কবি নবারুণ ভট্টাচার্য – জন্মগ্রহণ করেন বহরমপুরে, তাঁর মামাবাড়ীতে। মাতামহ প্রখ্যাত কবি মনীশ
ঘটক। পিতা প্রখ্যাত নাট্যকার বিজন ভট্টাচার্য এবং মাতা সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর একমাত্র সন্তান
ছিলেন তিনি। কবির ১৪ বছর বয়সে তাঁর মা তাঁকে তাঁর বাবর কাছে ছেড়ে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন।
পিতা বিজন ভট্টাচার্য এতে কোনো বাধা দেন নি। রাহুস দাশগুপ্তর সাথে একটি সাক্ষাত্কারে, কবির মা
মহাশ্বেতা দেবী বলেছেন . . .

“ . . .আমার ছেলের ১৪ বছর বয়সে স্বামীকে ছেড়ে এসেছিলাম৷ ঠিক করেছিলাম, একা থাকব। এমন নয় যে ,
বিজন আমাকে কোনো বাধা দিয়েছিলেন। উনি আমার সব কাজেই আমাকে অসম্ভব উত্সাহ দিয়েছেন৷ বলা
যায় , সম্পূর্ণ স্বাধীনতা৷ আমার অসম্ভব স্বাধীনতা ছিল৷ আমার সব কিছু, প্রতিটি কাজকর্মেই তিনি থাকতেন।
মানুষ হিসাবে অসম্ভব খোলামেলা৷ আর একদম খাঁটি শিল্পী৷ কিশোর নবারুণ আর বিজনকে ছেড়ে আমি
বালিগঞ্জ স্টেশন রোডে জ্যোতির্ময় বসুর গেস্ট হাউসের একটা ছোটো ঘর ভাড়া নিয়ে চলে আসি৷ মনে
করেছিলাম , আমার ‘একলা হওয়া’ খুব দরকার। একলা ছিলাম, এটাও সত্যি। সন্তান জন্মানোর পর নিজের
সাধ্যমতো চেষ্টায় তাকে বড়ো করতে লাগলাম। এমন নয় যে , আমার সঙ্গে বিজনের কোনো বড়োসড়ো
ঝগড়া হয়েছে। কোনো কথা -কাটাকাটিও হয়নি , যা হয়েছে সে যত্সামান্য মতবিরোধ। অত্যন্ত তুচ্ছ কারণে৷
বাট আই ওয়াজ ফোর্সড টু লিভ মাই সান। ১৪ বছর বয়সে সেই যে নবারুণকে ছেড়ে আসি , তারপর আর
আমাদের একসাথে থাকা হয়নি বলতে গেলে।” (এই সময়, রবিবার, ১০.৮.২০১৪)


কবির স্কুলজীবন কেটেছে কলকতার বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে এবং আশুতোষ কলেজে প্রথমে ভূতত্ত্ব নিয়ে ও
পরে সিটি কলেজে ইংরেজী নিয়ে পড়েন।

১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯১  সাল পর্যন্ত আঠেরো বছর চাকরি করেছেন সোভিয়েত ইনফরমেশন সংবাদ
সংস্থায়। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার পতনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চাকরি খোয়াতে হয় তাঁকে। তিনি
কিছুদিন বিষ্ণু দে-র 'সাহিত্যপত্র' সম্পাদনা করেন এবং ২০০৩ থেকে চালিয়েছেন 'ভাষাবন্ধন' পত্রিকাটি। এর
আগে দীর্ঘদিন 'নবান্ন' নাট্যগোষ্ঠীর পরিচালনা করেছেন।

১৯৬৮ সালে “পরিচয়” পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম ছোটগল্প 'ভাসান'। তাঁর প্রথম কবিতার বই 'এই
মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না' (১৯৭২) তে প্রকাশিত হয়। প্রথম উপন্যাস “হারবার্ট” (পত্রিকায় প্রকাশ :
১৯৯২)। প্রথম উপন্যাস 'হারবার্ট' এর জন্য কবিকে “নরসিংহ দাস” (১৯৯৪), বঙ্কিম (১৯৯৬) ও সাহিত্য
আকাদেমি (১৯৯৭) পুরুস্কার প্রদান করা হয়।

৩১. ০৭. ২০১৪ তারিখে, আন্ত্রিক ক্যান্সারের কারণে কলকাতার ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন অবস্থায়, ৬৬ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।


আমরা
মিলনসাগরে  কবি নবারুণ ভট্টাচার্য-এর কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে
আমাদের এই প্রচেষ্টাকে সফল মনে করবো। এই পাতা তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য।


কবি নবারুণ ভট্টাচার্য-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


উত্স -  My Baba Nabarun Bhattacharya, Tathagat Bhattacharya, http://tirchhispelling.wordpress.com
.        
 http://www.epaper.eisamay.com/     
.         
ই সময় পত্রিকা, কলকাতা ১২ ফাল্গুন ১৪২০ মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪।     
.         
উইকিপেডিয়া    


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রকাশ - ..২০১৪
...