কবি বিশ্বনাথ গড়াই-এর সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
ই কবিতাগুলি কবির "গ্রাম সিঙুরের আমি" বই এবং অন্যান্য পত্র
পত্রিকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে | বইটির প্রকাশক নমিতা চৌধুরী,
নান্দীমুখ সংসদ, ৫৯ আর. কে. পল্লী, কলকাতা ৭০০০৭৮ | মূল্য - ১০
টাকা |

১।   
সিঙ্গুর, ২ ডিসেম্বর, ২০০৬      
২।   
সংকেত            
৩।   
শিকার         
৪।   
অনুক্ত   
৫।    
ভাষা          
৬।    
জয়        
৭।   
নিষাদ          
৮।   
একটি হত্যাকাণ্ড ( প্রসঙ্গ : তাপসী মালিক )            
৯।   
ঘাতকের প্রতি       
১০।   
প্রতিবিম্ব               
১১।  
অধিগ্রহণ                         
১২।  
তরঙ্গ         
১৩।  
শুরুর গল্প                   
১৪।  
স্বর                     
         
[ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্ লগ্ বা সাইটে,
আমাদের কোন লেখা, তথ্য, কবিতা বা তার অংশবিশেষ নিলে,
আমাদের মূল পাতা http://www.milansagar.com/index.html এ দয়া করে
একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্ লগ্  বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ! ]
সিঙ্গুর, ২ ডিসেম্বর, ২০০৬

ছাদের প'রে কার আর্তনাদ ? মায়ারণীর স্বামীর ?
লাঠির ঘায়ে ককিয়ে-ওঠা গ্রাম সিঙ্গুরের আমি !

বাইরে ভারী বুটের লাথে লুটিয়ে পড়ে কারা ?
রাইকিশোরীর ওরনা ছিঁড়ে
যশোদা মা'র দু'হাত টেনে
কোন্ কংস কোন্ বণিকে দখল করে দুপুর ?

উপুড় আকাশ স্তব্ ধ বাতাস চিরহরিৎ মাটি |
বর্গিরা সব দাপিয়ে আঁতিপাতি
ঝাঁপ ফেলে দেয় ভিতর-বাহির
           সব পেয়েছি হেসে---
ভীষণ ভালবেসে
তোমার ধুলোআঁকড়ে ছিলাম যেমন মা-কে ছেলে |

থুত্থুড়ে বাপ-মা-কে নিয়ে এখন আমি জেলে---
আপনারা সব আসুন
মুখোশ ছুঁড়ে হাঁ উজিয়ে একটু আধটু কাসুন---
নিপাট সাদা পাঞ্জাবীর অই ইস্তিরিটার গা'য়
ফুটুক না হয় লাল তেভাগা সিঙ্গুরের এই ঘা |


.            ************************                                            
উপরে
.                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                  
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে |
মিলনসাগর
শিকার

নয়নাভিরাম আমার চিবুকে, তিলে
নখের চিহ্ন রেখে গেছো কার্তিকে ---
অগ্রহায়ণে অদূরে মাঝেবিলে
স্বাপদের মুখ --- চোখ স্থির এই দিকে !

নৈশাভিযানে হায়নারা তত্পর
সাফা হয়ে গেল পুরুষ, শিশু ও নারী ---
কাঁটা তার ঘেরা উচ্চকিত প্রহর
প্রতিটি জমির আলপথে কাটে দাঁড়ি !

কিছুকাল পরে ছাড়া পেয়ে দেখে ওরা
বিশাল প্রাচির হাজার একর ছোঁয়া ---
তিনফসলির গর্ভ তখন জোড়া
লোহা-লক্কড়ে, চিমনি এবং ধোঁয়ায় !

.            **************** ১.১২.২০০৬                                  
উপরে
.                                     অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে
মিলনসাগর
অনুক্ত

দু'দিকে বিস্তৃত শূণ্য ধানক্ষেত, তুমি কার ?
কোথায় কারা যেন শীর্ণ অন্তিমে বিসংবাদ ---
কাদের হাহাকার জাবালায় দিনরাত ঘরদুয়ার
যন্ত্রযান এঁকে আমাকে ফেরি করো সুবিধাবাদ !

আমার মা-ভূমিতো মিথ্যা অছিলায় অপহৃত ---
শস্যভারনত দিগন্তের নীলে পোস্টার ---
জীবন দিয়ে গড়া মাটির পৃথিবীও বিস্মৃত
এখন জমিজোতে উগ্র প্রহরায় কাঁটাতার !

এখনো শুনি রোজ ধানের স্পন্দন অঘ্রাণে
পাথরচাপা বুকে পল্লবের ধ্বনি খুব প্রাতে ---
আসলে বীজ নয়, দীর্ঘ শ্বাস বলে কানে কানে
এ বাংলার মুখ আবার আঁকা হবে এই হাতে !
       
.           ******************** ৪.১২.২০০৬                                
উপরে
.                                      অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে |
মিলনসাগর
ভাষা

আকাশ ছিল না কালো মেঘে ঢাকা, আর
মাটিওতেমনি স্নিগ্ধ, রজস্বলা ---
মাতৃভাষায় শুনতে চেয়েছি তার
জঠরে বীজের শাশ্বত কথা বলা |

মা-ভূমিকে কেড়ে তারপর সান্ত্রীকে
উসকে দিয়েছ আমাদের জমায়েতে ---
ছাড়ো নি আমাকে, দুগ্ধ পোষ্যটিকেও ;
বুকের আঁচল ছুড়েছিলে ধানক্ষেতে !

সত্যি তুমিই আলোকমালার দূত ?
হাত পেতে দুই বিঘাকে ভিক্ষা চেয়ে
দাঁত আর নখে দেখি কোন্ অবধূত ! ---
আমার কান্না সেরোত হয়ে যাক্ ধেয়ে !

.            ************************                                          
উপরে
.                                      অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে |
মিলনসাগর
জয়

জ্বালিয়ে দিয়েছ গ্রাম আর গোলাঘর ---
আর্তভাষায় গড়া মেঠো প্রতিবাদ
ত্রাসের প্রহরী পাঠিয়ে করেছ সাফা ---
আমাকে বলেছ, কাঁদ্, শালা, কষে কাঁদ্ !

কিছুই করিনি | কেবল উপুর বুকে
আঁকড়ে ধর্ছি মা-মাটি-মানুষ-ভুঁই---
আর যারা দৃঢ় সটান দাঁড়াল রুখে
পাচার তারাই, ভিটে ছাড়া রাতারাতি !

মেলে দিই তাই শেষতম তরবারি |
ছত্রভঙ্গ এ গাঁয়ের মাটি জড়ো
করতেই দেখি পুরানো সে-ঘর-বাড়ি !
আর সেই চোখ আকাশের মত বড় !

ক্রোধে নীল চোখে ঝরছে অগ্নিবিষ
উঠোনে জাগছে শত আমনের শীষ !

.            ************** ৮.১২.২০০৬                                   
উপরে
.                                      অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                               সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে |
মিলনসাগর
নিষাদ

কখনও ভুলো না অই নখ আর দাঁত ---
সে তোমার সর্বস্ব কেড়েই
উগরে দিয়েছে ঘোর অন্ধকার রাত ---
ফুটো কানাকড়ি ছুঁড়ে তারপর ধেড়ে
ইঁদুরের মত দ্রুত খুঁজেছে বিবর :
শহরের রক্তলাল কুঠির গহ্বর |

ধবধবে সাদার আড়ালে ঘোর কালো :
রংটাকে চিনে রাখো ---
মনের ভিতরে তাকে আঁকো
যাতে না সে জনারণ্য রাঙা করে ভ্রান্ত আলোয় !

এসপার অথবা ওসপার ---
পরাজয় অথবা জয়, এই শেষবার |
এই ঘোর যুদ্ধে দম-বন্ধ-করা শ্বাস
নিঃশব্ দে কাঁপিয়ে দিচ্ছে সিঙুরের ঘাস !

.            ************************                                          
উপরে
.                                      অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে |
মিলনসাগর
একটি হত্যাকাণ্ড
( প্রসঙ্গ : তাপসী মালিক )

বিছিয়ে দিয়েছ প্রতি পদে সন্ত্রাস !

সে মেয়ে মরীয়া, একটু বাঁচার আশায়
ছুটতে ছুটতে ছুঁড়েছিল একরাশ
ঘৃণার পাথর নির্মিত কুয়াশায় |

প্রতিরোধ ? একা কাকভোরে যতখানি
সম্ভব ! তাকে তুলোর মতোর শূণ্যে
তুলে, তরপর, তার ভীরু কাঁথাকানি
এবং লজ্জা কেড়ে তাকে দ্রুত আগুনে ---

"চরিত্রটাই ভীষণ খারাপ ওর" :
ব'লে মস্তকে পোঁতে ওরা রংগন ---
লাশ হয়ে মেয়ে বলেছে, দ্যাখ্ মা, তোর
শত তাপসীতে ভরে গেছে অঙ্গন !

.            ********** ২৩.১২.২০০৬                                    
উপরে
.                                      অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে |
মিলনসাগর
ঘাতকের প্রতি

আমাকে দিয়েছো, প্রিয়, নরকের ঋতু : মিহি অন্ধকার
দিয়ে ঢাকা ত্রাস আর অন্তর্গত তীব্র আর্তনাদ---
জ্বলে ওঠা গ্রাম কিংবা খালপাড়ে পুঁতে রাখা লাশে
প্রত্যহ নিজেকে দেখে আমিও শহিদ স্মারক !

দুঃসময়ের কালের ধুলোয়
আত্মনিষ্ঠ ওষ্ঠ ছুঁয়ে পৃথিবীর শেষতম দিগন্তের দিকে
একটি নদীর তীরে দাঁড়িয়েছ তুমি |

দু'ফাঁক শিশুর শব আর প্রতিবাদী কণ্ঠগুলি
মুণ্ডহীন ভেসে যায় মোহানার দিকে ---
কম্পমান হাত তুমি বাড়িয়েছো নদীজলে, যাতে
সাফা হতে পারে করধৃত যত পাপ !

হলদি নদীর জল রক্ত লাল --- জল থেকে হাত
তুলে তুমি দেখেছো কি দুই হাত রক্তে শুনশান !

.            ********** ২২.১২.২০০৬                                    
উপরে
.                                      অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে |
মিলনসাগর
প্রতিবিম্ব

মরূদ্যানের জাঁক কষে কষে কখন যে মরু হয়ে
পড়ে আছো একা, খুব নির্জন, একটু খেয়াল করো নি |
তোমার হাতের আস্তিনে রংবেরঙের তাসগুলি
প্রতিপক্ষকে টেক্কা দেবে কি, নিজেরা শব্ দহীন !
সিঙুর এবং মেদিনীপুরের শ্মশানে দগ্ধ ছাই
উড়ে এসে আজ টলিয়ে দিয়েছে লজ্জা, বোধ ও বিবেক
তোমার অমিলে মূঢ়তম এক অগ্নির অভিষেক !

আত্মরচিত দর্শনে ভুল শব্ দেরা দেয় দুয়ো ---
হাজার লক্ষ একরের বুকে জেগে ওঠে কার মুঠি !
তথাপি তো জাঁক ! ঝুলে গেছে মুখ, চশমার কাঁচে ধোঁয়া ;
ঘর না দেখাক, পড়শির মুখে প্রতিবিম্ব কি দ্যাখো নি !

.            ********** ২৬.১২.২০০৬                                    
উপরে
.                                      অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "পর্বান্তর" পত্রিকা, মে-আগষ্ট সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল |
মিলনসাগ
অধিগ্রহণ

এই মাঠে বীজ বুনেছি আমি দীর্ঘ কটি বছর
এখন বেড়া কাঁটাতারের --- স্তব্ ধ  দুটি চোখ ---
চতুর্দিকে বন্দীশালা, লালমুখো সব চর ---
শস্য নয়, কোচড়-ভরা সাতপুরুষের শোক |

এই তো সেদিন এই গঞ্জ মুখরতায় ঋদ্ধ---
শহর থেকে কোটাল এসে দখল নিল তোমায় :
হাত-পা-ভেঙে জ্ঞান হারালো জোয়ান এবং বৃদ্ধ---
নিলাম হয়ে পেলাম গায়ে দিনমজুরের তকমা |

এখন প্রতিশ্রুতির ঝলক : কনকচাঁপা গৌরী---
বৈদ্যুতিনে ধূপের ধোঁয়া, সেই পরবে বাংলা খুশ :
তোমার আঁচল, অন্নপূর্ণা, আবার মুঠোয় জড়িয়ে ধরি---
কারণ আমি বুনেছিলাম এই মাঠে বীজ সাতপুরুষ !

.            ********** ১১.১২.২০০৬                                    
উপরে
.                                      অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে |
মিলনসাগ
তরঙ্গ

বারেক দাঁড়াবে এইখানে ?

এখানে মায়ের আর্তি, আর
কিশোরী কন্যার দগ্ধ লাশ পড়েছিল |

সবুজ ধানের খেত ঘিরে অই কাঁটাতার
তারের ভিতরে কালসাপের হিসহিস
আগুনের শিখার চেয়েও
তীব্র লাল | বারেক দাঁড়াও, দ্যাখো
খেত জুড়ে সাত পুরুষের
পদচিহ্ন, তাদের নিঃশ্বাস আর রুদ্ধকণ্ঠ
ভিন্ন নামে লাশ হয়ে শুয়ে আছে দিগন্ত অবধি !

নিশ্চিন্ত ঘাতক পুনরায়
জ্যারিকেন ভরে নিচ্ছে সাদা কেরোসিনে---
একটু আড়াল পেলে জ্বলে উঠবে
অবশিষ্ট প্রতিস্বর, অনশনে অংশভাক অন্য কোনো দাউ দাউ তাপসী মালিক |

বারেক দাঁড়াবে এইখানে ?
শব্ দহীন গ্রাম কিছু বলতে চায়, আজ, কানে কানে |

.            ********** ১৯.১২.২০০৬                                                       
উপরে
.                                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                 সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে |
মিলনসাগ
শুরুর গল্প

তোমার আর বহু কথিত শিল্পের মাঝে
দাঁড়িয়ে আছে একখণ্ড পৃথিবীর মাটি ---
কলকাতা থেকে ধেয়ে আসছে ক্রুদ্ধ লাল মেঘ
জেলা শহরের আমন্ত্রিত কোলাহল থেকে
সন্ত্রাস উজিয়ে দিচ্ছে এম.পি. থেকে ফুটো দু'আনির মাস্তান---
ভয়ে, হাড়হিম শিতে, অসম্ভব কুঁকড়ে গেছো তুমি --- তোমার গরম
দীর্ঘশ্বাস আগুন হয়ে ঝরতে চাইছে
তোমার আর বহুজাতিকের মধ্যবর্তী ফাঁকা মাঠে ---

মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতেই হবে | দাঁড়াও |
তাহ'লে দেখবে, কোনো বাধাই বাধা নয়---
এবার হয়তো মার খাবে, কিন্তু আগামী দিনে
অথবা আগামী বছরে কিংবা পরবর্তী কোনো বছরে
আপাতত দিগন্তহীন তোমার দিগন্ত
পুনরায় ধরা দেবে তোমার উঠোনে ---
তোমার শিশুর সঙ্গে, মানুষজনের সঙ্গে, সেই জয়ে, আমি দেখি
আর এক আরম্ভের শুরু, আর এক পতাকা-নির্মাণ !

.            ********** ৭.১২.২০০৬                                                       
উপরে
.                                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                 সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি থেকে নেওয়া হয়েছে |
মিলনসাগ
সংকেত

"মিথ্যুক, মিথ্যুক" ব'লে দুই সমকোণে দ্রুত ঘুরে গেল হাওয়া ;

আপাতত স্তব্ ধ হোক যা কিছু রঙিন সেই বাকচতুরতা ---
তোমার সামনে আজ দাঁড়িয়েছে ছোট্ট এক প্রাচীন বালক ;

ম্লান মুখ কিন্তু জেদি কণ্ঠে সে ফিরে পেতে চায়
হারানো আবাদভূমি, মা-বাবার অশ্রুজল, আর
ধাবন্ত সান্ত্রীর ভয়ে ছুটে-যাওয়া বোনের পা-থেকে-খসা
ক্রন্দসী নূপুর ---

এই বেলা ধুয়ে নাও রক্তনীল হাত ---
হোমের আগুনে পুড়ে শুদ্ধ হোক
করঘৃত ঘৃণা মানুষের ---
সুভাষিত মরূদ্যানে অলীক কুনাট্য রঙ্গ একটুও নয় ---

তথাগত, দেখছো না সমস্ত প্রশ্নের
উত্তর না জেনে বাড়ি ফিরবে না নচিকেতা !

.            **********                                                                       
উপরে
.                                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                 সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "নন্দীগ্রাম থেকে কলিঙ্গনগর" পুস্তিকা, মে-২০০৭ সংখ্যা, শ্রেয়া পাবলিকেশন
এ প্রকাশিত হয়েছিল |
মিলনসাগ
স্বর

১.
বন্দুকের ক্ষতচিহ্নে শুনশান গ্রাম ---
গ্রাম ঘিরে কাছেদূরে হায়নার চোখ :
ঘর যেন ঘর নয়, শতাব্ দীর
                        শেষতম শেক !

২.
হলদির জলে হৃদয় উপড়ে দিয়ে
চেয়েছিলে তীব্র রসায়ন ---
যদি কোনোদিন তুমি প্রতিবিম্ব দ্যাখো সেই জলে
তাহ'লে জানবে তুমি মুখ থেকে কখন যে মুখোশ
খসে গিয়ে কবেকার হিংস্র দানব !

৩.
ভূমিদখলের দিন সর্বস্ব কেড়েছ, কিন্তু অজান্তে দিয়েছো
অসম্ভব ঘৃণা আর ক্রোধ এই প্রাণে ---

না হ'লে কি জানতাম রুখে দাঁড়ানোর
মাথা আছে আমাদের জো-হুজুর ধড়ে !

.            ********** ১৩.৪.২০০৭                                                        
উপরে
.                                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত
.                                                 সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত

এই কবিতাটি "গ্রাম সিঙুরের আমি" বইটি তে প্রকাশিত হয়েছিল |
মিলনসাগ
আমরা এই কবিকে আমাদের ওয়েব
সাইটের
"কবিদের সভা"-র অন্তর্ভুক্ত
করতে ইচ্ছুক | যদি কেউ আমাদের এই
কবির
১।  জন্ম-তারিখ,
২। সংক্ষিপ্ত পরিচয়,
৩। একটি ছবি
এবং
৪। তাঁর যোগাযোগের ঠিকানা
জানান, তাহলে আমরা কৃতজ্ঞতা- স্বরূপ,
প্রেরকের নাম ঐ পাতায় উল্লেখ করবো |