কবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
১।   দিগ্বিজয়ী বীর         
২।   
বিরহ সঙ্গীত      
৩।   
সামান্য নারী                   
৪।   
মণীর মন       
৫।    
কে বেশী সুন্দর ?    
৬।   
মার চিতায় দিবে মঠ    
৭।   
ঊষার শিশির                          
     
*
বিরহ সঙ্গীত

মিলন হইতে দেবী বরঞ্চ বিরহ ভাল,
দেখিব বলিয়া আশা মনে থাকে চির কাল !
নিরাশা নাহিক জানি,
সদা শুনি দৈববাণী,
মৃত-সঞ্জীবনী ভাষা---"বাসিভাল ! বাসিভাল !"
যেদিকে---যেদিকে চাই,
তোমারে দেখিতে পাই ,
অনন্ত ব্রহ্মাও বিশ্ব বিশ্বরূপে কর আলো !
মিলনে বিরহ-ভয়,
আকুল করে হৃদয়,
চুম্বিতে চমকি উঠি নিশি বা পোহায়ে গেল !

.                                          ****************                                    
উপরে
সামান্য নারী

সামান্য নারীটা তার কত পরিমাণ ?
শূণ্য করে গেছে যেন সমস্তটা প্রাণ !
একটু গিয়াছে হাসি,
একটু গিয়াছে কান্না,
একটু আঁখির জলে মাখা অভিমান !
একটু চুম্বন গেছে,
একটু নিশ্বাস দীর্ঘ,
একটু আলিঙ্গন তৃণের সমান !
যা গেছে, সে ক্ষুদ্র গেছে,
প্রকাণ্ড ব্রহ্মাণ্ড আছে,
তবে যে ভরে না কেন তার শূণ্য স্থান ?
সামান্য নারীটা তার কত পরিমাণ ?

.                                          ****************                                    
উপরে
রমণীর মন

রমণীর মন
কি যে ইন্দ্রজালে আঁকা,                   কি যে ইন্দ্রধনু-ঢাকা
কামনা-কুয়াশা-মাখা মোহ-আবরণ
কি যে সে মোহিনী-মন্ত্র রয়েছে গোপন !
কি যে সে অক্ষর দুটি,                    নীল নেত্রে আছে ফুটি,
ত্রিভূবনে কার সাধ্য করে অধ্যয়ন ?
কত চেষ্টা যত্ন করি,                          উলটি পালটি পড়ি,
কিছুতে পারি না অর্থ করিতে গ্রহণ !
কি যে সে অজ্ঞাত ভাষা,                দেব কি দৈত্যের আশা,
ঝলকে ঝলকে যেন করে উদ্গীরণ !
অতি ক্ষুদ্র দুই বিন্দু,                          অকুল অসীম সিন্ধু,
উথলি উঠিছে তাহে প্রলয়-প্লাবন !
ত্রিদিবের সুধা নিয়া,                           ধরণীর ধুলা দিয়া,
রসাতল নিঙাড়িয়া করিয়া মিলন,
ঢালিয়াছি কত ছাঁচে,                       মৃত্তিকা কাঞ্চন কাঁচে,
পারিনি তোমার আর করিতে গঠন,
রমণীর মন !

.                                          ****************                                    
উপরে
কে বেশী সুন্দর ?


কে বেশী সুন্দর ?
বালিকা যুবতী দুই,                      কারে দেখি কারে থুই
আমার নিকটে লাগে দুই মনোহর !
লাবণ্যে সৌন্দর্যে দোঁহে,                প্রাণ মোহে, মন মোহে,
বাঁশবনে ডোম কানা ! তেমনি ফাঁফর !
কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ?


কে বেশী সুন্দর ?
যুবতীর ভরা গায়,                         লাবণ্য উছলে যায়,
নয়নে নলিন নীল, মুখে শশধর !
বালিকা তারকা হাসে,                      নিষ্কলঙ্ক নীলাকাশে,
সদা শুক্লপক্ষপূর্ণ ক্ষুদ্র কলেবর !
কারে রাখি কারে দেখি, কে বেশী সুন্দর ?


