কবি পাঁচুগোপাল চক্রবর্তীর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।   www.milansagar.com
১।    চ্চ-নীচ        
২।    
খোল অবগুন্ঠন        
৩।    
র্মের নামে অধর্ম       
৪।    
জাগো          
৫।    
জীবন-মুখী কবি        
৬।    
গর্ব মোদের গর্ব          
৭।    
অভিনব কাব্য         
৮।    
ঝি-সংবাদ           
৯।    
জীবনের সংজ্ঞা     
   
[ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্ লগ্ বা সাইটে, আমাদের কোন লেখা, কবিতা
বা তার অংশবিশেষ নিলে, আমাদের মূল পাতা
http://www.milansagar.com/index.html
দয়া করে একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্ লগ্  বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ ! ]
*
উচ্চ-নীচ          

কঙ্গো নদীর তীরে,
.      রাখালের বাঁশির সুরে
মিলায়েছে সুর পদ্মা নদীর মাঝি---
.      নাম তার আব্বাসসুদ্দিন গাজী ||
মাটি ছোঁয়া মানুষের কান্নার গান,
.      ভরে যায় ভিয়েতনামের শ্রমিকের প্রাণ ||
ধনীর জীবনের স্বাদ যদি ভিন্ন হয়,
.      সর্ব্বহারার বাঁচার লড়াই চিরসম রয় ||
উলঙ্গ শিশু পাত্র হাতে দাঁড়ায়ে দুয়ারে,
গৃহস্বামীর সময় নাই কিছু দিতে তাহারে ||
.      দুই দিন অভুক্ত শিশুটি রয়েছে
তাহাতে কাহার কিবা ক্ষতি হয়েছে ||
.      দোকানে মিঠাই ভরা, আহারাদি চলিছে,
তারি পার্শ্বে মাতৃক্রোড়ে শিশুটি মরিছে ||
.      উচ্চ-নীচ এত ভেদ লুপ্ত কবে হ'বে---
জানিনা, জানিনা, সেদিন কবে গো কবে ||


.                 **************                              
.                                                                      
উপরে       


মিলনসাগর
*
খোল অবগুন্ঠন          

অবগুন্ঠন খোল তব প্রেয়সী
.         বর্ষকাল ধরি প্রতিক্ষায়
.                 রয়েছি তোমার পিয়াসী ||
কভু করি নাই স্পর্শ তব অঙ্গ,
.         পাইব বলিয়া তব সঙ্গ ||
মোর পত্নি লয়েছে বিদায়
.          আমা হতে চিরতরে---
কারন তাহার রহিবে নিশ্চয় ||
প্রশ্ন করিয়াছ তুমি বার বার
.          উত্তর সঠিক দিব, করিলে
.                  প্রশ্ন আবা বার ||
এতকাল ধরি করেছি সন্ধান---
.          কারণ খুঁজিতে ভ্রমেছি বহু ধাম ||
কারণ মিলিবে না ধরাধামে
.          পত্নি মোর লয়েছে
.                  বিদায় আত্ম অপমানে ||
যাহারা তাহারে করিল অপমান,
.           গেল চলি সকলেই স্বর্গধাম ||
পড়ে আছি পাপী আমি
.           একা নির্জনে
আগ্রহে চাহিয়া আছি
.           তারই আগমনে ||
কি বলিলে, তুমিই সেই
.           সঙ্গিনী আমার!
হতবাক করিলে মোরে,
.           কন্ঠস্বর এমত ছিল না তাহার---
অবগুন্ঠন খুলিলে যদি
.           তার দেখা পাই |
তখনই তোমারে লইয়া
.           গৃহে ফিরে যাই ||


.             **************                              
.                                                                      
উপরে       


মিলনসাগর
*
ধর্মের নামে অধর্ম          

আদিকালের আদমের
.         জাত বর্ণ অজানা |
মানুষের তৈরী ধর্ম নিয়ে
.         মানুষকে জাতে টানা ||
প্রয়োজনে মানুষ
.          ধর্মকে করে বর্ম |
আসলে মানুষ জানে না
.          ধর্মের প্রকৃত মর্ম ||
নিজের ধর্ম বড়
.          অন্যের ছোট |
এই নিয়ে মানুষ
.          লড়ছে অবিরত ||
দেশ শাসনের
.          বড় হাতিয়ার ধর্ম |
সারা দুনিয়ায় চলিছে,
.          আজ এমতই কর্ম ||
ধরায় শান্তি ধরে
.          রাখতে হ'লে |
মানুষে মানুষে
.          ভেদাভেদ ভুলতে হ'লে
ধর্মকে ডুবাতে হ'বে
.          প্রশান্ত সাগরের জলে ||
পৃথিবীতে চির শান্তি
.          আনতে হ'লে
ধর্মকে ছুঁড়ে ফেলে
.          মানবতাকে তুলতে
হ'বে কোলে ||

