আমাদের কাছে
কবি নিধু বাবুর কোনো ছবি
নেই | একটি ছবি আমাদের
কাছে পাঠালে আমরা
কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে
প্রেরকের নাম এইখানে ছবির
সাখে উল্লেখ করবো |
কবি নিধু বাবুর ভাল নাম রামনিধি গুপ্ত | ১৭৪৮-৪১ সালে বাংলায় বর্গীর হাঙ্গামার সময়, পিতা
হরিনারায়ণ গুপ্ত, জিনি কলকাতার কুমারটুলি অঞ্চলে চিকিত্সক ছিলেন,  চলে যান ত্রিবেণীর কাছে চাপতা গ্রামে,
যেখানে তাঁর শ্যালক রামজয় কবিরাজ থাকতেন | সেখানেই কবির জন্ম হয় | তাঁর শিক্ষা কলকাতাতেই সম্পন্ন
হয় | অনুমান ২০ বছর বয়সে নিধু বাবু বিহারের ছাপরা জেলায় রাজস্য বিভাগের "দ্বিতীয় কেরাণীর" চাকরি
নিয়ে চলে যান | তখন ছাপরার কালেক্টার ছিলেন মন্টগোমারি সাহেব | প্রায় ১৮ বছর চাকরি করার পর তিনি
কাজে ইস্তফা দিয়ে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেন এবং সংগীত সৃষ্টিতে মেতে থাকেন | তাঁর ব্যক্তিগত
জীবন সম্বন্ধে অনেক তথ্যই আমাদের সঠিক জানা নেই, তাই নানা কিংবদন্তীর সূত্রপাত | অষ্টাদশ শতকের
ষাটের দশক ছিলা বাংলা তথা ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় | একবার নবাব মিরকাশিম ও পাটনার
জনৈক কুঠিয়াল ইংরেজ এলিস সাহেবের দ্বন্দ্ব হয় | গোলাম হোসেন রচিত "সেইর-উল-মুতাক্খরিণ" গ্রন্থে লেখা
আছে যে ঐ দ্বন্দ্বের সময় সারণের ফৌজদার  এক  বাঙালী রামনিধি, এলিস সাহেব এর অসুবিধার সৃষ্টি করে |

প্রখমে নিধু বাবু ছাপরার এক মুসলমান ওস্তাদের কাছে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিখেছিলেন | পরে ছাপরা জেলার
রতনপুরা গ্রামের ভিখন রামস্বামীর মন্ত্র শিষ্য হন | তিনি নানা রকমের গান লিখে ছিলেন কিন্তু তাঁর টপ্পা গানের
জন্যই মূলত তাঁর খ্যাতি | উনিশ শতকের শেষ অবধি তাঁর টপ্পাগুলি খুব জনপ্রিয় ছিল | তাঁর গান বাইজিদের
মজলিশ বা ঐ জাতীয় অনুষ্ঠানে বেশী গাওয়া হত বলে পরে অনেকে তা সাহিত্যরসহীন আখ্যা দিলেও এ কথা
অস্বীকার করা যায় না যে তাঁর কবিতা আধুনিক এবং অতি উচ্চমানের | নিধু বাবুর টপ্পাকে অশ্লীলতার দায়ে
অভিযুক্ত করা অন্যায় |

মুর্শিদাবাদের নিজামাতের দেওয়ান রাজা মহানন্দ রায় কলতকাতায় এলে কবির সাথে আমোদ প্রমোদ করতেন |
রাজার রক্ষিতা শ্রীমতীর সাথে নিধুবাবুর মধুর সম্পর্ক ছিল | কবি শ্রীমতীর কাছে যাতায়াতের সময়ে নানা
প্রেমগীত রচনা করেছিলেন | তাঁর ব্যক্তিগত জীবন অতি ভদ্র, মার্জিত ও রুচিশীল ছিল |
                                               --- উত্স: রমাকান্ত চক্রবর্তী, নিধুবাবু ও তাঁর টপ্পা, পুনশ্চ
HOME
HOME BANGLA