মহারাজ নন্দকুমার এক বিখ্যাত ঐতিহাসিক চরিত্র | তিনি বীরঙূম জেলার ভদ্রপুর গ্রামে জন্ম
গ্রহণ করেন |
বাংলার নবার আলিবর্দী খাঁর রাজত্বকালে তিনি হিজলি ও মহিষাদল পরগণার আমিন নিযুক্ত হন | নবাব
মির জাফর আলি খাঁর শাসনকালে তিনি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি পদে নিযুক্ত হন | মহারাজ
নন্দকুমার দিল্লীর বাদশাহের কাছ থেকে "মহারাজ" উপাধী পেয়েছিলেন |
পলাশীর যুদ্ধের সময় তিনি হুগলীর ফৌজদার ছিলেন | পরে নবাব মীর জাফরের আমলে বাংলার দেওয়ানী
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে যাওয়ার পরও তিনি প্রথম চারজন নায়েব এর একজন ছিলেন | সুতরাং যে
কোন অবস্থাতেই তিনি শাসকের সুনজরে থাকতে পেরেছিলেন |
কিন্তু গভরনর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস এর সাথে তাঁর চরম শত্রুতা বেঁধেছিল, কারণ নন্দকুমার
হেস্টিংস এর, মীর জাফর আলি খাঁ-র বিধবা মুন্নি বেগম এর কাছ থেকে তিন লক্ষ চুয়ান্ন হাজার একশো পাঁচ
টাকা ঘুষ নেবার কথা নাকি কাউনসিলের প্রতিপক্ষের ইংরেজ সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছিলেন | হেস্টিংস
তাঁকে উচিত শিক্ষা দেবার সুযোগ খুঁজছিলেন | সেই সময় জনৈক মোহন প্রসাদ, মহারাজ নন্দকুমারের
বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা করেন | সুপ্রীম কোর্টের চীফ জাস্টিস এলিজা ইমপে, নাকি হেস্টিংস এর
স্কুল জীবনের বন্ধু ছিলেন এবং এই মামলার রায়ে মহারাজ নন্দকুমারের ফাঁসির সাজা হয় |
১৬ জুন ১৭৭৫ তারিখে তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয় এবং ৫ই অগাস্ট ১৭৭৫ এ তা কার্যকর করা হয় |
এই ঘটনাটি ব্রিটিশ আইন ব্যবস্থার একটি অতি কালিমালিপ্ত অধ্যায় হিসেবে আজও গণ্য করা
হয় |
সেই সময়ের বাংলায় সামাজিক কারণে, বৈষ্ণব ভাবধারা কে সরিয়ে শাক্ত ভাবধারা প্রকাশ পাচ্ছিল | শাক্ত
মতে মহারাজের বিশ্বাসের পরিচয় আমরা পাই তাঁর রচিত শাক্ত-পদাবলীর মধ্য দিয়ে |
উত্স: কমলকুমার গঙ্গোপাধ্যায়, শাক্ত-পদ সাহিত্য ও শাক্ত-পদাবলী চয়ন
. দুর্গাদাস লাহিড়ি সম্পাদিত বাঙালীর গান, ১৯০৫
আমাদের যোগাযোগের ঠিকানা :-
মিলনসাগর
srimilansengupta@yahoo.co.in
.