সমীর রায়ের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।   www.milansagar.com
১।      মৃত্যুও কোমল গান্ধার হয়ে                   
২।      
প্রাক মুহুর্ত                  
৩।      
সুন্দরবন        
৪।      
ঠোঁটের কাঁপন দেখি                
৫।      
রাস্তার ছেলে         
৬।      
দীর উপরে লাশ            
৭।      
এই আমার অপমান    
৮।      
প্রাচ্যের সন্ন্যাসী             
৯।      
স্বপ্নের কবরে             
১০।     
সেলুলার জেলে দেখে এসো         
১১।     
পাখীর রক্ত মেশাচ্ছি             
১২।     
চুনি কোটাল        
১৩।     
কমরেড কাকে বলো তুমি      
১৪।     
কোথায় বসবে পাখী               
১৫।     
গীটার বাজানো শেষ হয়নি                              
                    
*
মৃত্যুও কোমল গান্ধার হয়ে     

বড়দের কোলাহলে মাঝে মাঝে শিশু হয়ে যাই!
শিশুদের আদর সোহাগ সবটাই শিমূল গাছ ---
শিমূল তুলোয় ধুনুচি বাতাস নাচে!
আমার বুকের ভেতরে শিলংয়ের বৃষ্টি নামে
রামধনু মাখা বৃষ্টি!
আহা শিশুর পৃথিবী কত রঙিন!
মৃত্যুও কোমল গান্ধার হয়ে শুয়ে থাকে লাশকাটা ঘরে
|

.                    ******************                                        
উপরে
.                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                 
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত
            
*
[ একটি অনুরোধ - এই সাইট থেকে আপনার ব্ লগ্ বা সাইটে, আমাদের কোন লেখা, কবিতা
বা তার অংশবিশেষ নিলে, আমাদের মূল পাতা
http://www.milansagar.com/index.html
দয়া করে একটি ফিরতি লিঙ্ক দেবেন আপনার ব্ লগ্  বা সাইট থেকে, ধন্যবাদ ! ]
প্রাক মুহুর্ত     

সুবর্ণরেখায় যত রঙ সব ছিলো ঠোঁটে
সমুদ্রের প্রটিতি শঙ্খ বাজিয়ে দেখেছি
বেদনার রূপ ছাড়া অন্য কোন বর্ণপরিচয় জানে না এ মাটি
এই আমি পাল্টে নিচ্ছি মুদ্রা
দক্ষিণ সমুদ্র থেকে হাওয়া ভৈরবীর নীল শাড়ি দুলিয়ে আসছে
আমার মুখের হাসি টেনে নিচ্ছে চুম্বক বিষ
এ আমার হিংস্র --- হয়ে ওঠার প্রাকমুহুর্ত
শিরা কেটে দেখে নিও ডোরাকাটা বাঘের নিঃশ্বাস
!

.                    ******************                                        
উপরে
.                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                 
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  
*
ঠোঁটের কাঁপন দেখি     

ইলোরার পাষাণে পাষাণ হয়ে ঢুকেছি হৃদয়ে
প্রেম নেই    ছায়া নেই
মৃত রূপ পড়ে আছে পাষাণে পাষাণে!
মন্দিরে শৃঙ্গার দেখেছি মুগ্ধ
ধ্যান হয়ে ঢুকেছি ভিতরে
ভালোবাসা মেঘ হয়ে উড়ে গেছে নীল নীল ধানের শিকড়ে

এইমাত্র যে মেয়েটি চোখের মুদ্রায় সাগর নাচালো
আমি নিজে ভেলা নিয়ে সে সাগরে ডুবে দেখি
আগুন লেগেছে জলে মান্দাস ছাই হয়ে ভেসে গেল পুড়ে!
মনে হয় প্রেম বুঝি নেমে গেলো বুকের ঘুঙুর থেকে পায়ের নুপুরে!

তবে কেন পৃথিবীতে এতো ফুল এতো ফুল
রং ঢালে মাটির সরায়!
প্রেম ছিল এখনো রয়েছে কিছু
সাধনায় অবহেলা দেখে চলে গেছে মরুর মালায়
আমি এক ধু ধু বালি চিরে ঠোঁটের কাঁপন দেখি বেহুলার শুক্লা জ্যোত্স্নায়
!

