কবি অলোক রঞ্জন দাশগুপ্ত-এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।  www.milansagar.com
১।    বুধুয়ার পাখি
২।    ছেলেটি          
৩।    
ধুবরণ                              
৪।    
এক বেশ্যা অনায়াসে ভিতরমন্দিরে ঢুকে যায়      
৫।     
মুক্তি             
৬।    
চৌরঙ্গীর ফুটপাথে    
৭।    
আগম-নিগম   
৮।    
মৌলবাদী নই    
৯।    
পথ ঢেকেছে মন্দিরে মসজিদে      
১০।   
এখন শান্তিও যুদ্ধ       
১১।   
কালান্তর             
*
বুধুয়ার পাখি    

জানো এটা কার বাড়ি? শহুরে বাবুরা ছিল কাল,
ভীষণ শ্যাওলা এসে আজ তার জানালা দেয়াল
ঢেকে গেছে, যেন ওর ভয়ানক বেড়ে গেছে দেনা,
তাই কোনো পাখিও বসে না!
এর চেয়ে আমাদের কুঁড়েঘর ঢের ভালো, ঢের
দলে-দলে নীল পাখি নিকোনো নরম উঠোনের
ধান খায়, ধান খেয়ে যাবে---
বুধুয়া অবাক হয়ে ভাবে |

এবার রিখিয়া ছেড়ে বাবুডির মাঠে
বুধুয়া অবাক হয়ে হাঁটে,
দেহাতি পথের নাম ভুলে
হঠাৎ পাহাড়ে উঠে পাহাড়ের মতো মুখ তুলে
ভাবে : ওটা কার বাড়ি, কার অত নীল,
আমার ঘরের চেয়ে আরো ভালো, আরো
নিকোনো উঠোন তার, পাখিবসা বিরাট পাঁচিল!
ওখানে আমিও যাব, কে আমায় নিয়ে যেতে পারো?

এইভাবে প্রতিদিন বুধুয়ার ডাকে
কানায় কানায় আলো পথের কলসে ভরা থাকে,
ঝাঁকে-ঝাঁকে পাখি আসে, কেউ তার দিদি, কেউ মাসি,
রুপোলি ডানায় যারা নিয়ে যায় বুধুয়ার হাসি ||

.                    ******************                                        
উপরে
ছেলেটি   

টিফিনের পয়সা জমিয়ে
.        ডোমপাড়ায়
.        পায়রা কিনতে যায় |
একবার পায়রা কিনতে গিয়ে
.        অন্তরায়
সারা শরীর ছায়
পায়রাগুলো, কিন্তু সে তবুও
.        নতুন পায়রা চায়
.        ডোমপাড়ায়
যাবার পরে যতই দুয়ো দুয়ো
.        রাস্তা খুলে যায়
.        পায়রাগুলোর ক্ষুব্ধ তম্বুরায় ||  

.                  ******************                                            
উপরে
*
*
[ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্ লগ্ বা সাইটে, আমাদের কোন লেখা, তথ্য,
কবিতা বা তার অংশবিশেষ নিলে, আমাদের মূল পাতা
http://www.milansagar.com/index.html
দয়া করে একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্লগ বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ ! ]
বধুবরণ   

পানের তলায় তোমার মুখ ঢাকা,
বাইরে আমি দাঁড়িয়ে,
পানে ঢাকা তোমার মৌন মুখ,
মুখর আমি বাইরে বাইরে ঘুরছি |

গোধুলি এলো গোখুররেণু মাখা,
হাত-বাড়ানো একটি ভিক্ষুক
চৌকাঠ মাড়িয়ে ;
ফিকির খুঁজে আমি তোমার দয়া কুড়োচ্ছি |

আমি তো এক শখের নিছক শব্দব্যবসায়ী,
আনন্দের ক্লান্তি আনে আমার চোখে ঘুম,
পানের তলায় ঢাকা তোমার মুখ
স্তব্ধকল্পদ্রুম |

জানলা ভেঙে চোখে পড়ল, এখনও সেই বেঁচে
পার্শিদের গোরস্থান --- নিষ্ফলা পাষাণ,
চোখ ফেরালাম, দুটি পানের মন্দিরায় বেজে
তোমার মুখ বাঁচা-মরার অতল ঐকতান!  