কে বেশী সুন্দর ?
শত মুখে ভালবাসে,                     তরঙ্গে মাতঙ্গ ভাষে,
যুবতী পদ্মার মত বহে খরতর !
ফুলবনে করে খেলা,                     প্রদোষ প্রভাত বেলা,
অনাবিল প্রেমধারা বালিকা নির্ঝর !
কারে থুয়ে কারে দেখি, কে বেশী সুন্দর ?


কে বেশী সুন্দর ?
প্রভাতের শতদলে,                           পরিপূর্ণ পরিমলে,
যুবতী সহস্র করে ফোটে
শিশিরের সেফালিকা,                  নিশি শেষে সে বালিকা,
খসে পড়ে ছোঁয় পাছে একটি ভ্রমর !
কারে থুয়ে কারে দেখি কে বেশী সুন্দর ?


কে বেশী সুন্দর ?
যুবতী বিজলীবালা,                          ত্রিভূবন করে আলা,
সগর্ব্বে চরণাঘাতে ভাঙে ধরাধর !
বালিকা জোনাকী হাসে,                     স্নেহের কিরণে ভাসে,
শিখেনি অশনি-লীলা আঁখি ইন্দিবর !
কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ?
.                                                                                            
উপরে

কে বেশী সুন্দর ?
পদ্মবন পায়ে ঠেলি,                     রাজহংসী করে কেলি,
যুবতীর ঢেউয়ে কাঁপে মানসের সর !
লাজুক বালিকা টুনি,                      চুরি ক'রে গান শুনি,
ত্রিদিবের এক ফোঁটা দ্রব সুধাকর !
কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ?


কে বেশী সুন্দর ?
আরক্ত সন্ধ্যার রবি,                        যুবতীর মুখ-ছবি,
অভিমানে হয় ম্লান বিপদে কাতর !
বালিকা ঊষার মত,                  ফোটে যত শোভা তত,
রাঙ্গা মুখে দেখা যায় ভাঙ্গা ভাঙ্গা ডর,
কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ?


কে বেশী সুন্দর ?
রাহু যেন উর্দ্ধশ্বাসে,                       দু'বাহু তুলিয়া আসে,
রমণী তেমনি হাসে বুকের উপর !
দূরে যদি শব্ দ  শোনে,                 বালিকা লুকায় কোণে,
খনির মণির মত ম্লান মনোহর !
কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ?


কে বেশী সুন্দর ?
চুমার রাক্ষসী নারী,                         শতজন্ম অনাহারী,
দিনে রাতে খেয়ে চুমা ভরে না উদর !
বালিকা অত না বোঝে,                চুমা খেতে চোখ বোঁজে,
ছুঁইতে শিহরি উঠে কদম্ব-কেশর !
কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ?

১০
কে বেশী সুন্দর ?
যুবতী আসিতে ঘরে,                     গৃহ কাঁপে পদভরে,
বিজয়ী বীরের মত নির্ভয় অন্তর !
বালিকা বলে না কথা,                   কোলের বালিশ যথা,
পিছ দিয়া ফিরে থাকে লাজে জড়সড় !
কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ?


.                                           ****************                                     
উপরে
[ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্ লগ্ বা সাইটে, আমাদের কোন লেখা, তথ্য, কবিতা
বা তার অংশবিশেষ নিলে, আমাদের মূল পাতা http://www.milansagar.com/index.html এ দয়া করে
একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্ লগ্  বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ ! ]
আমার চিতায় দিবে মঠ  

          ১

ও ভাই বঙ্গবাসী, আমি মর্লে,
তোমারা আমার চিতায় দিবে মঠ !
আজ যে আমি উপাস করি,
না খেয়ে শুকায়ে মরি,
হাহাকারে দিবানিশি
               ক্ষুধায় করি ছট্ ফট্ |
সে দিকেতে নাইক' দৃষ্টি,
কেবল তোমাদের কথা মিষ্টি,
নির্জলা এ স্নেহ-বৃষ্টি,
               শিল পড়িছে পট্ পট্ |
ও ভাই বঙ্গবাসী, আমি মর্লে,
তোমারা আমার চিতায় দিবে মঠ !

          ২

দুধটুকু নাই নারীর বুকে,
মাড়টুকু নাই দিতে মুখে,
ক্ষুধায় কাতর শিশু ছেলে
               ধুলায় লুটে চট্ পট্ !
শুষ্কচোখ কণ্ঠতল,
এক বিন্দু নাইক জল,
লোল-রসনা, ভাম-লোচনা,
চাহিছে নারী কট্ মট্ !
শতছিন্ন বসন গায়ে,
শত চক্ষে লজ্জা চায়,
এমনি দৈন্য এমনি দুঃখ,
               যোটে মোটে ছালার চট্ !
নীলগিরি নাহি সে খোপা
শুকনা মরা বিন্না ছোপা,
তৈল বিনা রুক্ষ কেশ
               অযতনে শিবের জট্ !
শুষ্ক জীর্ণ শ্মশানকালী
সারিন্দার খোল পেটটি খালি,
আকাল ভারে বাঁচান দেহ
কাঁকাল-ভাঙ্গা কটিতট্ !
আমি মর্লে,
তোমারা আমার চিতায় দিবে মঠ,
              ও ভাই বঙ্গবাসী, !

           ৩

পাখীও ত গাছের ডালে,
আপন বাসায় শাবক পালে
আমার নাই সে আশা, নাই সে বাসা,
           কেমন বিপদ, কি সংকট |
আমি থাকি পরের বাড়ী,
নিয়ে ছেলেপপুলে নারী,
নাই যে ডালা কুলা হাড়ী,
বাপ-দাদার সে ভাঙা ঘট্ !
ও ভাই বঙ্গবাসী, আমি মর্লে,
তোমারা আমার চিতায় দিবে মঠ !

           ৪

       আমি আজ
স্বদেশ-চ্যুত বিদেশবাসী
পরদেশ পর-প্রত্যাশী,
না জানিয়া মর্লেম আমি,
ব্যাস-কাশী --- এ পদ্মার-তট্ !
দেখিনি এমন দারুন জা'গা,
লক্ষ্মীছাড়া হতভাগা
তিন পয়সা এক বেতের আগা,---
        কি মহার্ঘ, কি দুর্ঘট !
আমি মর্লে, তোমারা আমার চিতায়
          দিবে মঠ !                                       
উপরে

           ৫

হেথা ছলনা বঞ্চনা খালি,
কে কার ভোগে দেবে বালি |
এ কিষ্কিন্ধ্যায় সবাই "বালী"
         আত্মম্ভরী মর্কট !
জানেনা এরা সত্য বাক্য,
ব্যবসা এদের মিথ্যা সাক্ষ্য,
চোর গেরস্থ দু'জনারি পক্ষ,
         উভচর সব কর্কট !
এরা, শিকড়ে শিকড়ে বাঁশি বাঁধা,
সকল কলার এক ছড়া---কাঁধা,
এদের, অসাধ্য নাই,---স্বার্থে আঁধা,
         আকাশে "ব" নামায় বট,
কুক্ষণে হেথা আসিয়াছি,
এখন, পালাতে পার্লে প্রাণে বাঁচি |
এরা জন্তুর চেয়ে অধম পশু
         আত্মগুপ্ত কূর্ম কর্মঠ !
আমি মর্লে, তোমারা আমার চিতায় দিবে মঠ !

            ৬

কথার বন্ধু অনেক আছে,
কথায় তুলে দিবে গাছে,
বিপদ কালে পাইনে কাছে
          কেমন স্নেহ অকপট,
অভাব দুঃখ শুনলে পরে,
পাছে কিছু চাইব ডরে,
স্বভাব-দোষে স'রে পড়ে
           চোরের মত দেয় চম্পট !
কত বন্ধু দেশের নেতা,
মূখবন্ধ স্বাধীন-চেতা,
কাজের বেলায় আরেক কেতা
           হৃদয় ভরা ঘোর কপট,
লেখক মেরে অনাহারে,
লুঠবে টাকা উপহারে,
সাহিত্যের যে কসাই বন্ধু
           বিষম ধূর্ত, বিষম শঠ |
আমি মর্লে, তোমারা আমার চিতায় দিবে মঠ !
           ও ভাই বঙ্গবাসী !
    
          ৭

যা হোক, আমি শত ধন্য,
কৃতজ্ঞ কৃতার্থমন্য
তোমাদের এ স্নেহের জন্য
           আজ তোমাদের সন্নিকট |
চিতায় মঠ বা দিবে কেহ,
গড়বে "স্ট্যাচু" অর্ধ-দেহ',
ছায়া-চিত্র রাখবে কেহ
কেউ বা তৈল চিত্রপট !
করবে তোমারা শোক-সভা,
চোখে চসমা স্বেতজবা,
ওষ্ঠে চুরুট ধূম্রপ্রভা,
            করতালি চট্ পট্,
স্বর্গ কিম্বা নরক হ'তে,
আসব তখন আকাশ-পথে,
দেখতে আমার শোকসভা,
            সঙ্গে নিয়ে অলকট !
সত্যই কি লজ্জা শরম
            বাঙালীরে করেছে বয়কট্ ?


.             ****************                                        
উপরে
দিগ্বিজয়ী বীর


এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর !
এ নহে নাদির সা,                                এ নহে জঙ্গীস্ খাঁ,
এ নহে তৈমুরলঙ্গ চীন তাতাবীর,
আসেনি হিমাদ্রি লঙ্ঘি,                       নাহি সৈন্য সাথী সঙ্গী,
নাহি হাতে তরবার নাহি ধনু তীর |
পথে পথে হাহাকারে,                      আসেনি কাঁদায়ে কারে,
আসে নাই দেশে দেশে বহায়ে রুধির,
আসিয়াছে পুষ্প রথে,                            সুমেরুর স্বর্ণপথে,
উড়ায়ে কনকরেণু কিরণে মিহির !
একাকী এসেছে "ভোলা",                      মমতার হাত খোলা,
করুণা গলিয়ে পড়ে আঁখি নিলে নীর !


এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর !
কোথা হ'তে এসেছে সে,                        ঘর বাড়ী কেন দেশে,
নাহি জানি পরিচয় শিশু বিদেশীর,
নাহি বোঝে কপটতা,                         বোঝে না মোদের কথা,
বোঝে না সে কোনো ভাষা এই পৃথিবীর !
এসেছে উলঙ্গ বেশে,                             বস্ত্র নাই তার দেশে,
কেমনে সরম তবে বহে রমণীর ?
উলঙ্গ ভগিনী ভাই,                            কিসে থাকে এক ঠাঁই ?
থাকুক জ্যাকেট বডির নাহি মিলে চীর ?
কুরুচি-কবির ছেলে,                              এসেছে বসন ফেলে,
লজ্জায় ভাঙিয়া পড়ে রুচির মন্দির !


এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর !
এসেছে মোদের বাড়ী,                          নয় মাস---দিন চারি,
টলমল করিতেছে কাঙ্গাল-কুটির !
ত্রিদিব করিয়া জয়,                              আসিয়াছে মনে লয়,
এনেছে মন্দার-মধু অধরে মদির,
এনেছে পাপদ কল্প,                                প্রকৃতই---নহে গল্প,
ও ক্ষুদ্র হৃদয়ে ভরা স্নেহ সুগভীর !
লুণ্ঠিয়া অলকা শত,                            আনিয়াছে রত্ন কত,
কে পারে করিতে তাহা গণনায় স্থির ?
আঙ্গিনার মাটি ধূলা,                            তাও মণিরত্ন গুলা,
অযত্নে পড়িয়া আছে ঘরের বাহির !


এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর !
তার হামাগুড়ি দিতে,                          কুলায় না পৃথিবীতে,
অতি ক্ষুদ্র আঙ্গিনা সে ক্ষুদ্র পরিধির,
তার সে চরণ দাপে,                          বিশাল ব্রহ্মাণ্ড কাঁপে,
অতি ক্ষুদ্র ধরণী সে আকুল অস্থির !
বাছে না আগুন জল,                           বুকে তার এত বল,
তার কাছে সমতুল্য সমুদ্র শিশির,
বোঝেনা সে সাপ বাঘ,                         সে যাহার পায় লাগ,
অবহেলে সাপটিয়া ধরে গ্রীবা শির |
সে ত' গো জানেনা ভয়,                         মরণ কাহারে কয়,
সে বুঝি অধীন নয় নব-নিয়তির !