.             **************                              
.                                                                      
উপরে       


মিলনসাগর
*
জাগো          

হে আর্ত, হে দরিদ্র নিঃসহায়---
.         তোমারে করি প্রণাম |
জন্মের কারণে তুমি আজ হীন,
.         দিতেছি তোমারে শত সম্মান ||
সম্মুখে সাজায়ে রেখেছে
.         প্রাচুর্যের ডালি,
অভুক্ত দিবপ যাপিছ
.         সম্মান লয়ে খালি ||
কর নাই কভু প্রতিবাদ
.         হান নাই জীবনে সংঘাত
নীরবে সয়েছ ধনীর পেষণ
.         পাও নাই জীবনে শান্তির যতন ||
দৃঢ় কণ্ঠে সকলেরে বলি
.         নিস্ফল ক্রন্দন করিও না আর
মিলাও শক্তি, ধরো হাত সবাকার ||
উঠ, জাগো, দিন বিবর্তনের
.         পালা আসিয়াছে আজ
করহ সমাপন নিজ নিজ কাজ ||
প্রয়াস লইতে হইবে
.         অন্তরের সাথে,
ভাগ্যের চক্র নিশ্চয়
.         ঘুরিবে তাহাতে ||

.             **************                              
.                                                                      
উপরে       


মিলনসাগর
*
জীবন-মুখী কবি          

কবি মানেই ফুল, জল, লতা পাতা,
রয়েছে যা আমাদের মনে গাঁথা |
কবি মানেই আকাশের ত্রয়োদশীর চাঁদ,
বাতাসে কাশ-ফুলের মিষ্টি গন্ধের স্বাদ ||
কবি মানেই শ্রাবণের বরষামুখর রাতে,
চলেছি সঙ্গিনী সাথে কোন অজানা পথে |
কবি মানেই প্রেয়সীর কোমল স্পর্শ,
মনে দোলা দেয় বিপুল হর্ষ ||

নাই, নাই প্রয়োজন এমত কবির জীবনের ছন্দে,
চাই সুকান্ত, চাই নজরুল, ভারত মাতার বন্দে |
চাই না সে দেশের, যেথা মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব,
স্বার্থের সংঘাত প্রাণের স্পন্দন করে বন্ধ ||
চাই না সে দেশ যেথা নারীকে করে পণ্য,
ক্ষুধিত শিশুকে না দিতে পারে অন্ন ||

মোরা চাই না এমন দেশ, যেথা
জাতিতে জাতিতে ভেদাভেদ জাগরুক ||
চাই সেই দেশ যেথা বিরাজিছে
পবিত্র, সত্য, সুন্দর অপরূপ ||
শান্তির দূত অশোকেরে বন্দনা করি
সাম্যবাদী ঋষি বঙ্কিমেরে স্মরি ||
কবিগুরুর জীবনমুখী সংগীতের সুরে
লয়ে যায় মোদের
.         হলাহল হইতে দূরে
.                            বহু - দূরে ||

.             **************                              
.                                                                      
উপরে       


মিলনসাগর
*
গর্ব মোদের গর্ব          

জীবন সোনের একমাত্র
.           ছেলে করে রাজনীতি,
বাবার নেই তাতে
.           মোটেই সম্মতি ||
কত বোঝায়, কত বলে
.           ছেড়ে দিতে সব
এসব কি আমাদের চলে!

রাজনীতির নেই কোন হিসাব
.           পুলিশের ছেলের
.                    করতে নেই এসব ||
সৌরভ শোনে না এসব কথা,
.           সংসারে নেই তার মাথাব্যথা ||
পার্টি তার মগজে যা পুরছে
.           তাই নিয়েই সে দুনিয়াটায় ঘুরছে ||
জীবনবাবু বললেন তার স্ত্রীকে
.           ভাল করে বোঝাও সৌরভকে ||
বদলানোর অনেক চেষ্টা চলল,
.           তাতে কিবা ফল ফলল ||
বন্ধুদের বুদ্ধিতে
.           বৌ নিয়ে এলেন ঘরে,
সৌরভের মনটা যদি ফেরে ||

