কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব | পিতা হীরেন্দ্রনাথ দত্ত, মাতা ইন্দুমতী, মাতুল রাজা সুবোধ চন্দ্র বসুমল্লিক | প্রথমে বারানসীর থিওসফিকাল হাই স্কুলে পড়ে পরে কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করে স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে ১৯২২ সালে স্নাতক হন | ইংরেজীতে এম এ এবং আইন ক্লাসে ভর্তি হলেও তা তিনি মাঝপথে ছেড়ে দেন | তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী রাজেশ্বরী দেবী প্রখ্যাত রবীন্দ্র সংগীত গায়িকা ছিলেন | কবি, ১৯২৯ সালের প্রথম বিদেশ যাত্রায় আমেরিকা ও জাপান ভ্রমণ করেন রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের সঙ্গে | যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তুলনামূলক সাহিত্যের বিভাগ শুরু হবার পর অধ্যাপক বুদ্ধদেব বসুর আমন্ত্রণে তিনি সেখানে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন | তিনি "পরিচয়" পত্রিকার সম্পাদনাও করেছেন |
তাঁর কাব্যে আধ্যাত্মিক মুক্তির কথা নেই, আছে সর্বব্যাপি নাস্তিকতা | বিংশ শতকের মানুষের নানা সংশয় ও বিশ্বাসহীনতা তাঁর কবিতার আর একটি প্রধাণ সুর | দার্শনিক চিন্তা, সামাজিক হতাশা এবং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিবাদ তাঁর কবিতার ভিত্তিভূমি | তাঁর কবিতা আবেগের জটিলতার নিরিখে কঠিন কবিতা-র অন্তর্ভুক্ত |
তাঁর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে - তন্বী (১৯৩০), অর্কেষ্ট্রা (১৯৩৫), ক্রন্দসী (১৯৩৭), উত্তর ফাল্গুনী (১৯৪০), সংবর্ত (১৯৫৩), দশমী (১৯৫৬) | তাঁর দুটি প্রবন্ধ গ্রন্থ হল স্বগত (১৯৩৮) এবং কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭) |