কবি রাজীব করের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে। www.milansagar.com
১।  দী ও বাংলা ভাষা
২।  শিবলিঙ্গ          
৩।  
বাংলা ভাষা             
৪।   
মায়া     
৫।   
বন্ধু                       
৬।   
প্রতিষ্ঠা    
৭|    
জনসভা     
৮।   
শ্রেণিশত্রু শ্রেণিমিত্র             
৯।   
টুপি         
১০।  
আলু            
  
    
*
  নদী ও বাংলাভাষা  

নদীভাষা শিখবো বলে বসেছি তোমার দুয়ারে
এখন ভরা জোয়ারের কাল, পায়ের পাতা ছুঁয়ে যাচ্ছো
জলচ্ছলে আর ঠাণ্ডা বাতাস ! আঃ, রৌদ্রশাসিত দিন
আরো কেন পোড়ালে না এই তনুমন, আরো শীতল
হতো এই হাওয়া --- এই পেয়ে না-পাওয়া চঞ্চল আনাগোনা তার |
ও কি প্রণামের ছল ? ও কি পুঁতে যাওয়া বীজাণু প্রেমের ?
ও জোয়ার, ওরে জোয়ারের জল, সে কি বলেছে তোকে সীমা ?
পায়ের পাতার ওপরে ওঠা কি বারণ তোর ?
পূর্ণগাহন না হলে কি শেখা যায় নদীভাষা, সাঁতার প্রণালী ?
জোয়ারের কালেও এত কৃপণ হলে, ও নদী,
আমি তোমার নৌকা কো নই, অগস্ত্যও নই
আমি তোমার কুটোর মতো, আমি শেখাই বাংলাভাষা
তুমি তোমার ভাষা শেখাও এবং ভাসাও
ভাসবো বলেই বসন্তভর তোমায় পড়াই


.                    ******************                                        
উপরে
        শিবলিঙ্গ

কালো হয়ে আছো, কালো করে দিচ্ছো এই বর্ষণবেলা
বুড়ো অশথের পায়ে জেগে আছে অনন্ত পৌরুষ
হে সৃষ্টিহীন ধ্বংসহীন প্রস্তরীভূত দেবাঙ্গ
তুমি ভিজে আছো রোদ ঝলমলে দিনে পাশবপ্রস্রাবে
আর মদ্যরাতে মাতালের উষ্ণতায়
তোমার স্বর্গ নেই, পাতাল নেই, আছে শুধু
তোমার চেয়েও কঠিন পৃথিবী
ধবল গাভীর দুধে আয়েসিস্নান আজ বীতপৌরাণিক নির্ঘন্ট

দ্যাখো, হাইহিল খুলে রেখে মিনিস্কার্ট
শনিমন্দিরে ঘষে নিল কপাল, যদি ফেরে যদি ওইখানে
লাল হয় সূর্যোদয়বিন্দু | পাশেই রয়েছো তুমি
তবু ফিরেও দেখলো না | শুধু প্রান্ত বছরের চতুর্দশী
অথবা চৈত্র অবসানে জলো দুধে স্নান করায় উপোসী মানবীরা
তারপর নতুন বছর আসে, আসে নতুন বিস্মৃতি

হে নিশ্চল, নগ্ন হয়ে আছো গূঢ় কী কারণে ?
নাকি তেমন অপর্ণা আজ নেই বলে ভুলে গেছ রতিশিল্পও ?
রোবটও এ সময় উদ্দাম মেঘদূত লেখে
অথচ তুমি ঘনবর্ষায় ভিজে ভিজে একদম হিম


.             ******************                                               
উপরে
*
  বাংলাভাষা

যে ভাষা পাখির মতো গান গায়
বাদল মেঘের মতো ঝরে রুক্ষ বুকে
অখবা শরত্ মেঘে দেখতে পায় রবীন্দ্রনাথকে
যে ভাষা ঝর্ণার মতো পাথরকে স্নান করায়
আর ভাবে পাথরও গলবে, পরিশুদ্ধ হবে---
আমি সেই ভাষায় জীবিকা যাপন করি
নিজেকে তাই ঈশ্বর মনে হয়

গাছের আড়াল থেকে অসংখ্য ব্যাধ আজ
সেই ভাষার দিকে ছুড়ছে তির আর
ফুটো ফুটো হয়ে যাচ্ছে আমার হৃদয়
আমারই রক্তে পবিত্র হচ্ছে ভাষা
কিন্তু আমি তো সত্যি সত্যি ঈশ্বর নই
আমার ভাষা অবিনশ্বর---এই সত্য জেনে
নিজের জন্য নশ্বরতাই চাই