.                    ******************   
                                                    উপরে
.                                                      অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                
               সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
দীর উপরে লাশ     

মাথায় করে ঝাঁকায় করে ঝড় বয়ে বেড়ানোর পর
বড় ক্লান্ত লাগে
!
অথচ এই স্নায়ুতে কতবার আগুন এসে ভয় পেয়েছে!
সময় ভীষণ ভীষণ হারিয়ে দেয়!
আমি আর তোর সঙ্গে খেলবো না ভাই!
আমার এখন একটি নদী একটি মাঝি নৌকো চাই!
বটের ঝুরির মত আলো এসে মাটির ভিতর চলে গেল
কয়েক বছর লাশ হয়ে শুয়ে থাকা!
জ্যোত্স্নাতো আকাশে উঠবেই
চোখ বুঁজে জ্যোত্স্না আর জল নিয়ে বাঁশী বানাবো
নদীর উপরে লাশ, বাঁশী বাজাবো

.                    ******************                                                      উপরে
.                                                     অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                              
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  
*
ই আমার অপমান     

এই আমার অপমান
ভাসিয়ে দিলাম বর্ষায় শীতে হেমন্তে বসন্তে
ভিক্ষুনী তোকে!
ভিক্ষুনী মিলনে যাস না
সঙ্গমে যাস না!
গর্ভবতী হলে অপমান
অপমান প্রসব করে!

কেন যাবো না? যাবো!
এই তো যাচ্ছি!
অপমানে এতবড় নীল নীলাকাশ সূর্য প্রসব করেছিলে
আমি না হয় একচাঙ আগুন পেটে ধরেছি!


.                    ******************   
                                            উপরে
.                                               অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.
                                       সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
সুন্দরবন     

পৃথিবীর সব নদী এখানে বাঁশরি বাজায়
গরাণের রাণী বাণী হেঁতালের বাগানে বেড়ায়
!
এইখানে রোদ নিজেকে ভাসায় --- নগ্নভাসান্
জলের হাতে বসুন্ধরা পাতায় নাচে পাখির গান!
গানের রেখা লক্ষ্য রেখা ব্যাঘ্র নাচায়
বাঁশের কুলোয় রাত ঝেড়ে রাত সুন্দরী মেয়ে সাগরে যায়!


.                    ******************                                        
উপরে
.                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                 
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  
রাস্তার ছেলে     

কে তোকে কমলালেবু দিয়েছে জানিনা
জানলে তাঁর পায়ে দশবার মাথা ঠুকে আসতাম
!
তুই কমলালেবুর খোসা ছাড়া খোকা
আমি ঝর্ণাকে বলে আসি পৃথিবীতে মানুষ এসেছে!
বেদনা তুই মেঘ হয়ে বৃষ্টি হয়ে মৃত্যুর রং হয়ে চেয়ে দ্যাখ্
ভাওলিন থামিয়ে দ্যাখ্ ছেলেটা কমলালেবু খাচ্ছে!


.                    ******************                                                       
উপরে
.                                                      অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                               
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
প্রাচ্যের সন্ন্যাসী     

ভাঙা শিশি বোতল বিক্রি
কাগজ চাই কাগজ ...
ছেলেটি এইভাবে অলি গলি পথে পথে
ভাঙা শিশি বোতল বিক্রি
কাগজ চাই কাগজ
!
আমি একদিন ছেলেটিকে ঘরে ডেকে বসালাম
ভাঙাচোরা মানুষ আছে
কিনবে?
বুকভর্তি অপমান
কিনবে?
ছেলেটি আমার চেখের দিকে ঠায় তাকিয়ে
নিরপত্তাম জল যেন বসে আছে প্রাচ্যের সন্ন্যাসী!


.                    ******************                                               
উপরে
.                                               অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                        
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
স্বপ্নের কবরে     

তক্ষণ মাটিতে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা যায়!
কেউ দাঁড়ায় দেয়াল ধরে কেউ বাঁশের বেড়া
রোদ্দুর ধরে কেহ-বা উজ্জ্বল দাঁড়াতে চায়!
দেয়াল বাঁশের বেড়া
রোদ্দুর সকালেই মুছে যায় মুছে গেছে
রাত্রি নামে কোন এক পাখীর আঁচড়ে!

কষ্টে আছি স্বপ্ন ধরে দাঁড়িয়ে আছি!
স্বপ্নেরও আততায়ী আছে
ট্রিগারে আঙ্গুল চেপে মিশে গেলো বেশ্যার ঘরে
শব্দ নেই শিশিরের বৃষ্টি নেই
একা আমি বসে আছি শূণ্য এ মাটির কবরে!


