| কবি গোবিন্দচন্দ্র দাসের কবিতা যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে। |
| বিরহ সঙ্গীত মিলন হইতে দেবী বরঞ্চ বিরহ ভাল, দেখিব বলিয়া আশা মনে থাকে চির কাল ! নিরাশা নাহিক জানি, সদা শুনি দৈববাণী, মৃত-সঞ্জীবনী ভাষা---"বাসিভাল ! বাসিভাল !" যেদিকে---যেদিকে চাই, তোমারে দেখিতে পাই , অনন্ত ব্রহ্মাও বিশ্ব বিশ্বরূপে কর আলো ! মিলনে বিরহ-ভয়, আকুল করে হৃদয়, চুম্বিতে চমকি উঠি নিশি বা পোহায়ে গেল ! . **************** উপরে |
| সামান্য নারী সামান্য নারীটা তার কত পরিমাণ ? শূণ্য করে গেছে যেন সমস্তটা প্রাণ ! একটু গিয়াছে হাসি, একটু গিয়াছে কান্না, একটু আঁখির জলে মাখা অভিমান ! একটু চুম্বন গেছে, একটু নিশ্বাস দীর্ঘ, একটু আলিঙ্গন তৃণের সমান ! যা গেছে, সে ক্ষুদ্র গেছে, প্রকাণ্ড ব্রহ্মাণ্ড আছে, তবে যে ভরে না কেন তার শূণ্য স্থান ? সামান্য নারীটা তার কত পরিমাণ ? . **************** উপরে |
| রমণীর মন রমণীর মন কি যে ইন্দ্রজালে আঁকা, কি যে ইন্দ্রধনু-ঢাকা কামনা-কুয়াশা-মাখা মোহ-আবরণ কি যে সে মোহিনী-মন্ত্র রয়েছে গোপন ! কি যে সে অক্ষর দুটি, নীল নেত্রে আছে ফুটি, ত্রিভূবনে কার সাধ্য করে অধ্যয়ন ? কত চেষ্টা যত্ন করি, উলটি পালটি পড়ি, কিছুতে পারি না অর্থ করিতে গ্রহণ ! কি যে সে অজ্ঞাত ভাষা, দেব কি দৈত্যের আশা, ঝলকে ঝলকে যেন করে উদ্গীরণ ! অতি ক্ষুদ্র দুই বিন্দু, অকুল অসীম সিন্ধু, উথলি উঠিছে তাহে প্রলয়-প্লাবন ! ত্রিদিবের সুধা নিয়া, ধরণীর ধুলা দিয়া, রসাতল নিঙাড়িয়া করিয়া মিলন, ঢালিয়াছি কত ছাঁচে, মৃত্তিকা কাঞ্চন কাঁচে, পারিনি তোমার আর করিতে গঠন, রমণীর মন ! . **************** উপরে |
| কে বেশী সুন্দর ? ১ কে বেশী সুন্দর ? বালিকা যুবতী দুই, কারে দেখি কারে থুই আমার নিকটে লাগে দুই মনোহর ! লাবণ্যে সৌন্দর্যে দোঁহে, প্রাণ মোহে, মন মোহে, বাঁশবনে ডোম কানা ! তেমনি ফাঁফর ! কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ? ২ কে বেশী সুন্দর ? যুবতীর ভরা গায়, লাবণ্য উছলে যায়, নয়নে নলিন নীল, মুখে শশধর ! বালিকা তারকা হাসে, নিষ্কলঙ্ক নীলাকাশে, সদা শুক্লপক্ষপূর্ণ ক্ষুদ্র কলেবর ! কারে রাখি কারে দেখি, কে বেশী সুন্দর ? ৩ কে বেশী সুন্দর ? শত মুখে ভালবাসে, তরঙ্গে মাতঙ্গ ভাষে, যুবতী পদ্মার মত বহে খরতর ! ফুলবনে করে খেলা, প্রদোষ প্রভাত বেলা, অনাবিল প্রেমধারা বালিকা নির্ঝর ! কারে থুয়ে কারে দেখি, কে বেশী সুন্দর ? ৪ কে বেশী সুন্দর ? প্রভাতের শতদলে, পরিপূর্ণ পরিমলে, যুবতী সহস্র করে ফোটে শিশিরের সেফালিকা, নিশি শেষে সে বালিকা, খসে পড়ে ছোঁয় পাছে একটি ভ্রমর ! কারে থুয়ে কারে দেখি কে বেশী সুন্দর ? ৫ কে বেশী সুন্দর ? যুবতী বিজলীবালা, ত্রিভূবন করে আলা, সগর্ব্বে চরণাঘাতে ভাঙে ধরাধর ! বালিকা জোনাকী হাসে, স্নেহের কিরণে ভাসে, শিখেনি অশনি-লীলা