আশংকায় বিশ্ব
প্রসন্ন আকাশে আজ আনন্দি
সে যেন স্বর্গের শিশু, দুধে-দাঁ
মর্ত্যবালিকার খুশি দোল খা
দূর-শূন্যে উড়ে যায় শ্বেতশুভ্র

‘তুমি দূরে চলে গেলে জীবন
বলেছিলে কাল রাতে যন্ত্রণার
কপোলে মুক্তোর মালা ঝরেছি
আজ ভোরে ঘুম ভেঙে কন্ঠ
অধর তৃষিত হয় কী নব জী
প্রিয় দূরে চলে যায়, প্রেম ত
কালের কড়চা : ১৯৭০  
"একটি আলোর পাখি" থেকে
জগদীশ ভট্টাচার্য
 
হাঁটুতে ব্যান্ডেজ বাঁধা, খোঁড়া

.                পৃথিবীর আদি
.                নেমেছে শীতের
.                কুয়াশায় ঢেকে
.                ছেঁড়া ইতিহাসে
.                অঢেল পেট্রল
.                বেপরোয়া যুব
.                বিপ্লবের আগু

সে আগুনে পুড়ে ছাই রূপকথা
রবীন্দ্রনাথের মতো প্রেমস্ব
ময়নাপাড়ার মাঠে কৃষ্ণকলি
নবীন শ্যামল দেহে তমালে
এনেছে বিনিদ্র রাতে আষা
প্রেমের অমরাবতী উজ্জয়ি
সেখানে শিপ্রার তটে প্রেয়
মুখে-মাখা লোধ্ররেণু, লীলাপ
মণিদীপদীপ্ত কক্ষে হাত ধরে

রবীন্দ্রনাথের মতো প্রেমস্ব
আমারো যৌবন-স্বপ্নে ছেয়ে
প্রেয়সী  
"একটি আলোর পাখি" থেকে
জগদীশ ভট্টাচার্য
 

.                 **************
.                                                                               
সূচিতে...   




মিলনসাগর
ভূত-ভবিষ্যৎ-হারা অট্ট
মগজের আভিজাত্যের
কাঙাল নয়নে চাই উর্ধ্ব

তবু মনে স্বপ্ন নামে বা
স্বপ্ন নামে শ্রান্ত চোখে,
সৃষ্টির প্রবাহ বেয়ে স্বপ্ন
একই জীর্ণ শয্যাপ্রান্তে
জানি বন্ধ্যা, তবু সেই
ব্যর্থ এ জীবনযুদ্ধে উভ
আসন্ন ধ্বংসের মুখে স
প্রলয়ের অন্ধকারে কন্ঠ
এস্ প্ল্যানেডের মোড়ে
নব-অনুরাগবতী পাশে
সম্মুখ-যুবার চোখে নগ্ন
তোমার জ্বলন্ত ঘৃণা ফু

বাঁ-দিকে গড়ের মাঠ, ডা
তার মাঝে তুমি-আমি
মন কি আকাশে ওড়ে,
ফোটে কি হৃদয়-পদ্ম,

ভিক্ষাপাত্র তুলে ধরে ভি
‘একটি আধ্ লা দে মা !’
অনুচ্চারিত  
"একটি আলোর পাখি" থেকে
জগদীশ ভট্টাচার্য