রাজকৃষ্ণ রায়
২১. ১০. ১৮৪৯ ~ ১১. ০৩. ১৮৯৪
কবি রাজকৃষ্ণ রায় - উনবিংশ শতাব্দীর কবি ও নাট্যকার | তিনি প্রায় ৭০টি গ্রন্থের রচয়িতা |

তিনি জন্ম গ্রহণ করেন বর্ধমান জেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে | পিতা রামদাস রায় | শৈশবেই মাতার মৃত্যু
হওয়াতে রামদাস, রাজকৃষ্ণকে নিয়ে কলকাতায় চলে আসেন | মাত্র আট বছর বয়সে রাজকৃষ্ণর পিতৃবিয়োগ
ঘটে | তাই ইস্কুলের লেখা পড়া তাঁর ভাগ্যে জোটে নি আর্থিক অনটনের জন্যই |  তিনি নিজেই নানা স্থান
থেকে বইপত্র যোগাড় করে স্বশিক্ষিত হয়েছিলেন |

২১ বছর বয়সে মাত্র ১২টাকা মাইনেতে এলবার্ট প্রেস ছাপখানায় তিনি চাকরি পান | ক্রমে ক্রমে অর্থ জমিয়ে
তিনি নিজেই "বীণাযন্ত্র" নামের ছাপখানা স্থাপন করেন এবং "বীণা" নামক একটি কাব্যপ্রধান মাসিক পত্রিকা
প্রকাশ করেন |

বাল্যকাল থেকেই তাঁর কবিতায় অনুরাগ ছিল | তাঁর বহু কবিতা তত্কালীন সংবাদপত্র "সন্ধ্যা"-য় প্রকাশিত
হয়েছে | তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ "বঙ্গভূষণ" (১৮৭৪) এবং শেষ রচনা "বেনজীর বদ্ রেমুনীর" (১৮৯৩) | এই ১৯
বছরে তিনি বহু কাব্য, নাটক ও আখ্যান রচনা করেন | "বাঙালির গান" এর সংকলক এবং কবি সাহিত্যিক
দুর্গাদাস লাহিড়ি ১৯০৭ সালে লিখেছেন (তখনও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সৃষ্টিকালের সমাপ্তির ৩৪ বছর বাকি)   
   
             --- "...রাজকৃষ্ণ যত গ্রন্থ লিখিয়াছেন, বাঙালা ভাষায় এত গ্রন্থ আর কেহই লেখেন নাই |"

জাতীয়তাবোধ, পরাধীনতার গ্লানি, প্রেম-ভক্তি-ভালোবাসা তাঁর কবিতার মূলে | ১৮৭৬-এ "অবসর সরোজিনী"
নামক কাব্য প্রকাশ কালে নাট্যকার  ও কবি
গিরিশচন্দ্র ঘোষের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং এই সময়
থেকেই তাঁর নাট্য জীবনের আরম্ভ | "অনলে বিজলী" (১৮৭৮), "দ্বাদশ গোপাল" (১৮৭৮), "লৌহ কারাগার"
(১৮৮০), "হরধনুর্ভঙ্গ" (১৮৮২) ইত্যাদি পৌরানিক নাটক, "রাজা বিক্রমাদিত্য" (১৮৮৪), মীরাবাঈ" (১৮৮৯)
প্রভৃতি ঐতিহাসিক নাটক এবং "বেলুনে বাঙালীবিবি" (১৮৯০), "লোভেন্দ্র গবেন্দ্র" (১৮৯০) প্রভৃতি সামাজিক
প্রহসন ; "লায়লা মজনু" (১৮৯১) ও "ঋষ্যশৃঙ্গ" (১৮৯২) প্রভৃতি গীতিনাট্য তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা |

তাঁর প্রতিভার বহুমুখিতা যথার্থই বিস্ময়কর, যদিও তাঁর খ্যাতি ছিল নিতান্ত সীমাবদ্ধ |

