অবহট্ট বা অবহট্ঠ কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।   বহট্ঠ
১|       সো মহ কান্তা  
২|       
শিবগৃহিণীর গার্হস্থ্যদুঃখের বর্ণনা       
৩|       
সেকালের সাংসারিক সুখস্বাচ্ছন্দের উজ্জ্বল বাস্তব বর্ণনা          
৪|       
অবহট্ঠ কবিতায় কৌতুকরস    
৫|       
সেকালের বাঙালীর প্রিয় খাদ্যের একটি তালিকা      
৬|       
চাণক্যশ্লোকের অনুরূপ নীতি-কবিতা   
৭|       
“চর্যাগীতি” সম্বন্ধে রচনা             
৮|       
ললিত বুদ্ধের জীবন কাব্য        
৯|       
দরিদ্র বলে উপহাসিত কোন মূর্খের দম্ভোক্তি     
১০|      
অজ্ঞাতনামা কবি সেনাপতি জজ্জলের নামে গাঁথা কবিতা   
১১।     
আরো একটি কবিতায় সেনাপতি জজ্জলের সপ্রশংস উল্লেখ   
১২।     
কাশীশ্বরের রাজমন্ত্রী বিদ্যাধরের রচিত কবিতা      
১৩।     
আরেকটি কবিতায় কাশীশ্বরের প্রশস্তি      
১৪।     
কৃষ্ণের নৌকা-বিলাস          
১৫।     
কৃষ্ণপ্রিয়া রাধাকে নিয়ে চতুর্দশ শতাব্দের পূর্বের কবিতা    
১৬।    
 দাসী বিক্রয়ের হাটে সমাহৃত তরুণীদের তৌলন রূপ-গুণ বর্ণনা    
  
[ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্লগ্ বা সাইটে, আমাদের কোন লেখা, কবিতা বা
তার অংশবিশেষ নিলে, আমাদের মূল পাতা
http://www.milansagar.com/index.html
দয়া করে একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্লগ্  বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ ! ]
"প্রাকৃত-পৈঙ্গলে" উদ্ধৃত কোন কোন কবিতার ক্ষীণায়তনে উজ্জ্বল রসসৃষ্টি হয়েছে---

সো মহ কান্তা
দূর দিগন্তা
পাউস আএ
চেলু দুলাএ |


"সেই মোর কান্ত (এখন) দূর দিগন্তে | প্রাবৃষ (বর্ষাকাল) আসিতেছে (এখন) কাপড় উড়াইতে
হইবে |
"


.        **************    


.                                                           
                               উপরে

মিলনসাগর
*
শিবগৃহিণীর গার্হস্থ্যদুঃখের বর্ণনা---

বালো কুমারো ছঅ-মুণ্ডধারী
উবাঅহীণা মুই এক্ক-ণারী |
অহংণিসং খাই বিসং ভিখারী
গঈ ভবিত্তী কিল কা হমারী ||


“পুত্র বালক, উপরন্তু ছয়-মুণ্ডধারী (অর্থাৎ ছয় মুখে খায়), আমি একলা নারী উপায়হীনা, (স্বামী)
ভিখারী অহর্নিশ বিষ খায় | আমার কি গতি হইবে |”



.        **************    



.                                                           
                                 উপরে

মিলনসাগর
*
সেকালের সাংসারিক সুখস্বাচ্ছন্দের উজ্জ্বল বাস্তব বর্ণনা ---

পুত্ত পবিত্ত বহুত ধণা     ভত্তি কুটুম্বিণি সুদ্ধমণা |
হাক্ক তরাসই ভিচ্চগণা    কো কর বব্বর সগ্গমণা ||


“পুত্র পবিত্র (অর্থাৎ সচ্চরিত্র), বহুত ধন, কুটুম্বিনী (অর্থাৎ গৃহিণী) ভক্তিমতী ও শুদ্ধস্বভাব,
হাঁকে ত্রাস পায় ভৃত্যগণ | (এমন সংসারসুখ থাকিতে) কোন্ বর্বর স্বর্গে মন করে |”


.        **************    




.                                                                
                          উপরে

মিলনসাগর
*
অবহট্ঠ কবিতায় কৌতুকরস---

সের এক্ক জই পাঅই ঘিত্তা
মণ্ডা বীস পকাইল ণিত্তা |
টঙ্ক এক্ক জই সিন্ধব পাআ
জো হউ রঙ্ক সো হউ রাআ ||


“এক সের ঘী যদি মিলে যায় তবে নিত্য বিশটা মণ্ডা পাকানো হয় | যদি একটু
সৈন্ধব (লবণ) পাওয়া যায় তবে হোক সে নিঃস্ব তবুও সে রাজা |”


.        **************    




.                                                        
                         উপরে

মিলনসাগর
*
সেকালের বাঙালীর প্রিয় খাদ্যের একটি তালিকা---

ওগ্গর ভত্তা
রম্ভঅ পত্তা |
গাইক ঘিত্তা
দুগ্ধ সজুত্তা |
মোইণি মচ্ছা
নালিচ গচ্ছা |
দিজ্জই কন্তা
খাই পুনবন্তা ||


“উগরা ভাত, রম্ভার পাত (কলা পাতা), গাওয়া ঘী, জুতসই দুধ, ময়না মাছ, নালিতা
গাছ (অর্থাৎ পাট শাক) (রাঁধিয়া) দেয়, পুণ্যবাণ্ খাইতে পায় |”


.        **************    


.                                                    
                             উপরে

মিলনসাগর
*
চাণক্যশ্লোকের অনুরূপ নীতি-কবিতা---

পাণ্ডব-বংসহি জম্ম ধরীজে
সম্পঅ অজ্জিঅ বিপ্পঅ দীজে |
সোই জুহিট্ঠির সংকট পাআ
দেবঅ লিক্ খিঅ কেণ মেটাআ |


“পাণ্ডব-বংশে জন্ম ধরিল, সম্পদ অর্জিয়া বিপ্রকে দান করিল, --- সেই যুধিষ্ঠির সঙ্কট পাইল |
দৈবের লিখিত কে খণ্ডন করিতে পারে |”


.        **************    




.                                                       
                                  উপরে

মিলনসাগর
*
বাংলা সাহিত্যের সম্পর্কে “চর্যাগীতি” সম্বন্ধে “মানসোল্লাসে” চর্যার প্রবন্ধের সংজ্ঞা ও উদাহরণ
এইভাবে আছে

অর্থশ্চধ্যাত্মিকঃ প্রাসঃ পাদদ্বিতয়শোভনঃ |
উত্তরার্ধে ভবেদেবং চর্যা সা তু নিগদ্যতে ||
.                     সংসারসাঅর উত্তরে চড়িয়া |
.                     কোহ-লোহ-মোহ-বহুকেন ভরিয়া ||
.                     ইন্দিয়-পবণ খর বেগ বহন্তে |
.                     দুক্কিয় লহরী হণিয় ন পাঅন্তে ||
ঈদৃক পদানি চত্বারি দর্শিতানি ময়াধুনা |
অধ্যাত্মকার্যযুক্তানি চর্যানাম্নি প্রবন্ধকে ||


“অর্থ অধ্যত্মঘটিত, দুই চরণে মিল | দ্বিতীয় অর্ধেও তাহাই | ইহাকে বলা হয় চর্যা ||
.                      সংসার সাগর পার হইবার জন্য চড়া হইয়াছে,
.                      ক্রোধ-লোভ-মোহ দ্বারা প্রযুত ভরা হইয়াছে,
.                      ইন্দ্রিয় পবন খরবেগে বহিতেছে,
.                      দুষ্কৃত লহরী ধ্বংস করিতে পারিতেছে না ||
এই যে চারি পদ আমি এখন দেখাইলাম, (তাহা) অধ্যাত্মকার্যযুক্ত হয় চর্যা নামক প্রবন্ধে ||”


.        **************    



.                                                               
                               উপরে

মিলনসাগর
*
ললিত বুদ্ধের জীবন কাব্য, গদ্যে পদ্যে রচিত | রচনা কাল আনুমানিক খ্রীষ্টীয় পঞ্চম
শতক | গদ্যাংশ সাধু-সংস্কৃতঘেঁষা, পদ্যাংশ অপভ্রংশঘেঁষা |