চারিদিকে বম ফাটছে---
.           পুলিশও অনেক মরছে ||
ছেলের জন্মদিন আজ
.           মা বাবার অনেক কাজ ||
ছেলেকে বললেন বাড়িতে থাকতে
.           আজকের দিন কোথাও না বেরুতে ||
বাবা বললেন থানায় যাচ্ছি---
.           তাড়াতাড়ি ফিরব---
মা বললেন মাংস-পায়েস রাঁধছি
.           একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া করব ||
"অপারেশন"-এর লিস্ট তৈরী হ'য়েছে
.           জীবন বাবুর নাম প্রথমেই রয়েছে ||
"স্যালুট" করে জীবন বাবু বললেন---
"অপারেশন"-এ আমরা এখনই চললেম ||
.           পুলিশ ঘিরে ফেলেছে বাড়ি
.                    নকশালরা গেল ছাদে তাড়াতাড়ি ||
.                             অন্য ছাদে লাফ দিল যখনই
.           জীবন বাবুর গুলি বুকে বিঁধল তখনই ||
পাশ থেকে এক পুলিশ বললেন
ইশ্ ছিঃ ছিঃ এ আপনি কি করলেন!

সকলেই ধরা পড়ল---
.     পুলিশ তাদের নিয়ে থানায় চলল ||
.            জীবন বাবুর জীপ আগে গিয়ে পৌঁছুল ||
বাবা মিষ্টি নিয়ে বাড়ি ফেরেন---
.            ছেলের কথা জিজ্ঞেস করেন ||
সে কি! ফেরেনি এখনও বাড়ি
.            তবে খোঁজ করি তাড়াতাড়ি ||
এমন সময় পুলিশের গাড়ি
.            থামল এসে জীবন বাবুর বাড়ি ||
কমিশনার সায়েব গাড়ি থেকে নামলেন,
.            জীবন বাবুকে স্যালুট করলেন ||
জীপ থেকে নামিয়ে দিলেন
.            তাঁর অব্যর্থ শিকার
জীবন বাবু রেখেছেন তাঁর পুরো অঙ্গীকার ||


আজও যাঁকে দেখা যায়
.        ছেঁড়া জামা গায়ে
ফাটা জুতো পায়ে
.        বসে আছেন থানার পাশে
গর্ব মোদের এমনও মানুষ
.        জন্মে মোদের দেশে ||

.             **************                              
.                                                                      
উপরে       


মিলনসাগর
*
অভিনব কাব্য         

হ্যালো, হ্যালো, কে, কে, প্রমীলা?
.       দুপুরে তুমি ফোন করেছিলে?
হ্যাঁ, তুমি তো করতে বলেছিলে ||
.       বড্ড কষ্ট, বাতের ব্যথাটা বেড়েছে,
.             সঙ্গে মনে হয় একটু জ্বরও রয়েছে ||
সংসারের সব কাজই করতে হয় আমায়,
.       ঝি ছাড়িয়েছে, ছেলে বৌ এভাবে খরচ কমায় ||
আমার ইচ্ছে ছিল ছেলের বাড়ি আসার---
মনে হয় বন্দোবস্ত করতে হবে কোন বাসার ||
.       তুমি কেমন আছ, বড় ছেলের বাড়ি!
চলছে একরকম, এখানে দেখছি দু'রকম হাঁড়ি ||
.        সরু চাল ও মোটা চাল.
.                  সংসারের এমনই হাল ||
.        বাজার থেকে সব কাজই করতে
.                             হয় আমাকে---
.        সকালের চা রুটি পাই
.                   যখন হয় তাদের সময় ||
.        বৌমা এখানে কত্তা
.                   আমার ছেলে গিন্নী,
.        এমন কথা ভূভারতে
.                   কখনও আমি শুনি নি ||
.        বাজার থেকে ফিরে এলে
.                   বৌমা হিসেব নেয়,
.        নরেন আমার ছেলে ভাল
.                   চুপটি করে রয় ||
.        হার্টের অষুধটা ফুরিয়েছে
.                   নরেনকে বলেছি আনতে ||
.        জানিনা আসবে কি না
.                   বৌমা পারে যদি জানতে ||
.        কাপড় চোপড় গেছে ছিঁড়ে
.                   করব কি তাই ভাবছি,
.        পেনশানের টাকা ফুরিয়ে গেছে
.                   কেনা কাটা তুলে রাখছি,