.                                                ৬                                           
উপরে
এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর !
সে মানেনা জাতিভেদ,                         মানেনা কোরাণ বেদ,
মানেনা আচার ধর্ম মুনি মৌলবীর,
সে মানে না খাদ্যাখাদ্য,                        সে নহে কিছুর বাধ্য,
খায় সুখে বিষ্ঠা মুত্র মাখন পনির !
সে মানেনা পূণ্য পাপ,                             অশ্রুজল অনুতাপ,
সে মানেনা আমাদের আলোক তিমির,
সে এক সম্রাট্---প্রভু,                             সে নহে অধীন কভু,
সে করে চরণে চূর্ণ রীতি পৃথিবীর !
তাহার উলঙ্গ অঙ্গে,                             সুরুচি কুরুচি সঙ্গে,
গরু বাঘে পান করে এক ঘাটে নীর,


এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর !
প্রতাপ প্রভুত্ব তার,                           নাহি বিশ্বে তুলনার,
কি ছার লঙ্কার সেই রাজা দশশির |
জুড়াইতে তাহার হিয়া,                       শীতল পরশ দিয়া,
আসিয়া রয়েছে আগে মলয় সমীর !
তাহারি পানের তরে,                         নদী হৃদ সরোবরে,
নীরদ রেখেছে ভরি সুশীতল নীর !
তারি আসিবার তরে,                         রজত সুবর্ণ করে,
উজলিয়া আছে ধরা শশাঙ্ক মিহির !
তারি আগমন জন্য,                            ধরণী হয়েছে ধন্য,
আর কোনো প্রয়োজন নাহি পৃথিবীর |
তুষিতে তাহারি মন,                            বসন্তের ফুলবন,
ফুটায়ে রেখেছে ফুল সুধা সুরভির |
ফল শস্যে হয় নত,                         তরু তৃণ আছে যত,
পোষিতে অমৃত খাদ্যে তাহারি শরীর |
তারি তরে আমি তুমি,                     অনন্ত আকাশ ভূমি,
সৃষ্টির গম্ভীর অর্থ হয়েছে গম্ভীর |


এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর !
প্রমদা পাইয়া তারে,                      কি আনন্দ অহঙ্কারে,
চুমিতেছে বার বার রোমাঞ্চ শরীর !
এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড গুলা,                       আজি তার পদধূলা,
সে জেন রাণীর রাণী শত ইন্দ্রাণীর !
আজি তার ছিন্নবাসে,                    কি লাবণ্য অট্টহাসে,
কে জানে কি ভাগ্যোদয় আজি অভাগীর,
দশ হস্তে দশভুজা,                     আদি তারে করে পূজা,
বাণী সে বন্দনা গায় গীত গায়ত্রীর !
লক্ষ্মী তার পদ সেবে,                       প্রণমে অনন্ত দেবে,
ছেলে কোলে মহিমা কি এত জননীর |
কবিতা কৃতার্থ হয়,                         লেখনীর জয় জয়,
তাহারি বিজয়-গাথা গাহিয়া কবির !

.                                          ****************                                    
উপরে
ঊষার শিশির

শরতের সোনা ঊষা ঘুম ভেঙে চায়,
জগত্ ভিজিয়া আছে শিশিরের জলে |
সুন্দর সবুজ মাঠ কিবা শোভা পায়,
সাদা পুঁতি গাঁথ যেন শ্যামল আঁচলে |
ঝোপে ঝাপে পাতা আছে মাকড়ের জাল,
তাহাতেও হিমকণা পড়িয়াছে কত |
মনে লয়ে তারা বুঝি বিহান সকাল
জাল ফেলে তুলিয়াছে মোতি শতশত |
বাগানে চাহিয়া দেখ ফুলে ফুলে ফুলে
এর চেয়ে শোভা পায় নিশির নীহার,
রজনী চলিয়া গেছে তাই শোকাকুলে,---
আঁখিনীরে ভাসে মূখ ফুল-বালিকার |
সত্যই স্নেহের অশ্রু এত মনোহর,
চুম্বনে শুষিছে উষা করিয়া আদর ||

.           ****************                                           
উপরে