.                    ******************                                               
উপরে
.                                               অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                        
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
সেলুলার জেলে দেখে এসো     

সাপের গর্ত্তে বুদ্ধ হাত দিয়েছিলো
চৈতন্য ঈশ্ব
লালন নজরুল পরপর মনসা হাওয়ায় খেলেছে
সেলুলার জেলে দেখে এসো
পুরী এক্সপ্রেস বা দুনে চেপে নয়
দীর্ঘ নীল পারি দিলে সেলুলার জেল
প্রতিটি ফলকে চৈতন্য ঈশ্ব
লালন বুদ্ধ নজরুল!
নীল তার চুল খুলে মুছে দেয় ফলকের ঝুল!
সাপের গর্ত্তে হাত দিয়েছিলো
বাঘের বাচ্চারা বিষ ভেঙ্গেছিল বিষ খেয়েছিলো!


.                    ******************                                               
উপরে
.                                               অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                        
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
পাখীর রক্ত মেশাচ্ছি     

স্বপ্নের রং যখন কালো হয়ে আসে
তখন ভাবতে হয় আমাদের কোথাও ভুল হয়েছিলো
!
পৃথিবীকে এক জায়গায় জড়ো করে এই কথাটা বোঝাচ্ছিলাম
একটি পাখী আমাকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে গেলো,
সে তার হিরণ্য আঙ্গুল দিয়ে শরীর ছিঁড়ে
দুহাত ভরে রক্ত দিয়ে উড়ে চলে গেলো !
আমি তাকে ডাকলাম, এলোনা, বলে গেলো ---
স্বপ্নে আর পতাকায় আমার রক্ত ছড়িয়ে দিস,
মানুষের রক্তে কিছু রাত্রির ছায়া লেগে আছে!
সেই থেকে স্বপ্নে আর পতাকায় আমি পাখীর রক্ত
.                                                 মেশাচ্ছি রং
রক্ত মেশাচ্ছি, রং



.                    ******************      
                                                   উপরে
.                                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                              
                   সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
চুনি কোটাল     

চুনি আমার যমুনা আমার
সেই যে ভোরে ঘুমোতে গেলি
বনের চোখে বন ঘুমোলি
আর তো এলি না!
চন্দন কাঠ ফুরিয়ে গেলো
ফোঁটা দিবি না?

একি দোল একি দোল
সাগর পারে চক্রাকারে তরজা বলে ঘূর্ণী
যমুনাবতী সরস্বতী? না না এ তো আমার
গাঁয়ের মেয়ে চূর্ণী!

রক্তমাখা শিরদাঁড়াটা খাগের কলম
কি যে লিখি কি যে লিখি?


.                    ******************                                                         
উপরে
.                                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                                 
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
মরেড কাকে বলো তুমি     

কমরেড কাকে বলো তুমি? কমরেড!
প্রাণায়াম সেরে দেখেছো কি জলভরা চোখ
ঝড়ের ঢেউয়ের স্তনে
ক্ষুধার বাষ্প নিয়ে চেটে খায় চিমনির তালামারা পেট!
কে তোমার কমরেড?

নবযুগ আনবে বলে যে ছেলেটা গাঁয়ে গাঁয়ে ধানের শেকড় খোঁজে
তুমি তো ঘুমিয়ে আছো, সে কখন চোখ বোজে?
জড়িয়ে ধরেছো কখনো যেমন আকাশ ধরে বাতাস মৌসুমী
কমরেড কাকে বলো তুমি?


.                    ******************                                                         
উপরে
.                                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                                 
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
কোথায় বসবে পাখী     

বুকের উপর ধানগাছ বিছানো ছিলো
স্বপ্নের ধান!
এখন তো হৃদয়ের ভিতরে ভিতরে
জলহীন বাঁকুড়ার বাঘের দাঁতের মতো ভয়ঙ্কর মাঠ
পড়ে আছে
এতটুকু রং নেই!
কোথায় বসবে পাখী নিযেই জানে না!
জীবনের মিছিল সব অন্ধকারে বাদুড়ের মাংস হয়ে আছে!


.                    ******************                                                         
উপরে
.                                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                                 
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*
গীটার বাজানো শেষ হয়নি     

মৃত্যু যদি এসে পড়ে
মুখে সাদা চাদর দিও না
চোখ ঢেকো না ---
আমি সারাটা জীবন পৃথিবীর রং দেখেছি
এখনো রং-এর ভিতর দাঁড়িয়ে গীটার বাজানো শেষ হয় নি
এখনো সাগরের শেষতম জলের ইমন শুনিনি |


.                    ******************                                                         
উপরে
.                                                        অন্যান্য কবিদের সূচির পাতায় ফেরত  
.                                                 
সিঙ্গুরের কবিতার মূল সুচির পাতায় ফেরত  

*