কবি গীতিকার মিল্টু ঘোষ - বাংলা গানের স্বর্ণযুগের গীতিকার। তিনি বড় হয়েছেন যৌথ পরিবারে।
তাঁরা চার ভাই দুই বোন। বড় দু ভাই পল্টু ও টিট্টুর সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর নাম রাখা হয়েছিল মিল্টু।

স্কুল কলেজে চুটিয়ে ফুটবল খেলতেন। নিয়মিত কবিতা লিখতেন। কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে পাশ
করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহণ দফতরে চাকুরিতে যোগদান করেন। ততদিনে গান লেখা, তাঁর নেশায়
পর্যবসিত হয়েছে।

১৯৫৬ সাল নাগাদ একটি গানের প্রতিযোগীতায় তাঁর দেখা হয় বিচারক
সুধীন দাশগুপ্তর সঙ্গে। কয়েকটা
গান লিখে তাঁর সিঁথির বাড়িতে পৌঁছে দিতে বললেন। চারটে গান দিয়ে এসেছিলেন। তার মধ্যে কাজল
কাজল কুমকুম শিউলি  ঝরে গানটি সুধীনবাবুর পছন্দ হয়ে গেল। সেই গান সুধীনবাবু সুরে গাইলেন স্বয়ং
গীতা দত্ত। সেই থেকে শুরু। এর কিছুদিন পরে তাঁর যোগাযোগ হয় গ্রামোফোন কোম্পানির সঙ্গে।

এরপর ফুটবল নয়, চুনি গোস্বামী তখন অভিনয় করছেন “প্রথম প্রেম” নামে একটি বাংলা ছায়াছবিতে। সেই
ছায়াছবিতেই প্রথম কবি, বাংলা সিনেমার জন্য গান লেখার সুযোগ পান।

কবি প্রায়ই যেতেন অপরেশ লাহিড়ীর বাঁশদ্রোণীর বাড়িতে। সেখানে গুণীজনদের আড্ডা বসতো। চলতো
গান নিয়ে নানা আলোচনা। সেই আড্ডা থেকে অনেক কিছু শিখেছিলেন।

১৯৬৯ সালে কবি বিবাহ করেন শুভ্রা দেবীকে। তাঁদের পুত্র শঙ্খ চাকুরিজীবী। কন্যা মোনালিসা অর্থনীতিতে
এম.এসসি., বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে আমেরিকায় থাকেন।

আরও বিস্তারিত জানবার জন্য পড়ুন কৃশানু ভট্টাচার্যের লেখা, ১৭ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে আনন্দবাজার
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রবন্ধ “বড় একা লাগে . . .” লেখাটি, এখানে ক্লিক করে।

তাঁর অতি জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ১৯৬৯ সালের পূজোয় প্রকাশিত পিন্টু ভট্টাচার্যের গাওয়া “এক
তাজমহল গড়ো”, সুরকার অসীমা চট্টোপাধ্যায়ের সুরে, উত্তমকুমার অভিনীত, চৌরঙ্গী ছবির মান্না দের কণ্ঠে
“বড় একা লাগে এই আঁধারে” ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে “জানি কোন দিন হবে না সুদূর”, অভিজিত
বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে “তোলপাড় তোলপাড় মনের কথা”, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের
কণ্ঠে অজানা শপথ ছায়াছবির গান “ও আকাশ সোনা সোনা”, আরতি মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে অজানা শপথ
ছায়াছবির গান “ওগো বন্ধু আমার আঁধার রাতে যদি এলে” প্রভৃতি এবং আরও অনেক।

আমরা কৃতজ্ঞ শ্রী বিদ্যুৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে, যিনি উদ্যোগ নিয়ে গীতিকারের সঙ্গে দেখা করে আমাদের
কবির জন্মদিনটি জানিয়েছিলেন ১৯.৯.২০১৫ তারিখে। তিনি আনন্দবাজার পত্রিকাকে পত্র লিখে অনুরোধ
জানিয়েছিলেন গীতিকার মিল্টু ঘোষের একটি সাক্ষাত্কার নেবার জন্য। পরে ১৭ অক্টোবর ২০১৫ তারিখের
আনন্দবাজার পত্রিকাতে প্রকাশিত হয় কৃশানু ভট্টাচারের্য লেখা, "বড় একা লাগে..." প্রবন্ধটি। শ্রী দিব্যেন্দু
গঙ্গোপাধ্যায়ের চলভাষ +৯১৯৮৯৮৮৬৭৭৭৬।

আমরা মিলনসাগরে  কবি মিল্টু ঘোষের কবিতা ও গান তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে  দিতে
পারলে আমাদের এই প্রচেষ্টা সার্থক মনে করবো।


কবির ঠিকানা - মোতিলাল মল্লিক লেন, বরাহনগর, কলকাতা ৭০০০৩৬।


উত্স - কৃশানু ভট্টাচার্য, বড় একা লাগে . . ., আনন্দবাজার পত্রিকা, শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০১৫।
.         
এই লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক্ করুন . . .


কবি মিল্টু ঘোষের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করু

কবি মিল্টু ঘোষের গান শুনতে নিচের লিংকগুলিতে ক্লিক করুন ---
http://www.raaga.com/channels/bengali/lyricist/Miltu_Ghosh.html   
http://www.muzigle.com/artist/miltu-ghosh/songs_written/   
http://www.addkiosk.in/show_album.ASP?album_code=ABM0002808  



আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রকাশ - ২৬.০৪.২০১৩
পরিবর্ধিত পরিচিতি - ২৬.১০.২০১৫
...