.            ******************                                           
উপরে
*
      মায়া

ঋক থেকে উঠে এসে শুক্লকেশ ঋষি
উদাত্ত কণ্ঠে আহ্বান করলেন ক্ষিতিকে |
ঊষাহ্নে ক্ষিতি এসে রচনা করলেন স্নিগ্ধ তৃণাসন
উপবিষ্ট হলেন ঋষিবর এবং
দক্ষিণ বাহু উত্থিত করে ছান্দসে বললেন---
অগ্নি-অম্বু-বায়ু-ব্যোম
অমনি দিগন্তদ্বার খুলে প্রকাশিত হলেন পূষণ
পাহাড় থেকে নেমে এলো ঝর্না, নদী বয়ে চললো
জলকল্লোলে, দিকে দিকে হেসে উঠলো পুষ্পপল্লব
অন্তরীক্ষে উতলা হলেন চন্দ্র আর নক্ষত্রপুঞ্জ
সায়ংকালে অনির্বাণ পঞ্চপ্রদীপ জ্বেলে
অন্তর্হিত হবার মুহুর্তে ঋষিবর বললেন---
ওহে আগামী মানবক, এর প্রতিটি শিখা
তোমাদের কায়ায় প্রবিষ্ট হবে এবং
বেঁধে রাখবে অসীম মায়ায়


.        ******************                                               
উপরে
*
[ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্ লগ্ বা সাইটে, আমাদের কোন লেখা, কবিতা
বা তার অংশবিশেষ নিলে, আমাদের মূল পাতা http://www.milansagar.com/index.html এ দয়া
করে একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্ লগ্  বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ ! ]
                 বন্ধু

সবাই জানে গাছেরা জন্মাবধি মূক ও বধির এবং নিশ্চল |
কিন্তু এই মুহুর্তে একটি গাছ রাস্তা পার হচ্ছে, একটি পাখি
তাকে পথ দেখাচ্ছে আর একজন কবি সবাইকে দেখাচ্ছেন
এই দৃশ্য | সবারই সন্দেহ জাগছে, লোকটি কবি না যাদুকর
অথচ কারো মনেই প্রশ্ন জাগছে না, গাছটি অন্ধ কি না
কেউ কেউ সিদ্ধান্ত করেছে, পাখিটা পথ দেখাচ্ছে, কারণ
গাছটার মধ্যে আছে ওর বাসা আর বাসার মধ্যে ডিম বা ছানা

কবি জানেন, আসলে সে সব কিছু না ; দুষ্টু লোকেরা
গাছটার ডালের সঙ্গে পাখিটার পা বেঁধে দিয়েছে | পাখিটা
উড়তে চাইছে, তাই গাছটা তাকে সাহায্য করছে মাত্র

.                 ******************                                               
উপরে
*
               প্রতিষ্ঠা

যেখানে যত শূণ্য পেয়েছি তাদের সকলের আগে
অন্তত একটা এক লিখতে পারলে নাকি
প্রতিষ্ঠিত হতাম
বাড়িগাড়ি তো হোতোই    নামযশও   সর্বোপরি অচিন্ত্য ক্ষমতা
কিন্তু প্রতিষ্ঠা মানেটা আমি ঠিক ধরতে পারি নি

ডাকা-মেঘ নয়    ডাকাবুকো মেঘ নয়
নীরব মেঘ থেকে নেমে আসে শান্ত বর্ষণ
সেই বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভেজে একটা গাছ

আমি ঐ গাছের মতো প্রতিষ্ঠা চেয়েছি

.                 ******************                                               
উপরে
*
             জনসভা

জনসভা মানে প্রতিশ্রুতির প্রবল উদ্বমন
হাবাগোবা বিপাক্ষিক-বিষ উদ্গার
সমকাল ও সমস্যার কৌণিক বিচার
মাসোহারা মেষদের মত্ত অবস্থান
রাস্তা বন্ধ    শব্ দদূষণ     প্ল্যাকার্ড     ফেস্টুন

জমসভা মানে ফুরোয় পান্তা        আসে না নুন
জনসভা মানে নয় সর্বদা এরকম
তবু যারা আসলে চাকর ও চাষা
সব মরে গিয়েও তাদের বাঁচে কিছু আশা
সেইটুকুই নিয়ে ফের ঘর     ভাগ করে খায় বালবাচ্চারা
বিসর্জনের পর যেরকম বাজনারা
আসছে বছর আবার ...

