কবি মোহিতলাল মজুমদার এর জন্ম হয় নদিয়া জেলার কাঁচরাপাড়ায় | ১৯০৮ সালে কলকাতার রিপন কলেজ (বর্তমানে বিদ্যাসাগর কলেজ) থেকে স্নাতক হন এবং কলকাতা হাই স্কুলে শিক্ষকতার কাজে যোগ দেন | মাঝখানে ১৯১৪ থেকে ১৯১৭ পর্যন্ত সেটেলমেন্ট বিভাগে কাজ করেন | ১৯২৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৪৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন |
তিনি একজন কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে সমালোচক হিসেবেও যথেষ্ঠ খ্যাতি লাভ করেন | লেখা প্রথম প্রকাশিত হয় "মানসী" পত্রিকায় | পরে "ভারতী" এবং "শনিবারের চিঠি" পত্রিকাতেও নিয়মিত লেখেন | তাঁর প্রথম কাব্য কবি দেবেন্দ্রনাথ সেন সম্পর্কে "দেবেন্দ্রমঙ্গল" প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে | এ ছাড়া স্বপনপসারী (১৯২২), বিস্মরণী (১৯২৭), স্মরগরল (১৯৩৬), হেমন্তগোধূলি (১৯৪১) উল্লেখনীয় |
কবিতার ভাবের দিক থেকে তিনি দেহবাদী কিন্তু বাস্ববাদী নন | তাঁর কবিতার প্রধাণ বিষয় প্রেম, এই প্রেম দেহাশ্রয়ী, কাম কে স্বীকার করেই প্রেমের স্বীকৃতি তিনি দিয়েছেন | তাঁর উদ্দীপ্ত কম্ঠস্বর, কবিতায় কাম ও প্রেমের বন্দনা তাঁকে সমকালীন তরুণ কবিদের কাছে প্রিয় করে তুলেছিল | তিনি প্রথমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুরাগী হলেও পরবর্তি সময়ে রবীন্দ্র বিরোধী ভাবাপন্ন হয়ে যান এবং মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং অক্ষয় কুমার বড়ালের অনুরাগী হয়ে পড়েন | আধুনিক বাংলা কবিতা সম্বন্ধে তাঁর অনেক অভিযোগ ছিল তাই আধুনিক কবিদের সঙ্গে তাঁর ব্যবধান রচিত হয় |
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমালোচক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন | সাহিত্যতত্ত্ব, মাইকেল মধুসূদন, বঙ্কিমচন্দ্র এবং আধুনিক সাহিত্যের উপর নানা গ্রন্থ রচনা করেছেন | সাহিত্যকথা (১৯৩৮), বাংলা কবিতার ছন্দ (১৯৪৫), শ্রীমধুসূদন (১৯৪৭), সাহিত্য বিতান (১৯৪৭), বঙ্কিমবরণ (১৯৪৯), বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস (১৯৫৩), প্রভৃতি গ্রন্থ উল্লেখযোগ্য | . --- উত্স: ডঃ শিশির কুমার দাশ, সংসদ সাহিত্য সঙ্গী ২০০৩, উইকিপেডিয়া