.                  ******************                                            
উপরে
*
এক বেশ্যা অনায়াসে ভিতরমন্দিরে ঢুকে যায়   

বুদ্ধমন্দিরের দরজা বন্ধ হয়ে গেলে
এক বেশ্যা ঢুকে যায় পেছন-দুয়ার ঠেলে
দাঁড়ায় বৃদ্ধের ঠিক পাশে ;
দুটি দেবদারু দেয় দ্বারপ্রান্তে সযত্নে পাহারা
কেউ যেন বুঝতে না পায়,
শ্রমণ বুঝতে পারলে যাচ্ছেতাই হবে,
এই জেনে চত্বরের মাঝখানে ভূস্পর্শমুদ্রায়
জাপানি গাছের চারা শান্ত পরিবেশ এঁকে তোলে ;
গাছ, ফুল, শ্রমণের ঘন ঘুম যাকে
ভীষণ সাহায্য করে সে-নিষিদ্ধ নারী
বুদ্ধকে কী বলেছিল প্রচলিত ভিক্ষুর বিষয়ে?  

.                  ******************                                                         
উপরে
*
মুক্তি   


তুমি এসো বার্লিনের দুদিক থেকে
অবিভক্ত সাদা-কালো খঞ্জন আমার
ছৌ-কাবুকির ছদ্মবেশে
চূর্ণ করে দাও যত অলীক সীমান্ত
আমি যদি কৃত্তিম প্রাচীর গড়ি
মৃদু পক্ষাপাতে ভেঙে দিয়ো
ডানার অটুট রাখো ভাঙে যদি আমাদের প্রেম |


উত্তর অতলান্তিকে বৃষ্টি হলে
তোমার-এখানে কেন রৌদ্র হবে
জানি তুমি ডোরাকাটা স্বাতন্ত্র্য কায়েম রাখবে বলে
থেকে-থেকে কীরকম অচেনাসমান হয়ে যাও
এমন কি কেঁপে ওঠো তোমার ডানায় যদি হাত রাখি ||  

.                  ******************                                                         
উপরে
*
চৌরঙ্গীর ফুটপাথে   

চৌরঙ্গীর ফুটপাথে
আমার শতাব্দীর কামধেনু
ঢেলে দিচ্ছে কালো দুধ সীসা-রঙা
যে খাবে তার মৃত্যু হবে যে খাবে না তার
মূর্খতা ভালোবাসি না   

.      ******************                                                         
উপরে
*
আগম-নিগম   

শিশুরা খেলবে
এই তো নিয়ম
বুড়োরা দেখবে
তাই বুঝি কম
হঠাৎ দেখছি
হলদিয়া মাঠে
বদলিয়ে গেছে
আগম-নিগম :
বুড়োরা খেলছে
শিশুরা দেখছে  

.   ************                                                       
উপরে
*
মৌলবাদী নই          

লুপ্ত হয়ে যায় শরীর, আমি আজ বিশ্বকল্যাণে
তোমার চুম্বন করেছি প্রার্থনা | মশাল জ্বেলে কারা
এখুনি ছুটে গেল,  "মৌলবাদী ওরা" বলেই একজন
সে-দলে ভিড়ে গিয়ে আমার উদ্দেশে দেখাল তর্জনী ;
এত সহজ আজ দৃষ্টিকোণগুলি নিপুণ অনায়াসে
বদল করে নেওয়া! দলে না গিয়ে তবু তোমার চুম্বন
দাবি করেছি বলে ছোরা শানিয়ে ওরা আমায় ঘিরে আসে |

.              *********************                                                       
উপরে
*
পথ ঢেকেছে মন্দিরে মসজিদে          

ইউক্রেনিয়ার বিমানবন্দরে
কাসটমস্ এর মেয়েটি বলে ওঠে :
"এ কী কাণ্ড! এ ভিসা রাশিয়ার!"