পুরি তুম নরবর সুপু নৃপ যদভূ
নরু তব অভিমুখ ইম গিরমবচী |
দদ মম ইম মহি সনগরনিগমাং
ত্যজি তদ প্রমুদিতু ন চ মনু ক্ষুভিতো ||


“পূর্বে তুমি, হে নটবর, যখন নৃপসুত হইয়া জন্মিয়াছিলে, এক নর তোমার অভিমুখে
বলিয়াছিল, দাও আমাকে এই রাজ্য নগর-জনপদ সমেত | তাহা দান করিয়া প্রমুদিত
(হইয়াছিলে তুমি, তোমার) মন ক্ষুব্ধ হয় নাই”


.        **************    


.                                                               
               উপরে

মিলনসাগর
*
দরিদ্র বলে উপহাসিত কোন মূর্খের দম্ভোক্তি |

জড়াসো তড়াসো চারি হত্থো
ঘরহি অগ্গে খেড্ড বুত্তো |
গাই হোহী ঘরিণী বি দোহী
সো কিস বোল্ল অণহি নাহী ||


“যেমন তেমন চারি হাত | ঘরের আগে খড়ের গাদা | গাই হইবে, গৃহিণীও দুইটি
(হইবে) | কেন অমঙ্গল বল --- (আমার কিছু) নাই ?”


.        **************    


.                                                              
                   উপরে

মিলনসাগর
*
কোন এক অজ্ঞাতনামা কবি সেনাপতি জজ্জলের নামে গাঁথা কবিতা--

পিন্ধউ দিঢ় সণ্ণাহ           বাহু উপ্পর পক্খর দেই
বন্ধু সমদি রণ ধসউ        সামি হম্মীর-বঅণ লেই |
উড্ডল ণহ-পহ ভমউ       খগ্ গ  রিউ-সীসহি ডারউ
পক্খর পক্খর ঠেল্লি       পেল্লি পব্বঅ উপ্ ফারউ ||
.               হম্মীর-কজ্জু জজ্জল ভণই
.               কোহাণল মুহ-মুহ জলউ |
.               সুলতান-সীস করবাল দেই
.               তেজ্জি কলেবর দিঅ চলউ ||


“দৃঢ় বর্ম পড়ুক বাহুর উপর পাখর দিয়া, আত্মীয় বন্ধুর কাছে বিদায় লইয়া রণে মাতুক প্রভু
হম্মীরের বচন লইয়া | নভঃপথে উড়িয়া চলুক, খড়গ রিপুশির্ষে পাড়ুক, ঢালে ঢালে ঠেলিয়া
ফেলিয়া পর্বত উপড়াউক | হম্মীরের কাজে, (কবি সেনাপতি) জজ্জল বলে মুহুমুর্হু ক্রোধানল
জ্বলুক | সুলতানের শীর্ষে করবাল (তরবারি) দিয়া কলেবর ত্যাগ করিয়া স্বর্গে চলা যাউক |”


.        **************    


.                                                            
                                 উপরে

মিলনসাগর
*
আরো একটি কবিতায় সেনাপতি জজ্জলের সপ্রশংস উল্লেখ---

ঢোল্ল মারিঅ ঢিল্লি-মহ          মুচ্ছিঅ মেচ্ছ-সবীর
পুর জজ্জল মল্লবর              চলিঅ বীর হম্বীর |
চলিঅ বীর হম্বীর                পাঅ-ভর মেইণি কম্পই
দিগ-মগ-ণহ অন্ধার              ধূলি সূরহ রহ ঝম্পাই |
দিগ-মগ-ণহ অন্ধার              আণু খুরসাণক ওল্লা
দলবলি দমসি বিপক্খ          মারঅ ঢিল্লি-মহ ঢোল্লা ||


“ঢোল মারা হইল দিল্লি মাঝে | ম্লেচ্ছ শরীর মূর্চ্ছিত হইল | মল্লবর জজ্জলকে অগ্রে করিয়া
বীর হম্বীর চলিল | বীর হম্বীর চলিল | মেদিনী কাঁপিতেছে | দিক্ পথ আকাশ সব অন্ধকার |
ধূলায় সূর্যের রথ ঝাঁপিয়াছে ; দিক্ পথ সব অন্ধকার | খোরাসনের উল্লা আজ্ঞা দিল, ---
দলবলে বিপক্ষ দমন কর, দিল্লি মাঝে ঢোল পিটাও | (অথবা --- আজ্ঞা দিল দিল্লি মাঝে
দড়মসা ধামসা ও ঢোল পিটাইয়া, ‘বিপক্ষ মার’ | )”


