কবি হাছন রাজা র পুরো নাম দেওয়ান হাছন রাজা চৌধুরী | নামের অন্য প্রচলিত বানান হাসন রাজা |
কিন্তু ১৯১৮ সালে "হাছন রাজা ওয়াক্ফ স্টেটের" দলিলে তিনি নিজে সাক্ষর করেছেন "হাছন রাজা" | তাঁর
জীবিতকালে প্রকাশিত বইয়ের নাম "হাছন উদাস" | জন্ম অধুনা বাংলাদেশের সুনামগঞ্জের লক্ষ্মণশ্রী গ্রামে | পিতা
দেওয়ান আলি রাজা চৌধুরী সিলেট জেলার রামপাশার জমিদার ছিলেন | হাছন রাজার আট পুরুষ আগে তাঁর
পূর্বপুরুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন | প্রায় তিন লক্ষ বিঘার জমিদারী মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার হাতে আসে | এত
বিশাল ঐশ্বর্য্যের অধিকারী এবং নজর কাড়া সুপুরুষ হবার জন্য তাঁর প্রতি অগণিত নারী আকৃষ্ট হন এবং
প্রথম জীবনে কবির নারী-আসক্তি সর্বজনবিদিত | তিনি বহুবিবাহ করেছিলেন | কিন্তু জোর করে নারীসম্ভোগের
কোন অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে শোনা যায় নি | মাঝে মাঝেই তিনি নারী বেষ্টিত হয়ে নৌকাবিহারে বেরিয়ে
আমোদ প্রমোদ করতেন | গান রচনা করতেন |
কবির কোনো প্রথাগত শিক্ষা ছিল না | কিন্তু আধুনিক শিক্ষা দান করতে তিনি উত্সাহী ছিলেন | তাঁর
জমিদারীতে ইংরেজী মিডিয়াম ইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন | তাঁর রচনাও নিজের হাতে লিখতেন না | কোন কর্মচারী
বা সভাসদ তাঁর রচনা শুনে লিখে নিতেন | তাঁর গান ধর্মীয় মৌলবাদ ও গোঁড়ামির উর্দ্ধে |
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর গানের অনুরাগী ছিলেন এবং তাঁর "শ্যামলী" কাব্যেগ্রন্থের "আমি" কবিতাটি --" আমারই
চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে... ", হাছন রাজার "মম আঁখি হইতে পয়দা আসমান জমিন..."
গানটি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা |
ধীরে ধীরে কবির মানসিক পরিবর্তন ঘটে এবং সমস্ত পার্থিব বিষয়-আশয়-আসক্তির উর্দ্ধে চলে যান | এক
দোর্দণ্ডপ্রতাপ ভোগবিলাসী জমিদার থেকে হয়ে যান ফকির |
--- উত্স: পান্নালাল রায়, হাছন রাজা, পারুল প্রকাশনী