"দুই শিকারী" (১৮৮২), "অদ্ভুত ডাকাত" (১৮৮৯), জ্যোতির্ময়ী (১৮৮৯) প্রভৃতি উপন্যাস, রামায়ণ (১৮৭৭-৮৫)
ও মহাভারতের (১৮৮৬-৯৩) অনুবাদ, "ভারতকোষ" (তিন খণ্ড ১৮৮০-৯২) নামক কোষগ্রন্থ রচনা, কবিতা
প্রধান পত্রিকা "বীণা", "খোসগল্প" (১৮৮০-৮৫) নামক উপভোগ্য গল্প সংকলন প্রভৃতি তাঁর বহুমুখী প্রতিভার
নিদর্শন |

তাঁর রঙ্গমঞ্চের সঙ্গে যোগ ছিল অতি ঘনিষ্ঠ | তিনি অভিনেতা রূপে সুনাম অর্জন করেছিলেন | তাঁর
"প্রহ্লাদচরিত্র" নাটকের অভিনয়ে বাংলা থিয়েটার প্রভূত লাভ করলেও তিনি কোন আর্থিক লাভ পাচ্ছিলেন
না তাই তিনি ক্ষোভে "বীণা-রঙ্গভূমি" (১৮৮৭) নামে রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করেন | এতেই তিনি ঋণগ্রস্থ এবং
সর্বস্বান্ত হন |  অবশেষে স্টার থিয়েটারের কর্তৃপক্ষ এবং শ্রী গুরুদাস চট্টোপাধ্যায়ের অনুগ্রহে কিছুটা
অবস্থার উন্নতি হলেও তাঁর অকাল মৃত্যু আটকানো যায় নি |

তাঁর রচনার বিপুলতা, অনর্গল রচনা শক্তি এবং পরিক্ষা-নিরীক্ষায় উত্সাহ --- সমস্ত দিক থেকে তিনি বাংলা
সাহিত্যের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, অপূর্ণ সম্ভাবনার কবি-নাট্যকার, দারিদ্র্য-পীড়িত, অবহেলিত, অকালমৃত
প্রতিভা |

সভ্যাতার এই ঐতিহাসিক ক্ষণে, সাহিত্য প্রকাশের আর একটি মাধ্যম হাতে এসেছে --- ইন্টারনেট!
রাজকৃষ্ণ রায়ের মত প্রতিভা একদা অবহেলিত ও বিস্মৃত হলেও আমরা তাঁকে আবার পাঠকের কাছে
ফেরত নিয়ে যেতে চাই | এই পাতাটি সেই লক্ষ্যেই  
মিলনসাগর-এর একটি প্রচেষ্টা |

রাজকৃষ্ণ রায় সম্বন্ধে আরও কবিতা, গান এবং কবির ফটো বা ছবি এবং তথ্য আমাদের পাঠালে আমরা
প্রেরকের নাম উল্লেখ করবো এই পাতায় | তিনি নাট্য জগতের একজন খ্যাতনামা অভিনেতাও ছিলেন, তাই
আশা করছি তাঁর একটি ছবি কোথাও না কোথাও থাকবেই |

.                                       --- উত্স:  
দুর্গাদাস লাহিড়ি সম্পাদিত বাঙালির গান ১৯০৭
.                                                  
ডঃ শিশির কুমার দাশ, সংসদ সাহিত্য সঙ্গী ২০০৩
.                                                   
.                                                    
আমাদের ঠিকানা :
srimilansengupta@yahoo.co.in
আমাদের কাছে
কবি রাজকৃষ্ণ রায়ের  কোনো ছবি
নেই | একটি ছবি আমাদের কাছে
পাঠালে আমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে
প্রেরকের নাম এইখানে ছবির সাখে
উল্লেখ করবো |
আমাদের ঠিকানা-
srimilansengupta@yahoo.co.in