.        **************    


.                                                 
                                       উপরে

মিলনসাগর
*
কোন এক কাশীশ্বরের রাজমন্ত্রী বিদ্যাধরের রচিত কবিতা---

ভঅ ভঞ্জিঅ বঙ্গা        ভঙিগু কলিঙ্গা         তেলঙ্গা রণ মুক্কি চলে
মরহট্টা ধিট্ঠা            লগ্গিঅ কট্ঠা           সোরট্ঠা ভঅ পাঅ পলে |
চম্পারণ কম্পা           পব্বঅ ঝম্পা           ওড্ডা ওড্ডি জীব হরে
কাসীসর রাণা            কিঅউ পআণা         বিজ্জাহর ভণ মন্তিবরে ||


“ভয়ে বঙ্গ ভাগিল, কলিঙ্গ ভঙ্গ দিল, তেলেঙ্গা রণ ছাড়িয়া চলিল, ধৃষ্ট মারাঠা কষ্টে পড়িল, সৌরাষ্ট্র
ভয়ে পায় পড়িল, চম্পারণ কাঁপিয়া পর্বতে লুকাইল | উড়িয়া উড়িয়া (পলাইয়া) জীবন রাখিল |
কাশীশ্বর রাজা অভিযান করিয়াছেন | মন্ত্রিবর বিদ্যাধর কহিতেছে |”


.        **************    


.                                                           
                                     উপরে

মিলনসাগর
*
আরেকটি কবিতায় কাশীশ্বরের প্রশস্তি ---

ভঞ্জিলা মালবা          গঞ্জিলা কাণড়া
জিণ্ণিআ গুজ্জরা        লুণ্ঠিআ কুঞ্জরা |
বঙ্গলা ভঙ্গলা            ওড্ডিআ মোড্ডিআ
মেচ্ছআ কম্পিআ       কিত্তিয়া থপ্পিআ ||


“মালব পরাজিত হইল, কর্ণাট গঞ্জিত (তিরস্কৃত) হইল, গুর্জর জিত হইল, কুঞ্জের লুণ্ঠিত হইল,
বাঙ্গালা ভঙ্গ দিল, উড়িয়া পিষ্ট হইল, ম্লেচ্ছরা কম্পিত হইল, কীর্ত্তি স্থাপিত হইল |”


.        **************    


.                                                 
                                        উপরে

মিলনসাগর
*
প্রাকৃত-পৈঙ্গলের একটি কবিতায় কৃষ্ণের নৌকা-বিলাস-কাহিনীর উল্লেখ---

অরে রে বাহিহি কাহ্ণ নাব
ছোড়ি ডগমগ কুগই ণ দেহি |
তুঁহুঁ এখনই সম্ভার দেই
জো চাহসি সো লেহি ||


“ওরে রে কৃষ্ণ, (তুমি) নৌকা বাহিবে | ডগমগ (নৌকার টলমলানি) ছাড়িয়া দাও, (আমাদের)
দুর্গতি দিও না | তুমি এখনই পার করিয়া দিয়া যাহা চাও তাহা লও |”


.        **************    


.                                                    
                                      উপরে

মিলনসাগর
*
কৃষ্ণপ্রিয়া রাধা যে চতুর্দশ শতাব্দের পূর্বেই দেবতাসমাজে সম্মানের আসন পেয়েছিলেন তার
অবান্তর প্রমাণ পাওয়া যায় প্রাকৃত-পৈঙ্গলের একটি পদে---

জিণি কংস বিণাসিঅ         কিত্তি পআসিঅ
.           মুট্টিঅরিট্টী         বির্ণাস করে
.                                গিরি হত্থ ধরে |
জমলজ্জুণ ভঞ্জিঅ             পঅভর গঞ্জিঅ
.           কালিঅ-কুল সং-   হার করে
.                                জস ভুঅণ ভরে |
চাণূর বিহণ্ডিঅ                ণিঅ-কুল মণ্ডিঅ
.       রাহা-মুহমহু             পাণ করে
.                                 জণি ভমরবরে |
সো তুম্ হ  ণরাঅণ            বিপ্প-পরাঅণ
.         চিত্তহ চিন্তিঅ         দেউ বরা
.                                 ভব-ভীই হরা ||