.        বাড়ি ভাড়া করে নিয়েছি
.                   জিনিষ অনেক কিনেছি
.        আজ সকালে নরেনকে বললাম
.                   তোমাদের সুখে বাঁধ সাধিব না
.                             বলেই এমনটা করলাম |
.        ব্যস্, দুজনের সংসারে বসে বসে ভাববো,
.                   বাস্তব জীবনের অভিনব কাব্য ||

.             **************                              
.                                                                      
উপরে       


মিলনসাগর
*
ঝি-সংবাদ               

মাগো, তোমার মনে আছে,
.       কি ভালই না তুমি বাসতে,
টিপ, ফিতে, আচার ---
.       আমার জন্য তুমি নিয়ে আসতে ||
বাবুর বাড়ি বাসন মেজে
.       জীবনটা তোমার গেল,
ভাল করে ভেবে দেখ---
.       কি ভালটাই তোমার হ'ল ||
এক বিঘে জমি কিনলে দেশে
.       বানের জলে গেল ভেসে ||
বয়স আমার পাঁচ কি ছয়,
.       বেশ মনে আছে তার বেশী নয় ||
একা আমি বসে আছি ঘরে
.       তুমি ছট্ ফট্ করছ জ্বরে ||
দত্ত বাড়ির মেজ বাবু এলেন
.       তোমার নাম ধরে ডাকলেন ||
আমি বললাম, মার জ্বর রয়েছে,
.       বললেন ঢং করিস নে, অনেক হ'য়েছে ||
একটা ঝি-এর জন্ম দিয়ে বাবা হ'ল ফেরার---
.       নাম গন্ধ নেই তার ঘরের দিকে আসার ||
আমাদের ঘরের কাছেই বাবা থাকতো |
.       নতুন বৌ নিয়ে ঝোপড়িতে বাস করতো ||
তের বছর বয়সেই ধরলাম ---
.       বাসন মাজার নুটী,
তারপর থেকে জীবনে
.       পাইনি কোন ছুটি ||
দত্তদের মেজ বাবু মোটেই ভাল নয়,
তুমি বললে --- ঝিয়েদের নাকি এমনটাই হতে হয় ||
গেলাম আমি চলে
.       তোমার আগে ভাগে
কুমারী মায়ের সন্তান
.       জন্ম নেবার আগে ||
মাগো, আবার ফিরে
.       আসব তোমার কোলে---
তবে হ্যাঁ, দত্ত বাড়ির
.       মেজ বাবুরা মলে ||

.             **************                              
.                                                                      
উপরে       


মিলনসাগর
*
জীবনের সংজ্ঞা

আমায় তুমি চিনতে পার, বলতো আমি কে?
চেনা চেনা লাগছে বটে, হয়তো তুমি সে ||
না না না, কাছে এসো না আমার
দূর থেকে বল যা' বলার ||
দেখছি তো ভালই আছ, আবার বিয়ে করেছো ||
ভালবাসা কথাটা ভাল, সংজ্ঞা তুমি জান?
সংজ্ঞা তোমার যাই হ'ক না, জীবনটাকে তো মান ||
জীবন? জীবনে জীবন কোথায় পেলাম---
অশ্রুনীরে বিদায় নিলাম ||
না না না, বিদায় আমায় নিতে হ'ল
কেন তা আজ তুমিই বল ||
ঘটনা যা ঘটেছে, সংবাদে যা রটেছে,
মানছি আমি সবই, আদালত যা বলছে ||
ঘটনায় কোন হাত ছিল না আমার,
বাবাকে তো ভালই জান, সব বুদ্ধিই বাবার ||
আমি অবাক হচ্ছি তোমায় দেখে---
সেদিনের বিমল কোথায় গেল
যেদিন আমারা বসতাম গিয়ে লেকে ||
কত ভালবাসা শুনতাম তোমার মুখে---
যা স্পন্দিত হতো আমার বুকে ||
তাই ভাবি বোকা মেয়েগুলোর কথা
কে বুঝবে তাদের বাকি জীবনের ব্যথা ||
পরেশদা, নরেশদা চিরকালই থাকবে
অস্ লীমার সংজ্ঞা কিছুটা তো মানবে ||
একি! তুমি হঠাৎ কোথায় গেলে ---
দেখছো না শুয়ে আছে ছেলে ||
তেষ্টায় বুকটা ফাটছে, ঘামও খুব হচ্ছে |
ওয়ার্ড মাস্টারের চিত্কার কানে ভেসে আসছে ||

**************
.                                                                                                      
উপরে    

মিলনসাগর