কবি জগদীশ ভট্টাচার্য - জন্ম গ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার শ্রীহট্ট জেলার লামুয়া গ্রামে।
১৯৩০ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনি বৃত্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ “সন্ত্রাসবাদী দলের সক্রিয়
সদস্য” এই অজুহাতে তাঁর সেই বৃত্তি বাজেয়াপ্ত হয়।

সহায় সম্বলহীন অবস্থায় তিনি তখন কলকাতায় এসে বঙ্গবাসী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আচার্য গিরিশচন্দ্র বসুর
অনুগ্রহে তাঁর কলেজে ভর্তি হয়ে কলেজের ছাত্রাবাসে আশ্রয় পেয়েছিলেন।

১৯৩৬ সালে এম.এ. পাশ করার পরে তিনি উইমেনস কলেজ এবং সিটি কলেজে  দু’বছর অধ্যাপনার পর
দীর্ঘ ৩১ বছর তাঁর প্রিয় বঙ্গবাসী কলেজে অধ্যাপনা করেন। শেষ ১৩ বছর তিনি ছিলেন বিভাগীয় প্রধান
রূপে এবং পরে তিনি আট বছর ধরে বঙ্গবাসী কলেজ অফ কমার্স-এর অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করে গেছেন।
বঙ্গবাসী কলেজে বাংলায় এম.এ. ক্লাসের সূচনা তাঁর এক অক্ষয় কীর্তি।

১৯৯৩ সালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সান্মানিক ডি.লিট. উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৮৩ থেকে শুরু
করে দীর্ঘ দিন তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি ছিলেন। ১৯৮০ সালে ভারতীয় ভাষা পরিষদ তাঁকে
“ভুয়ালকা পুরস্কার”-এ ভূষিত করে। ১৯৮৩ সালে অমৃতবাজার পত্রিকা তাঁকে “শিশিরকুমার পুরস্কার”-এ  
ভূষিত করে। ১৯৮৪ সালে কলকাতার “টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটিউট” তাঁকে “রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য” উপাধি প্রদান
করে সম্মানিত করে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ২০০০ সালে বিদ্যাসাগর পুরস্কারে ভূষিত করে।

তাঁর কবি জীবন শুরু হয় চল্লিশের দশকে, রঙ্গ-ব্যঙ্গ ও হাসির কবিতা দিয়ে। “কলেজবয়” ছদ্মনামে লেখা
“ব্ল্যাকবোর্ড” কাব্যগ্রন্থের কবিতা সে যুগের ছাত্রদের মুখে মুখে ফিরত। তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে
রয়েছে “অষ্টাদশী” (১৯৩৩), “ক্ষণ-শাশ্বতী” (১৯৭১), “একটি আলোর পাখি”, “প্রেমকে মৃত্যুকে”, “লোকায়ত”
প্রভৃতি। তাঁর রচিত  “আমার কালের কয়েকজন কবি” আধুনিক বাংলা কাব্য সমালোচনায় একটি
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।  

১৯৪৫ সালে তিনি “নবরত্নমালায় রবীন্দ্রনাথের কবিতা” নামে একটি প্রবন্ধ লেখেন। যা কিনা
সত্যেন্দ্রনাথ
ঠাকুর সংকলিত “নবরত্নমালা শাস্ত্রীয় বচন, কাব্য ও বিবিধ কবিতা, এবং মহারাষ্ট্রীয় ভক্ত কবি টুকারামের
জীবনী ও অভঙ্গ সংগ্রহ” গ্রন্থের,
রবীন্দ্রনাথ দ্বারা অনুদিত কাব্যগুলিকে সঠিকভাবে, রবীন্দ্রনাথের ছন্দবন্ধ ও
কবিভাষার নিরিখে শনাক্ত করে লেখা একটি গবেষণা প্রবন্ধ।
রবীন্দ্রনাথ বিস্মিত হয়েছিলেন কবি জগদীশ
ভট্টাচার্যের এই অসাধারণ কৃতিত্ত্বে এবং একটি সাক্ষাত্কার দিয়ে কবিকে শান্তিনিকেতনে পড়াবার প্রস্তাব
দিয়েছিলেন। কিন্তু আর্থিক কারণে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারেন নি। যার জন্য তিনি আজীবন
অনুশোচনা করে গেছেন এবং তাঁর নিজের ভাষায় লিখেছিলেন “পোড়া অদৃষ্টের ওপর অভিমান করে
রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় কোনদিন শান্তিনিকেতন যাইনি”।  

এই কবি, অধ্যাপক ও সমালোচকের প্রতি, তাঁর জন্ম শতবর্ষে, তাঁর এই কবিতার পাতাই আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য।
আমরা
মিলনসাগরে  তাঁর কবিতা প্রকাশিত করে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের এই
প্রচেষ্টাকে সার্থক বলে মনে করবো।

কবি জগদীশ ভট্টাচার্যর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন

.                     
উত্স:  কবি উত্তম দাশ, জন্ম শতবর্ষে কবি-অধ্যাপক জগদীশ ভট্টাচার্য, বর্তমান, ২৯.০৪.২০১২   
.        
বি শিশির কুমার দাশ, সংসদ সাহিত্য সঙ্গী, ২০০৩


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in      


এই পাতার প্রকাশ - ১৭.০৬.২০১২
...