“যিনি কংস বিনাশ করিয়া কীর্তি প্রকাশ করিয়াছিলেন, মুষ্টিক অরিষ্টি বিনাশ করিয়াছিলেন,
হস্তে গিরি ধরিয়াছিলেন, যমলার্জুন ভঙ্গ করিয়াছিলেন, পদভরে নির্যাতন করিয়া কালিয়কুল
সংহার করিয়াছিলেন, যশে ভূবন ভরিয়াছিলেন, চাণূর বিখণ্ডিত করিয়া নিজকুল মণ্ডিত
করিয়াছিলেন, রাধা-মুখমধু পান করিয়াছিলেন --- যেমন ভ্রমরবর, সেই বিপ্রপরায়ণ নারায়ণ
তোমার চিত্তে চিন্তিত হইয়া ভবভীতিহর বর দান করুন |”



.        **************    


.                                                                   
উপরে

মিলনসাগর
*
মালব অর্থাৎ অধুনা মধ্যপ্রদেশের অন্তর্গত ধার (প্রাচীন ধারা) হতে পাওয়া শিলালিপিতে
অবহট্ট রচনা | শিলালিপিটি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাই গোড়ার অংশ খানিকটা
নেই এবং বর্তমানে মুম্বাইয়ের প্রিন্স অব্ ওয়েল্স্ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত রয়েছে | রচনাকাল
সম্ভবতঃ খ্রীষ্টীয় দ্বাদশ-ত্রয়োদশ শতাব্দ | রচনাটি একটি কবিতা | বিষয় বিভিন্ন অঞ্চল হতে
কন্যা ও দাসী বিক্রয়ের হাটে সমাহৃত তরুণীদের তৌলন রূপ-গুণ বর্ণনা |

আঁখিহি কাজলু তরলউ দীজই . . .
অহরু তম্বোলে মন মন রাতউ . . .
জালা-কাঁঠী গলই সুহাবই . . .
রাতউ কঞ্চুআ অতি সুঠু চাংগউ . . .
বিণু আহরণে জো পায়নহু সোহ . . .


“আঁখিতে কাজল হাল্কা করিয়া দেওয়া . . .
অধর তাম্বুলে ইষৎ রাঙা . . .
জালকাঁঠি গলায় শোভে . . .
রাঁঙা কাঁচুলি অতি সুন্দর চমত্কার . . .
বিনা আভরণে যে পায়ের শোভা . . .”

পরবর্তী বক্তা “কানোড়”(কর্ণাটক) পূর্ববর্তী বক্তাকে “গোহ” বলে সম্বোধন করছে | ইনি
দাক্ষিণাত্যের, ভাষায় মারাঠীর ছাপ আছে |

বলি অহি বাধলি অহি জে চাংগিম
তে বানতু কোউ . . . লাগিঁম | . . .
[ ও ] ঠহি আংতু জেঁ বিঅইল-ফুল্লেঁ
আছউ তাউঁ কি তেহ চেঁ বল্লেঁ |
কথিহিঁ রীঠে উজল লান্থ . . .
পাইহিঁ পাহংসিয়া নিরু চাংগা . . .
[ অইসি ] . . . তরুনিমঁ মাংডি
পাতলি কো ভাউহ্য ছাংডি |


“চুল বাঁধার যে সৌন্দর্য তাহা বর্ণিতে কে . . . সমর্থ হয় | . . .
ওষ্ঠাধর প্রান্ত যেন জুঁই ফুল | তা থাক --- তাহার কথায় কি হইবে | . . .
হাতে আংটি উজ্জ্বল ও সুন্দর . . .
পায়ে পাশুলি অত্যন্ত চমত্কার . . .
এমন . . . সুসজ্জিত তরুণীকে পাইয়া কোন্ ভাবুক ছাড়িয়া দিবে ?”  


.        **************    


.                                                        
                                উপরে

মিলনসাগর
*