আঁখি ইন্দিবর ! কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ? . উপরে ৬ কে বেশী সুন্দর ? পদ্মবন পায়ে ঠেলি, রাজহংসী করে কেলি, যুবতীর ঢেউয়ে কাঁপে মানসের সর ! লাজুক বালিকা টুনি, চুরি ক'রে গান শুনি, ত্রিদিবের এক ফোঁটা দ্রব সুধাকর ! কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ? ৭ কে বেশী সুন্দর ? আরক্ত সন্ধ্যার রবি, যুবতীর মুখ-ছবি, অভিমানে হয় ম্লান বিপদে কাতর ! বালিকা ঊষার মত, ফোটে যত শোভা তত, রাঙ্গা মুখে দেখা যায় ভাঙ্গা ভাঙ্গা ডর, কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ? ৮ কে বেশী সুন্দর ? রাহু যেন উর্দ্ধশ্বাসে, দু'বাহু তুলিয়া আসে, রমণী তেমনি হাসে বুকের উপর ! দূরে যদি শব্ দ শোনে, বালিকা লুকায় কোণে, খনির মণির মত ম্লান মনোহর ! কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ? ৯ কে বেশী সুন্দর ? চুমার রাক্ষসী নারী, শতজন্ম অনাহারী, দিনে রাতে খেয়ে চুমা ভরে না উদর ! বালিকা অত না বোঝে, চুমা খেতে চোখ বোঁজে, ছুঁইতে শিহরি উঠে কদম্ব-কেশর ! কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ? ১০ কে বেশী সুন্দর ? যুবতী আসিতে ঘরে, গৃহ কাঁপে পদভরে, বিজয়ী বীরের মত নির্ভয় অন্তর ! বালিকা বলে না কথা, কোলের বালিশ যথা, পিছ দিয়া ফিরে থাকে লাজে জড়সড় ! কারে বেশী ভালবাসি, কে বেশী সুন্দর ? . **************** উপরে |
| [ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্ লগ্ বা সাইটে, আমাদের কোন লেখা, তথ্য, কবিতা বা তার অংশবিশেষ নিলে, আমাদের মূল পাতা http://www.milansagar.com/index.html এ দয়া করে একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্ লগ্ বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ ! ] |
| দিগ্বিজয়ী বীর ১ এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর ! এ নহে নাদির সা, এ নহে জঙ্গীস্ খাঁ, এ নহে তৈমুরলঙ্গ চীন তাতাবীর, আসেনি হিমাদ্রি লঙ্ঘি, নাহি সৈন্য সাথী সঙ্গী, নাহি হাতে তরবার নাহি ধনু তীর | পথে পথে হাহাকারে, আসেনি কাঁদায়ে কারে, আসে নাই দেশে দেশে বহায়ে রুধির, আসিয়াছে পুষ্প রথে, সুমেরুর স্বর্ণপথে, উড়ায়ে কনকরেণু কিরণে মিহির ! একাকী এসেছে "ভোলা", মমতার হাত খোলা, করুণা গলিয়ে পড়ে আঁখি নিলে নীর ! ২ এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর ! কোথা হ'তে এসেছে সে, ঘর বাড়ী কেন দেশে, নাহি জানি পরিচয় শিশু বিদেশীর, নাহি বোঝে কপটতা, বোঝে না মোদের কথা, বোঝে না সে কোনো ভাষা এই পৃথিবীর ! এসেছে উলঙ্গ বেশে, বস্ত্র নাই তার দেশে, কেমনে সরম তবে বহে রমণীর ? উলঙ্গ ভগিনী ভাই, কিসে থাকে এক ঠাঁই ? থাকুক জ্যাকেট বডির নাহি মিলে চীর ? কুরুচি-কবির ছেলে, এসেছে বসন ফেলে, লজ্জায় ভাঙিয়া পড়ে রুচির মন্দির ! ৪ এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর ! এসেছে মোদের বাড়ী, নয় মাস---দিন চারি, টলমল করিতেছে কাঙ্গাল-কুটির ! ত্রিদিব করিয়া জয়, আসিয়াছে মনে লয়, এনেছে মন্দার-মধু অধরে মদির, এনেছে পাপদ কল্প, প্রকৃতই---নহে গল্প, ও ক্ষুদ্র হৃদয়ে ভরা স্নেহ সুগভীর ! লুণ্ঠিয়া অলকা শত, আনিয়াছে রত্ন কত, কে পারে করিতে তাহা গণনায় স্থির ? আঙ্গিনার মাটি ধূলা, তাও মণিরত্ন গুলা, অযত্নে পড়িয়া আছে ঘরের বাহির ! ৫ এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর ! তার হামাগুড়ি দিতে, কুলায় না পৃথিবীতে, অতি ক্ষুদ্র আঙ্গিনা সে ক্ষুদ্র পরিধির, তার সে চরণ দাপে, বিশাল ব্রহ্মাণ্ড কাঁপে, অতি ক্ষুদ্র ধরণী সে আকুল অস্থির ! বাছে না আগুন জল, বুকে তার এত বল, তার কাছে সমতুল্য সমুদ্র শিশির, বোঝেনা সে সাপ বাঘ, সে যাহার পায় লাগ, অবহেলে সাপটিয়া ধরে গ্রীবা শির | সে ত' গো জানেনা ভয়, মরণ কাহারে কয়, সে বুঝি অধীন নয় নব-নিয়তির ! . ৬ উপরে এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর ! সে মানেনা জাতিভেদ, মানেনা কোরাণ বেদ, মানেনা আচার ধর্ম মুনি মৌলবীর, সে মানে না খাদ্যাখাদ্য, সে নহে কিছুর বাধ্য, খায় সুখে বিষ্ঠা মুত্র মাখন পনির ! সে মানেনা পূণ্য পাপ, অশ্রুজল অনুতাপ, সে মানেনা আমাদের আলোক তিমির, সে এক সম্রাট্---প্রভু, সে নহে অধীন কভু, সে করে চরণে চূর্ণ রীতি পৃথিবীর ! তাহার উলঙ্গ অঙ্গে, সুরুচি কুরুচি সঙ্গে, গরু বাঘে পান করে এক ঘাটে নীর, ৭ এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর ! প্রতাপ প্রভুত্ব তার, নাহি বিশ্বে তুলনার, কি ছার লঙ্কার সেই রাজা দশশির | জুড়াইতে তাহার হিয়া, শীতল পরশ দিয়া, আসিয়া রয়েছে আগে মলয় সমীর ! তাহারি পানের তরে, নদী হৃদ সরোবরে, নীরদ রেখেছে ভরি সুশীতল নীর ! তারি আসিবার তরে, রজত সুবর্ণ করে, উজলিয়া আছে ধরা শশাঙ্ক মিহির ! তারি আগমন জন্য, ধরণী হয়েছে ধন্য, আর কোনো প্রয়োজন নাহি পৃথিবীর | তুষিতে তাহারি মন, বসন্তের ফুলবন, ফুটায়ে রেখেছে ফুল সুধা সুরভির | ফল শস্যে হয় নত, তরু তৃণ আছে যত, পোষিতে অমৃত খাদ্যে তাহারি শরীর | তারি তরে আমি তুমি, অনন্ত আকাশ ভূমি, সৃষ্টির গম্ভীর অর্থ হয়েছে গম্ভীর | ৮ এ দেশে এসেছে এক দিগ্বিজয়ী বীর ! প্রমদা পাইয়া তারে, কি আনন্দ অহঙ্কারে, চুমিতেছে বার বার রোমাঞ্চ শরীর ! এ বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড গুলা, আজি তার পদধূলা, সে জেন রাণীর রাণী শত ইন্দ্রাণীর ! আজি তার ছিন্নবাসে, কি লাবণ্য অট্টহাসে, কে জানে কি ভাগ্যোদয় আজি অভাগীর, দশ হস্তে দশভুজা, আদি তারে করে পূজা, বাণী সে বন্দনা গায় গীত গায়ত্রীর ! লক্ষ্মী তার পদ সেবে, প্রণমে অনন্ত দেবে, ছেলে কোলে মহিমা কি এত জননীর | কবিতা কৃতার্থ হয়, লেখনীর জয় জয়, তাহারি বিজয়-গাথা গাহিয়া কবির ! . **************** উপরে |