রাশিয়া গিয়ে মুখ ফসকে যেই
"লেনিনগ্রাদ" বলেছি তক্ষুনি
ওরা বলল বিদায় নিতে হবে |

যাবার পথে চুটিয়ে যত দেশে
মজা করেছি, ফেরার পথে দেখি
সে সব দেশ বিভক্ত হয়েছে!

ফিরে আসার রাস্তা জুড়ে ভাবি
যেখান থেকে রওনা হয়েছিলাম
সেইখানেতেও নেই আমাদের ভিসা?

.              *********************                                             
উপরে
*
এখন শান্তিও যুদ্ধ          

এখন যুদ্ধ না শান্তি স্পষ্ট করে বুঝতেই পারি না

ভেবেছি পুণ্যাহে বিঝি স্বর্গতেরা একত্র হয়েত্র হয়েছে :
বিলাচ্ছে করুণা আর অভিজ্ঞতার শুধু সুনির্বাচিত সমাচার
সূর্যান্তিকে, কিন্তু যেই একটি রশ্মির খুব কাছে
ঘেঁষে দাঁড়িয়েছি দেখি গোধূলি নিলাম করছে ওরা .....

হেমনেত না শীত কিছু বোঝা যায় না : আকাশের কালো
গহ্বরে হঠাৎ দেখি দু-ঋতুর দ্বৈরথ কেমন
সুন্দর অথচ খুব অবান্তর --- শীত ও ফাল্গুনী
যেমন রূপকনাট্যে লড়ে শেষে আম্ফিথিয়েটারে
পক্ষপাতগ্রস্ত কোনো পরিচালকের মর্জি বুঝে
এ ওকে জিতিয়ে দেয়, সেরকম নয়, এরা শুধু
নশ্বর মানুষকে যেন স্থির হয়ে থাকতে দেবে না,
সুতরাং অমীমাংসা রেখে দেয় --- সে-ও তো সুন্দর!

তবুও বিষদ করে বাঁচার এলাকা আমি যদি
সংজ্ঞার ভিতর দিকে টেনে আনতে না পারি, তাহলে
দারিণ দুর্গতি সে যে! এই ভেবে মাটি ও আকাশ
আমার দু-দিকে রেখে মাঝখানে দাঁড়িয়ে দেখতে পাই :
মেঘ এসে সন্তর্পণে খড়ের পালুই ছুঁতে চায়,
খড়ও কিছু বলতে চায়, কিন্তু কিছু বললেই আঘাত
দিতে হয়, তাই বড় সংযত রয়েছে স্তুপাকারে ;
এভাবে শান্তিকে বুঝি কখনো অক্ষত রাখা যায়?

যুদ্ধ ঠিক শেষ হয় নি, অথবা এখন শান্তি শেষ .....

.              *********************                                             
উপরে
*
কালান্তর                          

ইন্ডিয়া যবে গেল ইন্টারনেটে
পাড়ার ছেলেরা গড়াগড়ি খেয়েছিল
ন্যু-মার্কেটের মসৃণ কার্পেটে,
আমি কাপুরুষ পালিয়ে গিয়েছিলাম
অরণ্য খুঁজে ল্যাটিন আমেরিকায়
সেখানেও দেখি ইন্টারনেট হায় |

ইন্ডিয়া গেল ইন্টারনেটে যবে
পাড়ার ছেলেরা ভুল শারদোত্সবে
আবির মাখাল ও ওর শরীরে আর
অনলাইনে জুড়ে দিল মল্লার,
তক্ষুনি আমি লোকসংগীত খুঁজে
আফ্রিকা গেছি, সেখানেও একই দশা |

ইন্টারনেটে গেল যবে ইন্ডিয়া
তিনদিন আমি রইলাম চোখ বুজে,
তখুনি আমার বিধুর সে শোওয়া-বসা
তুলে নিয়ে এক সুচতুর সিন্ধিয়া
মুনাফা লুটেছে এই ইন্ডিয়াতেই,
আমারই এখন থাকার যায়গা নেই |

.          *********************                                             
উপরে