.              ******************                                             
উপরে
*
শ্রেণিশত্রু শ্রেণিমিত্র

বলেছিলে শ্মশ্রুভূষণ লিখবে শ্রেণিশত্রু প্রসঙ্গে
তার কি কোনো প্রয়োজন আছে নকশালোত্তর বঙ্গে
রুণু নিয়োগীরা যদিও আছে বহাল তবিয়তে
এখন আর মাছি সুড়সুড়ি দেয় না পুরনো ক্ষতে

সিদ্ধার্থরা গদি ও গর্দান ছেড়ে হয়নি তো বুদ্ধ
ক্ষমতার লিঙ্গে এখনো এ সমাজটা নমঃশূদ্র
পাঁজরে দাঁড়ের শব্ দ  নিয়ে আজো বোধিবৃক্ষ-নিচে
দধীচি হবার জন্যে ছাঁটাই শ্রমিক বসে আছে

মৃত মুখ থেকে চোখ তুলে শুধাবে না বাপী সেন
লাথি খাচ্ছিলাম যখন, মশাইরা কি চুষছিলেন
কী লাভ নতুন কলমে পুরোনো কষ্টকে এঁকে
পথগুলো বেঁকে গেছে , লালগুলো এখন তো ফিকে

নিজের জামার বোতামগুলো চেনো শ্মশ্রুভূষণ
ঘরগুলো, ফুটোগুলো, চোখ বুজে কর কি স্মরণ
শ্রেণিশত্রুরা বোতাম হলেও তবু ছিঁড়তে পারো না
ভোগবাদের উপরে লেগেছে মায়াবাদী ধারণা

বলো শ্মশ্রুভূষণ খুঁজে পেয়েছ বাংলা অভিধানে
শ্রেণিমিত্র কোনো শব্ দ-ব্যাসবাক্য আর মানে
যদি পাও, লেখো না তবে দু-এক লাইন অন্তত
দেখি আগুন নেভার পরও তুমি কতটা সংযত


.              ******************                                           
উপরে
*
                টুপি

মাথার গণ্ডগোল সেরে গেলে মানুষ টুপি পড়ে নেয়
আর সেই টুপিতে একটার পর একটা এসে জোটে
নানারঙের পালক
টুপি পড়া লোকটা জানতেই পারে না---
টুপিটা যে বানিয়েছে তারও মাথা খারাপ
নইলে এত জিনিষ থাকতে সে কেন টুপি বানিয়েই বেঁচে থাকে
পালকগুলো যে সব পাখির শরীর ছিঁড়ে আসে
লোকটা সেই পাখিদেরও চেনে না
অথচ টুপি ও পালকের জোরেই সে নিজেকে ভাবতে থাকে
রাজা বা ঈশ্বর


.                   ******************                                             
উপরে
*
              আলু

আমার দোষ আছে | আমি দোষে আছি |
অথচ দেখুন দিনেরাতে আমি সকলেরই পাতে
ডায়াবেটিশিয়ানদের কথা ছাড়ান্ দিন
যেভাবে খুশি খান --- যত খুশি
সেদ্ধ করার পর ছাল ছাড়িয়ে নুন ছিটিয়ে
অথবা গরম তেলে ভেজে নতুবা অন্যদের সঙ্গে নেড়েচেড়ে
আমার কষ্ট হয় না | আমার সয়ে গেছে |

আমাকে কে না খায়, ফিল্মস্টার থেকে মাস্টার
দারিদ্র্য সীমার নিচে-ওপরে-মাঝখানে
বৈভব সীমার এপারে-ওপারে-সেপারে
যারা থাকে--- সবারই ক্ষুন্নিবৃত্তি আমি
যেভাবে ইচ্ছে খেতে পারেন
আমার মেরুদণ্ড নেই, পুংদণ্ড নেই, এমনকি
একটাও হাড়জাতীয় দৃঢ়তা নেই

ঠাণেডাঘরে যাই, আহ্লাদে ভিজে আসি
তারপর ধুলোয় গড়াগড়ি | সর্বংসহা মাটির গর্ভে ছিলাম
কোমল নিরাপত্তায় কমনীয় হয়েছি, তাই সবার রমণীয়
আমার রক্তে হিমোগ্লোবিন নেই
ফালা ফালা হয়েও আমি রক্তপাতহীন সাদা
আমাকে গ্রহণ করলে দাদা, চরিত্র যাবে না |


.                   ******************                                             
উপরে
*